স্ট্রিম ডেস্ক

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দুপুরের আগেই দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে একের পর এক বিস্ফোরণের খবর আসতে শুরু করেছিল। মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে ৬৩ জেলার প্রায় ৩০০টি স্থানে বিস্ফোরণ ঘটেছিল। হামলায় প্রায় ৪৬০টি বোমা ব্যবহারের কথা বিভিন্ন গবেষণায় এসেছে। ঘটনাটির দায় স্বীকার করে জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)।
১৭ আগস্ট আসলে জেএমবির শুরু নয়। এটি ছিল প্রায় সাত বছর ধরে তৈরি হওয়া একটি উগ্রপন্থী সংগঠনের প্রকাশ্য আত্মপ্রকাশ।
১৯৯৮ সালে সংগঠনটির যাত্রা শুরু। এরপর উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা হয়ে ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয় এর সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক। ২০০১-০২ সালের দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে কয়েকজন সদস্য গ্রেপ্তার হওয়ার পর সংগঠনটির নাম প্রথম জনপরিসরে আসে। পরবর্তী কয়েক বছরে এনজিও, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে উগ্র প্রচারণা এবং বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন হামলার মধ্য দিয়ে সংগঠনটি নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে থাকে।
শেষ পর্যন্ত ২০০৫ সালের আগস্টে এসে সেই সংগঠনই এক দিনে দেশের প্রায় সর্বত্র সমন্বিত হামলা চালানোর সক্ষমতা দেখায়।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, জেএমবি ১৯৯৮ সালে গড়ে ওঠে। সংগঠনটির প্রধান নেতা হিসেবে উঠে আসেন শায়খ আবদুর রহমান। সংগঠনটির আদর্শিক ভিত্তির সঙ্গে আহলে হাদিস আন্দোলনের প্রভাবের কথা বিভিন্ন গবেষণায় এসেছে। এর প্রধান ঘাঁটি ছিল উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা।
জেএমবির উত্থান নিয়ে দ্য ডেইলি স্টার-এর অনুসন্ধানেও বলা হয়েছে, ১৯৯৮-৯৯ সালে জামালপুরের চরাঞ্চল, বগুড়া ও গাইবান্ধা এলাকায় সংগঠনটির বিস্তার শুরু হয়। পরে উত্তরাঞ্চলের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, রাজশাহী, পাবনা, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন জেলায় এর কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ে।
তখন অবশ্য সাধারণ মানুষের কাছে জেএমবি কোনো বড় সংগঠন হিসেবে পরিচিত ছিল না। সংগঠনটি ধীরে ধীরে স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের নেটওয়ার্ক তৈরি করছিল।
জেএমবির উত্থানের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যে দুটি নাম যুক্ত—শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই।
আবদুর রহমান ছিলেন সংগঠনটির প্রধান নেতা। আর বাংলা ভাই, যিনি সিদ্দিকুল ইসলাম নামেও পরিচিত, উত্তরাঞ্চলে জেএমবির কার্যক্রমের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। তবে সংগঠনটির সঙ্গে আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম প্রকাশ্যে এসেছিল। তাঁদের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আসাদুল্লাহ আল গালিবের নাম বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে আসে। ২০০৫ সালের আগস্টে দ্য ডেইলি স্টার প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আবদুর রহমানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের পারস্পরিক যোগাযোগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
জেএমবির গঠন ১৯৯৮ সালে হলেও সংগঠনটি দ্রুত জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেনি। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ বলছে, ২০০১-০২ সালের দিকে উত্তরাঞ্চলে সংগঠনটির সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং তাদের কাছ থেকে সংগঠন-সংশ্লিষ্ট নথি উদ্ধারের পর জেএমবির অস্তিত্ব জনসমক্ষে স্পষ্ট হতে শুরু করে। এই সময়েই সংগঠনটির কার্যক্রমের ধরন নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।
২০০৫ সালের ১৯ আগস্ট প্রকাশিত দ্য ডেইলি স্টার-এর অনুসন্ধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিক থেকেই জেএমবি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সিনেমা, থিয়েটার, মাজার ও এনজিওবিরোধী প্রচারণার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের নেটওয়ার্ক বিস্তার করছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আগের কয়েকটি ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ পরে জামিনে বেরিয়ে আবার তৎপরতায় যুক্ত হয়েছিলেন।
জেএমবির উত্থানের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটি ছিল সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইয়ের প্রকাশ্য আবির্ভাব।
২০০৪-০৫ সালে উত্তরাঞ্চলে বাংলা ভাইকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া ‘জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি)’-এর নামে একটি সংগঠনের কর্মকাণ্ডও তখন আলোচনায় আসে। বিভিন্ন গবেষণায় জেএমবি ও জেএমজেবির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় কথিত ‘সর্বহারা’ দমনের নামে যে অভিযান পরিচালিত হয়েছিল, তা পরে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি করে। বিভিন্ন মানবাধিকার ও সংবাদ প্রতিবেদনে এসব অভিযানে সহিংসতা এবং বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে।
এই সময় বাংলা ভাইয়ের নাম জাতীয় সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে উঠে আসে। ফলে জেএমবি আর শুধু গোপন একটি সংগঠনের নাম থাকেনি; এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জনপরিসরে পরিচিত হয়ে উঠতে শুরু করেন।
ক্রমবর্ধমান তৎপরতার মধ্যেই ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ সরকার জেএমবিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। একই সময় জেএমজেবি ও হরকাতুল জিহাদ-ই-ইসলামি বাংলাদেশকেও নিষিদ্ধ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ২০০৫ সালের সন্ত্রাসবাদবিষয়ক প্রতিবেদনে এই নিষেধাজ্ঞার উল্লেখ রয়েছে।
কিন্তু নিষেধাজ্ঞা সংগঠনটির কার্যক্রম থামাতে পারেনি। নিষেধাজ্ঞার মাত্র ছয় মাসের মধ্যে জেএমবি এমন একটি হামলা চালায়, যা সংগঠনটির সাংগঠনিক সক্ষমতা সম্পর্কে পুরো দেশের ধারণা বদলে দেয়।
২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সকাল থেকে বেলা ১১টার দিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বোমা বিস্ফোরণ শুরু হয়। প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে ৬৩ জেলার প্রায় ৩০০টি স্থানে বিস্ফোরণ ঘটে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের হিসাবে বিস্ফোরণের সংখ্যা ছিল ৪৫৯-এর বেশি। এতে দুজন নিহত ও প্রায় ১০০ জন আহত হন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ২০০৫ সালের প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে প্রায় ৫০০ ছোট বোমার সমন্বিত দেশব্যাপী হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। বিস্ফোরণস্থলে পাওয়া প্রচারপত্রে বিচারক, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ এবং সংগঠনটির ভাষায় ‘ইসলামের শত্রুদের’ বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
১৭ আগস্টের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশজুড়ে অভিযান শুরু করে। কয়েক শ সন্দেহভাজন জেএমবি সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু সংগঠনটি পাল্টা আরও সহিংস পথে যায়।
২০০৫ সালের শেষ দিকে আদালত, বিচারক ও সরকারি কর্মকর্তারা জেএমবির হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠেন। নভেম্বর মাসে ঝালকাঠিতে দুই বিচারককে হত্যা করা হয়। পরে আত্মঘাতী হামলাও চালানো হয়। এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল গ্রেপ্তার হওয়া জেএমবি সদস্যদের মুক্তির জন্য রাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করা—এমন তথ্য কমব্যাটিং টেরোরিজম সেন্টার (সিটিসি) ও কানাডার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ডের গবেষণায় উঠে এসেছে।
২০০৫ সালের শেষ দিকে জেএমবির বিরুদ্ধে অভিযান তীব্র হয়। সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের একজন আতাউর রহমান সানিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শায়খ আবদুর রহমান ও বাংলা ভাইও গ্রেপ্তার হন।
২০০৬ সালে তাদের বিচার শুরু হয় এবং ২০০৭ সালের মার্চে শেখ আবদুর রহমান, বাংলা ভাইসহ জেএমবির কয়েকজন শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। কমব্যাটিং টেররিজম সেন্টার বলছে, ১৭ আগস্টের হামলার পর জেএমবি ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের ৭০০-এর বেশি সন্দেহভাজন সদস্যকে আটক করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে জেএমবির মূল নেতৃত্ব কার্যত ভেঙে পড়ে।

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দুপুরের আগেই দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে একের পর এক বিস্ফোরণের খবর আসতে শুরু করেছিল। মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে ৬৩ জেলার প্রায় ৩০০টি স্থানে বিস্ফোরণ ঘটেছিল। হামলায় প্রায় ৪৬০টি বোমা ব্যবহারের কথা বিভিন্ন গবেষণায় এসেছে। ঘটনাটির দায় স্বীকার করে জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)।
১৭ আগস্ট আসলে জেএমবির শুরু নয়। এটি ছিল প্রায় সাত বছর ধরে তৈরি হওয়া একটি উগ্রপন্থী সংগঠনের প্রকাশ্য আত্মপ্রকাশ।
১৯৯৮ সালে সংগঠনটির যাত্রা শুরু। এরপর উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা হয়ে ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয় এর সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক। ২০০১-০২ সালের দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে কয়েকজন সদস্য গ্রেপ্তার হওয়ার পর সংগঠনটির নাম প্রথম জনপরিসরে আসে। পরবর্তী কয়েক বছরে এনজিও, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে উগ্র প্রচারণা এবং বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন হামলার মধ্য দিয়ে সংগঠনটি নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে থাকে।
শেষ পর্যন্ত ২০০৫ সালের আগস্টে এসে সেই সংগঠনই এক দিনে দেশের প্রায় সর্বত্র সমন্বিত হামলা চালানোর সক্ষমতা দেখায়।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, জেএমবি ১৯৯৮ সালে গড়ে ওঠে। সংগঠনটির প্রধান নেতা হিসেবে উঠে আসেন শায়খ আবদুর রহমান। সংগঠনটির আদর্শিক ভিত্তির সঙ্গে আহলে হাদিস আন্দোলনের প্রভাবের কথা বিভিন্ন গবেষণায় এসেছে। এর প্রধান ঘাঁটি ছিল উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা।
জেএমবির উত্থান নিয়ে দ্য ডেইলি স্টার-এর অনুসন্ধানেও বলা হয়েছে, ১৯৯৮-৯৯ সালে জামালপুরের চরাঞ্চল, বগুড়া ও গাইবান্ধা এলাকায় সংগঠনটির বিস্তার শুরু হয়। পরে উত্তরাঞ্চলের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, রাজশাহী, পাবনা, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন জেলায় এর কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ে।
তখন অবশ্য সাধারণ মানুষের কাছে জেএমবি কোনো বড় সংগঠন হিসেবে পরিচিত ছিল না। সংগঠনটি ধীরে ধীরে স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের নেটওয়ার্ক তৈরি করছিল।
জেএমবির উত্থানের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যে দুটি নাম যুক্ত—শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই।
আবদুর রহমান ছিলেন সংগঠনটির প্রধান নেতা। আর বাংলা ভাই, যিনি সিদ্দিকুল ইসলাম নামেও পরিচিত, উত্তরাঞ্চলে জেএমবির কার্যক্রমের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। তবে সংগঠনটির সঙ্গে আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম প্রকাশ্যে এসেছিল। তাঁদের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আসাদুল্লাহ আল গালিবের নাম বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে আসে। ২০০৫ সালের আগস্টে দ্য ডেইলি স্টার প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আবদুর রহমানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের পারস্পরিক যোগাযোগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
জেএমবির গঠন ১৯৯৮ সালে হলেও সংগঠনটি দ্রুত জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেনি। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ বলছে, ২০০১-০২ সালের দিকে উত্তরাঞ্চলে সংগঠনটির সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং তাদের কাছ থেকে সংগঠন-সংশ্লিষ্ট নথি উদ্ধারের পর জেএমবির অস্তিত্ব জনসমক্ষে স্পষ্ট হতে শুরু করে। এই সময়েই সংগঠনটির কার্যক্রমের ধরন নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।
২০০৫ সালের ১৯ আগস্ট প্রকাশিত দ্য ডেইলি স্টার-এর অনুসন্ধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিক থেকেই জেএমবি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সিনেমা, থিয়েটার, মাজার ও এনজিওবিরোধী প্রচারণার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের নেটওয়ার্ক বিস্তার করছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আগের কয়েকটি ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ পরে জামিনে বেরিয়ে আবার তৎপরতায় যুক্ত হয়েছিলেন।
জেএমবির উত্থানের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটি ছিল সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইয়ের প্রকাশ্য আবির্ভাব।
২০০৪-০৫ সালে উত্তরাঞ্চলে বাংলা ভাইকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া ‘জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি)’-এর নামে একটি সংগঠনের কর্মকাণ্ডও তখন আলোচনায় আসে। বিভিন্ন গবেষণায় জেএমবি ও জেএমজেবির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় কথিত ‘সর্বহারা’ দমনের নামে যে অভিযান পরিচালিত হয়েছিল, তা পরে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি করে। বিভিন্ন মানবাধিকার ও সংবাদ প্রতিবেদনে এসব অভিযানে সহিংসতা এবং বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে।
এই সময় বাংলা ভাইয়ের নাম জাতীয় সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে উঠে আসে। ফলে জেএমবি আর শুধু গোপন একটি সংগঠনের নাম থাকেনি; এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জনপরিসরে পরিচিত হয়ে উঠতে শুরু করেন।
ক্রমবর্ধমান তৎপরতার মধ্যেই ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ সরকার জেএমবিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। একই সময় জেএমজেবি ও হরকাতুল জিহাদ-ই-ইসলামি বাংলাদেশকেও নিষিদ্ধ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ২০০৫ সালের সন্ত্রাসবাদবিষয়ক প্রতিবেদনে এই নিষেধাজ্ঞার উল্লেখ রয়েছে।
কিন্তু নিষেধাজ্ঞা সংগঠনটির কার্যক্রম থামাতে পারেনি। নিষেধাজ্ঞার মাত্র ছয় মাসের মধ্যে জেএমবি এমন একটি হামলা চালায়, যা সংগঠনটির সাংগঠনিক সক্ষমতা সম্পর্কে পুরো দেশের ধারণা বদলে দেয়।
২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সকাল থেকে বেলা ১১টার দিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বোমা বিস্ফোরণ শুরু হয়। প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে ৬৩ জেলার প্রায় ৩০০টি স্থানে বিস্ফোরণ ঘটে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের হিসাবে বিস্ফোরণের সংখ্যা ছিল ৪৫৯-এর বেশি। এতে দুজন নিহত ও প্রায় ১০০ জন আহত হন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ২০০৫ সালের প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে প্রায় ৫০০ ছোট বোমার সমন্বিত দেশব্যাপী হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। বিস্ফোরণস্থলে পাওয়া প্রচারপত্রে বিচারক, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ এবং সংগঠনটির ভাষায় ‘ইসলামের শত্রুদের’ বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
১৭ আগস্টের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশজুড়ে অভিযান শুরু করে। কয়েক শ সন্দেহভাজন জেএমবি সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু সংগঠনটি পাল্টা আরও সহিংস পথে যায়।
২০০৫ সালের শেষ দিকে আদালত, বিচারক ও সরকারি কর্মকর্তারা জেএমবির হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠেন। নভেম্বর মাসে ঝালকাঠিতে দুই বিচারককে হত্যা করা হয়। পরে আত্মঘাতী হামলাও চালানো হয়। এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল গ্রেপ্তার হওয়া জেএমবি সদস্যদের মুক্তির জন্য রাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করা—এমন তথ্য কমব্যাটিং টেরোরিজম সেন্টার (সিটিসি) ও কানাডার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ডের গবেষণায় উঠে এসেছে।
২০০৫ সালের শেষ দিকে জেএমবির বিরুদ্ধে অভিযান তীব্র হয়। সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের একজন আতাউর রহমান সানিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শায়খ আবদুর রহমান ও বাংলা ভাইও গ্রেপ্তার হন।
২০০৬ সালে তাদের বিচার শুরু হয় এবং ২০০৭ সালের মার্চে শেখ আবদুর রহমান, বাংলা ভাইসহ জেএমবির কয়েকজন শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। কমব্যাটিং টেররিজম সেন্টার বলছে, ১৭ আগস্টের হামলার পর জেএমবি ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের ৭০০-এর বেশি সন্দেহভাজন সদস্যকে আটক করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে জেএমবির মূল নেতৃত্ব কার্যত ভেঙে পড়ে।
.png)

২০০৭ সালের ২৯ মার্চ রাত। দেশের ছয়টি কারাগারে তখন কড়া নিরাপত্তা। কারাগারের বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন। ভেতরে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ফাঁসির মঞ্চ। তবে ঠিক কখন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, তা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় জঙ্গির মধ্যে ছিলেন নিষিদ
১৭ মিনিট আগে
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করা লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল-পশ্চিমবঙ্গ উপকূল এবং উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেওয়া হয়েছে। নিম্নচাপের প্রভাবে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট
২৯ মিনিট আগে
রাজশাহীতে আলু সংরক্ষণে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে হিমাগার মালিকদের। লোডশেডিং ও ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি আলু রাখায় পচন রোধে দিনে এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। এতে প্রতি ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বাড়তি জ্বালানি খরচ গুণতে হচ্ছে তাঁদের।
৩৬ মিনিট আগে
২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট। বেলা ১১টার দিকে দেশের মানুষ যখন স্বাভাবিক কর্মদিবসে ব্যস্ত, ঠিক তখনই একের পর এক বিস্ফোরণের খবর আসতে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। প্রথমে বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে হলেও দ্রুত স্পষ্ট হয়ে যায়, এগুলো আলাদা কোনো হামলা নয়, একই পরিকল্পনার অংশ। মাত্র প্রায় আধা ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের ৬