leadT1ad

ইউপির দায়িত্ব নিয়ে আ.লীগ-যুবদল নেতার অনুসারীদের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশত

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
হবিগঞ্জ

বানিয়াচং উপজেলার বড়ইউড়ি ইউপিতে দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ। ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) দায়িত্ব পালন নিয়ে বর্তমান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছে। এতে থানার ওসিসহ অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হয়েছে। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে বানিয়াচং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে ইউনিয়নের কালাইনজুড়া গ্রামে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিলে পুলিশ সদস্যরাও আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৫ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ও ৩ রাউন্ড টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়ইউড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদ উদ্দিন ২০২৪ সালে জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় করা একটি মামলায় কারাগারে ছিলেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান কপিল উদ্দিন। পরে জামিনে বেরিয়ে আইনি জটিলতা শেষে ইউপি কার্যালয়ে চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসতে যান ফরিদ উদ্দিন। কিন্তু দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে বারবার অনীহা প্রকাশ করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কপিল উদ্দিন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের দ্বন্দ্ব চলছিল।

এদিকে সোমবার সকালে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ইউপি কার্যালয়ে ভিজিএফ চাল বিতরণ শুরু করলে তাঁকে বাধা দেন প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন। শুরুতে দুই চেয়ারম্যানের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তাদের অনুসারীরা। সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত এই সংঘর্ষ চলে।

স্থানীয় যুবদল নেতা ও প্যানেল চেয়ারম্যান কপিল উদ্দিন বলেন, ‘ফরিদ উদ্দিন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। জনগণ তাকে মেনে নিচ্ছে না। তিনি লোকজন নিয়ে জোর করে অফিস দখল করতে এলে আমাদের লোকজন বাধা দেয়।’

ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় একটি মামলায় জেলহাজতে গেলে কফিল উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেয়। এখন আমি মুক্ত, কিন্তু তিনি আমাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছে না। জোর করে অফিস দখল করে রেখেছেন।’

বানিয়াচং থানার ওসি শেখ নাজমুল হক জানান, দুই চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসার দ্বন্দ্ব থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার অবস্থা শান্ত। ফের সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত