শেখ নাহিদ নিয়াজী

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর হয়েছে। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার গত বছর আগস্ট মাসের ৮ তারিখে শপথ নিয়েছিল। গোটা দেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। অধিকাংশ মানুষ ভেবেছিলেন এবার দেশে একটা স্থিতিশীল টেকসই জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। অবশ্য সেটি করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিল।
এই সরকারের বৈধতা হলো ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান, যেটির কারণে ‘ডকট্রিন অব নেসিসিটি’ তৈরি হয়। এটি ছিল এই সরকারের ম্যান্ডেট। একারণে শুরুতেই এই সরকারের কোনো মেয়াদকাল ঠিক করা হয়নি। তবে মানুষ আশা করেছিল দুর্বল জবাবদিহিহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা মেরামত করা হবে এবং নাজুক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা হবে ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে ইতিবাচক বৈপ্লবিক সংস্কার করা হবে। যাহোক, এক বছরের মধ্যে দেশের মানুষের প্রত্যাশার পারদ অনেকখানি নিচে নেমে গেছে! এটি অবশ্যই হতাশাজনক!
প্রথম ছয় মাস পরই সরকার নিজেদের কাজের একটা মূল্যায়ন করতে পারত। শুরুতে বেশ তড়িঘড়ি করে উপদেষ্টা বাছাই করা হয়েছিল এবং তাঁদের তাৎক্ষণিক বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে তাঁদের কাজের পুনর্মূল্যায়ন করা এবং প্রয়োজনে কারো কারো দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা যেত।
উপদেষ্টা পরিষদে কয়েকজন সদস্যের (উপদেষ্টা) অন্তর্ভুক্তি নিয়ে শুরু থেকেই ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্ক ছিল। তাঁদের কর্মদক্ষতা যাচাই করে অব্যাহতি দেয়া যেত। কিন্তু এই সরকারও প্রথাগত পদ্ধতি অনুসরণ করেছে। তারা উপদেষ্টাদের যাঁর যাঁর দায়িত্বপালন এবং কাজের দক্ষতা নিয়ে নিজেদের মধ্যে কোনো সমালোচনা বা মূল্যায়নের ক্ষেত্র তৈরি করেনি। তার মানে, এখানে তারা কোনো ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করতে পারেনি।
বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে। প্রথমত, সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা এখনো হিমশিম খাচ্ছে। কিন্তু এই বিষয়ে তারা খুব কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ বা উদ্যোগ নিয়ে সফল হয়েছে এরকমটি দেখা যায়নি।
গত ১০ মাস ধরে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা রাস্তায় দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু সার্বিক আইনশৃংখলা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি ঘটেনি। পুলিশ বাহিনীর ভেতরে ব্যাপক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা থাকার পরও পুলিশ সার্ভিসকে ‘নাগরিক সেবা’ হিসেবে মানুষের সামনে পরিষ্কার করতে পারেনি।
শোনা যায়, দুর্নীতিবাজ ও গণহত্যার সহযোগী বেশ কিছু পুলিশ সদস্য এখনো চাকরিতে বহাল তবিয়তে আছে। এদের সুনির্দিষ্ট কোনো তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে কিনা আমরা জানি না। এমনকি আমরা এখনো পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন হতে দেখলাম না।
আমলাতন্ত্রের অভ্যন্তরে ব্যাপক গুণগত পরিবর্তন হবে বলে মানুষ আশা করেছিল। কিন্তু যে আমলাতন্ত্রের চেহারা এখন দেখছি, সেটি আগেরটির প্রতিফলন। সরকার জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন করেছিল; অনেক আগেই এই রিপোর্ট সরকারের কাছে জমা পড়েছে। আজ পর্যন্ত খুব জরুরি ও উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার উদ্যোগ আমাদের চোখে পড়েনি।
প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা থেকে কীভাবে বের করা যায় এবং তাদের মধ্যে নাগরিক সেবামুলক দায়িত্ববোধ তৈরি করা যায় সেসব নিয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নিতে দেখিনি। তবে ডিসি সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার কিছু ইতিবাচক বিবৃতি শুনতে পাওয়া গেছে। কিন্তু ডিসি সাহেবরা এখনো ‘জেলা প্রশাসক’ হিসেবেই পরিচিত হচ্ছেন। তাঁদের এই পদবি পরিবর্তন করার কথা ছিল।
নাগরিক পরিষেবার মান বেড়েছে কিনা সেটি নিয়ে খুব বেশি রিপোর্ট গণমাধ্যমে চোখে পড়েনি। শুরুতেই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান প্রজাতন্ত্রের কিছু কর্মচারীর তোপের মুখে পড়েছিলেন। সেটি দেখে হয়তো সরকার জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে গড়িমসি করেছে। কিন্তু সরকার চাইলে নির্বাহী আদেশে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে পারত—যেগুলো সরাসরি নাগরিক সেবার সঙ্গে সম্পর্কিত।
তাছাড়া বাংলাদেশের আমলাতন্ত্রকে চিরাচরিত ঔপনিবেশিক ধাঁচের ক্ষমতা কাঠামো থেকে নাগরিক পরিষেবার আদলে (কাঠমোগত রূপান্তর) নিয়ে আসা ছিল এই সরকারের সবচেয়ে বড় কাজ। এখানে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক সংস্কার দৃশ্যমান হয়নি।
সাম্প্রতিক কালে নারী সরকারি কর্মচারীকে (উচ্চপদস্থ) ‘স্যার’ সম্বোধন করা যাবে না—এই মর্মে একটি আদেশ জারি করতে দেখেছি আমরা। তাছাড়া স্থানীয় প্রশাসন এবং জেলা প্রশাসনের সেবা কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে হবে; উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কতগুলো কমিটির সভাপতি হবেন—এসব বিষয়ে এখনো পরিষ্কার কোনো দিকনির্দেশনা নাই।
একজন ডিসি জেলার কতগুলো কমিটির সভাপতি হতে পারবেন সেসব বিষয়ে কোনো সংস্কার চোখে পড়েনি এখনো। তাছাড়া বিচার বিভাগের আমূল সংস্কার দরকার, যেটি এখনো আমরা দেখতে পেলাম না। স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং এর জন্য আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা খুবই জরুরি। বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া অবশ্যই স্বচ্ছ হতে হবে।
এগুলো ছিল দেশের মানুষের প্রত্যাশা। কারণ, দেশের মানুষকে নতুন বাংলাদেশের কথা শোনানো হয়েছিল। যাহোক, আগামী নির্বাচনের আগে দেশের অধিকাংশ নাগরিক নিম্নলিখিত সংস্কারের বাস্তবায়ন দেখতে চায়:
১) নষ্ট রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন হতে হবে। নাগরিকদের ভেতর থেকে (বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক শক্তির প্ল্যাটফর্ম) যথেষ্ট চাপ তৈরি করতে হবে।
২) রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জবাবদিহি ও সুস্থ গণতন্ত্র চর্চা থাকতে হবে।
৩) রাজনৈতিক দলগুলোকে নতুন ‘রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’ মানুষের সামনে পরিষ্কার করতে হবে।
৪) জনমুখী জবাবদিহিমুলক আমলাতন্ত্র এবং নাগরিক-বান্ধব পুলিশ সেবা/সার্ভিস নিশ্চিত করতে হবে।
৫) শিক্ষাব্যবস্থা এবং স্কুল/কলেজের পাঠ্যক্রম ঢেলে সাজাতে হবে।
৬) একটি স্থায়ী শিক্ষা সংস্কার কমিশন এবং একটি উচ্চ শিক্ষা কমিশন গঠন করতে হবে।
৭) অবশ্যই কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার নির্বাহী আদেশে বাস্তবায়ন করে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
৮) দেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ যতটুকু পারা যায় দ্রুত ফেরত আনতে হবে।
৯) খুনিদের বিচার দ্রুততার সঙ্গে ও স্বচ্ছভাবে করতে হবে।
১০) দুর্নীতিবাজ চোরদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করতে হবে।
১১) দেশে গণতান্ত্রিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
১২) ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আইন-আদালতকে (বিচার বিভাগ) পুরোপুরি স্বাধীন করতে হবে। রাজনৈতিক দলের দাসত্ব থেকে বিচারকদের মুক্ত করতে হবে।
১৩) কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র ও শিক্ষকদের নষ্ট ‘লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি‘ বন্ধ করতে হবে। তাঁরা কোনো দলের ব্যানার ব্যবহার করে ক্যাম্পাসে দলীয় রাজনীতি করতে পারবে না। অবশ্যই তাঁরা রাজনীতি নিয়ে কথা বলবেন এবং নিজস্ব মতামত দেবন। শিক্ষার্থীরা যেকোন রাজনৈতিক দল বা সংগঠন করবে্ ক্যাম্পাসের বাইরে।
১৪) রাজনৈতিক দলগুলোর লেজুড়বৃত্তিক কোনো অঙ্গসংগঠন (কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এবং বিদেশী শাখা হিসেবে) থাকতে পারবে না।
১৫) অবিলম্বে সকলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন করতে হবে।
লেখক: সহযোগী অধ্যাপক; ইংরেজি বিভাগ; স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর হয়েছে। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার গত বছর আগস্ট মাসের ৮ তারিখে শপথ নিয়েছিল। গোটা দেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। অধিকাংশ মানুষ ভেবেছিলেন এবার দেশে একটা স্থিতিশীল টেকসই জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। অবশ্য সেটি করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিল।
এই সরকারের বৈধতা হলো ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান, যেটির কারণে ‘ডকট্রিন অব নেসিসিটি’ তৈরি হয়। এটি ছিল এই সরকারের ম্যান্ডেট। একারণে শুরুতেই এই সরকারের কোনো মেয়াদকাল ঠিক করা হয়নি। তবে মানুষ আশা করেছিল দুর্বল জবাবদিহিহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা মেরামত করা হবে এবং নাজুক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা হবে ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে ইতিবাচক বৈপ্লবিক সংস্কার করা হবে। যাহোক, এক বছরের মধ্যে দেশের মানুষের প্রত্যাশার পারদ অনেকখানি নিচে নেমে গেছে! এটি অবশ্যই হতাশাজনক!
প্রথম ছয় মাস পরই সরকার নিজেদের কাজের একটা মূল্যায়ন করতে পারত। শুরুতে বেশ তড়িঘড়ি করে উপদেষ্টা বাছাই করা হয়েছিল এবং তাঁদের তাৎক্ষণিক বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে তাঁদের কাজের পুনর্মূল্যায়ন করা এবং প্রয়োজনে কারো কারো দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা যেত।
উপদেষ্টা পরিষদে কয়েকজন সদস্যের (উপদেষ্টা) অন্তর্ভুক্তি নিয়ে শুরু থেকেই ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্ক ছিল। তাঁদের কর্মদক্ষতা যাচাই করে অব্যাহতি দেয়া যেত। কিন্তু এই সরকারও প্রথাগত পদ্ধতি অনুসরণ করেছে। তারা উপদেষ্টাদের যাঁর যাঁর দায়িত্বপালন এবং কাজের দক্ষতা নিয়ে নিজেদের মধ্যে কোনো সমালোচনা বা মূল্যায়নের ক্ষেত্র তৈরি করেনি। তার মানে, এখানে তারা কোনো ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করতে পারেনি।
বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে। প্রথমত, সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা এখনো হিমশিম খাচ্ছে। কিন্তু এই বিষয়ে তারা খুব কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ বা উদ্যোগ নিয়ে সফল হয়েছে এরকমটি দেখা যায়নি।
গত ১০ মাস ধরে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা রাস্তায় দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু সার্বিক আইনশৃংখলা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি ঘটেনি। পুলিশ বাহিনীর ভেতরে ব্যাপক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা থাকার পরও পুলিশ সার্ভিসকে ‘নাগরিক সেবা’ হিসেবে মানুষের সামনে পরিষ্কার করতে পারেনি।
শোনা যায়, দুর্নীতিবাজ ও গণহত্যার সহযোগী বেশ কিছু পুলিশ সদস্য এখনো চাকরিতে বহাল তবিয়তে আছে। এদের সুনির্দিষ্ট কোনো তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে কিনা আমরা জানি না। এমনকি আমরা এখনো পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন হতে দেখলাম না।
আমলাতন্ত্রের অভ্যন্তরে ব্যাপক গুণগত পরিবর্তন হবে বলে মানুষ আশা করেছিল। কিন্তু যে আমলাতন্ত্রের চেহারা এখন দেখছি, সেটি আগেরটির প্রতিফলন। সরকার জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন করেছিল; অনেক আগেই এই রিপোর্ট সরকারের কাছে জমা পড়েছে। আজ পর্যন্ত খুব জরুরি ও উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার উদ্যোগ আমাদের চোখে পড়েনি।
প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা থেকে কীভাবে বের করা যায় এবং তাদের মধ্যে নাগরিক সেবামুলক দায়িত্ববোধ তৈরি করা যায় সেসব নিয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নিতে দেখিনি। তবে ডিসি সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার কিছু ইতিবাচক বিবৃতি শুনতে পাওয়া গেছে। কিন্তু ডিসি সাহেবরা এখনো ‘জেলা প্রশাসক’ হিসেবেই পরিচিত হচ্ছেন। তাঁদের এই পদবি পরিবর্তন করার কথা ছিল।
নাগরিক পরিষেবার মান বেড়েছে কিনা সেটি নিয়ে খুব বেশি রিপোর্ট গণমাধ্যমে চোখে পড়েনি। শুরুতেই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান প্রজাতন্ত্রের কিছু কর্মচারীর তোপের মুখে পড়েছিলেন। সেটি দেখে হয়তো সরকার জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে গড়িমসি করেছে। কিন্তু সরকার চাইলে নির্বাহী আদেশে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে পারত—যেগুলো সরাসরি নাগরিক সেবার সঙ্গে সম্পর্কিত।
তাছাড়া বাংলাদেশের আমলাতন্ত্রকে চিরাচরিত ঔপনিবেশিক ধাঁচের ক্ষমতা কাঠামো থেকে নাগরিক পরিষেবার আদলে (কাঠমোগত রূপান্তর) নিয়ে আসা ছিল এই সরকারের সবচেয়ে বড় কাজ। এখানে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক সংস্কার দৃশ্যমান হয়নি।
সাম্প্রতিক কালে নারী সরকারি কর্মচারীকে (উচ্চপদস্থ) ‘স্যার’ সম্বোধন করা যাবে না—এই মর্মে একটি আদেশ জারি করতে দেখেছি আমরা। তাছাড়া স্থানীয় প্রশাসন এবং জেলা প্রশাসনের সেবা কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে হবে; উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কতগুলো কমিটির সভাপতি হবেন—এসব বিষয়ে এখনো পরিষ্কার কোনো দিকনির্দেশনা নাই।
একজন ডিসি জেলার কতগুলো কমিটির সভাপতি হতে পারবেন সেসব বিষয়ে কোনো সংস্কার চোখে পড়েনি এখনো। তাছাড়া বিচার বিভাগের আমূল সংস্কার দরকার, যেটি এখনো আমরা দেখতে পেলাম না। স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং এর জন্য আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা খুবই জরুরি। বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া অবশ্যই স্বচ্ছ হতে হবে।
এগুলো ছিল দেশের মানুষের প্রত্যাশা। কারণ, দেশের মানুষকে নতুন বাংলাদেশের কথা শোনানো হয়েছিল। যাহোক, আগামী নির্বাচনের আগে দেশের অধিকাংশ নাগরিক নিম্নলিখিত সংস্কারের বাস্তবায়ন দেখতে চায়:
১) নষ্ট রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন হতে হবে। নাগরিকদের ভেতর থেকে (বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক শক্তির প্ল্যাটফর্ম) যথেষ্ট চাপ তৈরি করতে হবে।
২) রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জবাবদিহি ও সুস্থ গণতন্ত্র চর্চা থাকতে হবে।
৩) রাজনৈতিক দলগুলোকে নতুন ‘রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’ মানুষের সামনে পরিষ্কার করতে হবে।
৪) জনমুখী জবাবদিহিমুলক আমলাতন্ত্র এবং নাগরিক-বান্ধব পুলিশ সেবা/সার্ভিস নিশ্চিত করতে হবে।
৫) শিক্ষাব্যবস্থা এবং স্কুল/কলেজের পাঠ্যক্রম ঢেলে সাজাতে হবে।
৬) একটি স্থায়ী শিক্ষা সংস্কার কমিশন এবং একটি উচ্চ শিক্ষা কমিশন গঠন করতে হবে।
৭) অবশ্যই কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার নির্বাহী আদেশে বাস্তবায়ন করে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
৮) দেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ যতটুকু পারা যায় দ্রুত ফেরত আনতে হবে।
৯) খুনিদের বিচার দ্রুততার সঙ্গে ও স্বচ্ছভাবে করতে হবে।
১০) দুর্নীতিবাজ চোরদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করতে হবে।
১১) দেশে গণতান্ত্রিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
১২) ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আইন-আদালতকে (বিচার বিভাগ) পুরোপুরি স্বাধীন করতে হবে। রাজনৈতিক দলের দাসত্ব থেকে বিচারকদের মুক্ত করতে হবে।
১৩) কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র ও শিক্ষকদের নষ্ট ‘লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি‘ বন্ধ করতে হবে। তাঁরা কোনো দলের ব্যানার ব্যবহার করে ক্যাম্পাসে দলীয় রাজনীতি করতে পারবে না। অবশ্যই তাঁরা রাজনীতি নিয়ে কথা বলবেন এবং নিজস্ব মতামত দেবন। শিক্ষার্থীরা যেকোন রাজনৈতিক দল বা সংগঠন করবে্ ক্যাম্পাসের বাইরে।
১৪) রাজনৈতিক দলগুলোর লেজুড়বৃত্তিক কোনো অঙ্গসংগঠন (কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এবং বিদেশী শাখা হিসেবে) থাকতে পারবে না।
১৫) অবিলম্বে সকলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন করতে হবে।
লেখক: সহযোগী অধ্যাপক; ইংরেজি বিভাগ; স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসের পাতায় হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনার সবসময়ই একটি মর্যাদাপূর্ণ ও উৎসবমুখর আয়োজন হিসেবে পরিচিত। কিন্তু ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সেই ঐতিহ্য রক্তক্ষয়ী আতঙ্কে রূপ নেয়। শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ৩৫ মিনিটের দিকে ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলের বলরুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে হঠাৎ গুলির শব্দে
১ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আছেন সাতজন। তাঁরা মূলত বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন। সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে এককভাবে প্রার্থী হওয়ার কারণে তাদেরকে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ বলা হয়। যদিও সংবিধান বা নির্বাচনি আইনে ‘বিদ্রোহী প্রার
১ দিন আগে
প্রতি বছর বাংলাদেশে গড়ে প্রায় ২৫ হাজার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় জীবন ও সম্পদের প্রাণহানিও ব্যাপক। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরে অগ্নিকাণ্ডে মোট ৬৫০ জনের মৃত্যু ও ২ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।
১ দিন আগে
এই মহাবিপদ থেকে বাঁচতে পাকিস্তানের সামনে এখন ‘বিচক্ষণ কূটনীতি’ এবং একমুখী আমেরিকা-নির্ভরতা কাটিয়ে চীন-রাশিয়া-তুরস্ক বলয়ে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে তুরস্কের সঙ্গে প্রস্তাবিত ‘মুসলিম ন্যাটো’ গঠন এবং নিজস্ব ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করাই হবে তাদের টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি।
২ দিন আগে