leadT1ad

দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ: প্রমাণ হলে চাকরি ছাড়ার ঘোষণা ডিসি সারওয়ারের

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সিলেট

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০: ০২
কথা বলছেন ডিসি সারওয়ার আলম

সিলেটে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকে কেন্দ্র করে পক্ষপাতিত্ব ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সিলেটের ডিসির কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ দাবি করেছেন।

এসময় সারওয়ার আলম বলেন, ‘নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের পক্ষপাত বা লেনদেনের প্রশ্নই আসে না।’ এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি নিজেই চাকরি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত বলেও চ্যালেঞ্জ জানান।

ডিসি বলেন, ‘সম্প্রতি দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ থেকে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এটা সঠিক নয়।’

সিলেটের ছয়টি আসনের মধ্যে প্রথম দিন (৩ জানুয়ারি) বাছাইয়ে স্থগিত হওয়া পাঁচ জনের মধ্যে চার প্রার্থীর মনোনয়নপত্র পরদিন রোববার (৪ জানুয়ারি) পুনরায় যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে আটকে যান সিলেট-১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী এহতেশামুল হক। যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিলের তথ্যের অভাবে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।

অভিযোগ ওঠে, একই অভিযোগে মনোনয়ন স্থগিত থাকা সিলেট-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ মালেক ও সিলেট-৪ আসনে এনসিপির প্রার্থী রাশেদ উল আলমের পরে বৈধ ঘোষণা করা হয়।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা সারওয়ার আলম বলেন, ‘মালেক ও রাশেদ সাহেব নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য হোম অফিসে আবেদনের রশিদ বা প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছেন। কিন্তু এহতেশাম দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের সপক্ষে কোনো নথি বা রশিদ জমা দিতে পারেননি। তাকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হলেও তিনি কোনো প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আইনগতভাবে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।' 

ডিসি সারওয়ার বলেন, ‘মালেক ও রাশেদ সাহেবের জমা দেওয়া কাগজগুলো সঠিক কিনা, তা যাচাই করতে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠানো হয়েছে। যদি পরবর্তী সময়ে প্রমাণিত হয় যে, তারা নাগরিকত্ব ত্যাগ করেননি, তবে তারা নির্বাচিত হলেও তাদের সদস্যপদ অবৈধ হয়ে যাবে।’

ডিসি আরও বলেন, ‘একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গুজব ছড়ানো হচ্ছে—এক প্রার্থীর কাছ থেকে ১০ কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে মনোনয়ন বৈধ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ জনমনে বিভ্রান্তি ও হতাশা তৈরি করছে, যা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ঘুষের অভিযোগ প্রসঙ্গে ডিসি বলেন, ‘১০ কোটি টাকা তো দূরের কথা, কেউ যদি এক টাকা ঘুষ দেওয়ারও প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে আমি সঙ্গে সঙ্গে চাকরি ছেড়ে দেব এবং সর্বোচ্চ শাস্তি মাথা পেতে নেব। এটি একটি ভয়ংকর ফেক নিউজ।’

তিনি বলেন, ‘একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করতে এ ধরনের মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অপপ্রচার দিয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনকে ব্যাহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রশাসন কারও প্রতি পক্ষপাত করছে-এমন ভুল বার্তা জনগণের মধ্যে দেওয়া হচ্ছে, যা মোটেও সত্য নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসন যে কোনো মূল্যে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন এবং ফেক নিউজ ছড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।’

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত