প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ মেঘনা গ্রুপের ও প্রতিবেদকের বক্তব্য

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

স্ট্রিম কোলাজ

‘নিজেই নিজের কাছ থেকে জাহাজ আমদানি মেঘনা গ্রুপের!’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ। দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠীটির পক্ষে মিডিয়া রিলেশন্স ও পাবলিক রিলেশন ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র ম্যানেজার হুমায়ুন আহমেদ গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রতিবাদলিপি পাঠান।

এতে তিনি বলেছেন, বাংলা স্ট্রিমের প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন, মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মেঘনা গ্রুপের সুনাম, গ্রহণযোগ্যতা ও ব্যবসায়িক সাফল্য ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে এই ধরনের একপেশে ও বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

গত ২৮ জুলাই বাংলা স্ট্রিমে সংশ্লিষ্ট শিরোনামের সংবাদ প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদনের কিছু অংশের বিষয়ে প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, মেঘনা গ্রুপের সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ, অনুমান ও সন্দেহকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে সেগুলো প্রতিষ্ঠিত সত্য বলে প্রতীয়মান হয়। প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ এবং এটি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে মেঘনা গ্রুপ।

প্রতিবাদলিপিতে হুমায়ুন আহমেদ বলেছেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া সিঙ্গাপুরে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করার তথ্য দেওয়া হয়েছে। এটি অসত্য, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। প্রকৃতপক্ষে, মেঘনা গ্রুপ ২০২০ সালের ২৯ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগ থেকে সিঙ্গাপুরে ওভারসিজ কোম্পানি ‘Meghna Trade & Commerce Pte. Ltd. (MTCPL)’ প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন লাভ করে। গত কয়েক বছর ধরে এমটিসিপিএলের মাধ্যমেই মেঘনা গ্রুপ জাহাজ কেনাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

তিনি বলেন, নিজেদের বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জাহাজ আমদানির মাধ্যমে মেঘনা গ্রুপ অর্থপাচারের চেষ্টা করেছে– প্রতিবেদনের এই তথ্যটি সম্পূর্ণ বাস্তবতাবিবর্জিত। প্রকৃত ঘটনা, ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর জাহাজের বিক্রেতা Bocimar International NV এবং জাহাজের মালিক Blue Cypress S.A.-এর কাছ থেকে এমটিসিপিএলের মাধ্যমে জাহাজ কেনার জন্য একটি চুক্তি হয়। জাহাজের বিক্রেতা বাংলাদেশ থেকে এলসি গ্রহণে সম্মত না হওয়ায় সিঙ্গাপুরে আমাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জাহাজটি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানটি এলসির বিপরীতে আমাদের সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠানকে অর্থ দেবে এবং তারা একই পরিমাণ অর্থ জাহাজের বিক্রেতাকে পরিশোধ করবে।

প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়, জাহাজটির ৩২.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয়মূল্যেই বাংলাদেশ থেকে এলসি খোলা হয়েছে এবং সেটি বাংলাদেশ ব্যাংকের যথাযথ অনুমোদন নিয়ে মেঘনা ব্যাংকের মাধ্যমে। চুক্তি অনুযায়ী গত ২০ ফেব্রুয়ারি জাহাজ হস্তান্তরের নির্ধারিত দিনে বিক্রেতার কাছ থেকে এটি গ্রহণ এবং মেঘনা গ্রুপের বাংলাদেশের কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রতিবাদলিপিতে হুমায়ূন আহমেদ আরও বলেছেন, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) মেঘনা ব্যাংকের মাধ্যমে জানায়– লয়েডসের (Lloyd's) প্রতিবেদনে জাহাজ কেনার সাল ২০১৯ উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিএফআইইউকে লিখিতভাবে জানাই– লয়েডসের তথ্যটি ভুল। আমরা এবং এলসি ইস্যুকারী মেঘনা ব্যাংক লয়েডসকে জাহাজের মালিকানা-সংক্রান্ত ভুল তথ্যের বিষয়ে ই-মেইল পাঠাই। জবাবে লয়েডস কর্তৃপক্ষ ভুল স্বীকার করে এবং সংশোধনী হিসেবে তাদের পোর্টালে জাহাজ কেনার ২০১৯ এর পরিবর্তে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি হালনাগাদ করে। পরে সংশোধনের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংককেও জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদকের বক্তব্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক অনুসন্ধানকারী সংস্থা ‘বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট’ (বিএফআইইউ)-এর বিশেষ পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি করা হয়েছে। এতে মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং মেঘনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্য গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদকের নিজস্ব বক্তব্য, অনুমান বা মতামত প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।

মেঘনা গ্রুপের প্রতিবাদলিপি পড়তে ক্লিক করুন...

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত