প্রতিটি প্রকল্প দৈনিক নজরদারিতে আনছে সরকার: আমির খসরু

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যয় বৃদ্ধি ঠেকাতে প্রতিটি প্রকল্পকে দৈনিক নজরদারির আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রোববার (২১ জুন) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত ‘সিপিডি বাজেট সংলাপ-২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সরকার উন্নয়ন প্রকল্প তদারকির পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আগে ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা করা হতো। এখন আমরা একটি ড্যাশবোর্ড তৈরি করছি। এই ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে প্রতিটি প্রকল্প দৈনিক ভিত্তিতে মনিটর করা হবে।’

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে মানুষের মধ্যে যে প্রশ্ন রয়েছে, সেটি যৌক্তিক। কারণ বড় আকারের বাজেট প্রণয়ন করাই যথেষ্ট নয়, সেটি বাস্তবায়ন করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আমির খসরু বলেন, এত বড় একটি বাজেট, সীমিত সম্পদের দেশে এটি বাস্তবায়ন করতে হবে। আন্তর্জাতিক অর্থায়নও আগের তুলনায় কমে গেছে। তাই বাজেট বাস্তবায়ন হবে কি না—এই প্রশ্নটি যথার্থ।

তিনি জানান, কোন প্রকল্প কতটুকু এগিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে কিনা, কোথায় কী ধরনের সমস্যা রয়েছে—এসব তথ্য ড্যাশবোর্ডে হালনাগাদ থাকবে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাই এই ড্যাশবোর্ড ব্যবহার করবে।

আগামী জুলাই মাসে ড্যাশবোর্ড চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, যেসব প্রকল্প বাতিল করা সম্ভব হয়েছে, সেগুলো বাতিল করা হয়েছে। যেগুলো নতুনভাবে সাজানো বা পুনর্বিন্যাস করা সম্ভব হয়েছে, সেগুলো পুনর্গঠন করা হয়েছে। তবে অনেক প্রকল্প বাধ্য হয়েই শেষ করতে হচ্ছে।

আমির খসরু বলেন, কিছু প্রকল্পের কোনো দৃশ্যমান রিটার্ন নেই। তারপরও সেগুলো শেষ করতে হচ্ছে। কারণ মাঝপথে বন্ধ করলে জনগণের অর্থ আরও বেশি অপচয় হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ১ হাজার ৩০০টি প্রকল্প উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছি। এর মধ্যে অনেক প্রকল্পই দেশের মানুষের স্বার্থে নেওয়া হয়নি। কিন্তু যেসব প্রকল্পের কাজ ৬০, ৭০ কিংবা ৮০ শতাংশ শেষ হয়ে গেছে, সেগুলো বন্ধ করার সুযোগ নেই।’

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, এমনও ঘটনা ঘটছে যে, একটি প্রকল্পের প্রস্তুতি নিতেই দেড় থেকে দুই বছর সময় লেগে যাচ্ছে। এতে ব্যয় বেড়ে যায়, অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত