স্ট্রিম ডেস্ক

দেশে হামের প্রকোপ কমেনি। হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছেই। এর মধ্যেই চিকিৎসকরা হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে এডিনো ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দ্বিমুখী সংক্রমণে রোগীর অবস্থা দ্রুত জটিল হচ্ছে। এমনকি প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিকেও প্রত্যাশিত ফল মিলছে না। নিতে হচ্ছে আইসিইউতে।
হামে আক্রান্ত রোগীর পাশাপাশি যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে এডিনো ভাইরাসে জটিলতার আশঙ্কা বেশি থাকে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, অঙ্গ প্রতিস্থাপনকারী, হাঁপানি, হৃদরোগ বা দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগীদের এই ভাইরাসের সংক্রমণে জটিলতা বাড়ছে।
কী এই এডিনো ভাইরাস
শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ঘটায় এমন অধিক পরিচিত ভাইরাস ইনফ্লুয়েঞ্জা, আরএসভি, কভিড এবং সাধারণ সর্দি-কাশি। এডিনো ভাইরাস কিছুটা কম পরিচিত। তবে খুবই সাধারণ ভাইরাসগোষ্ঠী। এটি শুধু শ্বাসতন্ত্র নয়; চোখ, পরিপাকতন্ত্র কখনো কখনো মূত্রনালিতেও সংক্রমণের কারণ হয়ে ওঠে।
এডিনো ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো নির্দিষ্ট মৌসুমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সারা বছরই সংক্রমণ হতে পারে। তবে অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাসের মতো হওয়ায় শুধু উপসর্গ দেখে শনাক্ত করা কঠিন। এই ভাইরাসে আক্রান্তরা সাধারণত সর্দি-কাশি, গলাব্যথা, শরীর ব্যথা, জ্বর এবং অনেকের ক্ষেত্রে বমি বমি ভাব কিংবা ডায়রিয়ার মতো পরিপাকতন্ত্রের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এডিনো ভাইরাসের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো কনজাংটিভাইটিস বা চোখ ওঠা। এতে চোখ লাল হয়, জ্বালাপোড়া করে, খসখসে অনুভূতি হয় এবং চোখ দিয়ে জলীয় বা ঘন স্রাব বের হতে পারে।
কীভাবে সংক্রমণ ঘটায়
এডিনো ভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র কণা, সংক্রমিত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ কিংবা ভাইরাসযুক্ত দূষিত বস্তু স্পর্শের মাধ্যমে এটি ছড়াতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে দূষিত পানি বা মল-মুখ পথেও সংক্রমণ হতে পারে।
ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশের পর শ্বাসতন্ত্র, চোখ বা পরিপাকতন্ত্রের কোষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে, সেখানে দ্রুত বংশবিস্তার করে। এরপর নতুন ভাইরাস আশপাশের কোষে ছড়িয়ে প্রদাহ সৃষ্টি করে। এই সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ শুরু করলে জ্বর, কাশি ও অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয়।
জনাকীর্ণ পরিবেশ, অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি এবং অপুষ্টি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সাধারণত এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং জটিলতা তৈরি করতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যে, শিশুদের শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশের জন্য এডিনো ভাইরাস দায়ী। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে গুরুতর শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
এডিনো ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ফলে নিউমোনিয়া, তীব্র শ্বাসকষ্ট, পানিশূন্যতা, হৃদপেশীর প্রদাহ (মায়োকার্ডাইটিস), মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) ও অন্যান্য গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করে। রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি, এমনকি প্রাণহানির ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
আক্রান্ত হলে করণীয়
এডিনো ভাইরাসের জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পানি পান এবং শরীরকে আর্দ্র রাখা দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে। চোখ ওঠার ক্ষেত্রে দিনে দুবার পরিষ্কার নরম কাপড় ও স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে চোখ আলতোভাবে পরিষ্কার করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি সংক্রমণ ছড়ানো রোধে নিয়মিত হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশির সময় মুখ-নাক ঢেকে রাখা এবং অসুস্থ অবস্থায় অন্যদের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
এডিনো ভাইরাসের উপসর্গ আছে– এমন রোগীদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, প্রস্রাব কমে যাওয়া, মাথা ঘোরা, পানিশূন্যতা কিংবা স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
তথ্যসূত্র: ইউনিভার্সিটি হসপিটাল, রেডক্লিফ ল্যাবস।

দেশে হামের প্রকোপ কমেনি। হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছেই। এর মধ্যেই চিকিৎসকরা হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে এডিনো ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দ্বিমুখী সংক্রমণে রোগীর অবস্থা দ্রুত জটিল হচ্ছে। এমনকি প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিকেও প্রত্যাশিত ফল মিলছে না। নিতে হচ্ছে আইসিইউতে।
হামে আক্রান্ত রোগীর পাশাপাশি যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে এডিনো ভাইরাসে জটিলতার আশঙ্কা বেশি থাকে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, অঙ্গ প্রতিস্থাপনকারী, হাঁপানি, হৃদরোগ বা দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগীদের এই ভাইরাসের সংক্রমণে জটিলতা বাড়ছে।
কী এই এডিনো ভাইরাস
শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ঘটায় এমন অধিক পরিচিত ভাইরাস ইনফ্লুয়েঞ্জা, আরএসভি, কভিড এবং সাধারণ সর্দি-কাশি। এডিনো ভাইরাস কিছুটা কম পরিচিত। তবে খুবই সাধারণ ভাইরাসগোষ্ঠী। এটি শুধু শ্বাসতন্ত্র নয়; চোখ, পরিপাকতন্ত্র কখনো কখনো মূত্রনালিতেও সংক্রমণের কারণ হয়ে ওঠে।
এডিনো ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো নির্দিষ্ট মৌসুমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সারা বছরই সংক্রমণ হতে পারে। তবে অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাসের মতো হওয়ায় শুধু উপসর্গ দেখে শনাক্ত করা কঠিন। এই ভাইরাসে আক্রান্তরা সাধারণত সর্দি-কাশি, গলাব্যথা, শরীর ব্যথা, জ্বর এবং অনেকের ক্ষেত্রে বমি বমি ভাব কিংবা ডায়রিয়ার মতো পরিপাকতন্ত্রের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এডিনো ভাইরাসের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো কনজাংটিভাইটিস বা চোখ ওঠা। এতে চোখ লাল হয়, জ্বালাপোড়া করে, খসখসে অনুভূতি হয় এবং চোখ দিয়ে জলীয় বা ঘন স্রাব বের হতে পারে।
কীভাবে সংক্রমণ ঘটায়
এডিনো ভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র কণা, সংক্রমিত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ কিংবা ভাইরাসযুক্ত দূষিত বস্তু স্পর্শের মাধ্যমে এটি ছড়াতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে দূষিত পানি বা মল-মুখ পথেও সংক্রমণ হতে পারে।
ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশের পর শ্বাসতন্ত্র, চোখ বা পরিপাকতন্ত্রের কোষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে, সেখানে দ্রুত বংশবিস্তার করে। এরপর নতুন ভাইরাস আশপাশের কোষে ছড়িয়ে প্রদাহ সৃষ্টি করে। এই সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ শুরু করলে জ্বর, কাশি ও অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয়।
জনাকীর্ণ পরিবেশ, অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি এবং অপুষ্টি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সাধারণত এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং জটিলতা তৈরি করতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যে, শিশুদের শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশের জন্য এডিনো ভাইরাস দায়ী। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে গুরুতর শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
এডিনো ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ফলে নিউমোনিয়া, তীব্র শ্বাসকষ্ট, পানিশূন্যতা, হৃদপেশীর প্রদাহ (মায়োকার্ডাইটিস), মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) ও অন্যান্য গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করে। রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি, এমনকি প্রাণহানির ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
আক্রান্ত হলে করণীয়
এডিনো ভাইরাসের জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পানি পান এবং শরীরকে আর্দ্র রাখা দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে। চোখ ওঠার ক্ষেত্রে দিনে দুবার পরিষ্কার নরম কাপড় ও স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে চোখ আলতোভাবে পরিষ্কার করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি সংক্রমণ ছড়ানো রোধে নিয়মিত হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশির সময় মুখ-নাক ঢেকে রাখা এবং অসুস্থ অবস্থায় অন্যদের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
এডিনো ভাইরাসের উপসর্গ আছে– এমন রোগীদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, প্রস্রাব কমে যাওয়া, মাথা ঘোরা, পানিশূন্যতা কিংবা স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
তথ্যসূত্র: ইউনিভার্সিটি হসপিটাল, রেডক্লিফ ল্যাবস।
.png)

ঢাকার সমস্যা সমাধানে নগরবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেছেন, জনগণ ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা পেলে দুই বছরে ঢাকার চেহারা পরিবর্তন করা সম্ভব।
২ মিনিট আগে
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বনানী কবরস্থানে তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল।
৭ মিনিট আগে
বিভিন্ন শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। একইসঙ্গে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। বুধবার (১২ আগস্ট) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনার তথ্য জানানো হয়েছে।
১২ মিনিট আগে
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের দ্রুত আরোগ্য ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে চিঠি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
৩১ মিনিট আগে