হাইকোর্টে জামিন পেলেন ইমি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১২: ২৪
শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি

থানার সামনে ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর ঘটনায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংসদের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

গত ৭ মার্চ রাতে রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ বাজানোর সময় ইমিকে আটক করা হয়। পরদিন ৮ মার্চ তাঁকেসহ তিনজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠান ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত।

ঘটনার দিন শনিবার (৭ মার্চ) বিকালে চানখাঁরপুল মোড়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বাজাতে গিয়ে আসিফ আহমেদ নামে এক যুবক ও এক মাইক অপারেটর পুলিশের হাতে আটক হন। এর প্রতিবাদে ওইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহবাগ থানার সামনে রিকশায় করে মাইকে ভাষণ বাজানোর কর্মসূচি দেন ইমিসহ কয়েকজন।

উল্লেখ্য, ইমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বাম সংগঠনগুলোর ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ প্যানেল থেকে ভিপি প্রার্থী ছিলেন।

কর্মসূচি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর রাত ১০টার দিকে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক তাহমিদ আল মোদাসসিরের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী সেখানে গিয়ে বাধা দেয়। তারা মাইক ও ব্যাটারি ভেঙে ফেললে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়।

এক পর্যায়ে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা ইমি ও তাঁর সঙ্গে থাকা মামুনকে মারধর করে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এরমধ্যে মামুন জুলাই অভ্যুত্থানের পর ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।

মামলার বিবরণীতেও উল্লেখ করা হয়, ডাকসু প্রতিনিধি এ বি জুবায়ের এবং মোসাদ্দেকের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা মামুন ও ইমিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। ঘটনার পরদিন রোববার শাহবাগ থানা পুলিশ বাদী হয়ে ওই তিনজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মো. আশাদুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামিরা মসজিদের দিকে মুখ করে লাউড স্পিকারে উসকানিমূলক স্লোগান দিয়েছেন। তারা সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কার্যক্রম সচল করার চেষ্টা করেন। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া এবং থানা হেফাজত থেকে আসিফ আহমেদকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও আনা হয়।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত