ফুটনোট
অপূর্ব জাহাঙ্গীর

যা বুঝলাম তা হলো, বহুবছর ধরে বাংলায় লেখাটা আমার আওতার বাইরেই চলে গেছে। আর সে কারণেই ইফতেখার মাহমুদ ভাইকে লেখা নিয়ে এত ঘুরানো। তাই আগেই স্ট্রিমের কাছে ক্ষমা চেয়ে শুরু করছি।
ফুটনোটের যাত্রা শুরু যখন আমি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ি। আমার পরিবারের একটা কড়া নিয়ম ছিল যে ‘যাহা পড়িবে, যাহা দেখিবে তাহা নিয়েই লিখিবে’। নয়তো ‘নো টেলিভিশন’, তখন বালক অপূর্বর কাছে Friday Morning Cartoons-এর মূল্য অন্য সব কিছুর চেয়ে বেশি। তো এই নিয়মগুলো মানতে আমি তখন বাধ্য। সেগুলোই একটা সময় ‘টইটম্বুর’-এ জায়গা পায়, এবং বহু বছর পর ‘দৈনিক আজাদি’তে।
তখন বুঝিনি ব্যাপারটা কী ঘটবে, কিন্তু পরে দেখলাম তখনকার সময়ের একটা প্রতিচ্ছবি পাওয়া যায়। কী ছিল, কী দেখতাম, কী বুঝতাম, কী মনে হতো। যেমন, ধরুন কে জানত সুকুমার রায়, ফেলুদার পাশাপাশি নায়ক জসীমের ভূমিকা, ২০০৪-এর হরতালের আনন্দ, শুক্রবারের বাংলা সিনেমা, টাইফয়েড, সুনীলের ‘প্রথম আলো’, প্রথম ‘রাত ভর বৃষ্টি’ পড়া। অত্যন্ত জগাখিচুড়ি মার্কা একটি বাল্যকালকে গুছিয়ে আনতে সাহায্য করেছিল ফুটনোট।
বেশ কিছু বছর লেখা বন্ধ ছিল। আবার শুরু করলাম। কারণ এখন আমরা সবাই একটা নতুন কালে আছি। সেই সময়ের সূচনাকে খুব সামনাসামনি থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। আর এখনও খুব কাছাকাছি বসেই দেখতে পাচ্ছি। আমি মনে করি এসব রেকর্ডেড থাকা উচিত। কে জানে, কারো যদি ৫০ বছর পর কাজে লেগে যায়।
আরও একটি কারণ আছে।
আমার মা চান আমি আবার বাংলায় লিখি। মায়ের কথা বড় দাগে আমি রাখার চেষ্টা করি। অনেকেই জানেন না, আমার পরিবারের সবচেয়ে ভাল লেখক আমার মা। তার এই প্রতিভা পিআইবি এবং আমার স্কুলের বাংলা ও সমাজ নোটের বাইরে পৌঁছাতে পেরেছে কিনা আমি জানি না। কিন্তু পৌঁছানো উচিত ছিল।
বহু বছর ধরে আমি আমার মাকে পটানোর চেষ্টা করছি যাতে তিনি একটা আত্মজীবনী লেখেন। আমি ধারণা করি, আমার মা একটা আত্মজীবনী লিখলে বাংলাদেশের এস্টাবলিশমেন্ট বলতে আমরা যাদের বুঝি, তাঁদের সবার গদি নড়ে যেতে পারে। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশের ৭১-পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সত্যিকার ইতিহাসটা উঠে আসতে বাধ্য; একই সঙ্গে সেই সময়ের হিপক্রেটরাও।
মা রাজি নন। আজ যে লেখাটা লিখছি তা আমার মাকে পটানোর ক্যাম্পেইনের একটি অংশ বলতে পারেন। আমি যখন বাংলায় লিখি তিনি তখন আমার সবচেয়ে বড় ক্রিটিক হিসাবে আবর্তিত হন। তাঁর ভেতরের লেখক-সত্তা জেগে ওঠে। সেটাই আপাতত চাচ্ছি।
আমি যখন ফুটনোট লিখতাম তখন দেশে বাক-স্বাধীনতা ছিল না। তাই অনেক ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে ডানে-বামে গিয়ে অনেক কিছু লিখতে হতো। এখন আশা করি, সেটি করতে হবে না।
গত ১৮ মাসে বহু চড়াই-উতরাই পার হয়ে এখন আমি বলতে পারেন মোটামুটি বেকার জীবনযাপনই করছি। কথাটা আসলে ঠিক না। কিন্তু যা যা করছি তাতে কোনো বাধা ধরা সময় নেই। তাই বাংলাদেশি পরিবারের সন্তান হয়ে ৯টা-৫টা যেহেতু করতে হচ্ছে না, তাই অবচেতনভাবে নিজেকে কোনো না কোনোভাবে একটু বেকারই মনে হচ্ছে। সেই মনে হওয়াটা আগেও হতো যখন বহু বছর আগে নিজের সংস্থা শুরু করেছিলাম, ভবিষ্যতেও হবে যা বুঝছি। এর থেকে আর রেহাই নেই।
আবার লেখার কথায় ফিরে আসি। আজকাল প্রচুর মানুষ লিখছে। বেশির ভাগই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। যারা লিখছেন তাঁদের মধ্যে অনেকে আমার বন্ধুসুলভও। আগে ফেসবুকে এক-দুই প্যারাগ্রাফে মানুষের এনালিসিস শেষ হয়ে যেত। যত দিন যাচ্ছে তত দেখছি ওয়ার্ড কাউন্ট বেড়েই যাচ্ছে। সবার পেটের ভেতর যে এত কথা আছে তা আগে বোঝা যায় নি।
কিন্তু কে পড়ছে, পড়ে কী বুঝছে, সেটা বোঝা যাচ্ছে না। বোঝা যাচ্ছে না কে কতটুকু বুঝে বলছে, কতটুকু সত্য বলছে। যা বোঝা যাচ্ছে তা হলো শুধু আওয়াজ। সকাল ৯টার বাসের হর্নের মতো। প্রচুর চিল্লাচিল্লি!
এটাই মনে হয় গণতন্ত্র। বেশ। সবাই লিখুক। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে যাদের লেখা উচিত তারা লিখছে না— আমার মায়ের মতো। যারা আমার মাকে চেনেন সবাই তাঁকে ইনবক্স করবেন, তিনি যেন লেখেন। দেশটা এমন জায়গায় চলে যাচ্ছে, কাউকে না কাউকে তো সত্য কথা বলতে হবে।
ডিজইনফরমেশন আর মিসইনফরমেশনের যুগটা কেমন হতে যাচ্ছে? তার কিছুটা হয়তো আমি অনুধাবন পারছি। পরের বার না হয় সেই আলাপ করলাম।

যা বুঝলাম তা হলো, বহুবছর ধরে বাংলায় লেখাটা আমার আওতার বাইরেই চলে গেছে। আর সে কারণেই ইফতেখার মাহমুদ ভাইকে লেখা নিয়ে এত ঘুরানো। তাই আগেই স্ট্রিমের কাছে ক্ষমা চেয়ে শুরু করছি।
ফুটনোটের যাত্রা শুরু যখন আমি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ি। আমার পরিবারের একটা কড়া নিয়ম ছিল যে ‘যাহা পড়িবে, যাহা দেখিবে তাহা নিয়েই লিখিবে’। নয়তো ‘নো টেলিভিশন’, তখন বালক অপূর্বর কাছে Friday Morning Cartoons-এর মূল্য অন্য সব কিছুর চেয়ে বেশি। তো এই নিয়মগুলো মানতে আমি তখন বাধ্য। সেগুলোই একটা সময় ‘টইটম্বুর’-এ জায়গা পায়, এবং বহু বছর পর ‘দৈনিক আজাদি’তে।
তখন বুঝিনি ব্যাপারটা কী ঘটবে, কিন্তু পরে দেখলাম তখনকার সময়ের একটা প্রতিচ্ছবি পাওয়া যায়। কী ছিল, কী দেখতাম, কী বুঝতাম, কী মনে হতো। যেমন, ধরুন কে জানত সুকুমার রায়, ফেলুদার পাশাপাশি নায়ক জসীমের ভূমিকা, ২০০৪-এর হরতালের আনন্দ, শুক্রবারের বাংলা সিনেমা, টাইফয়েড, সুনীলের ‘প্রথম আলো’, প্রথম ‘রাত ভর বৃষ্টি’ পড়া। অত্যন্ত জগাখিচুড়ি মার্কা একটি বাল্যকালকে গুছিয়ে আনতে সাহায্য করেছিল ফুটনোট।
বেশ কিছু বছর লেখা বন্ধ ছিল। আবার শুরু করলাম। কারণ এখন আমরা সবাই একটা নতুন কালে আছি। সেই সময়ের সূচনাকে খুব সামনাসামনি থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। আর এখনও খুব কাছাকাছি বসেই দেখতে পাচ্ছি। আমি মনে করি এসব রেকর্ডেড থাকা উচিত। কে জানে, কারো যদি ৫০ বছর পর কাজে লেগে যায়।
আরও একটি কারণ আছে।
আমার মা চান আমি আবার বাংলায় লিখি। মায়ের কথা বড় দাগে আমি রাখার চেষ্টা করি। অনেকেই জানেন না, আমার পরিবারের সবচেয়ে ভাল লেখক আমার মা। তার এই প্রতিভা পিআইবি এবং আমার স্কুলের বাংলা ও সমাজ নোটের বাইরে পৌঁছাতে পেরেছে কিনা আমি জানি না। কিন্তু পৌঁছানো উচিত ছিল।
বহু বছর ধরে আমি আমার মাকে পটানোর চেষ্টা করছি যাতে তিনি একটা আত্মজীবনী লেখেন। আমি ধারণা করি, আমার মা একটা আত্মজীবনী লিখলে বাংলাদেশের এস্টাবলিশমেন্ট বলতে আমরা যাদের বুঝি, তাঁদের সবার গদি নড়ে যেতে পারে। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশের ৭১-পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সত্যিকার ইতিহাসটা উঠে আসতে বাধ্য; একই সঙ্গে সেই সময়ের হিপক্রেটরাও।
মা রাজি নন। আজ যে লেখাটা লিখছি তা আমার মাকে পটানোর ক্যাম্পেইনের একটি অংশ বলতে পারেন। আমি যখন বাংলায় লিখি তিনি তখন আমার সবচেয়ে বড় ক্রিটিক হিসাবে আবর্তিত হন। তাঁর ভেতরের লেখক-সত্তা জেগে ওঠে। সেটাই আপাতত চাচ্ছি।
আমি যখন ফুটনোট লিখতাম তখন দেশে বাক-স্বাধীনতা ছিল না। তাই অনেক ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে ডানে-বামে গিয়ে অনেক কিছু লিখতে হতো। এখন আশা করি, সেটি করতে হবে না।
গত ১৮ মাসে বহু চড়াই-উতরাই পার হয়ে এখন আমি বলতে পারেন মোটামুটি বেকার জীবনযাপনই করছি। কথাটা আসলে ঠিক না। কিন্তু যা যা করছি তাতে কোনো বাধা ধরা সময় নেই। তাই বাংলাদেশি পরিবারের সন্তান হয়ে ৯টা-৫টা যেহেতু করতে হচ্ছে না, তাই অবচেতনভাবে নিজেকে কোনো না কোনোভাবে একটু বেকারই মনে হচ্ছে। সেই মনে হওয়াটা আগেও হতো যখন বহু বছর আগে নিজের সংস্থা শুরু করেছিলাম, ভবিষ্যতেও হবে যা বুঝছি। এর থেকে আর রেহাই নেই।
আবার লেখার কথায় ফিরে আসি। আজকাল প্রচুর মানুষ লিখছে। বেশির ভাগই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। যারা লিখছেন তাঁদের মধ্যে অনেকে আমার বন্ধুসুলভও। আগে ফেসবুকে এক-দুই প্যারাগ্রাফে মানুষের এনালিসিস শেষ হয়ে যেত। যত দিন যাচ্ছে তত দেখছি ওয়ার্ড কাউন্ট বেড়েই যাচ্ছে। সবার পেটের ভেতর যে এত কথা আছে তা আগে বোঝা যায় নি।
কিন্তু কে পড়ছে, পড়ে কী বুঝছে, সেটা বোঝা যাচ্ছে না। বোঝা যাচ্ছে না কে কতটুকু বুঝে বলছে, কতটুকু সত্য বলছে। যা বোঝা যাচ্ছে তা হলো শুধু আওয়াজ। সকাল ৯টার বাসের হর্নের মতো। প্রচুর চিল্লাচিল্লি!
এটাই মনে হয় গণতন্ত্র। বেশ। সবাই লিখুক। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে যাদের লেখা উচিত তারা লিখছে না— আমার মায়ের মতো। যারা আমার মাকে চেনেন সবাই তাঁকে ইনবক্স করবেন, তিনি যেন লেখেন। দেশটা এমন জায়গায় চলে যাচ্ছে, কাউকে না কাউকে তো সত্য কথা বলতে হবে।
ডিজইনফরমেশন আর মিসইনফরমেশনের যুগটা কেমন হতে যাচ্ছে? তার কিছুটা হয়তো আমি অনুধাবন পারছি। পরের বার না হয় সেই আলাপ করলাম।

নদীমাতৃক বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি, বাস্তুসংস্থান ও গ্রামীণ জীবনযাত্রা দেশটির নদীগুলোর টেকসই ব্যবস্থাপনার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। দেশের প্রধান আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর মধ্যে তিস্তা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ কারণে নদীটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
৬ ঘণ্টা আগে
রেহান আসিফ আসাদ, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি পেশাদার। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আগে বুধবার (১০ জুন) স্ট্রিমের সঙ্গে আলাপে তিনি তুলে ধরেছেন সিম ট্যাক্স, স্টার্টআপ তহবিল, ডেটা সেন্টারসহ ডিজিটাল অবকাঠামো ঘিরে সরকারের পরিকল্পনা।
৯ ঘণ্টা আগে
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও মানবিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশে মানুষ ঠেলে পাঠানোর প্রচেষ্টা জোরদার করেছে। এই তথ্য জানাচ্ছে খোদ বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)।
১১ ঘণ্টা আগে
ঢালাওভাবে কর্মী না পাঠিয়ে, প্রথমে ৫০ বা ১০০ জন কর্মী পাঠিয়ে তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তারা সেখানে নিরাপদে আছেন কি না এবং চুক্তিমতো কাজ পাচ্ছেন কি না, তার ওপর ভিত্তি করেই ধাপে ধাপে আরও কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
১২ ঘণ্টা আগে