মৌলভীবাজারে ক্রেতা না পেয়ে কোরবানির চামড়া মাটিচাপা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
মৌলভীবাজার

প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৬, ২১: ২১
মৌলভীবাজারে ক্রেতা না পেয়ে মনু নদে চামড়া ফেলে দিচ্ছেন দুজন। স্ট্রিম ছবি

মৌলভীবাজারে দাম কম থাকায় এবার ঈদুল আজহায় চামড়া সংগ্রহ করেনি জেলার বেশিরভাগ কওমি মাদ্রাসা। অনেক স্থানে বিনামূল্যেও চামড়া নিতে আগ্রহ দেখাননি কেউ। ঈদের দিন অপেক্ষার পরও কেউ নিতে না আসায় চামড়া মাটিচাপা দিয়েছেন অনেকে। কেউ কেউ নদে ফেলে দিয়েছেন চামড়া।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ট্যানারিমালিকদের কাছে থাকা বকেয়া, চামড়া সংরক্ষণ খরচ বৃদ্ধি ও বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় এ অবস্থা তৈরি হয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ঈদ উপলক্ষে সাড়ে ৭৪ হাজারটি কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছিল, যা স্থানীয় চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩ হাজার বেশি। জেলার ৬ হাজার ২২৫টি খামার ও পারিবারিক উদ্যোগে এসব লালন-পালন করা হয়। পশুর চামড়া দাম কমায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিগত বছরগুলোর মতো এবারও ঈদের দিন সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার পৌর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড চামড়া নিয়ে আসেন বিক্রেতারা। ক্রেতা সংকটে প্রতিটি গরুর চামড়া মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় কিনছেন ব্যবসায়ীরা। এতে পরিবহন খরচও উঠছে না বিক্রেতাদের।

মৌলভীবাজারে নেওয়া হলেও মিলছে না চামড়ার ক্রেতা। স্ট্রিম ছবি
মৌলভীবাজারে নেওয়া হলেও মিলছে না চামড়ার ক্রেতা। স্ট্রিম ছবি

জেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী বালিকান্দি বাজারে প্রায় দুই শতাব্দী ধরে চামড়া সংরক্ষণ ও বিক্রির ব্যবসা চলছে। তবে এবার অনেকে সীমিত পরিসরে চামড়া সংগ্রহ করছেন।

বালিকান্দি বাজারের চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. শওকত বলেন, গত বছরের অনেক চামড়া এখনও বিক্রি করতে পারিনি। ট্যানারি মালিকদের কাছেও বিপুল পরিমাণ টাকা পাওনা রয়েছে। চামড়া কিনে বিক্রি করার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই ১০০-১৫০ টাকায় যে চামড়া কিনছি, তাতেও লোকসান হবে।

শুক্রবার জমশেদ আহমদ নামে এক বিক্রেতা বলেন, প্রায় ৩৫টি চামড়া নিয়ে শহরে এসেছিলেন। ব্যবসায়ীরা কিনতে চাননি। একজন মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকা দাম বলেছেন। অথচ পিকআপ ভাড়াই গেছে ৩ হাজার টাকা।

কুলাউড়ার সীমান্তবর্তী শরীফপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম খান জানান, তিনি তিনটি খাসি ও দুটি গরু কুরবানি দিয়েছিলেন। কিন্তু চামড়া বিক্রি করতে না পেরে সন্ধ্যায় সেগুলো মনু নদে ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছেন।
তওফিক আহমদ নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, দুপুর থেকে অপেক্ষা থেকেও কেউ চামড়া কিনতে আসেনি। অন্য বছর কওমি মাদ্রাসার লোকজন চামড়া নিয়ে গেলেও এবার তারাও আসেননি। শেষে বাধ্য হয়ে কিছু চামড়া মাটিতে পুঁতে রেখেছেন। আর কিছু মনু নদে ফেলে দিয়েছেন তিনি।

মৌলভীবাজারে কোরবানির পশুর চামড়া ফেলে দেওয়া হচ্ছে। স্ট্রিম ছবি
মৌলভীবাজারে কোরবানির পশুর চামড়া ফেলে দেওয়া হচ্ছে। স্ট্রিম ছবি

জেলার রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের একটি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক মিজান আহমেদ বলেন, প্রতিবছর মাদ্রাসার পক্ষ থেকে চামড়া সংগ্রহ করা হতো। কিন্তু গত বছর লোকসান হওয়ায় এবার তারা সংগ্রহ করেনি। একটি চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণে যে খরচ হয়, বিক্রি করে তা উঠে না বলে তার দাবি।

বালিকান্দি চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. শওকত বলেন, চামড়া খাতের সঙ্গে ব্যবসায়ি ছাড়াও এলাকার অনেক দরিদ্র মানুষের জীবিকা জড়িত। বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ না নিলে প্রতি বছরই এভাবে জাতীয় সম্পদ নষ্ট হবে।

জেলার চামড়া বাজারে ধসের বিষয়ে জানতে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘চামড়া নষ্ট হচ্ছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, কেউ সেটা আমার জানা নাই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

সম্পর্কিত