leadT1ad

সুন্দরবনে পর্যটনবাহী সব নৌযান চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ঢাকা

প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯: ৪৮
সুন্দরবনে যান চলাচল বন্ধ। সংগৃহীত ছবি

সুন্দরবনে পর্যটনবাহী প্রায় ৪ শ জালিবোটসহ লঞ্চ, ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে মালিকপক্ষ। দেশি-বিদেশি পর্যটক ফিরে যাচ্ছেন। নৌপরিবহন অধিদপ্তর (খুলনা) রবিবার মোংলার ফেরিঘাট এলাকায় থাকা অন্তত ৩০টি জালিবোটের ওপরের অংশের অবকাঠামো কেটে ও ভেঙ্গে সে সব মালামাল নিয়ে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত বোটমালিকেরা নৌপরিবহন অধিদপ্তরের এমন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

সোমবার সকাল থেকেই সুন্দরবনে পর্যটকদের প্রবেশ ও ভ্রমণ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। সোমবার ভোর থেকে সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে মোংলার পিকনিক কর্নারে আসা পর্যটকেরা জালিবোট ধর্মঘটের কারণে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

যশোর থেকে আসা সাজেদ রহমান বলেন, ‘পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে এসে মোংলার পিকনিক কর্নারে আটকে গেছি। গাড়ি থেকে নামার পর শুনছি সুন্দরবনে, যাতায়াতারে একমাত্র মাধ্যম জালিবোটসহ অন্যান্য নৌযানের ধর্মঘট চলছে। তাই হতাশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছি।’

দিনাজপুর থেকে পরিবারসহ আসা তামান্না বেগম বলেন, ‘এখানে এসে দেখি নৌযান চলাচল বন্ধ, তাই আমরা আর সুন্দরবনে যেতে পারছি না। ফিরে যেতে হবে এখন।’

খুলনার চুকনগর থেকে আসা রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা এক বাসে ৫৪জন এসেছি। এসে দেখি সুন্দরবনে যাওয়ার সকল নৌযান চলাচল বন্ধ। আসাটাই হলো বৃথা।’

মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘নৌপরিবহন অধিদপ্তরের (খুলনা) হয়রানীর প্রতিবাদে সব নৌযানমালিকেরা নিজ নিজ থেকে জালিবোট, ট্রলার ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখে ধর্মঘট শুরু করেছে। ধর্মঘটের আওতায় রয়েছে প্রায় ৪ শ লঞ্চ, জালিবোট ও ট্রলার।’

মো. দেলোয়ার হোসেন আরও বলেন, নৌপরিবহন অধিদপ্তর কিছু শর্তও দিয়েছে, বোটমালিকদের পক্ষে ব্যয়বহুল সেসব শর্তপূরণ আদৌ সম্ভব নয়। তাই নৌপরিবহন অধিদপ্তরের এই হয়রানী বন্ধ না হলে সুন্দরবনগামী সব নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে।’

সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির বলেন, সোমবার ভোর থেকেই এখানে কোনো নৌযান ও পর্যটক আসতে পারছে না। শুনেছি নৌপরিবহন অধিদপ্তর রবিবার পর্যটনবাহী নৌযানগুলো অভিযান চালায়। এই কারণে নৌযানমালিকেরা তাদের নৌযান চলাচল বন্ধ রেখেছে।’

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের খুলনার পরিদর্শক মো. রাশেদুল আলম বলেন, ‘জালিবোটগুলোর ওপরের অংশের অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে। যাতে বোটের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে, দুর্ঘটনাকবলিত না হয়। মুলত আমাদের উদ্দেশ্য হলো পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত