তারেক রহমান কি দিল্লি আসবেন

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ১৬: ৫০
ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে তারেক রহমান কি দিল্লি যাবেন? ছবি: ইনস্ক্রিপ্ট থেকে নেওয়া

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘিরে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক তৎপরতা এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। শুধু সেপ্টেম্বরের ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ নয়, বাংলাদেশ সরকারের প্রধান হিসেবে আলাদা দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণও পেয়েছেন তিনি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, তারেক রহমানকে একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সফর এবং ব্রিকসের সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রণধীর বলেন, ‘আমরা ব্রিকস আউটরিচ সেশনের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্যও (তারেককে) আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’

প্রশ্নটা এখন শুধু তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে যাবেন কি না, সেখানে আটকে নেই; বরং বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গত দুই বছরে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তারেকের সম্ভাব্য দিল্লি সফর কি সেই সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রথম বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ হতে চলেছে?

এই মুহূর্তে তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিশ্চিত নয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানও জানিয়েছেন, ভারত সফর হলে সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সফর হবে। ঢাকা এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি, কিন্তু দিল্লির পক্ষ থেকে সফরের বিষয়ে আগ্রহ যে যথেষ্ট, তা এখন আর গোপন নেই।

সেপ্টেম্বরের ১২ ও ১৩ তারিখ নয়াদিল্লিতে হতে চলেছে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য নয়। তা হলে তারেক রহমানকে কেন আমন্ত্রণ?

ভারত এবার ব্রিকস সম্মেলনে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠনের নেতৃত্বকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। বাংলাদেশ বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ারম্যান। সেই সূত্রেই তারেক রহমানকে ব্রিকসের সম্মেলন পর্বে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও পরিষ্কার করেছে, এটি বাংলাদেশের ব্রিকস সদস্যপদের আমন্ত্রণ নয়; বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে আঞ্চলিক সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য এই আমন্ত্রণ।

কিন্তু এর পাশাপাশি রয়েছে দ্বিতীয় আমন্ত্রণটি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ফেব্রুয়ারিতেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সেই আমন্ত্রণ এখন আবার সামনে এসেছে। ফলে সেপ্টেম্বরের ব্রিকস সফরকে চাইলে দ্বিপক্ষীয় ভারত সফরের সঙ্গেও যুক্ত করা যায়। ভারতের পক্ষ থেকেও সেই সম্ভাবনার দরজা খোলা রাখা হয়েছে।

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক তৎপরতাও এই প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে অনেকেই দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন করে রাজনৈতিক স্তরে পরিচালনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছেন। ত্রিবেদী এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন এবং তাঁর নিয়োগ এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি।

এবারের বৈঠকে দুই পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে। দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারেক রহমান ও দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের পাশাপাশি বাংলাদেশি তরুণ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। পরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের আবেদন সংশ্লিষ্ট ‘প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া’ মেনেই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ওসমান হাদি হত্যায় অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণের বিষয়টিও আইনি প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত এবং এ নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি। এরপর ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের পাশাপাশি ব্রিকস সম্মেলনেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

দিল্লির বার্তাটি তাই মোটামুটি স্পষ্ট। ভারত বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক যোগাযোগ তৈরি করতে চাইছে। কিন্তু ঢাকার সামনে সমস্যা অন্য জায়গায়।

গত ৫ অগাস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আবার অস্বস্তিকর জায়গায় নিয়ে যায়। বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল কথোপকথনে অংশ নেন এবং ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানান। বাংলাদেশ সরকার এই ঘটনায় তীব্র আপত্তি জানায় এবং শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবিও পুনরায় সামনে আনে।

নয়াদিল্লি জানিয়েছে, শেখ হাসিনার ওই অনুষ্ঠানের আয়োজনের সঙ্গে ভারত সরকার যুক্ত ছিল না এবং তাঁর বক্তব্যকে ভারত সরকার সমর্থনও করে না। কিন্তু শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের প্রশ্নে ভারত এখনো আইনি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করছে। অর্থাৎ হাসিনাকে ঘিরে দুই দেশের অবস্থান পুরোপুরি এক জায়গায় আসেনি।

এই জায়গাতেই তারেক রহমানের দিল্লি সফর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তিনি যদি দিল্লি যান, তার অর্থ এই নয় যে ঢাকা শেখ হাসিনা-সংক্রান্ত প্রশ্নে ভারতের অবস্থান মেনে নিয়েছে। একইভাবে দিল্লিতে তারেকের সঙ্গে বৈঠক মানেই ভারত শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণে বাংলাদেশের দাবি মেনে নিয়েছে—এমনও নয়। এখন দুই দেশ একই সঙ্গে মতপার্থক্য বজায় রেখেও বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে কি না, সেটিই হবে মূল পরীক্ষা।

দুই দেশের সম্পর্কে এখন একাধিক সমস্যা রয়েছে। সীমান্ত, বাণিজ্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, নদীর জল এবং নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই ভারত ও বাংলাদেশের পারস্পরিক নির্ভরতা রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপড়েনের প্রভাব শুধু কূটনৈতিক স্তরে সীমাবদ্ধ থাকে না।

এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি। ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা। তিন দশক ধরে এই চুক্তি দুই দেশের পানি-কূটনীতির অন্যতম ভিত্তি। এখন নতুন করে চুক্তি বা তার পরবর্তী ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন।

এর সঙ্গে রয়েছে তিস্তা প্রশ্ন। বহু বছর ধরে তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে দুই দেশের আলোচনা এগোলেও চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। বাংলাদেশের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রশ্ন। ভারতের দিক থেকেও পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান এই আলোচনাকে জটিল করে রেখেছে।

তারেক রহমানের দিল্লি সফর হলে এই বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলে আসার সম্ভাবনা থাকবে। তবে একটি শীর্ষ বৈঠকেই দীর্ঘদিনের সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, এমন প্রত্যাশাও বাস্তবসম্মত নয়।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ভারতের সঙ্গে স্থল ও নদীপথের যোগাযোগ, সীমান্ত বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক সংযোগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। আবার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে রেল, সড়ক, নদীপথ ও বন্দর ব্যবহারের বিষয়টি বৃহত্তর আঞ্চলিক অর্থনীতির সঙ্গেও যুক্ত।

দিল্লির বার্তাটি তাই মোটামুটি স্পষ্ট। ভারত বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক যোগাযোগ তৈরি করতে চাইছে। কিন্তু ঢাকার সামনে সমস্যা অন্য জায়গায়।

এই কারণে বাংলাদেশের পক্ষে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি দূরে সরিয়ে রাখা কঠিন। আবার তারেক রহমানের সরকারের পক্ষেও শুধু ভারতের ওপর নির্ভর করে বিদেশনীতি পরিচালনা করার প্রশ্ন নেই।

তারেক সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ইতোমধ্যে বহুমুখী যোগাযোগের দিকে এগোচ্ছে। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কও সক্রিয় হয়েছে। জুনে তারেক রহমান চীন সফর করেন এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। দুই দেশের মধ্যে একাধিক সমঝোতা ও সহযোগিতার বিষয় সামনে আসে। এর পাশাপাশি আমেরিকা, মালয়েশিয়া এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গেও ঢাকা যোগাযোগ বাড়াচ্ছে।

শেখ হাসিনার আমলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের একটি বিশেষ রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পুরোনো রাজনৈতিক সমীকরণ আর নেই। নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো, সেই কাঠামো থেকে বেরিয়ে একটি নতুন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক তৈরি করা, যেখানে দুই দেশের রাষ্ট্রীয় স্বার্থ এবং পারস্পরিক প্রয়োজনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। ঢাকার নতুন সরকারের সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক যোগাযোগ তৈরি করা দিল্লির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। দীনেশ ত্রিবেদীর নিয়োগ এবং তারেক রহমানকে বারবার সফরের আমন্ত্রণ সেই প্রক্রিয়ার অংশ বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

এখন প্রশ্ন, তারেক রহমান কি শেষ পর্যন্ত দিল্লি যাবেন? এই মুহূর্তে নিশ্চিত উত্তর নেই। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন, সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, ঢাকা ব্রিকসের মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চের চেয়ে ভারত-বাংলাদেশের সরাসরি দ্বিপক্ষীয় আলোচনাকে বেশি গুরুত্ব দিতে পারে।

আরও একটি বিষয় বিবেচনায় রয়েছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি। ভারত সফরকে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি কীভাবে ব্যবহার করবে, তা তারেক সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতকে ঘিরে নানা ধরনের বিতর্ক রয়েছে। ফলে তারেক যদি দিল্লি যান, তাঁকে একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বার্তাটিও সামলাতে হবে।

তবে দিল্লি সফর না করলেও সমস্যাগুলো থেকে যাবে। ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী; সীমান্ত, নদী, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা বা যোগাযোগের মতো বিষয়কে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়িয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন, ঢাকা কোনো একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে গিয়ে অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় না। জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়াই তাদের লক্ষ্য।

ঢাকায় নিযুক্ত নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যেও সম্পর্ক মেরামতের বার্তা স্পষ্ট। ২৯ জুলাই ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ত্রিবেদী। তিনি বলেন, ‘এমন কোনো ইস্যু নেই যা সমাধান সম্ভব নয়’ এবং তারেক রহমান ভারত সফর করলে বিষয়গুলো ‘প্রক্রিয়াগতভাবে এগিয়ে যাবে’। একই বক্তব্যে তিনি তিস্তা ও গঙ্গার পানিবণ্টন বিষয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাজ করছে বলেও জানান।

অতএব, তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরকে শুধু একটি ব্রিকস সফর হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটি ধরা পড়বে না। ব্রিকস এখানে একটি কূটনৈতিক মঞ্চ, কিন্তু আসল বিষয় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক।

তবে একদিকে শেখ হাসিনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে ভারত প্রকাশ্যে নতুন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর বার্তা দিচ্ছে। ঢাকা আবার একদিকে হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইছে, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তাও স্বীকার করছে। এই জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই তারেক রহমানকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তারেক রহমান যদি সেপ্টেম্বরে দিল্লি যান, তাহলে সেটি হতে পারে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন রাজনৈতিক ভিত্তিতে নিয়ে যাওয়ার প্রথম বড় পদক্ষেপ। বৈঠকে সব সমস্যার সমাধান হবে না, কিন্তু আলোচনা শুরু করার জন্য রাজনৈতিক স্তরের সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হবে। আর যদি তিনি না যান, তা হলে তার কারণ হিসেবে শুধু শেখ হাসিনা-সংক্রান্ত ক্ষোভকে দেখা যথেষ্ট হবে না। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, দ্বিপক্ষীয় ইস্যু সবকিছুকেই বিবেচনায় রাখতে হবে।

তারেক রহমানের জন্য দিল্লির দরজা খোলা আছে বলেই মনে হচ্ছে। বাংলাদেশও দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেনি। আলোচনার ভাষা বদলেছে—‘সম্পর্কের পুনর্গঠন’, ‘সার্বভৌম সমতা’, ‘পারস্পরিক স্বার্থ’ এবং ‘অস্বস্তির জায়গাগুলির সমাধান’ এখন দুই দেশের কথোপকথনের গুরুত্বপূর্ণ শব্দ।

বাংলাদেশ- ভারতের সম্পর্ক কোন পথে যাবে, তার উত্তর শুধু সেপ্টেম্বরের ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের উপস্থিতি দিয়ে নির্ধারিত হবে না। তারপরে গঙ্গার পানিবণ্টন, তিস্তা, সীমান্ত, বাণিজ্য, যোগাযোগ, নিরাপত্তা এবং শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের মতো বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশ কতটা নিয়মিত ও বাস্তবভিত্তিক আলোচনা করতে পারে, সেটিই হবে আসল পরীক্ষা।

  • তনভিয়া বড়ুয়া: ভারতীয় লেখক ও রাজনীতি বিশ্লেষক
Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত