সালেহ ফুয়াদ

হেফাজত ইসলামের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর ঐক্য প্রক্রিয়ায় সাড়া দিয়েছেন কওমিধারার নেতারা। এরই অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে একসঙ্গে চলার বিষয়ে পৃথক প্রস্তাব দিয়েছে ইসলামপন্থী সাত রাজনৈতিক দল। কয়েকটি দলের প্রস্তাবনার কপি স্ট্রিম পেয়েছে, তাতে ঐক্য নিয়ে ‘পরস্পরবিরোধী’ অবস্থান দেখা গেছে।
গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর উদ্যোগে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন সাতটি দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। সভার পরে জানানো হয়, ভবিষ্যতে একসঙ্গে চলার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। এই সভার পরে চাউর হয়– হেফাজতের উদ্যোগে নতুন রাজনৈতিক জোট হচ্ছে।
এ ব্যাপারে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী স্ট্রিমকে জানান, সাত দলই তাদের প্রস্তাবনা দিয়েছে। হেফাজতের সাত সদস্যের উপকমিটি প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে। হেফাজত মহাসচিব সাজিদুর রহমানের তত্ত্বাবধানে উপকমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে নায়েবে আমির ও হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহাদ্দিস জসিম উদ্দীনকে।
দলগুলোর প্রস্তাব নিয়ে গত ১৫ আগস্ট রাজধানীর খিলগাঁওয়ের মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় বৈঠক হয়। এতে হেফাজত আমির-মহাসচিবের বাইরে অংশ নেন উপকমিটির আহ্বায়ক জসিম উদ্দীন, হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহতামিম খলিল আহমদ কাসেমি, মুফতি বশিরুল্লাহ ও আইয়ূব বাবুনগরী। তবে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি তাঁরা।
কয়েকটি দলের প্রস্তাবনা বিশ্লেষণ এবং শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে ঐক্যের কাঠামো নিয়ে পরস্পরবিরোধী মনোভাব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তুলনামূলক বৃহৎ দুটি দল একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক জোটের পক্ষে মত দিয়েছে। তবে তাদের শর্ত, সাত দলের কেউই কওমিধারার বাইরে কারও সঙ্গে জোট করতে পারবে না। দুটি দল রাজনৈতিক স্বতন্ত্রতা এবং যে কারও সঙ্গে জোট করার স্বাধীনতার অধিকার চেয়েছে। তারা ধর্মীয় ও অভিন্ন স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য একটি মোর্চা গঠনের প্রস্তাব রেখেছে।
চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গত ৩ আগস্ট হেফাজত মহাসচিব বরাবর ১২ দফা ঐক্যের প্রস্তাব দিয়েছে। রাজনৈতিক ও ধর্মীয়ভাবে কাছাকাছি দৃষ্টিভঙ্গি লালন, হক্কানি ওলামায়ে কেরামের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদা পোষণ করার কারণে প্রাথমিকভাবে নিবন্ধিত সাতটি ইসলামী রাজনৈতিক দল এই ঐক্যে শামিল থাকবে বলে প্রস্তাব দিয়েছে তারা। ইসলামী আন্দোলন এই ঐক্যকে রাজনৈতিক সমঝোতা হিসেবে অভিহিত করতে হবে বলে মত দিয়েছে।
ইসলামী আন্দোলনের প্রস্তাবনায় বলা হয়, সমঝোতায় ঐক্যবদ্ধ দলগুলো স্বাধীনভাবে তাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে। তবে অন্য কোনো রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে কোনো রকম সমঝোতা বা ঐক্য বজায় রাখতে ও গড়ে তুলতে পারবে না।
এই প্রস্তাবের অর্থ– বিএনপি এবং জামায়াত– দুই শিবিরে বিভক্ত রাজনৈতিক শক্তির কোনোটির সঙ্গে জোট বাঁধতে পারবে না হেফাজতের ঐক্যে আসা সাত দল। এমনকি হেফাজত সম্পৃক্ত নেতৃস্থানীয় কেউ সাত দলের বাইরের কোনো রাজনৈতিক পক্ষকে সমর্থন দিতে পারবেন না।
ইসলামী আন্দোলন বলেছে, সমঝোতা হলে সাত দল ঐক্যবদ্ধভাবে সমঝোতার ভিত্তিতে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেবে। নির্বাচনী জোটে অন্য কোনো দলকে যুক্ত করতে চাইলে সাত দলের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হবে।
ইসলামী আন্দোলনের সহকারী মহাসচিব শেখ ফজলুল করীম মারুফ স্ট্রিমকে জানান, হেফাজত আমিরের উদ্যোগকে তাঁরা ‘দেশ, দ্বীন ও দেশের মুসলিমদের ঈমান-আকীদা’ এবং কওমি মাদ্রাসার সুরক্ষার স্বার্থে সমর্থন করেন। তবে প্রস্তাবনার ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
ইসলামী আন্দোলনের প্রস্তাবে আরও রয়েছে, সাত দলের প্রধানেরা সমঝোতায় শীর্ষ নেতার সম্মান পাবেন। কর্মসূচি ও কর্মপন্থা নির্ধারণে সব দল থেকে দুজন করে নিয়ে ১৪ জনের লিয়াজোঁ কমিটি এবং যেকোনো বিষয়ে বিবৃতি দেওয়ার আগে এই কমিটির সম্মতি লাগবে।
হেফাজতের উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস একাধিক মজলিসে শূরা ও নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে করেছে। পরে প্রস্তাবনা হেফাজতকে দিয়েছে। দলটির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এক নেতা নাম প্রকাশ না করে স্ট্রিমকে বলেন, প্রয়াত হেফাজত মহাসচিব নূর হোসাইন কাসেমীর নেতৃত্বাধীন ‘সমমনা ইসলামী দলসমূহের’ ব্যানারে আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছিলাম। সেখানে কওমিধারার দল ছিল। হেফাজতের উদ্যোগে সাড়া দিয়ে আমরা এবারো ‘সমমনা ইসলামী দলসমূহের’ ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রস্তাব রেখেছি।
তিনি জানান, রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় যে জোট বা মোর্চাই হোক, তা এই ব্যানারের অধীনে হতে পারে বলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রস্তাব দিয়েছে। এই মোর্চার কাজ হতে পারে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক আলেম ও বিভিন্ন সমমনা দলের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় বিভিন্ন নীতিমালায় যৌথ দাবি পেশ করা।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ স্ট্রিমকে বলেন, সমমনা ইসলামী দলগুলোর ব্যানারের কার্যক্রম যেমন ইসলামিক, তেমনি রাজনৈতিক ইস্যুতেও ছিল। এই ধরনের ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ হতে পারলে দুটি সুবিধা। এতে দলীয় স্বাতন্ত্র্য এবং স্বাধীনতা দুটিই বজায় থাকবে। এর মাধ্যমে পরস্পরের দূরত্ব কমবে এবং একসঙ্গে কিছু কাজ করা যাবে।
তিনি বলেন, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট– রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা নির্বাচনী সিদ্ধান্ত প্রতিটা দল নিজেরা নেওয়ার এখতিয়ার রাখে। সে কার সঙ্গে নির্বাচন করবে, কার রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যাবে, সে স্বাধীনতা থাকা উচিত।
এটি রেখে হেফাজতের উদ্যোগে জোট বা ঐক্য হতে পারে কিনা– প্রশ্নে জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘হ্যাঁ, হতে পারে। মানে কিছু না হওয়ার চেয়ে তো হওয়া ভালো। আমাদের রাজনীতি এখন একটু ভিন্নভাবে করার চিন্তা করছি। এক সময় আমরা শুধু ইসলামী ইস্যু নিয়ে কাজ করেছি। শুধু আমরা না, সব ইসলামী দলই। ফলে সাধারণ জনগণ মনে করে– এই দল তো শুধু আলেমরা করবেন; আমাদের সুযোগ নেই। আমরা এখন রাজনীতিকে ভালো করে করতে চাই। সাধারণ জনগণের মধ্যে দলের কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে চাই।’
জামায়াত-এনসিপির ১১-দলীয় ঐক্যে থাকা নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইজহার স্ট্রিমকে জানান, তাদের প্রস্তাবনা হেফাজতকে দিয়েছেন। প্রস্তাবগুলো পর্যবেক্ষণ করে হেফাজত আমির যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তাতে নেজামে ইসলামের দ্বিমত থাকবে না। তবে কী প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে, তা নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেজামে ইসলামের এক নেতা জানান, তাদের প্রস্তাবনা অনেকটা নূর হোসাইন কাসেমীর নেতৃত্বাধীন ‘সমমনা ইসলামী দলসমূহের’ ব্যানারে গঠিত মোর্চার মতো। সেখানে সরাসরি হেফাজত থাকবে না। তবে হেফাজত সংশ্লিষ্ট নেতাদের রাজনৈতিক দলগুলো সক্রিয় থাকবে। এতে নিজেদের মধ্যে ঐক্যও থাকবে, আবার নিজস্ব রাজনৈতিক স্বাধীনতাও বজায় থাকবে।
‘সমমনা ইসলামী দলসমূহের’ ব্যানারের মোর্চা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক যেকোনো রাজনৈতিক সংকটে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি দিয়েছে। মোর্চার দলগুলো স্বাধীনভাবে দলীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি ঈমান-আকিদা প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ ছিল। তারা ঐক্যবদ্ধভাবে বক্তব্য-বিবৃতি দিতো।
এমন হলে দল ভাঙে না, জোটও থাকে উদাহরণ দিয়ে ওই নেতার ভাষ্য, সমমনা ইসলামী দলসমূহের মোর্চা মহানবী হযরত মুহাম্মদকে (সা.) অবমাননা বা ফ্রান্সে তাঁকে নিয়ে কটূক্তির পরে মাঠে ছিল। বাংলাদেশে ব্লাসফেমি আইন করা নিয়ে তাদের বিভিন্ন কর্মসূচি ছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও সমমনা ইসলামী দলের ব্যানারে আন্দোলন হয়েছে।
হেফাজত সংশ্লিষ্ট সাত দলের অন্যতম জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী স্ট্রিমকে জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁরা প্রস্তাবনা পাঠাতে পারেননি। বাড়তি সময় চেয়ে নিয়ে পরে দিয়েছেন। তিনিও প্রস্তাবনার বিষয়ে মুখ খোলেননি। তবে দলটির নীতি-নির্ধারক পর্যায়ের এক নেতা স্ট্রিমকে বলেন, রাজনীতিতে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদায় কোনো ছাড় না দেওয়ার প্রস্তাব আমরা দিয়েছি। জমিয়ত কোনোভাবেই মওদুদী আকিদাকে মেনে নেবে না। হেফাজতের অংশ হয়ে বাতিল আকিদার সঙ্গে থাকা যাবে না। এখন এটা বাস্তবায়নে যা করা হবে, তা আমরা মেনে নেব।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর রাজনীতির মেরূকরণ হয়েছে। কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক ‘ভোটব্যাংক’ ধরতে হেফাজতের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে বিএনপি, জামায়াত, এমনকি ছাত্র নেতৃত্বের এনসিপিরও। হেফাজতের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বিএনপি ও এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ নেতারা একাধিকবার বৈঠক করেছেন। জামায়াতের উলামা কমিটির নেতারাও হেফাজতের সঙ্গে বিভিন্ন সময় বসেছেন।
যদিও হেফাজত আমির খোলাখুলি জামায়াতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। বিভিন্ন সময় তিনি জামায়াতের বিরুদ্ধে কড়া বক্তব্য দিয়েছেন। ‘জামায়াত ভণ্ড ইসলামি দল। প্রকৃত ইসলামকে তারা ধারণ করে না’– এমন বক্তব্যও দিয়েছেন হেফাজত আমির।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে হেফাজতের শক্তি ত্রিধারায় গেছে। কেউ বিএনপির পক্ষে, কেউ জামায়াতের সঙ্গে; আবার কেউ এককভাবে নির্বাচন করেছে। আমরা তো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলাম। মূলত কওমি ঘরানার শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতেই আমাদের আমির ঐক্যের চেষ্টা করছেন। আজিজুল হক ইসলামাবাদী, যুগ্ম মহাসচিব, হেফাজতে ইসলাম
অবশ্য জামায়াতের সঙ্গে হেফাজতের এই আদর্শিক বিরোধ বেশ পুরোনো। জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদীর ইসলাম সম্পর্কে ব্যাখ্যাকে বিতর্কিত মনে করেন দেওবন্দিধারার আলেমরা। এই কারণে স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশে দেওবন্দিধারার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জামায়াতের স্বতন্ত্র কোনো জোট হয়নি। তবে বিভিন্ন সময় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে ইসলামপন্থীরা নির্বাচনী জোট করেছে, যেখানে জামায়াতও ছিল।
অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের অনেকে কওমিধারার রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতা। অতীতের রেকর্ড ভেঙে ত্রয়োদশ নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে এই ধারার কয়েকটি দলের সমঝোতা হয়। ফলে নির্বাচনে হেফাজতের ভোট ভাগ হয়ে যায়।
‘ভোট ব্যাংক’ এক করতেই নির্বাচনের পরে জামায়াতের প্রতি অনমনীয় হেফাজতের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেন। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে কওমিধারার সাতটি রাজনৈতিক দল এক হতে যাচ্ছে। ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া সাত দল হলো– জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। প্রতিটি দল থেকে তিনজন করে প্রতিনিধি বৈঠকে ছিলেন।
এই সাত দলের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের দুটি অংশ বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন করে। অন্যদিকে, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি শুরু থেকেই শরিক ছিল জামায়াত-এনসিপির নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের। তবে খেলাফত মজলিস এই জোট থেকে বেরিয়ে গেছে। বাকি দুই দল এখনো ১১-দলীয় ঐক্যে রয়েছে। আর এই দুই জোটের বাইরে এককভাবে নির্বাচন করেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী স্ট্রিমকে বলেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে হেফাজতের শক্তি ত্রিধারায় গেছে। কেউ বিএনপির পক্ষে, কেউ জামায়াতের সঙ্গে; আবার কেউ এককভাবে নির্বাচন করেছে। আমরা তো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলাম। মূলত কওমি ঘরানার শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতেই আমাদের আমির ঐক্যের চেষ্টা করছেন।

হেফাজত ইসলামের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর ঐক্য প্রক্রিয়ায় সাড়া দিয়েছেন কওমিধারার নেতারা। এরই অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে একসঙ্গে চলার বিষয়ে পৃথক প্রস্তাব দিয়েছে ইসলামপন্থী সাত রাজনৈতিক দল। কয়েকটি দলের প্রস্তাবনার কপি স্ট্রিম পেয়েছে, তাতে ঐক্য নিয়ে ‘পরস্পরবিরোধী’ অবস্থান দেখা গেছে।
গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর উদ্যোগে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন সাতটি দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। সভার পরে জানানো হয়, ভবিষ্যতে একসঙ্গে চলার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। এই সভার পরে চাউর হয়– হেফাজতের উদ্যোগে নতুন রাজনৈতিক জোট হচ্ছে।
এ ব্যাপারে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী স্ট্রিমকে জানান, সাত দলই তাদের প্রস্তাবনা দিয়েছে। হেফাজতের সাত সদস্যের উপকমিটি প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে। হেফাজত মহাসচিব সাজিদুর রহমানের তত্ত্বাবধানে উপকমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে নায়েবে আমির ও হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহাদ্দিস জসিম উদ্দীনকে।
দলগুলোর প্রস্তাব নিয়ে গত ১৫ আগস্ট রাজধানীর খিলগাঁওয়ের মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় বৈঠক হয়। এতে হেফাজত আমির-মহাসচিবের বাইরে অংশ নেন উপকমিটির আহ্বায়ক জসিম উদ্দীন, হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহতামিম খলিল আহমদ কাসেমি, মুফতি বশিরুল্লাহ ও আইয়ূব বাবুনগরী। তবে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি তাঁরা।
কয়েকটি দলের প্রস্তাবনা বিশ্লেষণ এবং শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে ঐক্যের কাঠামো নিয়ে পরস্পরবিরোধী মনোভাব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তুলনামূলক বৃহৎ দুটি দল একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক জোটের পক্ষে মত দিয়েছে। তবে তাদের শর্ত, সাত দলের কেউই কওমিধারার বাইরে কারও সঙ্গে জোট করতে পারবে না। দুটি দল রাজনৈতিক স্বতন্ত্রতা এবং যে কারও সঙ্গে জোট করার স্বাধীনতার অধিকার চেয়েছে। তারা ধর্মীয় ও অভিন্ন স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য একটি মোর্চা গঠনের প্রস্তাব রেখেছে।
চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গত ৩ আগস্ট হেফাজত মহাসচিব বরাবর ১২ দফা ঐক্যের প্রস্তাব দিয়েছে। রাজনৈতিক ও ধর্মীয়ভাবে কাছাকাছি দৃষ্টিভঙ্গি লালন, হক্কানি ওলামায়ে কেরামের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদা পোষণ করার কারণে প্রাথমিকভাবে নিবন্ধিত সাতটি ইসলামী রাজনৈতিক দল এই ঐক্যে শামিল থাকবে বলে প্রস্তাব দিয়েছে তারা। ইসলামী আন্দোলন এই ঐক্যকে রাজনৈতিক সমঝোতা হিসেবে অভিহিত করতে হবে বলে মত দিয়েছে।
ইসলামী আন্দোলনের প্রস্তাবনায় বলা হয়, সমঝোতায় ঐক্যবদ্ধ দলগুলো স্বাধীনভাবে তাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে। তবে অন্য কোনো রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে কোনো রকম সমঝোতা বা ঐক্য বজায় রাখতে ও গড়ে তুলতে পারবে না।
এই প্রস্তাবের অর্থ– বিএনপি এবং জামায়াত– দুই শিবিরে বিভক্ত রাজনৈতিক শক্তির কোনোটির সঙ্গে জোট বাঁধতে পারবে না হেফাজতের ঐক্যে আসা সাত দল। এমনকি হেফাজত সম্পৃক্ত নেতৃস্থানীয় কেউ সাত দলের বাইরের কোনো রাজনৈতিক পক্ষকে সমর্থন দিতে পারবেন না।
ইসলামী আন্দোলন বলেছে, সমঝোতা হলে সাত দল ঐক্যবদ্ধভাবে সমঝোতার ভিত্তিতে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেবে। নির্বাচনী জোটে অন্য কোনো দলকে যুক্ত করতে চাইলে সাত দলের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হবে।
ইসলামী আন্দোলনের সহকারী মহাসচিব শেখ ফজলুল করীম মারুফ স্ট্রিমকে জানান, হেফাজত আমিরের উদ্যোগকে তাঁরা ‘দেশ, দ্বীন ও দেশের মুসলিমদের ঈমান-আকীদা’ এবং কওমি মাদ্রাসার সুরক্ষার স্বার্থে সমর্থন করেন। তবে প্রস্তাবনার ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
ইসলামী আন্দোলনের প্রস্তাবে আরও রয়েছে, সাত দলের প্রধানেরা সমঝোতায় শীর্ষ নেতার সম্মান পাবেন। কর্মসূচি ও কর্মপন্থা নির্ধারণে সব দল থেকে দুজন করে নিয়ে ১৪ জনের লিয়াজোঁ কমিটি এবং যেকোনো বিষয়ে বিবৃতি দেওয়ার আগে এই কমিটির সম্মতি লাগবে।
হেফাজতের উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস একাধিক মজলিসে শূরা ও নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে করেছে। পরে প্রস্তাবনা হেফাজতকে দিয়েছে। দলটির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এক নেতা নাম প্রকাশ না করে স্ট্রিমকে বলেন, প্রয়াত হেফাজত মহাসচিব নূর হোসাইন কাসেমীর নেতৃত্বাধীন ‘সমমনা ইসলামী দলসমূহের’ ব্যানারে আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছিলাম। সেখানে কওমিধারার দল ছিল। হেফাজতের উদ্যোগে সাড়া দিয়ে আমরা এবারো ‘সমমনা ইসলামী দলসমূহের’ ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রস্তাব রেখেছি।
তিনি জানান, রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় যে জোট বা মোর্চাই হোক, তা এই ব্যানারের অধীনে হতে পারে বলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রস্তাব দিয়েছে। এই মোর্চার কাজ হতে পারে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক আলেম ও বিভিন্ন সমমনা দলের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় বিভিন্ন নীতিমালায় যৌথ দাবি পেশ করা।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ স্ট্রিমকে বলেন, সমমনা ইসলামী দলগুলোর ব্যানারের কার্যক্রম যেমন ইসলামিক, তেমনি রাজনৈতিক ইস্যুতেও ছিল। এই ধরনের ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ হতে পারলে দুটি সুবিধা। এতে দলীয় স্বাতন্ত্র্য এবং স্বাধীনতা দুটিই বজায় থাকবে। এর মাধ্যমে পরস্পরের দূরত্ব কমবে এবং একসঙ্গে কিছু কাজ করা যাবে।
তিনি বলেন, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট– রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা নির্বাচনী সিদ্ধান্ত প্রতিটা দল নিজেরা নেওয়ার এখতিয়ার রাখে। সে কার সঙ্গে নির্বাচন করবে, কার রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যাবে, সে স্বাধীনতা থাকা উচিত।
এটি রেখে হেফাজতের উদ্যোগে জোট বা ঐক্য হতে পারে কিনা– প্রশ্নে জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘হ্যাঁ, হতে পারে। মানে কিছু না হওয়ার চেয়ে তো হওয়া ভালো। আমাদের রাজনীতি এখন একটু ভিন্নভাবে করার চিন্তা করছি। এক সময় আমরা শুধু ইসলামী ইস্যু নিয়ে কাজ করেছি। শুধু আমরা না, সব ইসলামী দলই। ফলে সাধারণ জনগণ মনে করে– এই দল তো শুধু আলেমরা করবেন; আমাদের সুযোগ নেই। আমরা এখন রাজনীতিকে ভালো করে করতে চাই। সাধারণ জনগণের মধ্যে দলের কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে চাই।’
জামায়াত-এনসিপির ১১-দলীয় ঐক্যে থাকা নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইজহার স্ট্রিমকে জানান, তাদের প্রস্তাবনা হেফাজতকে দিয়েছেন। প্রস্তাবগুলো পর্যবেক্ষণ করে হেফাজত আমির যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তাতে নেজামে ইসলামের দ্বিমত থাকবে না। তবে কী প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে, তা নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেজামে ইসলামের এক নেতা জানান, তাদের প্রস্তাবনা অনেকটা নূর হোসাইন কাসেমীর নেতৃত্বাধীন ‘সমমনা ইসলামী দলসমূহের’ ব্যানারে গঠিত মোর্চার মতো। সেখানে সরাসরি হেফাজত থাকবে না। তবে হেফাজত সংশ্লিষ্ট নেতাদের রাজনৈতিক দলগুলো সক্রিয় থাকবে। এতে নিজেদের মধ্যে ঐক্যও থাকবে, আবার নিজস্ব রাজনৈতিক স্বাধীনতাও বজায় থাকবে।
‘সমমনা ইসলামী দলসমূহের’ ব্যানারের মোর্চা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক যেকোনো রাজনৈতিক সংকটে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি দিয়েছে। মোর্চার দলগুলো স্বাধীনভাবে দলীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি ঈমান-আকিদা প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ ছিল। তারা ঐক্যবদ্ধভাবে বক্তব্য-বিবৃতি দিতো।
এমন হলে দল ভাঙে না, জোটও থাকে উদাহরণ দিয়ে ওই নেতার ভাষ্য, সমমনা ইসলামী দলসমূহের মোর্চা মহানবী হযরত মুহাম্মদকে (সা.) অবমাননা বা ফ্রান্সে তাঁকে নিয়ে কটূক্তির পরে মাঠে ছিল। বাংলাদেশে ব্লাসফেমি আইন করা নিয়ে তাদের বিভিন্ন কর্মসূচি ছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও সমমনা ইসলামী দলের ব্যানারে আন্দোলন হয়েছে।
হেফাজত সংশ্লিষ্ট সাত দলের অন্যতম জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী স্ট্রিমকে জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁরা প্রস্তাবনা পাঠাতে পারেননি। বাড়তি সময় চেয়ে নিয়ে পরে দিয়েছেন। তিনিও প্রস্তাবনার বিষয়ে মুখ খোলেননি। তবে দলটির নীতি-নির্ধারক পর্যায়ের এক নেতা স্ট্রিমকে বলেন, রাজনীতিতে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদায় কোনো ছাড় না দেওয়ার প্রস্তাব আমরা দিয়েছি। জমিয়ত কোনোভাবেই মওদুদী আকিদাকে মেনে নেবে না। হেফাজতের অংশ হয়ে বাতিল আকিদার সঙ্গে থাকা যাবে না। এখন এটা বাস্তবায়নে যা করা হবে, তা আমরা মেনে নেব।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর রাজনীতির মেরূকরণ হয়েছে। কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক ‘ভোটব্যাংক’ ধরতে হেফাজতের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে বিএনপি, জামায়াত, এমনকি ছাত্র নেতৃত্বের এনসিপিরও। হেফাজতের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বিএনপি ও এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ নেতারা একাধিকবার বৈঠক করেছেন। জামায়াতের উলামা কমিটির নেতারাও হেফাজতের সঙ্গে বিভিন্ন সময় বসেছেন।
যদিও হেফাজত আমির খোলাখুলি জামায়াতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। বিভিন্ন সময় তিনি জামায়াতের বিরুদ্ধে কড়া বক্তব্য দিয়েছেন। ‘জামায়াত ভণ্ড ইসলামি দল। প্রকৃত ইসলামকে তারা ধারণ করে না’– এমন বক্তব্যও দিয়েছেন হেফাজত আমির।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে হেফাজতের শক্তি ত্রিধারায় গেছে। কেউ বিএনপির পক্ষে, কেউ জামায়াতের সঙ্গে; আবার কেউ এককভাবে নির্বাচন করেছে। আমরা তো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলাম। মূলত কওমি ঘরানার শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতেই আমাদের আমির ঐক্যের চেষ্টা করছেন। আজিজুল হক ইসলামাবাদী, যুগ্ম মহাসচিব, হেফাজতে ইসলাম
অবশ্য জামায়াতের সঙ্গে হেফাজতের এই আদর্শিক বিরোধ বেশ পুরোনো। জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদীর ইসলাম সম্পর্কে ব্যাখ্যাকে বিতর্কিত মনে করেন দেওবন্দিধারার আলেমরা। এই কারণে স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশে দেওবন্দিধারার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জামায়াতের স্বতন্ত্র কোনো জোট হয়নি। তবে বিভিন্ন সময় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে ইসলামপন্থীরা নির্বাচনী জোট করেছে, যেখানে জামায়াতও ছিল।
অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের অনেকে কওমিধারার রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতা। অতীতের রেকর্ড ভেঙে ত্রয়োদশ নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে এই ধারার কয়েকটি দলের সমঝোতা হয়। ফলে নির্বাচনে হেফাজতের ভোট ভাগ হয়ে যায়।
‘ভোট ব্যাংক’ এক করতেই নির্বাচনের পরে জামায়াতের প্রতি অনমনীয় হেফাজতের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেন। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে কওমিধারার সাতটি রাজনৈতিক দল এক হতে যাচ্ছে। ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া সাত দল হলো– জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। প্রতিটি দল থেকে তিনজন করে প্রতিনিধি বৈঠকে ছিলেন।
এই সাত দলের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের দুটি অংশ বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন করে। অন্যদিকে, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি শুরু থেকেই শরিক ছিল জামায়াত-এনসিপির নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের। তবে খেলাফত মজলিস এই জোট থেকে বেরিয়ে গেছে। বাকি দুই দল এখনো ১১-দলীয় ঐক্যে রয়েছে। আর এই দুই জোটের বাইরে এককভাবে নির্বাচন করেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী স্ট্রিমকে বলেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে হেফাজতের শক্তি ত্রিধারায় গেছে। কেউ বিএনপির পক্ষে, কেউ জামায়াতের সঙ্গে; আবার কেউ এককভাবে নির্বাচন করেছে। আমরা তো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলাম। মূলত কওমি ঘরানার শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতেই আমাদের আমির ঐক্যের চেষ্টা করছেন।

শেখ হাসিনার সঙ্গে বিশ্বের আর কোনো স্বৈরাচারকে মেলানো যাবে না। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এ কথা বলেছেন।
১৯ ঘণ্টা আগে
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান স্বীকার করে স্বাধীনতা-পরবর্তী তাঁর শাসনামলের নির্মোহ ও ঐতিহাসিক মূল্যায়ন জরুরি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।
১ দিন আগে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কয়েক দিন আগে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের দাবি অবান্তর বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এমপি। রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
১ দিন আগে
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন। তিনি বলেন, এই অনুচ্ছেদ স্বাধীন ভোটাধিকারের পথে একটি বড় বাধা। আমাদের দাবি, জুলাই সনদের আলোকে যেকোনো মূল্যে ভবিষ্যতে ধারাটি সংশোধন করতে হবে।
১৬ আগস্ট ২০২৬