জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

‘আজাদি’র প্রতিধ্বনি: জেএনইউ ও ভারতের রাজনীতি

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক
ঢাকা

ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে উপাচার্যের মন্তব্যের প্রতিবাদে জেএনইউ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে ‘লং মার্চ’ হয়। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজনীতিতে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় বা জেএনইউ একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বয়ান। কেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আন্দোলন নিয়ে এতটা উদ্বিগ্ন থাকেন? এর পেছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক, কৌশলগত এবং আদর্শিক কারণ। জেএনইউ-কে বলা হয় ভারতের 'বুদ্ধিবৃত্তিক রাজধানী'। ভারতের শাসনব্যবস্থা যারা পরিচালনাকারী আমলা এবং রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণকারীদের একটি বড় অংশ এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রাক্তন ছাত্র।

দহন ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপট

ভারতের রাজধানী দিল্লির দক্ষিণ প্রান্তের পাথুরে জমি আর ঘন সবুজে ঘেরা জেএনইউ ক্যাম্পাস গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পরিণত হয়েছে এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরিতে। এই অস্থিরতার মূলে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য শান্তিশ্রী ধুলিপুড়ি পণ্ডিতের একটি মন্তব্য। সেই মন্তব্য ভারতের কয়েক হাজার বছরের পুরনো ‘জাতপাত’ বা সামাজিক বৈষম্যের ক্ষতে নতুন করে নুন ছিটিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনা এখন ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো, বাকস্বাধীনতা এবং জাত-পাত-ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে এক দীর্ঘ সংঘাতের নতুন অধ্যায় উন্মুক্ত করবে কি না, তা এখন বড় দেখার বিষয়।

একটি বিতর্কিত মন্তব্য ও ‘ভিক্টিম কার্ড’ বিতর্ক

ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মাঝামাঝি সময়ে একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে উপাচার্য শান্তিশ্রী পণ্ডিতের একটি মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। তিনি বলেছিলেন, ভারতের দলিত ও প্রান্তিক সমাজের মানুষেরা কেবল ‘ভিক্টিম কার্ড’ ব্যবহার করে কিন্তু নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারে না। তাদের উচিত মেধার ওপর জোর দেওয়া।

ভারতে ‘দলিত’ বা নিম্নবর্ণের মানুষেরা ঐতিহাসিকভাবেই বর্ণপ্রথার কারণে অস্পৃশ্য এবং বঞ্চিত। সংবিধানে তাদের জন্য ‘সংরক্ষণ’ বা কোটার ব্যবস্থা থাকলেও বাস্তবে তারা প্রতিনিয়ত বৈষম্যের শিকার হন। যখন একজন নারী উপাচার্য এমন কথা বলেন, তখন তা প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের কাছে এক চরম অবমাননা হিসেবে দেখা দেয়। শিক্ষার্থীদের মতে, এটি ব্যক্তিগত মতামত নয়, বরং ভারতের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর সেই ‘মনুবাদী’ (প্রাচীন কট্টর হিন্দু আইন অনুযায়ী উচ্চবর্ণের শ্রেষ্ঠত্ববাদ) উচ্চবর্ণীয় মানসিকতারই প্রতিফলন। তারা মনে করছেন, সরকার জেএনইউ-র মতো প্রতিষ্ঠানে এই ভাবনা জোর করে চাপিয়ে দিতে চাইছে।

ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মাঝামাঝি সময়ে একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে উপাচার্য শান্তিশ্রী পণ্ডিতের একটি মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। তিনি বলেছিলেন, ভারতের দলিত ও প্রান্তিক সমাজের মানুষেরা কেবল ‘ভিক্টিম কার্ড’ ব্যবহার করে কিন্তু নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারে না। তাদের উচিত মেধার ওপর জোর দেওয়া।

‘আজাদি’ শব্দে দিল্লি কাঁপে?

ভারতজুড়ে জেএনইউ মানেই ‘আজাদি’। তবে জেএনইউ-র প্রাঙ্গণে এই শব্দটির একটি ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যঞ্জনা রয়েছে। ২০১৬ সালে কানহাইয়া কুমারের হাত ধরে এই স্লোগানটি ভারতের ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিল। জেএনইউ-র ছাত্ররা যখন ‘আজাদি’ বলে শ্লোগান দেয়, তখন তারা ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা বলে না। তাদের স্লোগানের প্রতিটি চরণে থাকে— ‘ভুখমারি সে আজাদি’ (ক্ষুধা থেকে মুক্তি), ‘জাতপাত সে আজাদি’ (বর্ণপ্রথা থেকে মুক্তি), ‘পিতৃসত্তা সে আজাদি’ (পুরুষতন্ত্র থেকে মুক্তি)।

কিন্তু বর্তমান ভারতের দক্ষিণপন্থী রাজনীতিতে এই ‘আজাদি’ শব্দটিকে ‘দেশদ্রোহিতা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শাসক দল বিজেপির মতে, এই স্লোগান দেওয়া মানেই ভারতকে টুকরো করার ষড়যন্ত্র। ফলে, সাম্প্রতিক আন্দোলনে যখন ছাত্ররা উপাচার্যের মন্তব্যের বিরুদ্ধে আবারও ‘আজাদি’ স্লোগান তুলল, তখন পরিস্থিতি হয়ে উঠল চরম নাটকীয়।

'টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং' ও জাতীয় নিরাপত্তার বয়ান

২০১৬ সালের সেই বিখ্যাত 'আজাদি' স্লোগানের পর থেকে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জেএনইউ-কে সরাসরি 'জাতীয় নিরাপত্তা'র চশমায় দেখতে শুরু করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিকবার জনসভায় জেএনইউ-র আন্দোলনকারীদের ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’ বলে অভিহিত করেছেন। মানে, এরা ভারতকে খণ্ডবিখণ্ড করতে চায়। বর্তমান বিজেপি সরকার মনে করে, জেএনইউ-র বামপন্থী এবং উদারপন্থী শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন এক চিন্তাধারা ঢুকিয়ে দিচ্ছেন যা তাদের ‘হিন্দুত্ববাদী' জাতীয়তাবাদের সরাসরি বিরোধী।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জেএনইউ-র ছোট কোনো বিক্ষোভকেও যখন প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো উচ্চপদস্থ ব্যক্তিত্বরা জাতীয় নিরাপত্তার চশমায় দেখেন, তখন তা কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয় থাকে না। তা হয়ে ওঠে একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক বয়ান তৈরির প্রচেষ্টা। তারা বোঝাতে চান যে, এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ‘এলিট’ এবং ‘দেশবিরোধী’ চিন্তার আখড়া, যা সাধারণ ভারতীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী।

সরকারের ভয় হলো, জেএনইউ-র এই প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর যদি কাশ্মীর বা ছত্তিশগড়ের মাওবাদী আন্দোলনের সাথে তাত্ত্বিকভাবে মিলে যায়, তবে তা দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হতে পারে। তাই ছোট একটি ছাত্র বিক্ষোভকেও ভারতের মতো বিশাল রাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দমনের চেষ্টা করে।

জেএনইউএসইউ সভাপতি অদিতি মিশ্রসহ ১৪ জন শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মিছিল। ছবি: সংগৃহীত
জেএনইউএসইউ সভাপতি অদিতি মিশ্রসহ ১৪ জন শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মিছিল। ছবি: সংগৃহীত

গ্লোবাল ইমেজ ও ইমেজে সংকট

জেএনইউ-র ছাত্রদের বিশ্বজুড়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। যখনই কোনো ছাত্রনেতাকে গ্রেপ্তার করা হয় বা ক্যাম্পাসে পুলিশ ঢোকে, তখন নিউ ইয়র্ক টাইমস, বিবিসি বা আল জাজিরার মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো একে ‘ভারতে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ’ হিসেবে প্রচার করে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন বিদেশে যান এবং ভারতের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের কথা বলেন, তখন জেএনইউ-র আন্দোলন এবং সেখানকার দমন-পীড়নের খবর তাঁর সেই ভাবমূর্তিতে আঘাত করে। এই 'ইমেজ ক্রাইসিস' এড়াতেই সরকার সবসময় জেএনইউ-র ওপর কড়া নজর রাখে।

সরকার জানে যে, জেএনইউ-র ছাত্র আন্দোলন থেকে আসা নেতা ভবিষ্যতে মোদী বা শাহ-র জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারেন। তাই আন্দোলনের অঙ্কুরেই বিনাশ করা সরকারের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ।

মেরুকরণ ও আদর্শিক যুদ্ধ

জেএনইউ-র ছাত্ররা যখন ‘জাতপাত সে আজাদি’ বা ‘মনুবাদ সে আজাদি’ বলে, সরকার তাকে ‘ভারত সে আজাদি’ (ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া) হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরে। এটি সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক অস্ত্র। গ্রামীণ ভারতের সাধারণ ভোটারদের কাছে জেএনইউ-কে একটি 'ভিলেন' হিসেবে উপস্থাপন করলে সরকারের প্রতি দেশপ্রেমী মানুষের সমর্থন বাড়ে। অর্থাৎ, জেএনইউ-র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সরকার আসলে মেরুকরণ তৈরি করে যা নির্বাচনে তাদের ভোট পেতে সাহায্য করে।

জেএনইউ-র আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্বেগের কারণটি শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ব্যাপার নয়। এটি একটি আদর্শিক যুদ্ধ। সরকার চায় না ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী মেধাসম্পন্ন ক্যাম্পাসে তাদের বিরোধী কোনো কণ্ঠস্বর মাথাচাড়া দিয়ে উঠুক। অন্যদিকে, জেএনইউ-র ছাত্ররা নিজেদেরকে ভারতের 'গণতন্ত্রের পাহারাদার' হিসেবে মনে করে। এই দুই শক্তির সংঘাতই দিল্লির রাজনীতিকে সারাবছর উত্তপ্ত করে রাখে।

বাম বনাম এবিভিপি: আদর্শের রণক্ষেত্র

১৯৬৯ সালে যখন এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন এর লক্ষ্য ছিল এমন এক গবেষণাধর্মী পরিবেশ তৈরি করা যেখানে ভারতের সবচেয়ে দরিদ্র ও প্রান্তিক ছাত্রটি পড়ার সুযোগ পাবে। এখানে হস্টেলগুলোর নাম রাখা হয়েছে ভারতের নদীগুলোর নামে— গঙ্গা, যমুনা, ঝিলাম বা নর্মদা। এই নদীগুলোর মতোই এখানে বয়ে চলে তর্কের স্রোত। এখানকার দেওয়ালে দেওয়ালে আঁকা থাকে কার্ল মার্ক্স থেকে শুরু করে পাবলো নেরুদা বা ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের কবিতা।

জেএনইউ-র ছাত্র ইউনিয়ন ঐতিহাসিকভাবেই বামপন্থী ভাবধারায় পুষ্ট। এখানকার ছাত্ররা রাত দুটোয় লাইব্রেরির সামনে চা খেতে খেতে বিশ্ব রাজনীতি থেকে শুরু করে কবিতার ব্যবচ্ছেদ করে। এই ‘প্রশ্ন করার সংস্কৃতি’ই জেএনইউ-কে ভারতের শাসকদের কাছে সবসময় এক অস্বস্তির কারণ করে তুলেছে।

জেএনইউ-র রাজনীতি মূলত দুটি মেরুতে বিভক্ত। একদিকে রয়েছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো, যারা মনে করে শিক্ষা সবার অধিকার এবং সরকারকে সবসময় প্রশ্ন করতে হবে। অন্যদিকে রয়েছে আরএসএস-পন্থী ছাত্র সংগঠন এবিভিপি, যারা বর্তমান মোদী সরকারের ‘হিন্দুত্ববাদী’ জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। বিগত এক দশকে জেএনইউ-তে এবিভিপি-র প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

জেএনইউ-র রাজনীতি মূলত দুটি মেরুতে বিভক্ত। একদিকে রয়েছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো, যারা মনে করে শিক্ষা সবার অধিকার এবং সরকারকে সবসময় প্রশ্ন করতে হবে। অন্যদিকে রয়েছে আরএসএস-পন্থী ছাত্র সংগঠন এবিভিপি, যারা বর্তমান মোদী সরকারের ‘হিন্দুত্ববাদী’ জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। বিগত এক দশকে জেএনইউ-তে এবিভিপি-র প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বর্তমান আন্দোলনেও এবিভিপি-র ভূমিকা ছিল আক্রমণাত্মক। তারা উপাচার্যের মন্তব্যকে সরাসরি ভুল না বললেও, বামপন্থীদের প্রতিবাদ পদ্ধতিকে ‘অরাজকতা’ বলছে। তাদের দাবি, বামপন্থীরা লাইব্রেরির ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেমের মতো আধুনিক প্রযুক্তির বিরোধিতা করে বিশ্ববিদ্যালয়কে পিছিয়ে দিচ্ছে। এই দুই পক্ষের সংঘাত আসলে আজকের ভারতেরই ক্ষুদ্র সংস্করণ—একদিকে উদারপন্থা, অন্যদিকে কট্টর জাতীয়তাবাদ।

কেন এটি জাতীয় রাজনীতিতে এত গুরুত্বপূর্ণ? এর কারণ হলো জেএনইউ ভারতের ‘বৌদ্ধিক রাজধানী’। ভারতের বর্তমান অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর—সবাই এই ক্যাম্পাসেরই ফসল। আবার বিরোধী শিবিরের অন্যতম মুখ কানহাইয়া কুমার বা উমর খালিদও এখান থেকেই উঠে আসা। ভারতে যখনই কোনো বড় নীতি (যেমন- নাগরিকত্ব আইন বা শিক্ষা নীতি) আসে, তার প্রথম এবং সবচেয়ে জোরালো প্রতিবাদটি আসে এই জেএনইউ থেকে। তাই শাসকরা মনে করেন, জেএনইউ-কে দমানো গেলে ভারতের সব বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমানো সহজ হবে।

‘লং মার্চ’ ও জেল জীবনের পাঁচ দিন

ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে উপাচার্যের মন্তব্যের প্রতিবাদে জেএনইউ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে ‘লং মার্চ’ শুরু হয়। দিল্লি পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তা আটকে দেয়। পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হন অনেক ছাত্র। জেএনইউএসইউ সভাপতি অদিতি মিশ্রসহ ১৪ জন শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় তিহার জেলে।

তিহার জেলের দিনগুলো ছিল ছাত্রদের জন্য এক নতুন লড়াই। তাদের ওপর অভিযোগ ছিল—তারা সরকারি কাজে বাধা দিয়েছে এবং ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান দিয়েছে। কিন্তু শেষমেশ আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করে। গত ২ মার্চ যখন এই ছাত্রনেতারা জেল থেকে ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন, তখন তাদের বীরোচিত সংবর্ধনা দেওয়া হয়। হাজার হাজার মশাল আর ডাফলি-র তালে তালে প্রতিধ্বনিত হয় সেই ‘আজাদি’ স্লোগান।

বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি যখন এখন অনেকটাই পেশিশক্তি নির্ভর, তখন জেএনইউ-তে লড়াইটা এখনও মূলত আদর্শের। প্রতিটি স্লোগান, দেওয়াল লিখন বা মিছিলে থাকে গভীর রাজনৈতিক দর্শন। শান্তিশ্রী ধুলিপুড়ি পণ্ডিতের একটি মন্তব্য আজ কেবল একটি বিতর্কের বিষয় নয়। এই বিতর্কের সঙ্গে ভারতের আগামীর রাজনৈতিক দিশা সম্পর্কিত। ২০২৬ সালের এই উত্তাল পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে ভারতের রাজনীতিতে এখন ‘জাতপাত’ এবং ‘সামাজিক ন্যায়বিচার’ সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হতে যাচ্ছে। জেএনইউ-র দেওয়ালগুলো হয়ে উঠেছে ভারতের দলিত অধিকার, বাকস্বাধীনতা এবং প্রগতিশীল চেতনার এক অলিখিত ইশতেহার।

সম্পর্কিত