মাহজাবিন নাফিসা

ফ্লাফি লোম, চাপা মুখ, বড় চোখ। দেখতে খুব কিউট। বর্তমানে আমাদের শহরের অ্যাপার্টমেন্টে, ইন্টারনেটে বা পোষা প্রাণীর দোকানে সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম হলো ‘পার্সিয়ান বিড়াল’।
বিড়াল প্রেমীদের কাছে এটি ভীষণ প্রিয়। এর নাম শুনে মনে হতে পারে এটি সরাসরি পারস্য (বর্তমান ইরান) থেকে এসেছে। কিন্তু এর পেছনের ইতিহাস বেশ জটিল। এর মধ্যে জড়িয়ে আছে ইউরোপীয়দের পছন্দ এবং আধুনিক ব্যবসার গল্প
আমরা যতটা সহজে একে ‘পার্সিয়ান’ বলি, ইতিহাস ততটা সহজ নয়। ইউরোপে যখন প্রথম লম্বা লোমের বিড়াল দেখা যায়, সেগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ (যেমন ইরান, আফগানিস্তান ও তুরস্ক) থেকে আনা হয়েছিল। পিয়েত্রো দেল্লা ভালে নামে এক ইতালীয় পর্যটক ১৬২০ সালের দিকে ইরানের খোরাসান থেকে কিছু বিড়াল ইউরোপে নিয়ে যান। একই সময়ে সিরিয়া থেকেও ফ্রান্সে একই ধরনের বিড়াল আসে।
তখনকার ইউরোপীয়দের কাছে মধ্যপ্রাচ্য ও প্রাচ্যের অঞ্চলগুলো ছিল এক ধরনের রহস্যময় ‘ওরিয়েন্ট’। ফলে এসব অঞ্চল থেকে আসা লম্বা লোমের বিড়ালকে তারা প্রায়ই ‘পার্সিয়ান’ নামে ডাকতে শুরু করে। অথচ সব বিড়াল পারস্য থেকে আসেনি। ঐতিহাসিকদের অনেকে মনে করেন, আজকের আধুনিক পার্সিয়ান বিড়ালের সঙ্গে সেই সময়ের ইরানি বিড়ালের মিল পুরোপুরি ছিল না।

এর সঙ্গে যুক্ত হয় বাণিজ্যিক দিকও। ইউরোপে ‘পারসিয়া’ শব্দটির সঙ্গে ছিল বিলাসিতা, রাজকীয়তা ও রহস্যময়তার ইমেজ। ফলে ‘পার্সিয়ান ক্যাট’ নামটি বাজারজাত করার ক্ষেত্রেও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। এর আগে এই ধরনের বিড়ালকে অনেক সময় ‘এঙ্গোরা ক্যাট’ (বর্তমান তুরস্কের আংকারা থেকে) বলা হতো। কিন্তু ১৯শ শতকে ব্রিটেনে ‘ব্রিডিং স্ট্যান্ডার্ড’ তৈরি হওয়ার পর পার্সিয়ান নামটিই স্থায়ী হয়ে যায়।
আজ আমরা যে চ্যাপ্টা মুখ ও ঘন লোমের বিড়াল দেখি, তা মূলত ইউরোপের। ১৯ শতকে ব্রিটেনে ‘সিলেক্টিভ ব্রিডিং’ এর মাধ্যমে এই বিড়াল বর্তমানের চেহারা পায়। ১৮৭১ সালে লন্ডনের বিখ্যাত ‘ক্রিস্টাল প্যালেস ক্যাট শো’-তে এই বিড়াল দেখানোর পর এর জনপ্রিয়তা হু হু করে বাড়ে।
এই সময় ব্রিটিশ রাজপরিবারের মধ্যেও এই বিড়াল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে রাণী ভিক্টোরিয়ার পোষা প্রাণীর তালিকায় থাকার কারণে এর সামাজিক মর্যাদা আরও বেড়ে যায়। ধীরে ধীরে ইউরোপ থেকে আমেরিকা এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
অর্থাৎ, আজকের পার্সিয়ান বিড়ালের চেহারা ও বৈশিষ্ট্য মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা লম্বা লোমের বিড়ালকে ইউরোপে দীর্ঘদিন সিলেক্টিভ ব্রিডিং-এর মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে।
বাংলাদেশে পার্সিয়ান বিড়ালের ইতিহাস নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা বা আলাদা নথি খুব একটা খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে পুরো ভারতীয় উপমহাদেশের প্রেক্ষাপট দেখলে এর আগমন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। এই বিড়ালের যাত্রাপথ ছিল মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ, সেখান থেকে ব্রিটিশ ভারত।
ব্রিটিশ শাসন আমলে কলকাতা ও বোম্বের (বর্তমান মুম্বাই) মতো বড় শহরগুলোতে ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের বসতি ছিল। তারা ইউরোপীয় জীবনযাত্রার নানা শৌখিন জিনিস এ দেশে নিয়ে আসতেন। ইতিহাস বা ‘কলোনিয়াল আরবান স্টাডিজ’ থেকে জানা যায়, ভিক্টোরিয়ান যুগের ব্রিটেনে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারগুলোর ঘরে পোষা প্রাণী রাখা ছিল আভিজাত্যের প্রতীক। এই ঘরোয়া সংস্কৃতি ব্রিটিশদের হাত ধরে ভারতীয় উপমহাদেশের ইউরোপীয় পাড়াগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে।
এই ধারাবাহিকতায় পার্সিয়ান বিড়ালও এই উপমহাদেশে প্রবেশ করে। তবে সে সময় এটি সাধারণ মানুষের পোষা প্রাণী ছিল না। কেবল সমাজের প্রভাবশালী, অভিজাত ও ধনী শ্রেণির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে এ দেশে পোষা প্রাণী পালনের শখ খুব একটা দেখা যেত না। সে সময় মূলত দেশি বিড়ালই ছিল মানুষের প্রধান সঙ্গী, আর পার্সিয়ান বিড়াল ছিল খুবই দুর্লভ বা বিরল।
এই অবস্থার পরিবর্তন শুরু হয় একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে। শহুরে মধ্যবিত্তের উত্থান, অ্যাপার্টমেন্ট সংস্কৃতির বিস্তার এবং বৈশ্বিক যোগাযোগের কারণে পোষা প্রাণীর প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে। এই সময় ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও চীন থেকে পার্সিয়ান ক্যাট আমদানি শুরু হয়। ধীরে ধীরে ঢাকায় গড়ে ওঠে পোষা প্রাণীর বাজার।

এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আসার পরে এই বাজারকে বদলে দেয়। ফেসবুক গ্রুপ, অনলাইন মার্কেটপ্লেস—সব মিলিয়ে পার্সিয়ান ক্যাট দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
উৎস বিবেচনায় পার্সিয়ান বিড়াল মূলত তিনভাবে আমরা পাই। বিদেশ থেকে আমদানি, পেট শপ এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে বাড়িতে ব্রিডিং বা প্রজনন।
দামের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের তফাৎ দেখা যায়। সাধারণত স্থানীয়ভাবে ব্রিড করা বা মিক্সড পার্সিয়ান বিড়ালের দাম ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। তুলনামূলক ভালো মানের বিড়াল বিক্রি হয় ১৫ থেকে ৪০ হাজার টাকায়। আর যেগুলোকে ‘ইম্পোর্টেড’ বা একদম ‘পিউর ব্রিড’ বলা হয়, সেগুলোর দাম ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা বা তারও বেশি হতে পারে।
বিড়ালের বয়স, গায়ের রং এসবের ওপর ভিত্তি করেও দাম কম-বেশি হয়। যেমন একটি বাইকালার বা ক্যালিকো রঙের বিড়ালছানার দাম ১৫ হাজার টাকা থেকে শুরু হতে পারে। আবার চোখের রং আর লোমের ধরনভেদে কোনো কোনো ছানার দাম ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
তবে এই বিড়ালগুলো আসলে কতটা ‘পিউর’ বা খাঁটি। বাংলাদেশে বিড়ালের জাত যাচাই বা ভেরিফাই করার মতো শক্তিশালী কোনো ব্যবস্থা নেই। এর ফলে অনেক সময় মিক্স ব্রিড বা মিশ্র জাতের বিড়ালকেও খাঁটি ‘পার্সিয়ান’ বলে চড়া দামে বিক্রি করা হয়। ক্রেতারাও অনেক সময় পার্সিয়ানের দামে খুশি মনে মিক্স বিড়াল কিনে নেন। অর্থাৎ, এই বাজারে বিড়ালের আসল বংশ পরিচয়ের চেয়ে তার সৌন্দর্য বা বাহ্যিক চেহারাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ফ্লাফি লোম, চাপা মুখ, বড় চোখ। দেখতে খুব কিউট। বর্তমানে আমাদের শহরের অ্যাপার্টমেন্টে, ইন্টারনেটে বা পোষা প্রাণীর দোকানে সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম হলো ‘পার্সিয়ান বিড়াল’।
বিড়াল প্রেমীদের কাছে এটি ভীষণ প্রিয়। এর নাম শুনে মনে হতে পারে এটি সরাসরি পারস্য (বর্তমান ইরান) থেকে এসেছে। কিন্তু এর পেছনের ইতিহাস বেশ জটিল। এর মধ্যে জড়িয়ে আছে ইউরোপীয়দের পছন্দ এবং আধুনিক ব্যবসার গল্প
আমরা যতটা সহজে একে ‘পার্সিয়ান’ বলি, ইতিহাস ততটা সহজ নয়। ইউরোপে যখন প্রথম লম্বা লোমের বিড়াল দেখা যায়, সেগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ (যেমন ইরান, আফগানিস্তান ও তুরস্ক) থেকে আনা হয়েছিল। পিয়েত্রো দেল্লা ভালে নামে এক ইতালীয় পর্যটক ১৬২০ সালের দিকে ইরানের খোরাসান থেকে কিছু বিড়াল ইউরোপে নিয়ে যান। একই সময়ে সিরিয়া থেকেও ফ্রান্সে একই ধরনের বিড়াল আসে।
তখনকার ইউরোপীয়দের কাছে মধ্যপ্রাচ্য ও প্রাচ্যের অঞ্চলগুলো ছিল এক ধরনের রহস্যময় ‘ওরিয়েন্ট’। ফলে এসব অঞ্চল থেকে আসা লম্বা লোমের বিড়ালকে তারা প্রায়ই ‘পার্সিয়ান’ নামে ডাকতে শুরু করে। অথচ সব বিড়াল পারস্য থেকে আসেনি। ঐতিহাসিকদের অনেকে মনে করেন, আজকের আধুনিক পার্সিয়ান বিড়ালের সঙ্গে সেই সময়ের ইরানি বিড়ালের মিল পুরোপুরি ছিল না।

এর সঙ্গে যুক্ত হয় বাণিজ্যিক দিকও। ইউরোপে ‘পারসিয়া’ শব্দটির সঙ্গে ছিল বিলাসিতা, রাজকীয়তা ও রহস্যময়তার ইমেজ। ফলে ‘পার্সিয়ান ক্যাট’ নামটি বাজারজাত করার ক্ষেত্রেও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। এর আগে এই ধরনের বিড়ালকে অনেক সময় ‘এঙ্গোরা ক্যাট’ (বর্তমান তুরস্কের আংকারা থেকে) বলা হতো। কিন্তু ১৯শ শতকে ব্রিটেনে ‘ব্রিডিং স্ট্যান্ডার্ড’ তৈরি হওয়ার পর পার্সিয়ান নামটিই স্থায়ী হয়ে যায়।
আজ আমরা যে চ্যাপ্টা মুখ ও ঘন লোমের বিড়াল দেখি, তা মূলত ইউরোপের। ১৯ শতকে ব্রিটেনে ‘সিলেক্টিভ ব্রিডিং’ এর মাধ্যমে এই বিড়াল বর্তমানের চেহারা পায়। ১৮৭১ সালে লন্ডনের বিখ্যাত ‘ক্রিস্টাল প্যালেস ক্যাট শো’-তে এই বিড়াল দেখানোর পর এর জনপ্রিয়তা হু হু করে বাড়ে।
এই সময় ব্রিটিশ রাজপরিবারের মধ্যেও এই বিড়াল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে রাণী ভিক্টোরিয়ার পোষা প্রাণীর তালিকায় থাকার কারণে এর সামাজিক মর্যাদা আরও বেড়ে যায়। ধীরে ধীরে ইউরোপ থেকে আমেরিকা এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
অর্থাৎ, আজকের পার্সিয়ান বিড়ালের চেহারা ও বৈশিষ্ট্য মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা লম্বা লোমের বিড়ালকে ইউরোপে দীর্ঘদিন সিলেক্টিভ ব্রিডিং-এর মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে।
বাংলাদেশে পার্সিয়ান বিড়ালের ইতিহাস নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা বা আলাদা নথি খুব একটা খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে পুরো ভারতীয় উপমহাদেশের প্রেক্ষাপট দেখলে এর আগমন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। এই বিড়ালের যাত্রাপথ ছিল মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ, সেখান থেকে ব্রিটিশ ভারত।
ব্রিটিশ শাসন আমলে কলকাতা ও বোম্বের (বর্তমান মুম্বাই) মতো বড় শহরগুলোতে ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের বসতি ছিল। তারা ইউরোপীয় জীবনযাত্রার নানা শৌখিন জিনিস এ দেশে নিয়ে আসতেন। ইতিহাস বা ‘কলোনিয়াল আরবান স্টাডিজ’ থেকে জানা যায়, ভিক্টোরিয়ান যুগের ব্রিটেনে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারগুলোর ঘরে পোষা প্রাণী রাখা ছিল আভিজাত্যের প্রতীক। এই ঘরোয়া সংস্কৃতি ব্রিটিশদের হাত ধরে ভারতীয় উপমহাদেশের ইউরোপীয় পাড়াগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে।
এই ধারাবাহিকতায় পার্সিয়ান বিড়ালও এই উপমহাদেশে প্রবেশ করে। তবে সে সময় এটি সাধারণ মানুষের পোষা প্রাণী ছিল না। কেবল সমাজের প্রভাবশালী, অভিজাত ও ধনী শ্রেণির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে এ দেশে পোষা প্রাণী পালনের শখ খুব একটা দেখা যেত না। সে সময় মূলত দেশি বিড়ালই ছিল মানুষের প্রধান সঙ্গী, আর পার্সিয়ান বিড়াল ছিল খুবই দুর্লভ বা বিরল।
এই অবস্থার পরিবর্তন শুরু হয় একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে। শহুরে মধ্যবিত্তের উত্থান, অ্যাপার্টমেন্ট সংস্কৃতির বিস্তার এবং বৈশ্বিক যোগাযোগের কারণে পোষা প্রাণীর প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে। এই সময় ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও চীন থেকে পার্সিয়ান ক্যাট আমদানি শুরু হয়। ধীরে ধীরে ঢাকায় গড়ে ওঠে পোষা প্রাণীর বাজার।

এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আসার পরে এই বাজারকে বদলে দেয়। ফেসবুক গ্রুপ, অনলাইন মার্কেটপ্লেস—সব মিলিয়ে পার্সিয়ান ক্যাট দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
উৎস বিবেচনায় পার্সিয়ান বিড়াল মূলত তিনভাবে আমরা পাই। বিদেশ থেকে আমদানি, পেট শপ এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে বাড়িতে ব্রিডিং বা প্রজনন।
দামের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের তফাৎ দেখা যায়। সাধারণত স্থানীয়ভাবে ব্রিড করা বা মিক্সড পার্সিয়ান বিড়ালের দাম ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। তুলনামূলক ভালো মানের বিড়াল বিক্রি হয় ১৫ থেকে ৪০ হাজার টাকায়। আর যেগুলোকে ‘ইম্পোর্টেড’ বা একদম ‘পিউর ব্রিড’ বলা হয়, সেগুলোর দাম ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা বা তারও বেশি হতে পারে।
বিড়ালের বয়স, গায়ের রং এসবের ওপর ভিত্তি করেও দাম কম-বেশি হয়। যেমন একটি বাইকালার বা ক্যালিকো রঙের বিড়ালছানার দাম ১৫ হাজার টাকা থেকে শুরু হতে পারে। আবার চোখের রং আর লোমের ধরনভেদে কোনো কোনো ছানার দাম ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
তবে এই বিড়ালগুলো আসলে কতটা ‘পিউর’ বা খাঁটি। বাংলাদেশে বিড়ালের জাত যাচাই বা ভেরিফাই করার মতো শক্তিশালী কোনো ব্যবস্থা নেই। এর ফলে অনেক সময় মিক্স ব্রিড বা মিশ্র জাতের বিড়ালকেও খাঁটি ‘পার্সিয়ান’ বলে চড়া দামে বিক্রি করা হয়। ক্রেতারাও অনেক সময় পার্সিয়ানের দামে খুশি মনে মিক্স বিড়াল কিনে নেন। অর্থাৎ, এই বাজারে বিড়ালের আসল বংশ পরিচয়ের চেয়ে তার সৌন্দর্য বা বাহ্যিক চেহারাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সাদাত হাসান মান্টোর ‘ঠান্ডা গোশত’ নিয়ে কিছু লেখার আগে তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয়পর্বটা বলা প্রয়োজন। তিন-চার বছর আগের কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শেষে বারান্দা থেকে নিচে তাকিয়ে দেখলাম, দেয়ালে বড় করে কোনো এক উক্তির পাশে লেখা—‘সাদাত হাসান মান্টো’। নামটা আগে কখনো শুনিনি। কৌতূহল নিয়ে গুগলে সার্চ করলাম। জানতে পা
২০ ঘণ্টা আগে
মান্টো মানুষের ভেতরে লুকিয়ে থাকা জটগুলো খুলে তাদের আসল রূপটি সামনে নিয়ে আসতেন। মানুষের ভিড়ে তিনি সেই সব মানুষকে বেছে নিতেন সমাজ যাঁদের ব্যর্থ মনে করত। মান্টোর মধ্যে এই মানুষগুলোকে নিয়ে এক রকমের ভালোবাসা ছিল।
২০ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সভাপতি, ভ্রমণপিপাসু ও বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী নিয়াজ আব্দুর রহমান এবং তাঁর দল সম্প্রতি কেনিয়ার লাইকিপিয়া অঞ্চলে এক বিরল অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। তাঁদের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে বিশ্বের অন্যতম বিরল ও রহস্যময় প্রাণী বিখ্যাত ব্ল্যাক প্যান্থার ‘গিজা’। দাবি করা হচ্ছে, এটিই প্রথম কোনো বা
২১ ঘণ্টা আগে
আজ ১১ মে বব মার্লের মৃত্যুদিন। তিনি আজ বেঁচে থাকলে কি বিপ্লবী শিল্পীই থাকতেন? নাকি আধুনিক বাজারব্যবস্থা তাঁকেও স্রেফ একটি ‘ব্র্যান্ডে’ পরিণত করত? এই প্রশ্নটা বড্ড অস্বস্তিকর, কিন্তু জরুরি।
১ দিন আগে