রাবিতে আন্দোলনে সরল মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিতদের ছবি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯: ১৬
প্রক্টর ছবি সরানোর আশ্বাস দিলে আন্দোলন স্থগিত করে রাবির ক্রিয়াশীল সংগঠনের নেতারা। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের মুখে পোস্টার থেকে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের ছবি মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

রোববার (২ আগস্ট) রাতে প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, পোস্টারে যেসব ছবি নিয়ে আপত্তি উঠেছে, সেগুলো রাতের মধ্যেই মুছে ফেলা বা ঢেকে দেওয়া হবে।

প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘পোস্টারটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করছে। তাই আমার পক্ষ থেকে নভোকালচারের পরিচালক ও রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারকে সরিয়ে নিতে বলেছি। তবে নভোকালচার কর্তৃপক্ষ প্রথমে জানিয়েছিল, তারা পোস্টারটি সরাবে না।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে– যেসব ছবি নিয়ে আপত্তি, সেগুলো রাতের মধ্যেই মুছে বা ঢেকে দেওয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্যারিস রোডে একটি পোস্টার প্রদর্শন করে ‘নভোকালচার’ নামের সংগঠন। এতে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সময়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর যেসব নেতাকে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, তারা ‘বিচারিক হত্যার’ শিকার উল্লেখ রয়েছে। নভোকালচারের পরিচালক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার।

পোস্টারটি অপসারণের দাবিতে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। পরে ক্যাম্পাসের কয়েকটি ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন কর্মসূচিতে যোগ দেয়। এ সময় তারা ‘বাহ ভিসি চমৎকার, রাজাকারের পাহারাদার’, ‘রাজাকারদের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’ এবং ‘রাজাকারের গালে গালে জুতা মারো তালে তালে’ নানা স্লোগান দেওয়া হয়।

পরে রাত ১০ টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বৈঠক হয়। প্রশাসন ছবি সরানোর কথা বললেও নভোকালচারের পরিচালক সালাহউদ্দিন আম্মার রাজি হননি। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাতেই ছবিগুলো মুছে ফেলা/ঢেকে ফেলার সিদ্ধান্ত দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি স্থগিত করেন।

ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল শাহরিয়ার শুভ বলেন, ‘একাত্তরের ইস্যু অনেক আগেই মীমাংসিত। শহীদ ড. শামসুজ্জোহার কবরের পাশে রাজাকারের ছবি টানানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

তিনি বলেন, ‘কয়েক দফা আলোচনার পর প্রশাসন আমাদের জানায়– চিহ্নিত রাজাকারদের ছবি অপসারণ করা হবে। প্রক্টরের আশ্বাসে আমরা আপাতত আন্দোলন স্থগিত করেছি।’

গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘শেখ হাসিনা বা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনোটিকেই আড়াল করার সুযোগ নেই। কিন্তু চব্বিশের আয়োজনকে কেন্দ্র করে সুকৌশলে একাত্তরের ঘাতক ও দালালদের স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। সেখানে গোলাম আযমের মতো ব্যক্তিদের গৌরবান্বিত করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত