গৌতম কে শুভ

১৯৭১ সালের ১ আগস্ট। নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ইতিহাস তৈরি হয়েছিল। সেদিন যে দেশের মানুষের জন্য গান গাওয়া হয়েছিল, আন্তর্জাতিকভাবে তার অস্তিত্বকেই তখন বিশ্বের বেশিরভাগ শক্তিশালী রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয়নি।
সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার তখন সরাসরি পাকিস্তানের পক্ষে ছিল। অথচ সেই দেশের মাটিতেই ইতিহাসের প্রথম বড় অল-স্টার চ্যারিটি কনসার্ট আয়োজন করা হয়েছিল। কনসার্টটির মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যার কারণে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের জন্য অর্থ সংগ্রহ এবং বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা।
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, মার্কিন প্রশাসন যেখানে সরাসরি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেয়নি, সেখানে আমেরিকার বুকেই কীভাবে এমন একটি কনসার্ট সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব হয়েছিল?
এর মূল কারণ ছিল ১৯৭১ সালের মার্কিন সমাজ ও রাজনীতির বৈশিষ্ট্য। সে সময় হোয়াইট হাউসের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সে দেশের সাধারণ মানুষ, বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পীদের চিন্তাভাবনা এক ছিল না। ষাটের দশকের যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন আমেরিকায় নাগরিক সমাজকে এতটাই শক্তিশালী করেছিল যে, সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করা ছিল স্বাভাবিক ঘটনা।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের দেওয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের ভূমিকা তখন জর্জ হ্যারিসন ও তাঁর বন্ধুদের এই কাজের সাহস দিয়েছিল। সরকার পাকিস্তানের পাশে থাকলেও, আমেরিকার নাগরিক সমাজ ও সংগীতজগৎ স্বাধীনভাবে তাঁদের বিবেককে অগ্রাধিকার দিতে পেরেছিল। কোনো রাষ্ট্রীয় চাপ বা নিষেধাজ্ঞা এই আয়োজনকে রুখতে পারেনি।
কিন্তু আজকের বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে কি এমন উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব? উত্তর হলো, আজ এটি অনেক বেশি কঠিন। অনেক ক্ষেত্রেই প্রায় অসম্ভব।
আজকের বাস্তবতায় প্রথম বড় বাধা হতে পারে অনুমতি। কোনো সরকার যদি নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক সংকট নিয়ে স্পষ্ট কূটনৈতিক অবস্থান নেয়, তাহলে সেই অবস্থানের বিপরীত বার্তা বহনকারী বৈশ্বিক কনসার্টের অনুমতি পাওয়াই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে কঠিন ধাপ।
ধরা যাক, সব বাধা পেরিয়ে অনুমতি পাওয়া গেল। এরপর?
অনুমতি পেলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায় না। তখন শুরু হয় আরও কঠিন বাস্তবতা। কারণ, এখন শিল্পীর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ম্যানেজমেন্ট, রেকর্ড লেবেল, স্পনসর, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম, ভেন্যু কর্তৃপক্ষ এবং বৈশ্বিক ব্যবসায়িক স্বার্থ।
আজ প্রযুক্তির অনেক উন্নতি হয়েছে। পুরো পৃথিবী এখন আমাদের হাতের মুঠোয়। আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া আছে, ইউটিউব আছে, লাইভ স্ট্রিমিংয়ের সুবিধা আছে। মাত্র কয়েক মিনিটে যেকোনো বার্তা কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। অনলাইনের মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যেই লাখ লাখ, এমনকি মিলিয়ন ডলার অনুদান তোলা সম্ভব। তাই অনেকেই ভাবতে পারেন, সরকারি অনুমতি মিললে এমন কনসার্ট আয়োজন করা ১৯৭১ সালের চেয়ে অনেক বেশি সহজ। কিন্তু বাস্তবতা ঠিক উল্টো।

আজকের বিশ্ব পরিস্থিতি আমাদের নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। প্রযুক্তি মানুষের কাছে পৌঁছানোর পথ যতটা সহজ করেছে, বর্তমানের রাজনীতি, করপোরেট নিয়ন্ত্রণ এবং বৈশ্বিক তথ্যযুদ্ধ বিষয়গুলোকে তার চেয়েও অনেক বেশি জটিল করে তুলেছে। ১৯৭১ সালে জর্জ হ্যারিসনকে আজকের মতো সোশ্যাল মিডিয়ার আদালতের মুখোমুখি হতে হয়নি। প্রতিদিন নিজের প্রতিটি পদক্ষেপ বা বক্তব্যের উদ্দেশ্য তাঁকে ব্যাখ্যা করতে হয়নি। তাঁর বহু বছর আগের কোনো মন্তব্য বা ব্যক্তিগত জীবনের ভুল খুঁজে বের করে কেউ তাঁর মানবিক উদ্যোগকে সন্দেহের চোখে দেখেনি।
অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে আজ আর কোনো মানবিক কনসার্ট হয় না। পৃথিবীর নানা সংকটে শিল্পীরা এখনও তহবিল সংগ্রহ করেন, সচেতনতা তৈরি করেন। কিন্তু ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মতো এমন একটি রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর ইস্যুতে, যেখানে বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর অবস্থান বিভক্ত, সেখানে একই ধরনের সর্বজনগ্রাহ্য মানবিক ঐক্য গড়ে তোলা আজ অনেক বেশি কঠিন।
এর সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে করপোরেট জগতের স্বার্থ। ১৯৭১ সালে জর্জ হ্যারিসন মূলত নিজের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও বন্ধুদের সম্পর্কের ওপর ভর করে কনসার্টটি করতে পেরেছিলেন। সেদিন হ্যারিসন-পন্ডিত রবি শঙ্করের ডাকে সাড়া দিয়ে মঞ্চে এসে দাঁড়িয়েছিলেন বব ডিলান, রিংগো স্টার, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি প্রেস্টন, লিওন রাসেল, ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ এবং ওস্তাদ আল্লারাখার মতো বিশ্বখ্যাত সব কিংবদন্তি সংগীতশিল্পীরা।
কিন্তু এখন বিশ্বমানের যেকোনো বড় কনসার্ট বা ইভেন্টের পেছনে জড়িয়ে থাকে অসংখ্য বহুজাতিক স্পনসর, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম, গ্লোবাল ব্র্যান্ড ও বিজ্ঞাপনদাতারা। এদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব বাজার ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। কোনো আন্তর্জাতিক সংকট যদি কূটনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর হয়, তবে এই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো কোনোভাবেই তার সঙ্গে জড়াতে চায় না। কারণ, আজ রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়া এক দেশে প্রশংসিত হলেও অন্য দেশে তাদের তৈরি করা বিশাল বাজার বা ব্যবসাকে মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস করে দিতে পারে। এক দেশের বাজারে জনপ্রিয়তা বাড়লেও অন্য বাজারে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে আজ কোনো বড় মানবিক উদ্যোগে অর্থায়ন বা প্রচারের বিষয়টি কেবলই শিল্পীর নৈতিক সাহসের ওপর নির্ভর করে না। তা নির্ভর করে করপোরেট জগতের জটিল লাভ-ক্ষতির খতিয়ান এবং শেয়ার বাজারের ওঠানামার ওপর।
আজকের যুগের সবচেয়ে বড় বাধা হলো পরিকল্পিত তথ্যযুদ্ধ। আজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি নকল ছবি, এডিট করা ভিডিও বা ভিত্তিহীন গুজব মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কোটি মানুষের মনে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দিতে পারে। এমনকি একটি মহৎ ও সম্পূর্ণ মানবিক উদ্যোগকেও রাজনৈতিক চক্রান্ত বা প্রোপাগান্ডা হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা আমরা দেখতে পাই। কোনো শিল্পী যদি নির্যাতিত কোনো জনগোষ্ঠীর পক্ষে দাঁড়াতে চান, তবে খুব সহজেই তাঁকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বা ‘নির্দিষ্ট কোনো শক্তির চর’ হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়।
ফলে আজ সত্য প্রতিষ্ঠা করাও অনেক সময় মানবিক উদ্যোগের চেয়ে বড় লড়াই হয়ে দাঁড়ায়। কোনো উদ্যোগ শুরু হওয়ার আগেই তাকে ঘিরে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ে যে, মানুষ অনেক সময় মূল সংকটের চেয়ে বিতর্ক নিয়েই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
আজও বিবেকবান শিল্পী আছেন। কিন্তু একজন শিল্পীর ইচ্ছা থাকলেই আজ আর যথেষ্ট নয়। অনুমতি মেলার পরেও রাষ্ট্রের কূটনীতি, করপোরেট স্বার্থ, বৈশ্বিক বাজার, তথ্যযুদ্ধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অবিশ্বাসের দেয়াল পেরিয়ে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এর মতো আরেকটি কনসার্টের আয়োজন করা আজ কল্পনার চেয়েও কঠিন।

১৯৭১ সালের ১ আগস্ট। নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ইতিহাস তৈরি হয়েছিল। সেদিন যে দেশের মানুষের জন্য গান গাওয়া হয়েছিল, আন্তর্জাতিকভাবে তার অস্তিত্বকেই তখন বিশ্বের বেশিরভাগ শক্তিশালী রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয়নি।
সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার তখন সরাসরি পাকিস্তানের পক্ষে ছিল। অথচ সেই দেশের মাটিতেই ইতিহাসের প্রথম বড় অল-স্টার চ্যারিটি কনসার্ট আয়োজন করা হয়েছিল। কনসার্টটির মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যার কারণে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের জন্য অর্থ সংগ্রহ এবং বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা।
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, মার্কিন প্রশাসন যেখানে সরাসরি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেয়নি, সেখানে আমেরিকার বুকেই কীভাবে এমন একটি কনসার্ট সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব হয়েছিল?
এর মূল কারণ ছিল ১৯৭১ সালের মার্কিন সমাজ ও রাজনীতির বৈশিষ্ট্য। সে সময় হোয়াইট হাউসের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সে দেশের সাধারণ মানুষ, বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পীদের চিন্তাভাবনা এক ছিল না। ষাটের দশকের যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন আমেরিকায় নাগরিক সমাজকে এতটাই শক্তিশালী করেছিল যে, সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করা ছিল স্বাভাবিক ঘটনা।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের দেওয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের ভূমিকা তখন জর্জ হ্যারিসন ও তাঁর বন্ধুদের এই কাজের সাহস দিয়েছিল। সরকার পাকিস্তানের পাশে থাকলেও, আমেরিকার নাগরিক সমাজ ও সংগীতজগৎ স্বাধীনভাবে তাঁদের বিবেককে অগ্রাধিকার দিতে পেরেছিল। কোনো রাষ্ট্রীয় চাপ বা নিষেধাজ্ঞা এই আয়োজনকে রুখতে পারেনি।
কিন্তু আজকের বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে কি এমন উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব? উত্তর হলো, আজ এটি অনেক বেশি কঠিন। অনেক ক্ষেত্রেই প্রায় অসম্ভব।
আজকের বাস্তবতায় প্রথম বড় বাধা হতে পারে অনুমতি। কোনো সরকার যদি নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক সংকট নিয়ে স্পষ্ট কূটনৈতিক অবস্থান নেয়, তাহলে সেই অবস্থানের বিপরীত বার্তা বহনকারী বৈশ্বিক কনসার্টের অনুমতি পাওয়াই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে কঠিন ধাপ।
ধরা যাক, সব বাধা পেরিয়ে অনুমতি পাওয়া গেল। এরপর?
অনুমতি পেলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায় না। তখন শুরু হয় আরও কঠিন বাস্তবতা। কারণ, এখন শিল্পীর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ম্যানেজমেন্ট, রেকর্ড লেবেল, স্পনসর, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম, ভেন্যু কর্তৃপক্ষ এবং বৈশ্বিক ব্যবসায়িক স্বার্থ।
আজ প্রযুক্তির অনেক উন্নতি হয়েছে। পুরো পৃথিবী এখন আমাদের হাতের মুঠোয়। আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া আছে, ইউটিউব আছে, লাইভ স্ট্রিমিংয়ের সুবিধা আছে। মাত্র কয়েক মিনিটে যেকোনো বার্তা কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। অনলাইনের মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যেই লাখ লাখ, এমনকি মিলিয়ন ডলার অনুদান তোলা সম্ভব। তাই অনেকেই ভাবতে পারেন, সরকারি অনুমতি মিললে এমন কনসার্ট আয়োজন করা ১৯৭১ সালের চেয়ে অনেক বেশি সহজ। কিন্তু বাস্তবতা ঠিক উল্টো।

আজকের বিশ্ব পরিস্থিতি আমাদের নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। প্রযুক্তি মানুষের কাছে পৌঁছানোর পথ যতটা সহজ করেছে, বর্তমানের রাজনীতি, করপোরেট নিয়ন্ত্রণ এবং বৈশ্বিক তথ্যযুদ্ধ বিষয়গুলোকে তার চেয়েও অনেক বেশি জটিল করে তুলেছে। ১৯৭১ সালে জর্জ হ্যারিসনকে আজকের মতো সোশ্যাল মিডিয়ার আদালতের মুখোমুখি হতে হয়নি। প্রতিদিন নিজের প্রতিটি পদক্ষেপ বা বক্তব্যের উদ্দেশ্য তাঁকে ব্যাখ্যা করতে হয়নি। তাঁর বহু বছর আগের কোনো মন্তব্য বা ব্যক্তিগত জীবনের ভুল খুঁজে বের করে কেউ তাঁর মানবিক উদ্যোগকে সন্দেহের চোখে দেখেনি।
অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে আজ আর কোনো মানবিক কনসার্ট হয় না। পৃথিবীর নানা সংকটে শিল্পীরা এখনও তহবিল সংগ্রহ করেন, সচেতনতা তৈরি করেন। কিন্তু ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মতো এমন একটি রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর ইস্যুতে, যেখানে বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর অবস্থান বিভক্ত, সেখানে একই ধরনের সর্বজনগ্রাহ্য মানবিক ঐক্য গড়ে তোলা আজ অনেক বেশি কঠিন।
এর সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে করপোরেট জগতের স্বার্থ। ১৯৭১ সালে জর্জ হ্যারিসন মূলত নিজের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও বন্ধুদের সম্পর্কের ওপর ভর করে কনসার্টটি করতে পেরেছিলেন। সেদিন হ্যারিসন-পন্ডিত রবি শঙ্করের ডাকে সাড়া দিয়ে মঞ্চে এসে দাঁড়িয়েছিলেন বব ডিলান, রিংগো স্টার, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি প্রেস্টন, লিওন রাসেল, ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ এবং ওস্তাদ আল্লারাখার মতো বিশ্বখ্যাত সব কিংবদন্তি সংগীতশিল্পীরা।
কিন্তু এখন বিশ্বমানের যেকোনো বড় কনসার্ট বা ইভেন্টের পেছনে জড়িয়ে থাকে অসংখ্য বহুজাতিক স্পনসর, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম, গ্লোবাল ব্র্যান্ড ও বিজ্ঞাপনদাতারা। এদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব বাজার ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। কোনো আন্তর্জাতিক সংকট যদি কূটনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর হয়, তবে এই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো কোনোভাবেই তার সঙ্গে জড়াতে চায় না। কারণ, আজ রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়া এক দেশে প্রশংসিত হলেও অন্য দেশে তাদের তৈরি করা বিশাল বাজার বা ব্যবসাকে মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস করে দিতে পারে। এক দেশের বাজারে জনপ্রিয়তা বাড়লেও অন্য বাজারে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে আজ কোনো বড় মানবিক উদ্যোগে অর্থায়ন বা প্রচারের বিষয়টি কেবলই শিল্পীর নৈতিক সাহসের ওপর নির্ভর করে না। তা নির্ভর করে করপোরেট জগতের জটিল লাভ-ক্ষতির খতিয়ান এবং শেয়ার বাজারের ওঠানামার ওপর।
আজকের যুগের সবচেয়ে বড় বাধা হলো পরিকল্পিত তথ্যযুদ্ধ। আজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি নকল ছবি, এডিট করা ভিডিও বা ভিত্তিহীন গুজব মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কোটি মানুষের মনে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দিতে পারে। এমনকি একটি মহৎ ও সম্পূর্ণ মানবিক উদ্যোগকেও রাজনৈতিক চক্রান্ত বা প্রোপাগান্ডা হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা আমরা দেখতে পাই। কোনো শিল্পী যদি নির্যাতিত কোনো জনগোষ্ঠীর পক্ষে দাঁড়াতে চান, তবে খুব সহজেই তাঁকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বা ‘নির্দিষ্ট কোনো শক্তির চর’ হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়।
ফলে আজ সত্য প্রতিষ্ঠা করাও অনেক সময় মানবিক উদ্যোগের চেয়ে বড় লড়াই হয়ে দাঁড়ায়। কোনো উদ্যোগ শুরু হওয়ার আগেই তাকে ঘিরে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ে যে, মানুষ অনেক সময় মূল সংকটের চেয়ে বিতর্ক নিয়েই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
আজও বিবেকবান শিল্পী আছেন। কিন্তু একজন শিল্পীর ইচ্ছা থাকলেই আজ আর যথেষ্ট নয়। অনুমতি মেলার পরেও রাষ্ট্রের কূটনীতি, করপোরেট স্বার্থ, বৈশ্বিক বাজার, তথ্যযুদ্ধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অবিশ্বাসের দেয়াল পেরিয়ে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এর মতো আরেকটি কনসার্টের আয়োজন করা আজ কল্পনার চেয়েও কঠিন।
.png)

সম্প্রতি নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া ‘মুসাফির ক্যাফে’ এখন সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচিত ওয়েব সিরিজ। কেউ স্ক্রিনের সামনে জুতা তুলে ধরছেন, কেউ বলছেন অসমাপ্ত ভালোবাসার নির্মল উপাখ্যান। চলুন জেনে নেওয়া যাক, মুসাফির ক্যাফেতে আসলে কী আছে? আর যদি স্পয়লার এড়িয়ে চলতে চান, তাহলে এখানেই থেমে যাওয়া ভালো।
৫ ঘণ্টা আগে
১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এক গবেষণায় দেখা যায়, উচ্চমাধ্যমিক শেষ বর্ষের ৭৩ শতাংশ ছেলে এবং ৮৪ শতাংশ মেয়ে ভবিষ্যতে বিয়ে করবে বলে প্রত্যাশা করে। কিন্তু ২০২৩ সালের গবেষণায় দেখা যায়, সেই প্রবণতা অনেকটাই বদলে গেছে। বিয়ে করতে আগ্রহী মেয়েদের হার কমে ৬৪ শতাংশে নেমে এসেছে। ছেলেদের মধ্যেও বিয়ের ইচ্ছা কমে
১৪ ঘণ্টা আগে
ছোটবেলায় প্রথম যখন ‘হ্যারি পটার’ হাতে পেলাম, তখন এর আবেদন ছিল শুধুই গল্পের বইয়ের মতো। ধীরে ধীরে হারিয়ে গেলাম ড্যায়াগন এ্যালিতে, হগোয়ার্টসের নাম না জানা করিডরে, কুইডিচ পিচের কুয়াশায়।
৩১ জুলাই ২০২৬
তানজানিয়ার সেরেঙ্গেটি ন্যাশনাল পার্ক। সোনালী সাভানার বুকে মা চিতা ও তার চার শাবকের সঙ্গে সাক্ষাৎ। বন্যপ্রাণীর রাজ্যে রোমাঞ্চ, বিস্ময় আর আজীবন মনে রাখার মতো ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন ভূ-পর্যটক তানভীর অপু।
৩১ জুলাই ২০২৬