বিটিআরসির দুই কর্মকর্তার বদলি আদেশ স্থগিত হাইকোর্টের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩: ৩৫
হাইকোর্ট ভবন। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) দুই কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে বদলির আদেশ দুই মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিচারপতি আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

রিটকারী দুই কর্মকর্তা হলেন বিটিআরসির উপ-পরিচালক সঞ্জিব কুমার সিংহ ও এস এম আফজাল রেজা। আদালতে তাঁদের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিহাব উদ্দিন খান।

আইনজীবী শিহাব উদ্দিন খান জানান, গত ৩১ মার্চ এবং ২ এপ্রিল বিটিআরসির মানবসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে ওই দুই কর্মকর্তাকে সিলেট ও রংপুরের মনিটরিং স্টেশনে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছিল। শুনানির পর আদালত এই বদলি কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আগামী দুই মাসের জন্য এই বদলি আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়েছে।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, বিটিআরসিতে বিভিন্ন অবৈধ নিয়োগ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার চাওয়ায় এই দুই কর্মকর্তা কর্তৃপক্ষের রোষানলে পড়েন। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিকবার শাস্তিমূলক বদলির আদেশ দেওয়া হয়। রিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যে মনিটরিং স্টেশনগুলোতে তাঁদের বদলি করা হয়েছে, সেখানে উপ-পরিচালক পর্যায়ের কোনো পদের অস্তিত্ব নেই। বিটিআরসির অর্গানোগ্রাম বা ২০০৮ সালের পদ সৃজন আদেশেও ওইসব স্টেশনে উপ-পরিচালক পদের কোনো উল্লেখ নেই। ঢাকার বাইরে সরকার অনুমোদিত শাখা অফিস না থাকায় বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ এই ধরনের বদলির আদেশ দিতে পারে না বলেও রিটে দাবি করা হয়।

এর আগে বিটিআরসির ছয়জন উপ-পরিচালক—সঞ্জিব কুমার সিংহ, কাজী মো. আহসানুল হাবীব, মো. জাকির হোসেন খান, এস এম আফজাল রেজা, মো. আসিফ ওয়াহিদ এবং মো. হাসিবুল কবির—অবৈধ নিয়োগ ও আর্থিক অনিয়ম (এসএসএফআই) তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের পদোন্নতি প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন। গত ৫ মার্চ সেই রিটের প্রাথমিক শুনানিতে বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের বেঞ্চ পদোন্নতির ডিপিসি কার্যক্রম কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন।

উচ্চ আদালতে রিট দায়েরের পরপরই দুই উপ-পরিচালককে ঢাকার বাইরে বদলি করায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। গণমাধ্যমে বিষয়টিকে ‘শাস্তিমূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী দুই কর্মকর্তা নতুন করে বদলির আদেশের বিরুদ্ধে রিটটি দায়ের করেন। এই রিটে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বিটিআরসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।

সম্পর্কিত