সতর্ক নিরাপত্তা বাহিনী, আ.লীগের ২৪ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬, ২৩: ২৩
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে রাজধানীতে সতর্ক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ছবি: ফোকাস বাংলা

রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মিছিলের প্রস্তুতিকালে দলটির ২৪ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোব ও সোমবার ঢাকার শেরেবাংলা নগর, মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ।

শেরেবাংলা নগর থানা জানায়, রোববার সকাল ৮টার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে রাস্তায় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল কিছু লোক। পরে সেখান থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন, আদাবর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক কবির আহম্মেদ, সক্রিয় কর্মী মিলন ছৌয়ার, নয়ন শেখ, যুবলীগের কর্মী মো. ইব্রাহিম, মো. রাকিব ও রাকিবুল ইসলাম।

মোহাম্মদপুর থানা জানায়, রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অভিযানে মোহাম্মদপুর কলেজ গেট এলাকা থেকে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে আওয়ামী লীগের ৮ কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন, কবির ওরফে হুমায়ুন কবির, কালাম ফরাজি, কবির হাওলাদার, মো. সিরাজ, হেলাল হোসেন, আলী রাজ হোসেন, স্বপন মিয়া ও মুরাদ ওরফে মুরাদ মাতবর।

ধানমন্ডি মডেল থানা জানায়, সোমবার সকাল ৬টার দিকে সাত মসজিদ রোডে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আওয়ামী লীগের কর্মীরা। অভিযান পরিচালনা করে সেখান থেকে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে যুবলীগের মনোগ্রামসহ ১৫টি ক্যাপ, নেতাকর্মীর ছবি সম্বলিত ৮টি গেঞ্জি ও ‘শেখ হাসিনা আসবে বাংলাদেশ হাসবে’ লেখা একটি ব্যানার, তাদের বহনকারী দুটি বাস ও একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন, ইবাদুল ইসলাম, মিলন বারৈ, সুজন সরদার, সবুজ ঢালী, নিপুল বিশ্বাস, সমু ঢালি, অশোক ঢালি, সৌরভ হাওলাদার, মো. জয় ও মাহবুব হাওলাদার।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন জানিয়েছেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী।

দেশজুড়ে বিশেষ সতর্কতা

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সম্ভাব্য নাশকতা, বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে রাজধানীসহ দেশের ছয় জেলায় সেনাবাহিনী এবং পাঁচ জেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সোমবার (২২ জুন) থেকে আগামী ৩০ জুন (মঙ্গলবার) পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওটায় সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে সেনাসদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এগুলো হলো, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলা।

বিজিবি মোতায়েন হবে কক্সবাজার, মাদারীপুর, শেরপুর, গাজীপুর ও মৌলভীবাজারে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সোমবার সন্ধ্যা থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা মাঠে থাকবেন।

রাজধানীতে ১৮ হাজার পুলিশ, ২০০ চেকপোস্ট

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানান, শুধু রাজধানীতেই ১৮ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শহরের ২০০টি কৌশলগত স্থানে চেকপোস্ট ও বিশেষ পিকেট বসানো হয়েছে। ঢাকার প্রতিটি প্রবেশপথে চালানো হচ্ছে কড়া তল্লাশি।

ডিএমপি জানায়, ডিবি (গোয়েন্দা শাখা), সিটিটিসি, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এবং কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) সার্বক্ষণিক মাঠে সক্রিয় রয়েছে।

সাইবার স্পেসেও কঠোর নজরদারি

পুলিশ সদরদপ্তর জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দলটি যেন বেআইনিভাবে ঝটিকা মিছিল, দেওয়ালে লিখন, পোস্টার-ব্যানার স্থাপন বা লিফলেট বিতরণ করতে না পারে, সেজন্য দেশব্যাপী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার ইন্তিখাব চৌধুরী জানান, নিষিদ্ধ সংগঠনের অপতৎপরতা রুখতে সারা দেশে র‍্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয়েছে।

মাঠপর্যায়ের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমেও কঠোর নজরদারির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের ২০-২৫ নেতাকর্মী হঠাৎ ঝটিকা মিছিল বের করে এক থেকে দেড় মিনিটের একটি ভিডিও ধারণ করে। পরে তা সাইবার স্পেসে ছড়িয়ে দিয়ে বিভিন্ন অপপ্রচার ও প্রোপাগান্ডা চালায়। আমরা সরাসরি মাঠে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমেও সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছি।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত