ডেভেলপারদের দেওয়া ফ্ল্যাটের ওপর ১৫ শতাংশ করের প্রস্তাব

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬, ১৮: ৪২
বর্তমানে বাংলাদেশে বছরে ১০ হাজারের বেশি ফ্ল্যাট বিক্রি হয়। ছবি: সংগৃহীত

জমির বিনিময়ে ডেভেলপারের দেওয়া ফ্ল্যাট বা অন্য আর্থিক সুবিধার ওপর ১৫ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্সের প্রস্তাব করেছে সরকার। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন।

উত্থাপিত অর্থবিলের আয়কর বিধি অনুযায়ী, এখন থেকে জমির মালিকদের সাইনিং মানির পাশাপাশি ডেভেলপারের দেওয়া ফ্ল্যাট বা অন্য আর্থিক সুবিধার মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হবে। ফ্ল্যাটসহ অন্যান্য অ-নগদ সুবিধাকে করযোগ্য লাভ হিসেবে বিবেচনা করে সরকারের করের আওতা বাড়ানোই এর মূল উদ্দেশ্য।

বর্তমান নিয়মে জমির মালিকদের ডেভেলপারের সঙ্গে চুক্তির সময় পাওয়া টাকাই ‘সাইনিং মানি’ হিসেবে পরিচিত এবং এর ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপিত হয়। তবে একই চুক্তির অংশ হিসেবে পাওয়া ফ্ল্যাটের ওপর এখনো কর ছিল না।

প্রস্তাবিত নতুন বাজেটে এই নিয়মে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বাংলাদেশে ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স বলতে শেয়ার, জমি, ফ্ল্যাট বা সোনা বিক্রি থেকে অর্জিত লাভের ওপর প্রদেয় করকে বোঝায়।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, জমির পরিবর্তে পাওয়া ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট মূল্যায়ন করা হবে সংশ্লিষ্ট এলাকার সরকার নির্ধারিত মৌজামূল্যের ভিত্তিতে। এরপর সেখান থেকে ওই সম্পদের অর্জনকালীন (ক্রয়কালীন) মূল্য বাদ দেওয়া হবে। অবশিষ্ট টাকাকে ক্যাপিটাল গেইনস বা মূলধনী মুনাফা ধরে তার ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপ করা হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উদাহরণ দিয়ে বলেন, ধরা যাক কোনো ব্যক্তি ২০ বছর আগে ৫০ লাখ টাকায় ১০ কাঠা জমি কিনেছিলেন। বর্তমানে সেটি ডেভেলপারের কাছে হস্তান্তর করে সাইনিং মানি হিসেবে ৫০ লাখ টাকা পেলেন এবং চুক্তি অনুযায়ী ২০টি ফ্ল্যাটের একটি প্রকল্প থেকে ১০টি ফ্ল্যাট পেলেন। যদি প্রতিটি ফ্ল্যাটের সরকারি মৌজামূল্য ৫০ লাখ টাকা হয়, তবে ১০টি ফ্ল্যাটের মোট মূল্য দাঁড়াবে ৫ কোটি টাকা।

তিনি আরও বলেন, ‘এক্ষেত্রে সাইনিং মানির ৫০ লাখ টাকা ও ১০ ফ্ল্যাটের ৫ কোটি টাকা মিলে জমির মালিকের মোট অর্জন দাঁড়াবে ৫ দশমিক ৫ কোটি টাকা। সেখান থেকে তার ২০ বছর আগের অর্জনকালীন মূল্য ৫০ লাখ টাকা বাদ দিলে করযোগ্য আয় দাঁড়াবে ৫ কোটি। এই ৫ কোটি টাকার ওপর ১৫ শতাংশ হারে মোট ৭৫ লাখ টাকা অতিরিক্ত ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স দিতে হবে।’

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশে বছরে ১০ হাজারের বেশি ফ্ল্যাট বিক্রি হয়, যার বাজারমূল্য ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত