leadT1ad

প্লট দুর্নীতি: হাসিনা-টিউলিপ অনুপস্থিত, নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেন রাজউকের খুরশীদ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

শেখ হাসিনা, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক (সংগৃহীত ছবি)

ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকসহ ১৭ জন আসামি আদালতে হাজির হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করেননি। তবে এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলমের আদালতে এই মামলার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানির দিন ধার্য ছিল।

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত হওয়ার পর আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়, যেখানে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বক্তব্য রাখার আইনি অধিকার পান।

এদিন সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগার থেকে মামলার একমাত্র কারাবন্দি আসামি খুরশীদ আলমকে আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং ন্যায়বিচার চান।

অন্যদিকে শেখ হাসিনা ও টিউলিপ সিদ্দিকসহ মামলার বাকি ১৭ জন আসামি পলাতক থাকায় তাঁরা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিতে আদালতে উপস্থিত হননি। ফলে তাঁদের অনুপস্থিতিতেই বিচারিক কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ হিসেবে আগামী ১৩ জানুয়ারি মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী বেলাল হোসেন এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, ক্ষমতার সর্বোচ্চ পদে আসীন থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে পূর্বাচলে ১০ কাঠার সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের (২০২৫) ১৩ জানুয়ারি আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। তদন্ত শেষে গত ১০ মার্চ (২০২৫) আদালতে ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রাস্তার ৬টি প্লট বরাদ্দ দিয়েছিলেন। নীতিমালা তোয়াক্কা না করে অসৎ উদ্দেশ্যে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, যদিও বিধি অনুযায়ী তাঁরা কেউই এসব প্লট পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না।

এর আগে গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) এই মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ মোট ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া শেষ হয়েছে বলে জানায় আদালত।

শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও এই মামলার চার্জশিটভুক্ত উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য মেজর (ইঞ্জিনিয়ার) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান ও হাবিবুর রহমান।

এদিকে একই আদালতে শেখ হাসিনা, টিউলিপ সিদ্দিক ও রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা প্লট দুর্নীতির আরেকটি মামলায় সাক্ষ্য নেওয়ার দিন ধার্য ছিল। এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল ইসলাম আদালতে সাক্ষ্য দেন। তবে তার জবানবন্দি ও জেরা সম্পন্ন না হওয়ায় আদালত আগামী ১৩ জানুয়ারি অবশিষ্ট সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।

প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে গত বছরের জানুয়ারিতে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আলাদা ছয়টি মামলা করেছিল দুদক। এর মধ্যে গত বছরের ২৭ নভেম্বর তিনটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। ওই রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২১ বছর এবং তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত