আগের পোশাকে ফিরল বাংলাদেশ পুলিশ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

পুলিশের নবনির্মিত ‘বরকাউ ক্যাম্প’ উদ্বোধন করেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। অনুষ্ঠানে পুলিশ কর্মকর্তাদের নতুন পোশাকে দেখা যায়। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের নবনির্মিত ‘বরকাউ ক্যাম্প’ উদ্বোধন করেছেন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। বুধবারের (১ জুলাই) এই অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদসহ ঊর্ধ্বতন বেশ কয়েক কর্মকর্তার শরীরে নতুন ইউনিফর্ম দেখা যায়।

জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী স্ট্রিমকে বলেন, ‘নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুধবার থেকে নতুন পোশাক পরা শুরু করেছেন বাহিনীর সদস্যরা। প্রাথমিকভাবে সিনিয়রদের নতুন পোশাক দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে দেওয়া হবে।’

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে গাঢ় নীল ও হালকা জলপাই রঙয়ের শার্ট এবং খাকি রঙের প্যান্ট ফেরানো হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে সংস্কারের অংশ হিসেবে পুলিশের পোশাক পরিবর্তন করা হয়েছিল।

তবে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেটি আবার বদলানোর সিদ্ধান্ত হয়। বুধবার গাঢ় নীল ও হালকা জলপাই রঙয়ের শার্ট এবং খাকি রঙের প্যান্টের নতুন ইউনিফর্মে পুলিশ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন ঘটে শেখ হাসিনার সরকারের। তাঁর আমলেই এই পোশাক চালু হয়েছিল।

গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। এরই জেরে শেখ হাসিনার পতনের পরে অনেক থানায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, এমনকি অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। সরকার পতনের পরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীর সংস্কার এবং পোশাক পরিবর্তনের দাবি ওঠে। পুলিশ সংস্কার আলোর মুখ না দেখলেও, তাদের পোশাক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করে অন্তর্বর্তী সরকার।

আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত
আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত

গত বছর ২০ জানুয়ারি আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুলিশের শার্টের রং আইরন বা লোহা-ধূসর, আর প্যান্টের রং কফি শেল বা কফি-বাদামি ধূসর করা হয়। গত বছরের ২৫ নভেম্বর নতুন পোশাকে মাঠে নামে পুলিশ।

যদিও সেই পোশাক নিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জিতে বিএনপি সরকার গঠন করে। এরপর নতুন পোশাক নিয়ে পুলিশ সদস্যদের ক্ষোভ আবার সামনে আসে। তখন পোশাক পরিবর্তনের দাবি উঠলে সরকারও সায় দেয়।

এরপর গত ৪ মে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সরকার পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পোশাকের ওপরের অংশ আগে যেটা ছিল ‘নেভি ব্লু’ শার্ট, সেটা বহাল রাখা হয়েছে। আর খাকি প্যান্ট দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা লক্ষ করেছি সারা দেশে এবং পুলিশ বাহিনীর মধ্যে যে বিদ্যমান পোশাক আছে, এটা নিয়ে কেউ সন্তুষ্ট না এবং এই পোশাকটা আসলে ওয়াইডলি অ্যাকসেপ্টেডও (ব্যাপকভাবে গৃহীত) হয়নি। মানানসই না শুদ্ধ বাংলায়। সে জন্য পুলিশ বাহিনীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিষয়টা বিবেচনা করেছি যে, এই ড্রেসটা কীভাবে হয়।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘একটা ঐতিহ্যবাহী ড্রেস যাতে দেওয়া যায়, সেটা বিবেচনা করেছি। আগের শার্ট যেটা কি বলব, ওপরের অংশ আগে যেটা ছিল, মেট্রোর জন্য এবং সারা দেশের জন্য, সেটা আমরা বহাল রেখেছি। তবে প্যান্ট সেটা আমরা খাকি ড্রেস দিয়েছি।’

এরপর গত ১৮ জুন পোশাকের রঙ পরিবর্তন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে পুলিশ সদর দপ্তর। এতে পুলিশের শার্ট ও প্যান্টের পাশাপাশি জার্সি, কার্ডিগান, পুলওভার, জ্যাকেট, নারীদের পোশাক, মাথার আবরণ এবং পূর্ণহাতা পোশাকের রং–সংক্রান্ত বিধানেও পরিবর্তন আনা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আগে লোহা-ধূসর রঙের শার্টের ওপর লোহা-ধূসর রঙের ফুলহাতা জার্সি, কার্ডিগান বা পুলওভার ব্যবহারের কথা ছিল। নতুন বিধানে সেটির পরিবর্তে নীল রঙের শার্টের ওপর গাঢ় নীল রঙের ফুলহাতা জার্সি, কার্ডিগান বা পুলওভার যুক্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জেলা পুলিশ এবং এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি ও র‍্যাব ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের ক্ষেত্রে ট্রাউজার হবে খাকি রঙের টিসি টুইল কাপড়ের। শার্ট হবে গাঢ় নীল রঙের টিসি প্লেইন ফেব্রিক কাপড়ের। শার্টের সামনে চারটি পকেট থাকবে। সামনের অংশে সমদূরত্বে সাতটি বোতাম থাকবে।

এতে নারী পুলিশের পোশাকের বিষয়েও বিস্তারিত বলা হয়। নারী পুলিশ চাইলে শাড়ি পরতে পারবেন। জেলা পুলিশ ও অন্যান্য ইউনিটের ক্ষেত্রে গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে গাঢ় নীল ব্লাউজ পরা যাবে। মহানগর পুলিশের ক্ষেত্রে গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে হালকা জলপাই রঙের ব্লাউজের কথা বলা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, নারী সদস্যরা চাইলে মাথার আবরণ ব্যবহার করতে পারবেন। ট্রাফিক ইউনিটে কর্মরত নারী পুলিশ সদস্যরাও সারা বছর পূর্ণহাতা শার্ট বা ব্লাউজ পরতে পারবেন। গর্ভাবস্থায় সংশ্লিষ্ট ইউনিটপ্রধানের পূর্বানুমোদন নিয়ে নারী পুলিশ সদস্য সাধারণ পোশাক পরতে পারবেন।

প্রজ্ঞাপনে মৌসুম অনুযায়ী শার্টের ধরনও নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রীষ্মকালে শার্ট হবে অর্ধহাতা। শীতকালে শার্ট হবে পূর্ণহাতা। মাথার আবরণের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, সেটি অনুমোদিত গাঢ় নীল রঙের হবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত