লেখা:

বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় এক লাখ কর্মী পাঠানোর যে প্রস্তাব ঢাকা দিয়েছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রাশিয়ায় বর্তমানে যুদ্ধ চলছে এবং সেখানে কোনো স্থিতিশীলতা নেই। আমরা ইতোমধ্যে দেখেছি, কাজের কথা বলে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়ে তাদের অনেককে যুদ্ধক্ষেত্রে ফ্রন্টলাইনে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং অনেকেই প্রাণ হারাচ্ছেন। আগে থেকে অবস্থান করা কর্মীদেরই যেখানে কাজের নিশ্চয়তা বা নিরাপত্তা নেই, সেখানে নতুন করে এক লাখ কর্মী পাঠানোর প্রস্তাব কতটা যৌক্তিক? নতুন করে যারা যাবেন, তাদের যে ঝুঁকিপূর্ণ বা যুদ্ধকেন্দ্রিক কোনো কাজে লাগানো হবে না—সেই নিশ্চয়তা আমরা কীভাবে পাব?
সরকারি পর্যায়ে কোনো সফর শেষে বা গণমাধ্যমে যখনই ঢালাওভাবে প্রচার করা হয় যে, ‘অমুক দেশ লাখ লাখ কর্মী নেবে’, তখন তা প্রকৃত কর্মসংস্থানকে উৎসাহিত করার চেয়ে মানবপাচারকারী ও প্রতারক চক্রকেই বেশি সুযোগ করে দেয়। যেকোনো দেশে নতুন কর্মী নিয়োগের আলোচনা বা ঘোষণা অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট হওয়া উচিত। কোন খাতে, কারা, কী প্রক্রিয়ায় যাবেন—তা স্পষ্ট না করে খবর প্রকাশ করলে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো ‘ফ্রি ভিসা’ বা অন্য কোনো প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া শুরু করে।
বর্তমানে যখন সমুদ্রপথে ইউরোপে বা যুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশি পাচার হওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে, তখন সরকারি দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যম—উভয়কেই এসব তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে চরম সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, রাশিয়ায় আসলেই এক লাখ কর্মীর প্রয়োজন আছে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। বর্তমানে কাজের নাম করে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে যেভাবে প্রবাসীদের যুদ্ধে জড়ানো হচ্ছে, তা আন্তর্জাতিকভাবেও সমালোচিত। আমার জানামতে, বর্তমানে রাশিয়ায় নির্মাণ ও সেবা খাতে আনুমানিক দশ হাজার বাংলাদেশি কাজ করছেন। আগামী ১৫-২০ বছরেও এই সংখ্যা এক লাখে উন্নীত হওয়ার কোনো বাস্তব সুযোগ আমি দেখি না। তাই বিদেশ গমনেচ্ছুদের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ, তারা যেন এই মুহূর্তে রাশিয়ায় যাওয়ার কথা বলে প্রতারক চক্রকে কোনো টাকা-পয়সা না দেন।
যে এক লাখ কর্মী নিয়োগের কথা বলা হচ্ছে তা সরকারিভাবে হবে কি না এখনো স্পষ্ট নয়। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বলে, বড় বাজারগুলোতে (যেমন: মালয়েশিয়া) সরকারিভাবে কর্মী নিয়োগের ফলাফল খুব একটা সন্তোষজনক হয়নি। সরকারি একমাত্র রিক্রুটিং এজেন্সি ‘বোয়েসেল’-এর মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর হারও বেশ কম। যেখানে বেসরকারি এজেন্সিগুলো বছরে ১০-১২ লাখ কর্মী পাঠায়, সেখানে বোয়েসেল তাদের দীর্ঘ ইতিহাসেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী পাঠাতে পারেনি।
তাই কোন প্রক্রিয়ায়, কোন খাতে কর্মী যাবে—পুরো বিষয়টি আগে সরকারের সুনির্দিষ্ট করা উচিত। এমন কোনো অসম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা উচিত নয়, যা সাধারণ মানুষের প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
পরিশেষে বলব, আমাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। ঢালাওভাবে কর্মী না পাঠিয়ে, প্রথমে ৫০ বা ১০০ জন কর্মী পাঠিয়ে তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তারা সেখানে নিরাপদে আছেন কি না এবং চুক্তিমতো কাজ পাচ্ছেন কি না, তার ওপর ভিত্তি করেই ধাপে ধাপে আরও কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। চুক্তির আগে আমাদের যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করতে হবে যেন কোনো বাংলাদেশি কর্মী যুদ্ধ বা যুদ্ধকেন্দ্রিক কোনো কাজে জড়িয়ে না পড়েন।
শরিফুল হাসান: ব্র্যাক-এর মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান

বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় এক লাখ কর্মী পাঠানোর যে প্রস্তাব ঢাকা দিয়েছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রাশিয়ায় বর্তমানে যুদ্ধ চলছে এবং সেখানে কোনো স্থিতিশীলতা নেই। আমরা ইতোমধ্যে দেখেছি, কাজের কথা বলে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়ে তাদের অনেককে যুদ্ধক্ষেত্রে ফ্রন্টলাইনে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং অনেকেই প্রাণ হারাচ্ছেন। আগে থেকে অবস্থান করা কর্মীদেরই যেখানে কাজের নিশ্চয়তা বা নিরাপত্তা নেই, সেখানে নতুন করে এক লাখ কর্মী পাঠানোর প্রস্তাব কতটা যৌক্তিক? নতুন করে যারা যাবেন, তাদের যে ঝুঁকিপূর্ণ বা যুদ্ধকেন্দ্রিক কোনো কাজে লাগানো হবে না—সেই নিশ্চয়তা আমরা কীভাবে পাব?
সরকারি পর্যায়ে কোনো সফর শেষে বা গণমাধ্যমে যখনই ঢালাওভাবে প্রচার করা হয় যে, ‘অমুক দেশ লাখ লাখ কর্মী নেবে’, তখন তা প্রকৃত কর্মসংস্থানকে উৎসাহিত করার চেয়ে মানবপাচারকারী ও প্রতারক চক্রকেই বেশি সুযোগ করে দেয়। যেকোনো দেশে নতুন কর্মী নিয়োগের আলোচনা বা ঘোষণা অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট হওয়া উচিত। কোন খাতে, কারা, কী প্রক্রিয়ায় যাবেন—তা স্পষ্ট না করে খবর প্রকাশ করলে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো ‘ফ্রি ভিসা’ বা অন্য কোনো প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া শুরু করে।
বর্তমানে যখন সমুদ্রপথে ইউরোপে বা যুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশি পাচার হওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে, তখন সরকারি দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যম—উভয়কেই এসব তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে চরম সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, রাশিয়ায় আসলেই এক লাখ কর্মীর প্রয়োজন আছে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। বর্তমানে কাজের নাম করে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে যেভাবে প্রবাসীদের যুদ্ধে জড়ানো হচ্ছে, তা আন্তর্জাতিকভাবেও সমালোচিত। আমার জানামতে, বর্তমানে রাশিয়ায় নির্মাণ ও সেবা খাতে আনুমানিক দশ হাজার বাংলাদেশি কাজ করছেন। আগামী ১৫-২০ বছরেও এই সংখ্যা এক লাখে উন্নীত হওয়ার কোনো বাস্তব সুযোগ আমি দেখি না। তাই বিদেশ গমনেচ্ছুদের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ, তারা যেন এই মুহূর্তে রাশিয়ায় যাওয়ার কথা বলে প্রতারক চক্রকে কোনো টাকা-পয়সা না দেন।
যে এক লাখ কর্মী নিয়োগের কথা বলা হচ্ছে তা সরকারিভাবে হবে কি না এখনো স্পষ্ট নয়। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বলে, বড় বাজারগুলোতে (যেমন: মালয়েশিয়া) সরকারিভাবে কর্মী নিয়োগের ফলাফল খুব একটা সন্তোষজনক হয়নি। সরকারি একমাত্র রিক্রুটিং এজেন্সি ‘বোয়েসেল’-এর মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর হারও বেশ কম। যেখানে বেসরকারি এজেন্সিগুলো বছরে ১০-১২ লাখ কর্মী পাঠায়, সেখানে বোয়েসেল তাদের দীর্ঘ ইতিহাসেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী পাঠাতে পারেনি।
তাই কোন প্রক্রিয়ায়, কোন খাতে কর্মী যাবে—পুরো বিষয়টি আগে সরকারের সুনির্দিষ্ট করা উচিত। এমন কোনো অসম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা উচিত নয়, যা সাধারণ মানুষের প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
পরিশেষে বলব, আমাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। ঢালাওভাবে কর্মী না পাঠিয়ে, প্রথমে ৫০ বা ১০০ জন কর্মী পাঠিয়ে তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তারা সেখানে নিরাপদে আছেন কি না এবং চুক্তিমতো কাজ পাচ্ছেন কি না, তার ওপর ভিত্তি করেই ধাপে ধাপে আরও কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। চুক্তির আগে আমাদের যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করতে হবে যেন কোনো বাংলাদেশি কর্মী যুদ্ধ বা যুদ্ধকেন্দ্রিক কোনো কাজে জড়িয়ে না পড়েন।
শরিফুল হাসান: ব্র্যাক-এর মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক কথিত বাংলাদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দেওয়া বা ‘পুশইন’-কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পুশইন নিয়ে বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও ভারত একটি চিঠিরও জবাব দেয়নি।
২ ঘণ্টা আগে
সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বিএনপি সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কাজের ওপর একটি পর্যবেক্ষণমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে মানবাধিকার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বেশ কিছু উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।
৩ ঘণ্টা আগে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিশ্চিতভাবেই বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি হতে যাচ্ছে। এটি আমাদের দেশের প্রতিটি পুরুষ, নারী ও শিশুর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলবে। এআই আমাদের অর্থনীতি, আমাদের গণতন্ত্র, আমাদের মানসিক সুস্থতা, আমাদের পরিবেশ এবং আমাদের শিশু-সন্তানদের শিক্ষা-দীক্ষায় বড় করে তোলার প্
৪ ঘণ্টা আগে
সরকার ও সংশ্লিষ্টদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে যেন আমাদের কর্মীদের কোনোভাবেই জোরপূর্বক বা প্রতারণার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে বা যুদ্ধে সম্পৃক্ত করা না হয়। কর্মীদের শোভন কর্মপরিবেশ এবং জীবনের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই তাদের পাঠাতে হবে।
৪ ঘণ্টা আগে