পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের নির্বাচন বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে মুসলমানরাই এখন বিজেপির প্রধান রাজনৈতিক বিরোধী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। কিন্তু পরিহাসের বিষয় হলো, এই বিরোধী শক্তির নেতৃত্ব দিচ্ছেন হিন্দু নেতারাই। আর বিজেপির সঙ্গে এই রাজনৈতিক লড়াইয়ে দিনশেষে মুসলমানরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
লেখা:

প্রায় সাত বছর আগে ‘দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট’-এ আমি একটি নিবন্ধ লিখেছিলাম, যার মূল প্রশ্ন ছিল-“নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহর বিজেপির কাছে, কিংবা ভারতের জন্য মুসলমানরা কি গুরুত্বপূর্ণ?” বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পুরোনো প্রশ্নটি নতুন করে তোলা অত্যন্ত জরুরি বলে আমি মনে করি।
বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল এই আলোচনাকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। এই দুটি রাজ্যেই মুসলিম ভোটারের সংখ্যা ৩০ শতাংশের বেশি। নির্বাচনের পর দেখা যাচ্ছে, ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নটি শুধু অমীমাংসিতই নয়, বরং আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল ও বিতর্কিত হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিকভাবে দেখলে, ২০১৯ সালের তুলনায় নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন বিজেপির কাছে মুসলমানদের গুরুত্ব এখন আরও কমে গেছে।
পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে এবার বিজেপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়েছে। অথচ দলটি একজন মুসলিম প্রার্থীও দেয়নি। অন্যদিকে, আসামে বিরোধী জোট থেকে জয়ী ২৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ২২ জনই মুসলিম। এর মধ্যে কংগ্রেসের ১৯ জন বিজয়ীর ১৮ জন মুসলিম প্রার্থী।
একইভাবে, পশ্চিমবঙ্গের ২৯৩ জন নবনির্বাচিত বিধায়কের মধ্যে ৪০ জন মুসলিম। এর মধ্যে ৩৪ জনই তৃণমূল কংগ্রেসের, যা দলটির জয় পাওয়া মোট ৮০টি আসনের প্রায় ৪৫ শতাংশ। এর ফলে, যে দুটি বড় রাজ্যে (জম্মু ও কাশ্মীর বাদে) মুসলিম জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি, সেখানেই তারা ক্ষমতার কাঠামো থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। একদিকে তাদের রাজনৈতিকভাবে প্রায় মুছে ফেলা হয়েছে, অন্যদিকে তারাই বিজেপির প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
কিন্তু পরিহাসের বিষয় হলো, এই বিরোধী শক্তির নেতৃত্ব দিচ্ছেন হিন্দু নেতারাই। আর বিজেপির সঙ্গে এই রাজনৈতিক লড়াইয়ে দিনশেষে মুসলমানরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এই নির্বাচনগুলো প্রমাণ করে যে, বিজেপি এবং তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর মধ্যে বিভাজনটি এখন পুরোপুরি হিন্দু-মুসলিম মেরুকরণের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। উদাহরণ হিসেবে কেরালার কথা বলা যায়। সেখানে ইউডিএফ-এর ১০২ জন নবনির্বাচিত বিধায়কের মধ্যে ৩০ জন মুসলিম ও ২৯ জন খ্রিস্টান। কেরালায় মুসলমানদের এই রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব দেখে ধর্মনিরপেক্ষ শিবির স্বস্তি পেতে পারে, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। কারণ বিজেপি এটিকে ‘সংখ্যালঘু শাসনের’ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করবে, হিন্দু ভোটকে আরও একত্রিত করার চেষ্টা করবে এবং কেরালার খ্রিস্টানদের মধ্যেও বিভাজন তৈরির রাজনীতি করবে।
জাতীয় পর্যায়েও চিত্রটা হতাশাজনক। বর্তমান ১৮তম লোকসভায় মুসলিম সাংসদের সংখ্যা মাত্র ২৪, যা মোট সদস্যের ৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। অথচ দেশের মোট ভোটারের ১৫ শতাংশের বেশি মুসলিম। এর আগে ১৬তম ও ১৭তম লোকসভায় এই মুসলিম এমপির সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২২ ও ২৭।
তবে বিষয়টি প্রথম দৃষ্টিতে যতটা বিস্ময়কর মনে হয়, বাস্তবে ততটা নয়। ১৯৮০ ও ১৯৮৪ সালের নির্বাচন বাদে (যখন যথাক্রমে ৪৯ ও ৪৫ জন মুসলিম সাংসদ ছিলেন), লোকসভায় মুসলিম প্রতিনিধিত্ব বরাবরই ৫ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। তবে অতীতে এর একটি ভারসাম্য ছিল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বরাবরই মুসলমানদের উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধিত্ব থাকত। এমনকি অটল বিহারী বাজপেয়ীর মন্ত্রিসভাতেও সিকান্দার বখতের মতো মুসলিম নেতা ছিলেন।
একসময় রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি বা লোকসভার উপাধ্যক্ষের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে মুসলমানদের দেখা যেত। এমনকি সশস্ত্র বাহিনী বা গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবেও মুসলিম ব্যক্তিরা দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু আজ সেই চিত্র প্রায় অনুপস্থিত। এখন কোনো মুসলিম মুখ্যমন্ত্রী নেই, জম্মু ও কাশ্মীরও এখন আর আলাদা রাজ্য নয়, এটি এখন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল।
বর্তমানে একমাত্র মুসলিম রাজ্যপাল হলেন বিহারের লেফটেন্যান্ট জেনারেল সৈয়দ আতা হাসনাইন। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় ১০০ জন সচিবের মধ্যে মুসলিম আছেন মাত্র একজন, আর সুপ্রিম কোর্টের ৩২ জন বিচারপতির মধ্যে একমাত্র মুসলিম বিচারপতি হলেন আহসানউদ্দিন আমানুল্লাহ। ভারতের সর্বশেষ মুসলিম প্রধান বিচারপতি ছিলেন বিচারপতি আলতামাস কবির, যিনি ২০১৩ সালের ১৯ জুলাই অবসর গ্রহণ করেন।
এই চিত্র ভারতীয় মুসলমানদের ক্রমবর্ধমান প্রান্তিকতার ধারণা তৈরি করতে পারে। তবে বিষয়টিকে কিছুটা ভিন্ন দৃষ্টিতেও দেখা প্রয়োজন। বর্তমানে অনেক মুসলিম গুরুত্বপূর্ণ পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। যেমন: চিকিৎসা, আইন, উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞান, সফটওয়্যার, ব্যাংকিং, বিনোদন ও সংবাদমাধ্যমে।
এ ছাড়া সিভিল সার্ভিস ও সশস্ত্র বাহিনীতেও, বিশেষ করে অফিসার প্রশিক্ষণ একাডেমিগুলোতে, মুসলিমদের নির্বাচনের হার বাড়ছে। তাই বলা যায়, প্রতিনিধিত্বের এই ঘাটতি মূলত রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই বিদ্যমান
২০১৯ সালে লেখা আমার প্রথম কলামটির শিরোনামটি ছিল ১৯৯৯ সালের একটি কথোপকথন থেকে নেওয়া। কথাটি বলেছিলেন বিজেপির তৎকালীন নেতা ও আদর্শিক মুখপাত্র বলবীর পুঞ্জ।
১৯৯৬ সালে ১৩ দিনের সরকার গঠনের পর এবং ১৯৯৯ সালে দ্বিতীয় বাজপেয়ী সরকার লোকসভায় মাত্র এক ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ঘটনায় বলবীর পুঞ্জ খুবই ক্ষুব্ধ ছিলেন। তার ক্ষোভের কারণ ছিল, মুসলিম ভোটের ওপর নির্ভর করে কোনো রাজনৈতিক দলই বিজেপিকে মেনে নিতে রাজি ছিল না। অর্থাৎ, কে ভারত শাসন করবে আর কে করবে না সে বিষয়ে মুসলিম ভোটারদের এক ধরনের ‘ভেটো’ কার্যকর ছিল। মোদি-শাহ যুগ সেই বাস্তবতাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
এই পরিস্থিতি থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে:
প্রথমত, বিজেপির প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো, অর্থাৎ তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলো, ক্রমশ ‘মুসলিমপন্থী’ দল হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, যদিও তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন হিন্দুরাই। বিজেপি ঠিক এমন অবস্থানেই তাদের বিরোধীদের দেখতে চায়। কারণ, ‘হিন্দু বনাম অন্যরা’ এই সমীকরণে ৮০:২০ অনুপাতে সুবিধা তাদের পক্ষেই যায়। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে খ্রিস্টান ভোটারদের মধ্যেও প্রভাব বাড়ানোর কাজ তারা চালিয়ে যাবে।
বিজেপি ইতোমধ্যে গোয়ায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে এবং কেরালাতেও ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে। দলটির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ধৈর্য দুইই রয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে তারা খ্রিস্টান উপজাতিদের সঙ্গেও স্বস্তিদায়ক সমঝোতা গড়ে তুলেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এসব রাজ্যের কোথাও বিজেপি গরু জবাই নিষিদ্ধ করার দাবি তোলেনি। এ কারণেই আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বিজেপির ‘দ্বিচারিতা’ নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, ‘ইউপিতে গরু মা, আর গোয়ায় গরু সুস্বাদু খাবার।’
দ্বিতীয়ত, যে ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলো মুসলিম ভোটের ওপর নির্ভরশীল, তারাও এখন প্রকাশ্যে মুসলমানদের পক্ষে কথা বলতে দ্বিধা করছে। দিল্লির শাহীনবাগ আন্দোলন ও পরবর্তী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় আগের আম আদমি পার্টি (এএপি) সরকারের আচরণ ছিল তার একটি উদাহরণ। ‘মুসলিমপন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তাদের এই ইস্যু থেকে দূরে থাকতে প্রভাবিত করেছিল।
তৃতীয়ত, এর ফলে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষার সম্পূর্ণ দায় যেন মুসলিমদের কাঁধেই এসে পড়েছে, যা এক অবাস্তব ও অন্যায্য প্রত্যাশা। দেশভাগের কারণে মুসলিম জনগোষ্ঠী সারা ভারতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ফলে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকাগুলোতে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ উপস্থিতি নেই।
আজ মুসলিম ভোটারদের এমন প্রার্থীকে ভোট দিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যিনি কেবল বিজেপিকে হারাতে পারবেন। আর এখানে শুধু এটুকুই আশা যে, জয়ী হলে হয়তো তিনি তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। একটি শক্তিশালী ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রে এর চেয়ে সীমিত ও হতাশাজনক প্রত্যাশা আর কিছু হতে পারে না। সাচার কমিটির প্রতিবেদনও দেখিয়েছিল যে, এই রাজনীতি মুসলমানদের প্রকৃত উন্নয়নে কোনো কাজেই আসেনি।
ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর দায়িত্ব হওয়া উচিত, হিন্দু ভোটারদের নিয়ে এক বিস্তৃত জোট গড়ে তোলা। যাতে তারা নির্বাচনে জয়ের মতো ভোটভিত্তি তৈরি করতে পারে। অতীতে হিন্দি বলয়ের দলগুলো হিন্দু সমাজকে জাতপাতের ভিত্তিতে ভাগ করে এই সমীকরণ তৈরি করত। কিন্তু মোদি ও অমিত শাহ সেই রাজনৈতিক দুর্গ ভেঙে দিয়েছেন।
এখন প্রশ্ন হলো, এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নতুন কোনো রাজনৈতিক কৌশল কারও কাছে আছে কি না? বর্তমান কংগ্রেসকে দেখে তা মনে হয় না। দলটির অবস্থা যেন মহাসড়কে ছুটে আসা ট্রাকের হেডলাইটের আলোয় দিশেহারা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক খরগোশের মতো।
আসাদউদ্দিন ওয়াইসি আরেকটি ধারণা সামনে এনেছেন। তার মতে, মুসলমানদের নিজেদের রাজনৈতিক দল গঠন করা উচিত এবং নিজেদের নেতৃত্ব নিজেরাই বেছে নেওয়া উচিত। কিন্তু এই ধারণা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়, কারণ পুরো ভারত তো আর পুরনো হায়দ্রাবাদ নয়। মুসলমানরা নিজেদের আলাদা দল তৈরি করলে তা চূড়ান্তভাবে বিজেপিরই রাজনৈতিক সুবিধা করে দেবে। জিন্নাহর পর ভারতীয় মুসলমানরা কখনোই কোনো একক মুসলিম নেতাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করেনি; বরং তারা নেহরু-গান্ধী পরিবার থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজ্যের হিন্দু নেতাদের ওপরই আস্থা রেখেছে।
মুসলমানরা কখনও আজকের মতো ক্ষমতার কাঠামো থেকে এতটা দূরে ছিল না।
আজ ভারতের হিন্দু, মুসলিম এবং ধর্মনিরপেক্ষ—সবাইকেই নতুন করে ভাবতে হবে। সংখ্যালঘু হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠের মধ্যে হারিয়ে যাওয়ার ভয়টি স্যার সৈয়দ আহমদের সময় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, যা শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সৃষ্টির পথ তৈরি করেছিল। এতে কার লাভ হয়েছে বা হয়নি সেটি অন্য আলোচনা।
বিষয়টি কিছুটা অদ্ভুত শোনাতে পারে, তবে বোঝার সুবিধার্থে পাকিস্তান ও ইসরায়েলের উদাহরণ ধরা যেতে পারে। একটি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র, অন্যটি জায়নবাদী রাষ্ট্র। দুই দেশেই আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের কিছু ব্যবস্থা রয়েছে এবং ভিন্ন পদ্ধতিতে হলেও সেখানে সংখ্যালঘুদের জন্য কিছু আসন নিশ্চিত করা হয়। অর্থাৎ, ‘যত জনসংখ্যা, তত অধিকার’ এ ধরনের নীতি কাজ করে।
অন্যদিকে, ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র ভারত ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে বিজয়ী নির্ধারণের পদ্ধতি অনুসরণ করে। ফলে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বে পুরোপুরি আনুপাতিক ভারসাম্য আশা করা বাস্তবসম্মত নয়। তবে বাস্তবতা হলো, এখানে একটি স্পষ্ট ঘাটতি ও অসমতা রয়ে গেছে।
এই ভারসাম্যহীনতা দূর করার একমাত্র উপায় হলো নতুন প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বের উত্থান। এখানে তারাই নেতৃত্ব দেবেন যারা হিন্দু সমাজের একটি বড় অংশকে সঙ্গে নিয়ে নতুন রাজনৈতিক জোট গড়ে তুলতে পারবেন।
ভারতের হিন্দুরাই সাংবিধানিক ধর্মনিরপেক্ষতাকে বেছে নিয়েছিল, তাই একে রক্ষা করার মূল দায়িত্বও তাদেরই। বিজেপির কোনো বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প তৈরি করতে হলে, সেই নেতৃত্বকে অবশ্যই হিন্দু সমাজের একটি বড় অংশের আস্থা অর্জন করতে হবে।
তথ্যসূত্র: দ্য প্রিন্ট

প্রায় সাত বছর আগে ‘দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট’-এ আমি একটি নিবন্ধ লিখেছিলাম, যার মূল প্রশ্ন ছিল-“নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহর বিজেপির কাছে, কিংবা ভারতের জন্য মুসলমানরা কি গুরুত্বপূর্ণ?” বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পুরোনো প্রশ্নটি নতুন করে তোলা অত্যন্ত জরুরি বলে আমি মনে করি।
বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল এই আলোচনাকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। এই দুটি রাজ্যেই মুসলিম ভোটারের সংখ্যা ৩০ শতাংশের বেশি। নির্বাচনের পর দেখা যাচ্ছে, ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নটি শুধু অমীমাংসিতই নয়, বরং আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল ও বিতর্কিত হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিকভাবে দেখলে, ২০১৯ সালের তুলনায় নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন বিজেপির কাছে মুসলমানদের গুরুত্ব এখন আরও কমে গেছে।
পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে এবার বিজেপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়েছে। অথচ দলটি একজন মুসলিম প্রার্থীও দেয়নি। অন্যদিকে, আসামে বিরোধী জোট থেকে জয়ী ২৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ২২ জনই মুসলিম। এর মধ্যে কংগ্রেসের ১৯ জন বিজয়ীর ১৮ জন মুসলিম প্রার্থী।
একইভাবে, পশ্চিমবঙ্গের ২৯৩ জন নবনির্বাচিত বিধায়কের মধ্যে ৪০ জন মুসলিম। এর মধ্যে ৩৪ জনই তৃণমূল কংগ্রেসের, যা দলটির জয় পাওয়া মোট ৮০টি আসনের প্রায় ৪৫ শতাংশ। এর ফলে, যে দুটি বড় রাজ্যে (জম্মু ও কাশ্মীর বাদে) মুসলিম জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি, সেখানেই তারা ক্ষমতার কাঠামো থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। একদিকে তাদের রাজনৈতিকভাবে প্রায় মুছে ফেলা হয়েছে, অন্যদিকে তারাই বিজেপির প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
কিন্তু পরিহাসের বিষয় হলো, এই বিরোধী শক্তির নেতৃত্ব দিচ্ছেন হিন্দু নেতারাই। আর বিজেপির সঙ্গে এই রাজনৈতিক লড়াইয়ে দিনশেষে মুসলমানরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এই নির্বাচনগুলো প্রমাণ করে যে, বিজেপি এবং তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর মধ্যে বিভাজনটি এখন পুরোপুরি হিন্দু-মুসলিম মেরুকরণের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। উদাহরণ হিসেবে কেরালার কথা বলা যায়। সেখানে ইউডিএফ-এর ১০২ জন নবনির্বাচিত বিধায়কের মধ্যে ৩০ জন মুসলিম ও ২৯ জন খ্রিস্টান। কেরালায় মুসলমানদের এই রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব দেখে ধর্মনিরপেক্ষ শিবির স্বস্তি পেতে পারে, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। কারণ বিজেপি এটিকে ‘সংখ্যালঘু শাসনের’ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করবে, হিন্দু ভোটকে আরও একত্রিত করার চেষ্টা করবে এবং কেরালার খ্রিস্টানদের মধ্যেও বিভাজন তৈরির রাজনীতি করবে।
জাতীয় পর্যায়েও চিত্রটা হতাশাজনক। বর্তমান ১৮তম লোকসভায় মুসলিম সাংসদের সংখ্যা মাত্র ২৪, যা মোট সদস্যের ৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। অথচ দেশের মোট ভোটারের ১৫ শতাংশের বেশি মুসলিম। এর আগে ১৬তম ও ১৭তম লোকসভায় এই মুসলিম এমপির সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২২ ও ২৭।
তবে বিষয়টি প্রথম দৃষ্টিতে যতটা বিস্ময়কর মনে হয়, বাস্তবে ততটা নয়। ১৯৮০ ও ১৯৮৪ সালের নির্বাচন বাদে (যখন যথাক্রমে ৪৯ ও ৪৫ জন মুসলিম সাংসদ ছিলেন), লোকসভায় মুসলিম প্রতিনিধিত্ব বরাবরই ৫ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। তবে অতীতে এর একটি ভারসাম্য ছিল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বরাবরই মুসলমানদের উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধিত্ব থাকত। এমনকি অটল বিহারী বাজপেয়ীর মন্ত্রিসভাতেও সিকান্দার বখতের মতো মুসলিম নেতা ছিলেন।
একসময় রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি বা লোকসভার উপাধ্যক্ষের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে মুসলমানদের দেখা যেত। এমনকি সশস্ত্র বাহিনী বা গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবেও মুসলিম ব্যক্তিরা দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু আজ সেই চিত্র প্রায় অনুপস্থিত। এখন কোনো মুসলিম মুখ্যমন্ত্রী নেই, জম্মু ও কাশ্মীরও এখন আর আলাদা রাজ্য নয়, এটি এখন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল।
বর্তমানে একমাত্র মুসলিম রাজ্যপাল হলেন বিহারের লেফটেন্যান্ট জেনারেল সৈয়দ আতা হাসনাইন। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় ১০০ জন সচিবের মধ্যে মুসলিম আছেন মাত্র একজন, আর সুপ্রিম কোর্টের ৩২ জন বিচারপতির মধ্যে একমাত্র মুসলিম বিচারপতি হলেন আহসানউদ্দিন আমানুল্লাহ। ভারতের সর্বশেষ মুসলিম প্রধান বিচারপতি ছিলেন বিচারপতি আলতামাস কবির, যিনি ২০১৩ সালের ১৯ জুলাই অবসর গ্রহণ করেন।
এই চিত্র ভারতীয় মুসলমানদের ক্রমবর্ধমান প্রান্তিকতার ধারণা তৈরি করতে পারে। তবে বিষয়টিকে কিছুটা ভিন্ন দৃষ্টিতেও দেখা প্রয়োজন। বর্তমানে অনেক মুসলিম গুরুত্বপূর্ণ পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। যেমন: চিকিৎসা, আইন, উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞান, সফটওয়্যার, ব্যাংকিং, বিনোদন ও সংবাদমাধ্যমে।
এ ছাড়া সিভিল সার্ভিস ও সশস্ত্র বাহিনীতেও, বিশেষ করে অফিসার প্রশিক্ষণ একাডেমিগুলোতে, মুসলিমদের নির্বাচনের হার বাড়ছে। তাই বলা যায়, প্রতিনিধিত্বের এই ঘাটতি মূলত রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই বিদ্যমান
২০১৯ সালে লেখা আমার প্রথম কলামটির শিরোনামটি ছিল ১৯৯৯ সালের একটি কথোপকথন থেকে নেওয়া। কথাটি বলেছিলেন বিজেপির তৎকালীন নেতা ও আদর্শিক মুখপাত্র বলবীর পুঞ্জ।
১৯৯৬ সালে ১৩ দিনের সরকার গঠনের পর এবং ১৯৯৯ সালে দ্বিতীয় বাজপেয়ী সরকার লোকসভায় মাত্র এক ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ঘটনায় বলবীর পুঞ্জ খুবই ক্ষুব্ধ ছিলেন। তার ক্ষোভের কারণ ছিল, মুসলিম ভোটের ওপর নির্ভর করে কোনো রাজনৈতিক দলই বিজেপিকে মেনে নিতে রাজি ছিল না। অর্থাৎ, কে ভারত শাসন করবে আর কে করবে না সে বিষয়ে মুসলিম ভোটারদের এক ধরনের ‘ভেটো’ কার্যকর ছিল। মোদি-শাহ যুগ সেই বাস্তবতাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
এই পরিস্থিতি থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে:
প্রথমত, বিজেপির প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো, অর্থাৎ তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলো, ক্রমশ ‘মুসলিমপন্থী’ দল হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, যদিও তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন হিন্দুরাই। বিজেপি ঠিক এমন অবস্থানেই তাদের বিরোধীদের দেখতে চায়। কারণ, ‘হিন্দু বনাম অন্যরা’ এই সমীকরণে ৮০:২০ অনুপাতে সুবিধা তাদের পক্ষেই যায়। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে খ্রিস্টান ভোটারদের মধ্যেও প্রভাব বাড়ানোর কাজ তারা চালিয়ে যাবে।
বিজেপি ইতোমধ্যে গোয়ায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে এবং কেরালাতেও ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে। দলটির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ধৈর্য দুইই রয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে তারা খ্রিস্টান উপজাতিদের সঙ্গেও স্বস্তিদায়ক সমঝোতা গড়ে তুলেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এসব রাজ্যের কোথাও বিজেপি গরু জবাই নিষিদ্ধ করার দাবি তোলেনি। এ কারণেই আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বিজেপির ‘দ্বিচারিতা’ নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, ‘ইউপিতে গরু মা, আর গোয়ায় গরু সুস্বাদু খাবার।’
দ্বিতীয়ত, যে ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলো মুসলিম ভোটের ওপর নির্ভরশীল, তারাও এখন প্রকাশ্যে মুসলমানদের পক্ষে কথা বলতে দ্বিধা করছে। দিল্লির শাহীনবাগ আন্দোলন ও পরবর্তী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় আগের আম আদমি পার্টি (এএপি) সরকারের আচরণ ছিল তার একটি উদাহরণ। ‘মুসলিমপন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তাদের এই ইস্যু থেকে দূরে থাকতে প্রভাবিত করেছিল।
তৃতীয়ত, এর ফলে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষার সম্পূর্ণ দায় যেন মুসলিমদের কাঁধেই এসে পড়েছে, যা এক অবাস্তব ও অন্যায্য প্রত্যাশা। দেশভাগের কারণে মুসলিম জনগোষ্ঠী সারা ভারতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ফলে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকাগুলোতে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ উপস্থিতি নেই।
আজ মুসলিম ভোটারদের এমন প্রার্থীকে ভোট দিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যিনি কেবল বিজেপিকে হারাতে পারবেন। আর এখানে শুধু এটুকুই আশা যে, জয়ী হলে হয়তো তিনি তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। একটি শক্তিশালী ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রে এর চেয়ে সীমিত ও হতাশাজনক প্রত্যাশা আর কিছু হতে পারে না। সাচার কমিটির প্রতিবেদনও দেখিয়েছিল যে, এই রাজনীতি মুসলমানদের প্রকৃত উন্নয়নে কোনো কাজেই আসেনি।
ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর দায়িত্ব হওয়া উচিত, হিন্দু ভোটারদের নিয়ে এক বিস্তৃত জোট গড়ে তোলা। যাতে তারা নির্বাচনে জয়ের মতো ভোটভিত্তি তৈরি করতে পারে। অতীতে হিন্দি বলয়ের দলগুলো হিন্দু সমাজকে জাতপাতের ভিত্তিতে ভাগ করে এই সমীকরণ তৈরি করত। কিন্তু মোদি ও অমিত শাহ সেই রাজনৈতিক দুর্গ ভেঙে দিয়েছেন।
এখন প্রশ্ন হলো, এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নতুন কোনো রাজনৈতিক কৌশল কারও কাছে আছে কি না? বর্তমান কংগ্রেসকে দেখে তা মনে হয় না। দলটির অবস্থা যেন মহাসড়কে ছুটে আসা ট্রাকের হেডলাইটের আলোয় দিশেহারা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক খরগোশের মতো।
আসাদউদ্দিন ওয়াইসি আরেকটি ধারণা সামনে এনেছেন। তার মতে, মুসলমানদের নিজেদের রাজনৈতিক দল গঠন করা উচিত এবং নিজেদের নেতৃত্ব নিজেরাই বেছে নেওয়া উচিত। কিন্তু এই ধারণা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়, কারণ পুরো ভারত তো আর পুরনো হায়দ্রাবাদ নয়। মুসলমানরা নিজেদের আলাদা দল তৈরি করলে তা চূড়ান্তভাবে বিজেপিরই রাজনৈতিক সুবিধা করে দেবে। জিন্নাহর পর ভারতীয় মুসলমানরা কখনোই কোনো একক মুসলিম নেতাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করেনি; বরং তারা নেহরু-গান্ধী পরিবার থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজ্যের হিন্দু নেতাদের ওপরই আস্থা রেখেছে।
মুসলমানরা কখনও আজকের মতো ক্ষমতার কাঠামো থেকে এতটা দূরে ছিল না।
আজ ভারতের হিন্দু, মুসলিম এবং ধর্মনিরপেক্ষ—সবাইকেই নতুন করে ভাবতে হবে। সংখ্যালঘু হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠের মধ্যে হারিয়ে যাওয়ার ভয়টি স্যার সৈয়দ আহমদের সময় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, যা শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সৃষ্টির পথ তৈরি করেছিল। এতে কার লাভ হয়েছে বা হয়নি সেটি অন্য আলোচনা।
বিষয়টি কিছুটা অদ্ভুত শোনাতে পারে, তবে বোঝার সুবিধার্থে পাকিস্তান ও ইসরায়েলের উদাহরণ ধরা যেতে পারে। একটি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র, অন্যটি জায়নবাদী রাষ্ট্র। দুই দেশেই আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের কিছু ব্যবস্থা রয়েছে এবং ভিন্ন পদ্ধতিতে হলেও সেখানে সংখ্যালঘুদের জন্য কিছু আসন নিশ্চিত করা হয়। অর্থাৎ, ‘যত জনসংখ্যা, তত অধিকার’ এ ধরনের নীতি কাজ করে।
অন্যদিকে, ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র ভারত ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে বিজয়ী নির্ধারণের পদ্ধতি অনুসরণ করে। ফলে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বে পুরোপুরি আনুপাতিক ভারসাম্য আশা করা বাস্তবসম্মত নয়। তবে বাস্তবতা হলো, এখানে একটি স্পষ্ট ঘাটতি ও অসমতা রয়ে গেছে।
এই ভারসাম্যহীনতা দূর করার একমাত্র উপায় হলো নতুন প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বের উত্থান। এখানে তারাই নেতৃত্ব দেবেন যারা হিন্দু সমাজের একটি বড় অংশকে সঙ্গে নিয়ে নতুন রাজনৈতিক জোট গড়ে তুলতে পারবেন।
ভারতের হিন্দুরাই সাংবিধানিক ধর্মনিরপেক্ষতাকে বেছে নিয়েছিল, তাই একে রক্ষা করার মূল দায়িত্বও তাদেরই। বিজেপির কোনো বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প তৈরি করতে হলে, সেই নেতৃত্বকে অবশ্যই হিন্দু সমাজের একটি বড় অংশের আস্থা অর্জন করতে হবে।
তথ্যসূত্র: দ্য প্রিন্ট

সম্প্রতি রেমিট্যান্স বাড়াতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে চলে আসে—শুধু রেমিট্যান্স বাড়ানোর জন্যই কি এই উদ্যোগ, নাকি যেসব মানুষ নিজেদের জীবন, শ্রম ও স্বপ্ন উৎসর্গ করে দেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখছেন, তাদের সুরক্ষা ও মর্যাদা...
১৯ মিনিট আগে
ড. আইনুন নিশাত জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও পানিসম্পদ বিষয়ে বাংলাদেশের পথিকৃৎ বিশেষজ্ঞ। বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় জলবায়ু ও পানিবিষয়ক নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। নদী ব্যবস্থাপনা, মৌসুমি বন্যা, হাওরের ফসলহানি ও নীতিনির্ধারণী সমস্যাসহ নানা বিষয়ে ঢাকা স্ট্রিমের সঙ্গে কথা বলেছেন।
১ দিন আগে
২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এটি শুধু আমেরিকানদেরই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায়—যুক্তরাষ্ট্র কী ছিল, কী হয়ে উঠেছে, এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় ভবিষ্যতে কী হতে পারে।
১ দিন আগে
বিংশ শতাব্দীর যুদ্ধক্ষেত্রে শক্তির প্রধান মাপকাঠি ছিল ভারী ট্যাঙ্ক, শক্তিশালী বিমানবাহিনী এবং বিশাল পদাতিক বাহিনী। কিন্তু ২০২৬ সালের যুদ্ধক্ষেত্র আমাদের দেখাচ্ছে এক ভিন্ন বাস্তবতা, যেখানে প্রথাগত শক্তির দাপট ম্লান হয়ে আসছে। সিগন্যাল জ্যামিং এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের দাপটে যখন প্রচলিত রেডিও-নিয়ন্ত
২ দিন আগে