রাউজানে নলকূপের গর্তে পড়া শিশু ৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার, মৃত ঘোষণা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাউজান (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া ৪ বছর বয়সী শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া ৪ বছরের শিশু মিজবাহ মারা গেছে। প্রায় ৪ ঘণ্টা অভিযানের পর বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে তাকে পাওয়া যায়।

উদ্ধারের পর রাত ১০টার দিকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহজাহান জানান, শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আনার আগেই, মানে গর্তের ভেতরই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে দুর্ঘটনাটি ঘটে। শিশুটির ঘরের ৩০ থেকে ৪০ ফুট দূরে গত ৪–৫ বছর আগে সরকারিভাবে গভীর নলকূপের জন্য গর্তটি খোঁড়া হয়। তবে নলকূপ বসানো হয়নি।

মিজবাহ উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নগর গ্রামের বড়ুয়াপাড়ার দিনমজুর সাইফুল আলমের ছেলে৷ দুই ভাই-বোনের মধ্যে নিহত মেজবাহ সবার ছোট ছিল।

শিশুটির মা বলেন, ‘আমার মেয়ের সঙ্গে মিজবাহ খেলছিল। তখন মিজবাহ পানি খেতে চাইলে মেয়ে পানি আনতে যায়। ওই সময় মিজবাহ গর্তে পড়ে যায়। ওখানে যে গর্ত ছিল সেটা আমরা কেউই জানতাম না।’

গর্তটি কারা করেছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকার থেকে করা হয়েছিল শুনেছি। ওখানে পানি না পাওয়ায় এরপর অন্য জায়গায় গর্ত করে।’

তালেব নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘শিশুটি পড়ার পর আমরা কান্নার শব্দ শুনেছি। পরে রাউজান ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী এবং পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরপতা শুরু করেন।’

অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের ডেপুটি এসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর আবদুল মান্নান বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের এক ইউনিট টানা ৪ ঘণ্টার চেষ্টা চালিয়ে মাটির অনেক গভির থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

এর আগে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর রাজশাহীর তানোরে মায়ের হাত ধরে হাঁটার সময় গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে দুই বছরের শিশু সাজিদ। ৩২ ঘণ্টার অভিযান শিশুটিকে উদ্ধার করা হলেও বাঁচানো যায়নি।

সম্পর্কিত