স্ট্রিম প্রতিবেদক

বগুড়া দীর্ঘদিন উন্নয়নবঞ্চিত ছিল দাবি করে সেসব ঘাটতি পূরণে মন্ত্রী হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ে গণমাধ্যমকেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ প্রতিমন্ত্রী এই কথা বলেন। বিএসআরএফের সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদলের সঞ্চালনায় এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় রাজনীতি ও কাজের অভিজ্ঞতা
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটা ঠিক যে জাতীয় রাজনীতিতে আমার কোনো পদ-পদবি ছিল না। কিন্তু জাতীয় রাজনীতিতে আমি অনেক কাজ করেছি। আমার কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে। আমার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামের সঙ্গে আমি কাজ করেছি, রিজভী আহমেদের সঙ্গে আমি বহুবার কাজ করেছি এবং জাতীয় রাজনীতিতে আমি প্রকাশ্যে হোক, অপ্রকাশ্যে হোক, বহু ভূমিকা পালন করেছি। যেহেতু আমি ঢাকা শহরেই বসবাস করতাম, পরিবারসহ আমার বসবাস ছিল ঢাকা শহরেই।’
মীর শাহে আলম বলেন, ‘কয়েক দিন আগে একটি পত্রিকায় দেখলাম... আমি ওই প্রসঙ্গে যেতে চাই না। কিছু নিউজ করা হয়। এগুলো আসলে কী হয়, আমরা মাঝে মাঝে হেয় প্রতিপন্ন হলে খুব একটা খারাপ লাগে না। কারণ রাজনীতি করি তো, সবাই আমাদের খুশি করবে তা না। কখনো গালি দেবে, কখনো ভালো বলবে। কিন্তু আমাদের সম্পর্কে নেতিবাচক কিছু গেলে সেটি পরিবার নিতে পারে না, আত্মীয়স্বজনের কাছে এটি খারাপ লাগে।’
ক্রিকেট বোর্ডে সন্তানের সদস্যপদ ও পদত্যাগ
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমাদের সন্তানেরা কিছু করলে সেটি বিভিন্নভাবে সমালোচিত হয় এভাবে যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলেকে কেন ক্রিকেট বোর্ডে, সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলেকে কেন ক্রিকেট বোর্ডে বা মির্জা ফখরুল ইসলামের ভাই কেন ক্রিকেট বোর্ডে। আমার নিজের সন্তানও ক্রিকেট বোর্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে এসেছিল। যখন সমালোচনা শুরু হয়েছে, আমার সন্তান আমার ওপর খুবই মন খারাপ করেছে। আমি তাকে ডেকে বুঝিয়ে বলেছি, "বাবা এটি নিয়ে নানান কথা হবে। তোমার ব্যবসা-বাণিজ্য এখন অনেক দেখতে হবে। তুমি দয়া করে পদত্যাগ করো।"’
‘যেদিন বোর্ডে নির্বাচিত হয়েছে, প্রথম বোর্ড সভা করেছে, পরদিনই আমার কথামতো গিয়ে আমার ছেলে ক্রিকেট বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেছে। এই নিউজটা আপনারা কেউ গুরুত্ব দেন না যে একজন মন্ত্রী তার সন্তানকে ক্রিকেট বোর্ড থেকে সরিয়ে নিয়ে আসছেন।’
মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমাদের সন্তানেরা বিরোধী দলে থাকার সময় সরকারের রোষানলে পড়বে, আবার ক্ষমতায় আসার পর সমালোচকদের রোষানলে পড়বে; তাহলে তারা উচ্চশিক্ষিত হয়ে, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে, রাজনৈতিকভাবে, ব্যবসায়িকভাবে তাদের মেধার বিকাশটা কোথায় ঘটাবে? তারা সমাজে অবদান রাখবে কীভাবে? বিষয়গুলো মনে হয় আপনাদের নজরে আনা দরকার।’
হলফনামার সম্পদ ও আয়ের উৎস
নির্বাচনী হলফনামায় সম্পদের সব তথ্য আছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তাহলে সব হলফনামা আড়াল করে একটি চিহ্নকে গোল চিহ্ন দিয়ে যদি বলেন যে আমার সম্পত্তির পরিমাণ আটগুণ বেড়েছে, তখন কিন্তু কষ্ট লাগে।’
‘আপনি ওখানে সম্পত্তি দেখালেন ৩১ শতক, কিন্তু আমার হলফনামায় তো সম্পত্তি দেওয়া আছে এক হাজার ৮৩৫ শতক। তাহলে কোথায় এক হাজার ৮৩৫ শতক আর আপনি গুরুত্ব দিলেন ৩১ শতক। হ্যাঁ, আমার উপজেলায় আমি মন্ত্রী হওয়ার পর সম্পত্তি কেনা হয়েছে, এ তো আমি অস্বীকার করছি না। আমার কোম্পানির নামে সম্পত্তি আমার সন্তান কিনেছে। নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান করার জন্য সম্পত্তি কেনার প্রয়োজন হলে সম্পত্তি কিনবেই। অবশ্যই কিনবে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব বোর্ড আয়ের উৎসের তদন্ত করুক। ‘কিন্তু সেটার আয়ের উৎসটা কী, সেটি আপনারা দেখেন। সেটি তদন্ত করুক, কর অফিস আছে, তারা দেখবে সেটি বৈধ না অবৈধ। ব্যক্তিগত নামে তো কোনো সম্পত্তি কেনা হয়নি; রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলের নামে, ফাউন্ডেশনের নামে সম্পত্তি কেনা হচ্ছে। কারণ সেখানে আমরা নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান করব, নতুন ব্যবসা করব। টাকার উৎস কী — যদি নগদের কথা বলি, টাকার উৎস আমি যে ৪২ কোটি টাকা দিয়ে একটি অটোরাইস মিল বিক্রি করলাম, নগদ টাকার উৎস তো এখান থেকেই বের হয়ে আসে। আমি অন্য জায়গায় না-ই গেলাম, আমার অন্যান্য ব্যবসাগুলো আমি বাদই দিলাম। এই যে আমার ১২-১৩টি ব্যবসা, এগুলো না হয় আমি বাদই দিলাম।’
মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমি তৃণমূল থেকে উঠে এসেছি। কিন্তু আমরা কাজ তো শুরু করেছি। আমাদের কাজ করার যোগ্যতা আছে কি না, এটি তো কিছুদিন আপনাদের দেখতে হবে। শুরুতেই যদি আমাকে ধাক্কা মারা হয়, শুরুতেই যদি আমাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, তাহলে যেটুকু মেধা মহান আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন, আপনাদের চেয়ে কম, বেশি বা সমান—সেটুকু মেধার বিকাশ তো আমি রাষ্ট্রীয় কাজে বা আমার মন্ত্রণালয়ে দেখাতে পারব না। এটুকু সুযোগ তো আমাকে দিতে হবে কাজ করার।’
শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ার উদ্যোগ
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নের ব্যাপারে আমার একটা পাগলামো রয়েছে। আমি এলাকার উন্নয়নের ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে অনেক চেষ্টা করি, কাজ করি। আপনারা জানেন, এবার অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। আমি প্রথম চেয়ারম্যান হওয়ার পরে ১৯৯৭ সালে আমার গ্রামে আমার নামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় করি, যেটি এখন সরকারি।’
তিনি বলেন, ২০০৩ সালে কারিগরি শিক্ষাকে মাথায় রেখে তিনি ‘মীর শাহে আলম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। তার নামে সেখানে কৃষি ও মৎস্য কলেজ রয়েছে, তার নামে মাদ্রাসা রয়েছে, তার নামে ভেটেরিনারি স্কুল রয়েছে। এরপর মোকামতলা নতুন উপজেলায় তার নামে নতুন একটি কলেজ রয়েছে, তার নামে শিবগঞ্জে আরেকটি কলেজ রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানগুলো আমি ১৯৯৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নিজের সম্পত্তি, পৈতৃক সম্পত্তি দিয়ে, কোথাও সম্পত্তি ক্রয় করে, নিজের অর্থ দিয়ে ঘরবাড়ি তৈরি করে, আস্তে আস্তে দাঁড় করিয়েছি। এর মধ্যে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই আমি বিএনপি করার কারণে এমপিওভুক্ত হয়নি। নতুন করে সরকার আসার পরে আবেদন করেছি, চেষ্টা করছি প্রতিষ্ঠানগুলো যেন এমপিওভুক্ত হয়। কারণ দীর্ঘদিন এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা বেতন পাননি। কারণ হচ্ছি আমি।’
নতুন উপজেলা ও ইউনিয়ন গঠন
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শিবগঞ্জ উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল যে মোকামতলায় একটি আলাদা উপজেলা করা। আমি এমপি ও মন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মাথায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ডিও দিয়ে, দুই মাসের মাথায় বাংলাদেশের প্রথম যে পাঁচটি উপজেলা হয়—স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এলাকায় দুটি, কক্সবাজারে একটি, লক্ষ্মীপুরে একটি এবং আমার নির্বাচনী এলাকায় একটি—সেই নতুন উপজেলা হয় মোকামতলা। এই উপজেলা তো আজ হোক, কাল হোক, কেউ না কেউ করতই। আমার ইচ্ছা ছিল, এটি আমার সময় যদি হয়, তাহলে ইতিহাসের পাতায় আমার নামটি লেখা থাকবে যে আমার সময় শিবগঞ্জ ভেঙে নতুন একটি উপজেলা হয়েছে। সেই ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার কারণেই নতুন উপজেলা করা।’
মীর শাহে আলম আরও বলেন, ‘আমার উপজেলায় নতুন কিছু ইউনিয়ন ছিল, যেগুলো অনেক বড় বড় ইউনিয়ন। সেগুলোকে বিভক্ত করার প্রয়োজন ছিল। সেই ইউনিয়নগুলোকে আমরা বিভক্ত করেছি। আমি নতুন চারটি ইউনিয়ন তৈরি করেছি। ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে হয়তো অনেক প্রশ্ন ছিল, অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তিনটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে নতুন করে আবার ওই এলাকার জনগণ যেভাবে চেয়েছিল, সেভাবে নামকরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

বগুড়া দীর্ঘদিন উন্নয়নবঞ্চিত ছিল দাবি করে সেসব ঘাটতি পূরণে মন্ত্রী হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ে গণমাধ্যমকেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ প্রতিমন্ত্রী এই কথা বলেন। বিএসআরএফের সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদলের সঞ্চালনায় এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় রাজনীতি ও কাজের অভিজ্ঞতা
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটা ঠিক যে জাতীয় রাজনীতিতে আমার কোনো পদ-পদবি ছিল না। কিন্তু জাতীয় রাজনীতিতে আমি অনেক কাজ করেছি। আমার কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে। আমার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামের সঙ্গে আমি কাজ করেছি, রিজভী আহমেদের সঙ্গে আমি বহুবার কাজ করেছি এবং জাতীয় রাজনীতিতে আমি প্রকাশ্যে হোক, অপ্রকাশ্যে হোক, বহু ভূমিকা পালন করেছি। যেহেতু আমি ঢাকা শহরেই বসবাস করতাম, পরিবারসহ আমার বসবাস ছিল ঢাকা শহরেই।’
মীর শাহে আলম বলেন, ‘কয়েক দিন আগে একটি পত্রিকায় দেখলাম... আমি ওই প্রসঙ্গে যেতে চাই না। কিছু নিউজ করা হয়। এগুলো আসলে কী হয়, আমরা মাঝে মাঝে হেয় প্রতিপন্ন হলে খুব একটা খারাপ লাগে না। কারণ রাজনীতি করি তো, সবাই আমাদের খুশি করবে তা না। কখনো গালি দেবে, কখনো ভালো বলবে। কিন্তু আমাদের সম্পর্কে নেতিবাচক কিছু গেলে সেটি পরিবার নিতে পারে না, আত্মীয়স্বজনের কাছে এটি খারাপ লাগে।’
ক্রিকেট বোর্ডে সন্তানের সদস্যপদ ও পদত্যাগ
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমাদের সন্তানেরা কিছু করলে সেটি বিভিন্নভাবে সমালোচিত হয় এভাবে যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলেকে কেন ক্রিকেট বোর্ডে, সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলেকে কেন ক্রিকেট বোর্ডে বা মির্জা ফখরুল ইসলামের ভাই কেন ক্রিকেট বোর্ডে। আমার নিজের সন্তানও ক্রিকেট বোর্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে এসেছিল। যখন সমালোচনা শুরু হয়েছে, আমার সন্তান আমার ওপর খুবই মন খারাপ করেছে। আমি তাকে ডেকে বুঝিয়ে বলেছি, "বাবা এটি নিয়ে নানান কথা হবে। তোমার ব্যবসা-বাণিজ্য এখন অনেক দেখতে হবে। তুমি দয়া করে পদত্যাগ করো।"’
‘যেদিন বোর্ডে নির্বাচিত হয়েছে, প্রথম বোর্ড সভা করেছে, পরদিনই আমার কথামতো গিয়ে আমার ছেলে ক্রিকেট বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেছে। এই নিউজটা আপনারা কেউ গুরুত্ব দেন না যে একজন মন্ত্রী তার সন্তানকে ক্রিকেট বোর্ড থেকে সরিয়ে নিয়ে আসছেন।’
মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমাদের সন্তানেরা বিরোধী দলে থাকার সময় সরকারের রোষানলে পড়বে, আবার ক্ষমতায় আসার পর সমালোচকদের রোষানলে পড়বে; তাহলে তারা উচ্চশিক্ষিত হয়ে, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে, রাজনৈতিকভাবে, ব্যবসায়িকভাবে তাদের মেধার বিকাশটা কোথায় ঘটাবে? তারা সমাজে অবদান রাখবে কীভাবে? বিষয়গুলো মনে হয় আপনাদের নজরে আনা দরকার।’
হলফনামার সম্পদ ও আয়ের উৎস
নির্বাচনী হলফনামায় সম্পদের সব তথ্য আছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তাহলে সব হলফনামা আড়াল করে একটি চিহ্নকে গোল চিহ্ন দিয়ে যদি বলেন যে আমার সম্পত্তির পরিমাণ আটগুণ বেড়েছে, তখন কিন্তু কষ্ট লাগে।’
‘আপনি ওখানে সম্পত্তি দেখালেন ৩১ শতক, কিন্তু আমার হলফনামায় তো সম্পত্তি দেওয়া আছে এক হাজার ৮৩৫ শতক। তাহলে কোথায় এক হাজার ৮৩৫ শতক আর আপনি গুরুত্ব দিলেন ৩১ শতক। হ্যাঁ, আমার উপজেলায় আমি মন্ত্রী হওয়ার পর সম্পত্তি কেনা হয়েছে, এ তো আমি অস্বীকার করছি না। আমার কোম্পানির নামে সম্পত্তি আমার সন্তান কিনেছে। নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান করার জন্য সম্পত্তি কেনার প্রয়োজন হলে সম্পত্তি কিনবেই। অবশ্যই কিনবে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব বোর্ড আয়ের উৎসের তদন্ত করুক। ‘কিন্তু সেটার আয়ের উৎসটা কী, সেটি আপনারা দেখেন। সেটি তদন্ত করুক, কর অফিস আছে, তারা দেখবে সেটি বৈধ না অবৈধ। ব্যক্তিগত নামে তো কোনো সম্পত্তি কেনা হয়নি; রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলের নামে, ফাউন্ডেশনের নামে সম্পত্তি কেনা হচ্ছে। কারণ সেখানে আমরা নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান করব, নতুন ব্যবসা করব। টাকার উৎস কী — যদি নগদের কথা বলি, টাকার উৎস আমি যে ৪২ কোটি টাকা দিয়ে একটি অটোরাইস মিল বিক্রি করলাম, নগদ টাকার উৎস তো এখান থেকেই বের হয়ে আসে। আমি অন্য জায়গায় না-ই গেলাম, আমার অন্যান্য ব্যবসাগুলো আমি বাদই দিলাম। এই যে আমার ১২-১৩টি ব্যবসা, এগুলো না হয় আমি বাদই দিলাম।’
মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমি তৃণমূল থেকে উঠে এসেছি। কিন্তু আমরা কাজ তো শুরু করেছি। আমাদের কাজ করার যোগ্যতা আছে কি না, এটি তো কিছুদিন আপনাদের দেখতে হবে। শুরুতেই যদি আমাকে ধাক্কা মারা হয়, শুরুতেই যদি আমাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, তাহলে যেটুকু মেধা মহান আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন, আপনাদের চেয়ে কম, বেশি বা সমান—সেটুকু মেধার বিকাশ তো আমি রাষ্ট্রীয় কাজে বা আমার মন্ত্রণালয়ে দেখাতে পারব না। এটুকু সুযোগ তো আমাকে দিতে হবে কাজ করার।’
শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ার উদ্যোগ
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নের ব্যাপারে আমার একটা পাগলামো রয়েছে। আমি এলাকার উন্নয়নের ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে অনেক চেষ্টা করি, কাজ করি। আপনারা জানেন, এবার অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। আমি প্রথম চেয়ারম্যান হওয়ার পরে ১৯৯৭ সালে আমার গ্রামে আমার নামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় করি, যেটি এখন সরকারি।’
তিনি বলেন, ২০০৩ সালে কারিগরি শিক্ষাকে মাথায় রেখে তিনি ‘মীর শাহে আলম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। তার নামে সেখানে কৃষি ও মৎস্য কলেজ রয়েছে, তার নামে মাদ্রাসা রয়েছে, তার নামে ভেটেরিনারি স্কুল রয়েছে। এরপর মোকামতলা নতুন উপজেলায় তার নামে নতুন একটি কলেজ রয়েছে, তার নামে শিবগঞ্জে আরেকটি কলেজ রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানগুলো আমি ১৯৯৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নিজের সম্পত্তি, পৈতৃক সম্পত্তি দিয়ে, কোথাও সম্পত্তি ক্রয় করে, নিজের অর্থ দিয়ে ঘরবাড়ি তৈরি করে, আস্তে আস্তে দাঁড় করিয়েছি। এর মধ্যে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই আমি বিএনপি করার কারণে এমপিওভুক্ত হয়নি। নতুন করে সরকার আসার পরে আবেদন করেছি, চেষ্টা করছি প্রতিষ্ঠানগুলো যেন এমপিওভুক্ত হয়। কারণ দীর্ঘদিন এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা বেতন পাননি। কারণ হচ্ছি আমি।’
নতুন উপজেলা ও ইউনিয়ন গঠন
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শিবগঞ্জ উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল যে মোকামতলায় একটি আলাদা উপজেলা করা। আমি এমপি ও মন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মাথায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ডিও দিয়ে, দুই মাসের মাথায় বাংলাদেশের প্রথম যে পাঁচটি উপজেলা হয়—স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এলাকায় দুটি, কক্সবাজারে একটি, লক্ষ্মীপুরে একটি এবং আমার নির্বাচনী এলাকায় একটি—সেই নতুন উপজেলা হয় মোকামতলা। এই উপজেলা তো আজ হোক, কাল হোক, কেউ না কেউ করতই। আমার ইচ্ছা ছিল, এটি আমার সময় যদি হয়, তাহলে ইতিহাসের পাতায় আমার নামটি লেখা থাকবে যে আমার সময় শিবগঞ্জ ভেঙে নতুন একটি উপজেলা হয়েছে। সেই ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার কারণেই নতুন উপজেলা করা।’
মীর শাহে আলম আরও বলেন, ‘আমার উপজেলায় নতুন কিছু ইউনিয়ন ছিল, যেগুলো অনেক বড় বড় ইউনিয়ন। সেগুলোকে বিভক্ত করার প্রয়োজন ছিল। সেই ইউনিয়নগুলোকে আমরা বিভক্ত করেছি। আমি নতুন চারটি ইউনিয়ন তৈরি করেছি। ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে হয়তো অনেক প্রশ্ন ছিল, অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তিনটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে নতুন করে আবার ওই এলাকার জনগণ যেভাবে চেয়েছিল, সেভাবে নামকরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
.png)

টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া, মাতামুহুরী, পেকুয়া ও রামু উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় অন্তত তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
১ ঘণ্টা আগে
আধা ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতেই রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি উপচে পড়ে পানিতে। বাসাবাড়ি আর রাস্তার পাশের দোকানেও ঢুকে যায় পয়োনিষ্কাশন নালার দুর্গন্ধযুক্ত পানি।
১ ঘণ্টা আগে
উগ্রবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে আলোচিত ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের (এফসিএস) সক্রিয় সদস্য তাহসীন ইসলামকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
১ ঘণ্টা আগে
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় পুলিশ হেফাজতে এক মাদক আসামির মৃত্যুর গুজবে থানায় হামলা চালিয়েছে একদল লোক। এতে অন্তত ১০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
২ ঘণ্টা আগে