leadT1ad

শেরপুরে ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বসা নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, আহত ৩০

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
শেরপুর

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২০: ১৬
ঝিনাইগাতীতে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের সংঘর্ষ। সংগৃহীত ছবি

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও প্রার্থীদের সামনেই সংঘর্ষে জড়িয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা। নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসা নিয়ে এই সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে একটি মোটরসাইকেল।

আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়াম মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সংবাদ সংগ্রহকালে দুজন সাংবাদিকও আহত হন, তাঁদের একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে আহত কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ও চারজনকে জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ও গণভোট উপলক্ষ্যে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতি) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ইউএনও ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম রাসেল, ঝিনাইগাতি থানার ওসি নাজমুল হাসানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি জানান, অনুষ্ঠান মঞ্চে তখন অতিথি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, প্রার্থীসহ অন্যরা ইশতেহার পাঠ শুরুর অপেক্ষা করছিলেন। সেখানে দর্শনার্থীদের আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের কর্মী-সমর্থকরা বসেছিলেন। তখনো বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল অনুষ্ঠানস্থলে না পৌঁছানোয় কর্মী-সমর্থকরা তাঁর অপেক্ষা করছিলেন। আসন সংকটে সবাই চেয়ারে বসতে পারেননি। এ নিয়ে দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু করেন৷ এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা।

ঝিনাইগাতীতে সংঘর্ষের সময় জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে একটি মোটরসাইকেল। সংগৃহীত ছবি
ঝিনাইগাতীতে সংঘর্ষের সময় জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে একটি মোটরসাইকেল। সংগৃহীত ছবি

এদিকে সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

জামায়াতের প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদল বলেন করেন, ‘পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপির নেতাকর্মীরা জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা করে। এতে আমাদের কমপক্ষে ১৫ জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’

জামায়াত পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছে দাবি করে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, ‘উগ্রবাদী জামায়াতিরা পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তারা দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ইশতেহার অনুষ্ঠান শুরুর প্রাক্কালে পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের দলের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছে।’ বর্তমানে আহত কর্মীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে বলে জানান তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাজীব সাহা সন্ধ্যার দিকে স্ট্রিমকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত মোট আহত হয়েছেন, সঠিক সংখ্যা বলা যাচ্ছে না। তবে এ পর্যন্ত ১২ জনের মতো হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। চারজনকে জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।’এছাড়া আরও ১০-১২ জনের প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে তিনি জানান।

ঝিনাইগাতীতে সংঘর্ষের সময় বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া। সংগৃহীত ছবি
ঝিনাইগাতীতে সংঘর্ষের সময় বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া। সংগৃহীত ছবি

ঘটনার বিষয়ে জানতে ঝিনাইগাতী থানার ওসি নাজমুল হাসানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে ‘পরে কথা বলব’ বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। তবে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, ‘সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সংঘর্ষের ব্যাপারে ঝিনাইগাতী ইউএনও মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, ‘শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্যদের সমর্থকদের মধ্যে চেয়ারে বসা নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত