স্ট্রিম সম্পাদকীয়

তারেক রহমান সরকারের প্রথম বাজেট নিয়ে দেশের সব শ্রেণির মানুষেরই বিশেষ আগ্রহ ছিল। উন্নয়ন সহযোগীদেরও আগ্রহ কম থাকার কথা নয়। বাজেটে প্রচলিত কাঠামোর বাইরে গিয়ে সরকার কিছু করে কিনা, সে বিষয়েও ছিল জিজ্ঞাসা।
এ পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রথমবারের মতো যে বাজেট দিয়েছেন, তাতে কিছু নতুন বিষয় সন্নিবেশিত হয়েছে বৈকি। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নও অনেকাংশে শুরু হয়েছিল সরকার ক্ষমতায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই। ওইসব কর্মসূচি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। চলমান আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির নিরিখে সরকার সামাজিক সুরক্ষায় বেশি জোর দেবে, সেটাও স্বাভাবিক। মূল্যস্ফীতি নতুন করে অবনতির দিকে যাওয়ায় এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে। প্রয়াস থাকতে হবে, যেন এটা আবার ডাবল ডিজিটে না যায়। প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতিকে সাড়ে সাত শতাংশে আটকে রাখার প্রত্যয় ঘোষিত হয়েছে। এটি অর্জনে রাজস্বনীতির সঙ্গে ঘটাতে হবে মুদ্রানীতির প্রয়োগ। পণ্য ও সেবার বাজারে যেসব বিকৃতি রয়েছে, সেগুলোর সংশোধনও এ লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে। সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব রাখে, এমন কর প্রস্তাব থেকে সরকারকে দূরে থাকতে দেখা গেল বাজেটে। নিত্যপণ্যের উৎসে কর বরং কমানো হয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। আমরা এর সুফল দেখতে চাইব।
চলমান প্রবৃদ্ধিতে কৃষির অবদান বেড়েছে। এটা অব্যাহত রেখে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে এ খাতে বরাদ্দ আরও বাড়ানো যেত। শিল্প-বাণিজ্যে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বাজেটে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেগুলোও কাঙ্খিত ছিল। গত কয়েক বছরে, বিশেষত গণঅভ্যুত্থানের পর বিনিয়োগ উদ্বেগজনকভাবে কমে গিয়েছিল। সবার জানা, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সত্ত্বেও এর স্থিতিশীল সরবরাহ কোনো ক্ষেত্রেই নিশ্চিত করা যায়নি। এ অবস্থায় স্বল্প সুদে বিশেষ তহবিল থেকে ঋণ জোগানো হলেও তা কার্যকর হওয়া কঠিন। এদিকে সরকারের ভর্তুকি ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। আরেক প্রধান ব্যয়ের খাত হয়ে উঠেছে ঋণের সুদ। ঘাটতি বাজেট বাস্তবায়নে সব সরকারকেই ঋণ নিতে হচ্ছে। প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থতাও এর অন্তর্নিহিত কারণ। নতুন বাজেটে যে বিরাট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে—এনবিআরসহ প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার ছাড়া তার বাস্তবায়ন অসম্ভব। এ অবস্থায় ঋণনির্ভরতা আরও বাড়ার শঙ্কা। সামনে এটা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাকে জটিলতর করে তুলতে পারে। এ অবস্থায় সরকারকে অপচয়মূলক ব্যয় হ্রাসে মনোনিবেশ করতে হবে। ঢালাও ভর্তুকি ও প্রণোদনা, অযাচিত করছাড় কমানোর প্রয়াসও জরুরি।
অর্থনীতিতে সংকট ঘনীভূত হয়েই ছিল। দায়িত্ব নিতে না নিতে ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিও সরকারকে বাড়তি সংকটে ফেলে। এ অবস্থায় গ্রহণযোগ্য বাজেট প্রণয়ন সহজ নয়। তা সত্ত্বেও সরকার সেটি কতখানি করতে পেরেছে, এর মূল্যায়ন হবে। সংশ্লিষ্ট সবার যুক্তিপূর্ণ বক্তব্য সহজভাবে নিয়ে বাজেটে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার মনোভাবও দেখাতে হবে সরকারকে। আর বাজেট বাস্তবায়ন বরাবরই অনেক কঠিন এটি প্রণয়নের চাইতে। বিশেষত এডিপি বাস্তবায়নে শুধু পরিমাণ নয়; কাজের মান রক্ষায়ও সরকারকে যত্নের পরিচয় দিতে হবে। এ খাতে বিপুল অপচয় হয়ে থাকে। প্রকল্পের লক্ষ্যও থাকে অধরা। বাজেট বাস্তবায়নে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ড রোধে সরকার জাগ্রত থাকবে, এটাও প্রত্যাশা।

তারেক রহমান সরকারের প্রথম বাজেট নিয়ে দেশের সব শ্রেণির মানুষেরই বিশেষ আগ্রহ ছিল। উন্নয়ন সহযোগীদেরও আগ্রহ কম থাকার কথা নয়। বাজেটে প্রচলিত কাঠামোর বাইরে গিয়ে সরকার কিছু করে কিনা, সে বিষয়েও ছিল জিজ্ঞাসা।
এ পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রথমবারের মতো যে বাজেট দিয়েছেন, তাতে কিছু নতুন বিষয় সন্নিবেশিত হয়েছে বৈকি। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নও অনেকাংশে শুরু হয়েছিল সরকার ক্ষমতায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই। ওইসব কর্মসূচি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। চলমান আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির নিরিখে সরকার সামাজিক সুরক্ষায় বেশি জোর দেবে, সেটাও স্বাভাবিক। মূল্যস্ফীতি নতুন করে অবনতির দিকে যাওয়ায় এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে। প্রয়াস থাকতে হবে, যেন এটা আবার ডাবল ডিজিটে না যায়। প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতিকে সাড়ে সাত শতাংশে আটকে রাখার প্রত্যয় ঘোষিত হয়েছে। এটি অর্জনে রাজস্বনীতির সঙ্গে ঘটাতে হবে মুদ্রানীতির প্রয়োগ। পণ্য ও সেবার বাজারে যেসব বিকৃতি রয়েছে, সেগুলোর সংশোধনও এ লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে। সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব রাখে, এমন কর প্রস্তাব থেকে সরকারকে দূরে থাকতে দেখা গেল বাজেটে। নিত্যপণ্যের উৎসে কর বরং কমানো হয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। আমরা এর সুফল দেখতে চাইব।
চলমান প্রবৃদ্ধিতে কৃষির অবদান বেড়েছে। এটা অব্যাহত রেখে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে এ খাতে বরাদ্দ আরও বাড়ানো যেত। শিল্প-বাণিজ্যে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বাজেটে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেগুলোও কাঙ্খিত ছিল। গত কয়েক বছরে, বিশেষত গণঅভ্যুত্থানের পর বিনিয়োগ উদ্বেগজনকভাবে কমে গিয়েছিল। সবার জানা, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সত্ত্বেও এর স্থিতিশীল সরবরাহ কোনো ক্ষেত্রেই নিশ্চিত করা যায়নি। এ অবস্থায় স্বল্প সুদে বিশেষ তহবিল থেকে ঋণ জোগানো হলেও তা কার্যকর হওয়া কঠিন। এদিকে সরকারের ভর্তুকি ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। আরেক প্রধান ব্যয়ের খাত হয়ে উঠেছে ঋণের সুদ। ঘাটতি বাজেট বাস্তবায়নে সব সরকারকেই ঋণ নিতে হচ্ছে। প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থতাও এর অন্তর্নিহিত কারণ। নতুন বাজেটে যে বিরাট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে—এনবিআরসহ প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার ছাড়া তার বাস্তবায়ন অসম্ভব। এ অবস্থায় ঋণনির্ভরতা আরও বাড়ার শঙ্কা। সামনে এটা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাকে জটিলতর করে তুলতে পারে। এ অবস্থায় সরকারকে অপচয়মূলক ব্যয় হ্রাসে মনোনিবেশ করতে হবে। ঢালাও ভর্তুকি ও প্রণোদনা, অযাচিত করছাড় কমানোর প্রয়াসও জরুরি।
অর্থনীতিতে সংকট ঘনীভূত হয়েই ছিল। দায়িত্ব নিতে না নিতে ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিও সরকারকে বাড়তি সংকটে ফেলে। এ অবস্থায় গ্রহণযোগ্য বাজেট প্রণয়ন সহজ নয়। তা সত্ত্বেও সরকার সেটি কতখানি করতে পেরেছে, এর মূল্যায়ন হবে। সংশ্লিষ্ট সবার যুক্তিপূর্ণ বক্তব্য সহজভাবে নিয়ে বাজেটে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার মনোভাবও দেখাতে হবে সরকারকে। আর বাজেট বাস্তবায়ন বরাবরই অনেক কঠিন এটি প্রণয়নের চাইতে। বিশেষত এডিপি বাস্তবায়নে শুধু পরিমাণ নয়; কাজের মান রক্ষায়ও সরকারকে যত্নের পরিচয় দিতে হবে। এ খাতে বিপুল অপচয় হয়ে থাকে। প্রকল্পের লক্ষ্যও থাকে অধরা। বাজেট বাস্তবায়নে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ড রোধে সরকার জাগ্রত থাকবে, এটাও প্রত্যাশা।
.png)
বিবিএস বলছে, বিগত জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে, যা গত আট মাসে সর্বনিম্ন। জুনে এটা ছিল ৯ দশমিক ১৬; মে’তে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত—উভয় মূল্যস্ফীতিই নিম্নমুখী বলে জানাচ্ছে সংস্থাটি।
১৪ আগস্ট ২০২৬ক্ষমতাসীন বিএনপি থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার ঘটনায় কেউ অবাক হবেন না। তাঁর নামই বেশি আলোচিত হচ্ছিল। এর আগেই অবশ্য জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট থেকে প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।
১৩ আগস্ট ২০২৬গ্যাস সংকট কাটতে শুরু করেও কাটছে না আর তাতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত। এ বিষয়ে সেমিনারে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও যারা গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের শিকার, তারা তাৎক্ষণিকভাবে এর মোকাবিলা নিয়েই চিন্তিত। এ ক্ষেত্রে বিকল্পের শরণাপন্ন হতে গিয়ে রান্নাঘর থেকে শিল্পকারখানা পর্যন্ত ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
১২ আগস্ট ২০২৬এসএসসির ফল প্রকাশের পর সবচেয়ে সহজ কাজ হলো বলা—এবার শিক্ষার্থীরা খারাপ করেছে। পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য। ৫৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। ইংরেজি ও গণিতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ফেল করেছে।
১১ আগস্ট ২০২৬