‘অগ্নিঝরা মার্চ’ শুরু

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

এআই জেনারেটেড ছবি

আজ মার্চের প্রথম দিন। বসন্তের দখিনা হাওয়ার সঙ্গে আজ মিশে আছে এক বিশেষ গর্ব আর বিষাদমাখা ইতিহাস। আজ থেকে ৫৫ বছর আগে এই মার্চ মাসেই বাঙালির হাজার বছরের পরাধীনতার শিকল ভাঙার চূড়ান্ত সংগ্রাম শুরু হয়েছিল। আজ সেই ‘অগ্নিঝরা মার্চের’ প্রথম দিন।

বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় মার্চ মানেই উত্তাল রাজপথ, বজ্রকণ্ঠের আহ্বান আর শৃঙ্খলমুক্তির অদম্য বাসনা। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে জাতি যখন স্বাধীনতার ৫৫তম বার্ষিকী পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন পয়লা মার্চের এই ভোর আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় ইতিহাসের সেই কালজয়ী দিনগুলোতে।

১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের ওপর যে বৈষম্য ও শোষণের পাহাড় চাপিয়ে দিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে বাঙালির প্রতিবাদ ছিল দীর্ঘস্থায়ী। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬-র ছয় দফা এবং ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি ধাপই ছিল আমাদের জাতিসত্তার স্বরূপ অন্বেষার একেকটি মাইলফলক। সেই দীর্ঘ সংগ্রামেরই চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে।

অগ্নিঝরা সেই দিনগুলো

১৯৭১ সালের পয়লা মার্চ যখন তৎকালীন পাকিস্তানি শাসক ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেন, তখন সারা বাংলা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। স্বাধিকারের দাবি তখন রূপ নেয় স্বাধীনতার দাবিতে। এ মাসেই উচ্চারিত হয়েছিল ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, যা বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্নপূরণের পথ প্রশস্ত করেছিল।

এরপর ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের সেই কালরাত্রি আজও বাঙালির হৃদয়ে ক্ষত হয়ে আছে। নিরস্ত্র ঘুমন্ত মানুষের ওপর ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পাকিস্তানি বাহিনী যে বর্বরোচিত গণহত্যা শুরু করেছিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-শিক্ষক ও সাধারণ মানুষকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসের এক জঘন্যতম অধ্যায়। কিন্তু সেই রক্তপাতই বাঙালির প্রতিরোধকে আরও শাণিত করেছিল।

আজ ২০২৬ সালের এই দিনে গোটা দেশ নতুন করে শপথ নিচ্ছে সেই বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর। মাসের প্রথম দিন থেকেই সারা দেশে শুরু হচ্ছে সভা, সমাবেশ এবং বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বর্তমান প্রজন্মের কাছে এই মার্চ কেবল একটি মাস নয়, বরং এটি আত্মপরিচয় রক্ষার এক অবিনাশী শক্তি।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত