চাকরিচ্যুতি নিয়ে সময় টিভিতে উত্তেজনা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

সময় টেলিভিশনের লোগো

বেসরকারি ‘সময় টিভি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে (সিইও) অব্যাহতি দেওয়া নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে রোববার (১০ মে) গভীর রাতে মালিকপক্ষ সিটি গ্রুপের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

সময় টিভির একাধিক কর্মী স্ট্রিমকে জানান, সময় টিভির পরিচালক আহমেদ জুবায়ের এবং সিইও জুবায়ের বাবুর মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছে। এরই জেরে রোববার বিকেলে সিইও পদ থেকে জুবায়ের বাবুকে অব্যাহতি দেয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত আহমেদ জুবায়েরের হস্তক্ষেপে হয়েছে জানিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন জুবায়ের বাবু।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার দিকে জুবায়ের বাবুর পক্ষ নিয়ে প্রধান একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা সময় টিভি কার্যালয়ে অবস্থান নেন। তাঁরা এ সময় জুবায়ের বাবুর পক্ষে স্লোগান দেন এবং চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদ জানান।

সময় টিভি কর্তৃপক্ষ জমায়েত দেখে তাদের কার্যক্রম চলা ভবনের ১০, ১১ ও ১২ তলার ফটকে তালা দেয়। এতে অনেক কর্মী ভেতরে আটকা পড়েন। ফটকের বাইরে জুবায়ের বাবুর অনুসারীরা বিক্ষোভ করতে থাকেন। এরই মধ্যে একই রাজনৈতিক দলের আরেক অংশের কর্মীরা আহমেদ জুবায়েরের পক্ষে সময় টিভি ভবনে এলে উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে পুলিশও হাজির হয়।

রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আটকা পড়া সময় টিভির এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক স্ট্রিমকে জানান, মূলত আহমেদ জুবায়ের ও জুবায়ের বাবুর পক্ষে রাজনৈতিক দলের কর্মীরা কার্যালয়ে আসায় অস্থিরতা দেখা দেয়। পরে পুলিশ পাহারায় জুবায়ের বাবু রাতে কার্যালয় ছাড়েন। সিটি গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য শম্পা রহমানের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সময় টিভির আরেক সাংবাদিক জানান, টিভি স্টেশনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে চেয়ারম্যান থেকে নির্মাতা মোরশেদুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর ভাগনে আহমেদ জুবায়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং সিইও হন। পরে তিনিই জুবায়ের বাবুকে সিইও পদে নিয়োগ দেন এবং নিজে পরিচালক থাকেন। রোববার সন্ধ্যায় জুবায়ের বাবুর লোকজন এলে, স্টেশন দখল নেওয়া হচ্ছে– এমন খবরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। তবে অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিজেরাই মিটমাট করেছে বলে জানান তিনি।

সিটি গ্রুপের কারও বক্তব্য জানতে পারেনি স্ট্রিম। এ ব্যাপারে জুবায়ের বাবু বলেন, পরিচালক আহমেদ জুবায়ের একক সিদ্ধান্তে আমাকে বরখাস্ত করতে পারেন না। তাঁর এই সিদ্ধান্ত অবৈধ; আমি প্রত্যাখান করেছি।

কার্যালয়ে লোক জড়ো করার বিষয়ে তিনি বলেন, উত্তেজনার মূলে রয়েছে গত তিন মাসে আহমেদ জুবায়েরের অবৈধভাবে নিজের ছেলেসহ ১৬০ জনকে নিয়োগ। সিইওকে না জানিয়ে তিনি এসব নিয়োগের মাধ্যমে স্টেশনকে কবজায় নিতে চেয়েছেন। এই ঘটনায় কর্মীরা ক্ষুব্ধ ছিলেন। আমাকে অবৈধভাবে সরিয়ে দেওয়ার পরে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

জুবায়ের বাবুর দাবি, চেয়ারম্যানের অনুমতি নিয়ে তিনি বিতর্কিত নিয়োগের তদন্ত শুরুর পরই তোপে পড়েন এবং সরিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করেছেন আহমেদ জুবায়ের।

অভিযোগের বিষয়ে আহমেদ জুবায়েরের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ হয়নি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তারও জবাব দেননি তিনি। তবে আহমেদ জুবায়েরের ঘনিষ্ঠ সময় টিভির এক কর্মকর্তা বলেন, জুবায়ের বাবু এখন বিএনপি সেজে এত কিছু করছেন, কিন্তু তাঁকে কে নিয়োগ দিয়েছেন? তিনি তো আহমেদ জুবায়েরের হাত ধরেই সিইও হয়েছেন। সিটি গ্রুপ এখন পর্যন্ত নতুন কারও নিয়োগে অনুমোদন দেয়নি। এমনকি সিইও হিসেবে জুবায়ের বাবুর নিয়োগও অনুমোদন পায়নি। অথচ তাঁরা দুজনই অভ্যন্তরীণ গ্রুপ বানিয়ে স্টেশনে ঝামেলা করছেন।

কলাবাগান থানার ওসি ফজলে আশিক স্ট্রিমকে জানান, খবর পেয়ে তারা টিভি স্টেশনে যান। অভ্যন্তরীণ ঝামেলা, নিজেরাই মীমাংসা করে টিভি কর্তৃপক্ষ। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যাতে না ঘটে, সেজন্য উভয়পক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত