চীনের নাগরিকের চোখে বৈশাখের ভিন্ন মর্ম

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ৩০
পান্তা-ইলিশের স্বাদ নেওয়ার পাশাপাশি বাঙালি লোকজ সংস্কৃতি উপভোগ করেন রাজশাহীতে কর্মরত চীনের নাগরিককরা। স্ট্রিম ছবি

বাংলা নববর্ষ উদযাপনে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অংশ নিয়েছেন চীনের কয়েক নাগরিক। তারা এই উৎসব উপভোগ করেন এবং নিজ দেশের বর্ষবরণের সঙ্গে পার্থক্য তুলে ধরেন।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে গোদাগাড়ী উপজেলা চত্বরে নববর্ষ উদযাপনে অংশ নিয়ে চীনের নাগরিকরা পান্তা-ইলিশের স্বাদ নেন। তারা গোদাগাড়ীতে রাজশাহী ওয়াসার সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট প্রকল্পে কর্মরত। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে চীনের হুনান কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি।

অনুষ্ঠানে চীনা নাগরিকদের সঙ্গে এসেছিলেন প্রকল্পের ডেপুটি ম্যানেজার ইয়াসির আরাফাত। তিনি জানান, চীনের কর্মীরা শুরু থেকেই বাংলা নববর্ষ উদযাপন কাছ থেকে দেখার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন। সেই আগ্রহ থেকেই এই আয়োজনে অংশ নেন।

প্রকল্পের পরিচালক মি. জু বলেন, বাংলাদেশের বর্ষবরণ উৎসব অত্যন্ত প্রাণবন্ত। বাংলাদেশের মানুষ খুবই বন্ধুসুলভ ও অতিথিপরায়ণ। তিনি বলেন, চীনেও আমরা নববর্ষ উদযাপন করি। তবে বাঙালি বর্ষবরণের সঙ্গে আমাদের উৎসবের যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে চীনে আতশবাজির ব্যবহার বেশি। কিন্তু বাংলাদেশের নববর্ষে লোকজ সংস্কৃতির অনুপম উপস্থিতি বেশি।

গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসন জানায়, বিদেশি নাগরিকদের এই আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলাম বলেন, চীনের নাগরিকরা বাংলাদেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকেই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। বৈশাখী শোভাযাত্রার মাধ্যমে লোকশিল্প, সাংস্কৃতিক চেতনা ও স্বাধীনতার মূল্যবোধ তুলে ধরা হয়। শোভাযাত্রায় ছিল প্রতীকী মুখোশ, গ্রামীণ জীবনের নানা অনুষঙ্গ ও লোকজ উপকরণ। সবকিছুই উপভোগ করেছেন চীনের নাগরিকরা।

জানা যায়, চীনের নাগরিকরা গত তিন বছর ধরে রাজশাহীতে অবস্থান করছেন। শুরু থেকেই বাংলা নববর্ষ নিয়ে তাদের কৌতূহল ছিল। এবার তারা সরাসরি পয়লা বৈশাখের উৎসব উপভোগ করার সুযোগ পান। সকাল সোয়া ৯টার দিকে আনন্দ শোভাযাত্রা শুরুর আগেই তারা উৎসবের আবহে মিশে যান। কেউ আদিবাসীদের সঙ্গে নাচ উপভোগ করেন। কেউ ছবি তোলেন, আবার কেউ ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিলেন। ঢাক-ঢোল ও একতারার তালে তালে তাদের উচ্ছ্বাস নজর কাড়ে উপস্থিত সবার।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুস সাদত রত্ন বলেন, পয়লা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে এই উৎসবের মূল চেতনা অসাম্প্রদায়িকতা। বিদেশি নাগরিকদের অংশগ্রহণ আমাদের সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত