এইচআরএসএসের প্রতিবেদন

তিন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৩৬ জন নিহত

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১৯: ৪৬
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) লোগো। ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) রাজনৈতিক সহিংসতায় ৩৬ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনার অধিকাংশ বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) তাদের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

দেশের ১৬টি জাতীয় দৈনিক ও নিজস্ব অনুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করেছে এইচআরএসএস। ‘ত্রৈমাসিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার অন্তত ৬১০টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪ হাজার ৭৮ জন।

সহিংসতার এসব ঘটনার ১৯৪টি বিএনপির অন্তরীণ কোন্দলে হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, বিএনপির অভ্যরীণ কোন্দলে নিহত হয়েছেন ২৪ জন। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সংঘর্ষ ২৬০, ৩৬টি বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে এবং ২৩টি বিএনপি-এনসিপির সংঘর্ষের ঘটনা উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

এর বাইরে আওয়ামী লীগ ও এনসিপির সংঘর্ষের তিনটি এবং বিএনপি ও অন্যান্য দলের মধ্যে সংঘর্ষের ৬০টি ঘটনাসহ অন্যান্য দলের মধ্যে ৩৪টি সহিংসতার ঘটনা রয়েছে।

গেল তিন মাসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নারী ও শিশু নির্যাতন, গণপিটুনি, সীমান্ত হত্যা এবং কারাগারে মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে। এইচআরএসএস বলেছে, ঘটনাগুলো জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি ও জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরম সংকটে ফেলেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন মাসে অন্তত ৬৭০ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৪৭, যার ৭৬ জন ১৮ বছরের কম বয়সী। দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩৯ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৯ জনকে। এছাড়া পারিবারিক সহিংসতায় ১৩৬ নারীর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে ৩২৮ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়, যার মধ্যে ১৩৮ জন প্রাণ হারিয়েছে।

এইচআরএসএস বলছে, গত তিন মাসে ৮২টি হামলায় অন্তত ১৮৩ সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ-২০২৫ এর অপব্যবহার করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও সাধারণ নাগরিকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও গণপিটুনির ঘটনা বেড়েছে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি। বলা হয়েছে, গত তিন মাসে ৮৮টি গণপিটুনি ও মবের ঘটনায় ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে, নির্যাতন ও কথিত বন্দুকযুদ্ধে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে কারাগারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বা অসুস্থ হয়ে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে কয়েদি ১৬ ও ২৩ জন হাজতি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর অন্তত ২৭টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩১ জন আহত এবং চারটি মন্দির ও ১৯টি বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলিতে চারজন গুলিবিদ্ধসহ শিশু নিহতের ঘটনা ঘটেছে।

সম্পর্কিত