ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধের উপক্রম, তবু জ্বালানি সংকটের শঙ্কা দেখছে না সরকার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৯: ০৪
ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল শোধনে সক্ষম। স্ট্রিম গ্রাফিক

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) উৎপাদন প্রায় বন্ধের পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে এতে দেশে জ্বালানি সরবরাহে কোনো ঘাটতি হবে না বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত ইআরএল বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল শোধনে সক্ষম। এখানে মূলত সৌদি আরবের ‘অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড’ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘মারবান ক্রুড’ পরিশোধন করে ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনসহ ১২ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদিত হয়। দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ এই শোধনাগার থেকে মেটানো হয়।

২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় গত দুই মাসে অপরিশোধিত তেলের কোনো নতুন চালান আসেনি। ফলে মজুত ফুরিয়ে এখন ট্যাংকের তলানিতে জমে থাকা অবশিষ্টাংশ (ডেডস্টক) দিয়ে সীমিত আকারে উৎপাদন চলছে। সাধারণত প্রতি মাসে এক থেকে দুটি কার্গো অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হয়। বাকি চাহিদা পরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়।

জ্বালানি বিভাগ জানায়, মার্চে দুই লাখ টন এবং এপ্রিলে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিকল্পনা থাকলেও জাহাজ আসতে পারেনি। তবে এপ্রিলের নির্ধারিত জাহাজটি বিকল্প বন্দর হয়ে মে মাসের শুরুতে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মে মাসে আরও দুই লাখ টন তেল আমদানির চেষ্টা চলছে। নতুন চালান এলে শোধনাগারটি আবার পূর্ণদমে সচল হবে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, দেশে বর্তমানে যে পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি তেল মজুত আছে, তাতে আগামী দুই মাস কোনো সমস্যা হবে না। তিনি বলেন, আজ রাতে ৬০ হাজার টন পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়বে এবং ১৮ এপ্রিল সমপরিমাণ জ্বালানি আসার কথা রয়েছে।

বুধবার পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ১৩ হাজার ৮৫ টন ডিজেল, ৩১ হাজার ৮২১ টন অকটেন, ১৮ হাজার ২১ টন পেট্রল এবং ৭৭ হাজার ৫৪৬ টন ফার্নেস অয়েল মজুত রয়েছে। এই মজুত দিয়ে কৃষকের সেচ ও সাধারণের পরিবহন চাহিদা মেটানো সম্ভব। কৃত্রিম সংকট রুখতে ৩ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশজুড়ে ৯১৬টি অভিযানে ৩ হাজার ৫১০টি মামলা ও ৪৫ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও সরকার আপাতত দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানান মনির হোসেন চৌধুরী।

সম্পর্কিত