ফারুক মঈনউদ্দীন

মন্দ বা খেলাপি ঋণের পাহাড় কমাতে সম্প্রতি বিশেষ ‘এক্সিট’ বা প্রস্থান সুবিধা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, খেলাপি গ্রাহকেরা তাদের ঋণের পুরো টাকা এককালীন পরিশোধ করে দায়মুক্ত হতে পারবেন। এককালীন পুরো টাকা পরিশোধ করলে আরোপিত ও অনারোপিত উভয় ধরনের সুদ মওকুফের সুবিধা পাবেন তারা।
আপাতদৃষ্টিতে ব্যাংকের তারল্য বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি মামলার জট কমানোর ক্ষেত্রে এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ মনে হলেও এর ভেতরে বেশ কিছু প্রায়োগিক জটিলতা ও নীতিগত প্রশ্ন লুকিয়ে আছে।
প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো, ঋণের ‘আসল’ বা ‘মূল প্রিন্সিপাল’-এর সংজ্ঞা নিয়ে। ব্যাংকের প্রচলিত নিয়ম অনুসারে প্রতি ত্রৈমাসিকে ঋণ হিসাবের ওপর সুদ আরোপ করে ঋণ হিসাব বিকলন করার পর সুদাসল মিলিয়ে নতুন আসল বা 'প্রিন্সিপাল’ তৈরি হয়। এভাবে বিগত কয়েক বছর ধরে ঋণ সুবিধা ভোগকারী গ্রাহকের হিসাবে প্রতি প্রান্তিকেই ঋণের ওপর সুদ যুক্ত হয়েছে এবং সেই সুদ আসলের সাথে মিশে গিয়ে নতুন ‘আসল’-এ পরিণত হয়েছে। ব্যাংক সেই সুদকে নিজেদের আয় খাতে স্থানান্তর করেছে এবং সেটি মূল ঋণের পরিমাণের (প্রিন্সিপাল) ভেতরে ঢুকে গেছে। এখন ‘এক্সিট’ সুবিধার আওতায় এককালীন পরিশোধের সময় গ্রাহক কি শুধু প্রাথমিক আসল টাকা ফেরত দেবেন, নাকি বিগত বছরগুলোতে আসলের সঙ্গে সুদ যুক্ত হয়ে যে নতুন আসল হয়েছে, সেটি ধরা হবে?
ব্যাংকিং নিয়মানুযায়ী, ব্যাংক যখন আরোপিত সুদ আয়ে নিয়ে যায়, তখন তা ঋণের আসলের সাথে যুক্ত হয়ে প্রিন্সিপালে পরিণত হয়। যে সুদের টাকা ব্যাংক ইতোমধ্যে আয়ে দেখিয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করে সরকারকে আয়কর প্রদান করেছে এবং শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিয়েছে, সেই টাকা ব্যাংকের পক্ষে কোনোভাবেই মওকুফ করা বা ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে এ বিষয়টির সুস্পষ্ট ফয়সালা হওয়া জরুরি, তা না হলে খেলাপি ঋণ গ্রহীতারা এই অস্পষ্ট বিষয় নিয়ে নতুন বাহানা তৈরি করার অবকাশ পাবেন।
তবে ঋণ হিসাবটি খেলাপি হওয়ার পর যে সুদ আরোপিত হয়েছে—যা ব্যাংক এখনও আয়ে দেখায়নি বা যাকে ‘সাসপেন্স ইন্টারেস্ট’ বলা হয়—কেবলমাত্র সেই সুদই মওকুফযোগ্য হতে পারে। আয়ে পরিণত হওয়া সুদের অংশটুকু কোনোভাবেই মওকুফ করা যৌক্তিক হবে না এবং তাতে নতুন জটিলতা দেখা দিতে পারে ।
খেলাপি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে স্থগিত সুদ মওকুফ করে আসল টাকা এককালীন আদায়ের এই প্রক্রিয়াকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখা উচিত। এর পেছনে প্রধান কারণ হলো ‘অর্থের সময়মূল্য’ বা টাইম ভ্যালু অফ মানি। একজন খেলাপি গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য মামলা-মোকদ্দমা করলে তা নিষ্পত্তি হতে পাঁচ থেকে সাত বছর লেগে যেতে পারে। এত বছর পর সুদে-আসলে টাকা পাওয়ার চেয়ে বর্তমান সময়ে আসল টাকাটা নগদে পেয়ে যাওয়া ব্যাংকের জন্য অনেক বেশি লাভজনক। এতে ব্যাংকের হাতে নগদ টাকা আসবে, তারল্য সংকট কাটবে এবং আটকে থাকা মূলধন নতুন করে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
এই নীতিমালায় স্বল্পমেয়াদী কৃষি ঋণ এবং ক্ষুদ্র ঋণগুলোকে সুদ ছাড়া শুধু আসল ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ সঠিক সিদ্ধান্ত। কারণ এ খাতের ঋণগ্রহীতারা সাধারণত অত্যন্ত আন্তরিক হন এবং তারা ব্যাংক ঋণ শোধ করতে চান। তারা বড় বড় রাঘববোয়াল বা প্রভাবশালী ঋণগ্রহীতাদের মতো ইচ্ছাকৃতভাবে খেলাপি হন না। তাই তাদের এই সুবিধা দেওয়াটা শতভাগ সমর্থনযোগ্য।
কিন্তু এর পাশাপাশি একটি বড় শঙ্কার জায়গা রয়েছে। যারা এককালীন এই সুবিধা নিয়ে এক্সিট নিলেন, তারা কি ভবিষ্যতে আবারও ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন? যদি পান, তবে তারা যে পুনরায় খেলাপি হবেন না, তার নিশ্চয়তা কোথায়?
সবচেয়ে বড় কথা, যারা ‘ইচ্ছাকৃত খেলাপি’ হিসেবে চিহ্নিত, তাদের ক্ষেত্রে সরকার কী পদক্ষেপ নেবেন? তাদেরকে কোনোভাবেই সুবিধা দেওয়া উচিত নয়। তাদের সুবিধা দেওয়ার অর্থ হলো অন্যায়ের সাথে আপোষ করা। ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য ছাড় নয়, বরং সরকারের উচিত আইনের কঠোর প্রয়োগ করা। প্রয়োজনে আইন সংস্কার করে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করার জন্য ব্যাংকগুলোকে সক্ষমতা দিতে হবে। ব্যবসার মালিকানা পরিবর্তন করেও এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এতে প্রকৃত খেলাপি শাস্তির আওতার বাইরে চলে যাবে।
ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার মতো দৃশ্যমান শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। যেমনটা চীনে করা হয়েছে—খেলাপিদের বিজনেস ক্লাসে ভ্রমণ করতে না দেওয়া, বিলাসবহুল জীবনযাপনে বিধিনিষেধ আরোপ করা ইত্যাদি। এ ধরনের শাস্তি নিশ্চিত করা গেলেই কেবল তারা টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হবে।
খেলাপি ঋণ আদায়ের সমাধান মূলত নির্ভর করে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। সরকারের তথা আইন প্রণেতাদের যদি সদিচ্ছা থাকে, তাহলে কঠোর আইন করে ঋণ আদায় সহজতর হবে। এব্যাপারে আমাদের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি, ইচ্ছাকৃত খেলাপি আইনটি ভারতে চালু হলেও আমরা সেটা চালু করতে সময় নিয়েছি প্রায় চব্বিশ বছর। এবং সেই আইনটিও খুব দায়সারা গোছের, অনেকটা যেন অনিচ্ছায় করা। আমাদের দেশের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এজাতীয় কঠোর আইন করা সম্ভব যদি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মহল থেকে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশ আসে।
সর্বোপরি বড় ঋণ খেলাপিরা এককালীন পরিশোধের এই সুযোগ নিতে পারবেন কি না, তাতেও সন্দেহ রয়েছে। কারণ বড় খেলাপিদের ঋনের বৃহদাংশ হয় পাচার হয়ে গেছে, কিংবা এমন জায়গায় বিনিয়োজিত হয়েছে, যেখান থেকে অর্থ উদ্ধার করা সহজ হবে না। তবে ভরসার কথা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ গ্রহীতারা এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারবেন বলে ধারণা করা যায়।

মন্দ বা খেলাপি ঋণের পাহাড় কমাতে সম্প্রতি বিশেষ ‘এক্সিট’ বা প্রস্থান সুবিধা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, খেলাপি গ্রাহকেরা তাদের ঋণের পুরো টাকা এককালীন পরিশোধ করে দায়মুক্ত হতে পারবেন। এককালীন পুরো টাকা পরিশোধ করলে আরোপিত ও অনারোপিত উভয় ধরনের সুদ মওকুফের সুবিধা পাবেন তারা।
আপাতদৃষ্টিতে ব্যাংকের তারল্য বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি মামলার জট কমানোর ক্ষেত্রে এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ মনে হলেও এর ভেতরে বেশ কিছু প্রায়োগিক জটিলতা ও নীতিগত প্রশ্ন লুকিয়ে আছে।
প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো, ঋণের ‘আসল’ বা ‘মূল প্রিন্সিপাল’-এর সংজ্ঞা নিয়ে। ব্যাংকের প্রচলিত নিয়ম অনুসারে প্রতি ত্রৈমাসিকে ঋণ হিসাবের ওপর সুদ আরোপ করে ঋণ হিসাব বিকলন করার পর সুদাসল মিলিয়ে নতুন আসল বা 'প্রিন্সিপাল’ তৈরি হয়। এভাবে বিগত কয়েক বছর ধরে ঋণ সুবিধা ভোগকারী গ্রাহকের হিসাবে প্রতি প্রান্তিকেই ঋণের ওপর সুদ যুক্ত হয়েছে এবং সেই সুদ আসলের সাথে মিশে গিয়ে নতুন ‘আসল’-এ পরিণত হয়েছে। ব্যাংক সেই সুদকে নিজেদের আয় খাতে স্থানান্তর করেছে এবং সেটি মূল ঋণের পরিমাণের (প্রিন্সিপাল) ভেতরে ঢুকে গেছে। এখন ‘এক্সিট’ সুবিধার আওতায় এককালীন পরিশোধের সময় গ্রাহক কি শুধু প্রাথমিক আসল টাকা ফেরত দেবেন, নাকি বিগত বছরগুলোতে আসলের সঙ্গে সুদ যুক্ত হয়ে যে নতুন আসল হয়েছে, সেটি ধরা হবে?
ব্যাংকিং নিয়মানুযায়ী, ব্যাংক যখন আরোপিত সুদ আয়ে নিয়ে যায়, তখন তা ঋণের আসলের সাথে যুক্ত হয়ে প্রিন্সিপালে পরিণত হয়। যে সুদের টাকা ব্যাংক ইতোমধ্যে আয়ে দেখিয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করে সরকারকে আয়কর প্রদান করেছে এবং শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিয়েছে, সেই টাকা ব্যাংকের পক্ষে কোনোভাবেই মওকুফ করা বা ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে এ বিষয়টির সুস্পষ্ট ফয়সালা হওয়া জরুরি, তা না হলে খেলাপি ঋণ গ্রহীতারা এই অস্পষ্ট বিষয় নিয়ে নতুন বাহানা তৈরি করার অবকাশ পাবেন।
তবে ঋণ হিসাবটি খেলাপি হওয়ার পর যে সুদ আরোপিত হয়েছে—যা ব্যাংক এখনও আয়ে দেখায়নি বা যাকে ‘সাসপেন্স ইন্টারেস্ট’ বলা হয়—কেবলমাত্র সেই সুদই মওকুফযোগ্য হতে পারে। আয়ে পরিণত হওয়া সুদের অংশটুকু কোনোভাবেই মওকুফ করা যৌক্তিক হবে না এবং তাতে নতুন জটিলতা দেখা দিতে পারে ।
খেলাপি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে স্থগিত সুদ মওকুফ করে আসল টাকা এককালীন আদায়ের এই প্রক্রিয়াকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখা উচিত। এর পেছনে প্রধান কারণ হলো ‘অর্থের সময়মূল্য’ বা টাইম ভ্যালু অফ মানি। একজন খেলাপি গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য মামলা-মোকদ্দমা করলে তা নিষ্পত্তি হতে পাঁচ থেকে সাত বছর লেগে যেতে পারে। এত বছর পর সুদে-আসলে টাকা পাওয়ার চেয়ে বর্তমান সময়ে আসল টাকাটা নগদে পেয়ে যাওয়া ব্যাংকের জন্য অনেক বেশি লাভজনক। এতে ব্যাংকের হাতে নগদ টাকা আসবে, তারল্য সংকট কাটবে এবং আটকে থাকা মূলধন নতুন করে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
এই নীতিমালায় স্বল্পমেয়াদী কৃষি ঋণ এবং ক্ষুদ্র ঋণগুলোকে সুদ ছাড়া শুধু আসল ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ সঠিক সিদ্ধান্ত। কারণ এ খাতের ঋণগ্রহীতারা সাধারণত অত্যন্ত আন্তরিক হন এবং তারা ব্যাংক ঋণ শোধ করতে চান। তারা বড় বড় রাঘববোয়াল বা প্রভাবশালী ঋণগ্রহীতাদের মতো ইচ্ছাকৃতভাবে খেলাপি হন না। তাই তাদের এই সুবিধা দেওয়াটা শতভাগ সমর্থনযোগ্য।
কিন্তু এর পাশাপাশি একটি বড় শঙ্কার জায়গা রয়েছে। যারা এককালীন এই সুবিধা নিয়ে এক্সিট নিলেন, তারা কি ভবিষ্যতে আবারও ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন? যদি পান, তবে তারা যে পুনরায় খেলাপি হবেন না, তার নিশ্চয়তা কোথায়?
সবচেয়ে বড় কথা, যারা ‘ইচ্ছাকৃত খেলাপি’ হিসেবে চিহ্নিত, তাদের ক্ষেত্রে সরকার কী পদক্ষেপ নেবেন? তাদেরকে কোনোভাবেই সুবিধা দেওয়া উচিত নয়। তাদের সুবিধা দেওয়ার অর্থ হলো অন্যায়ের সাথে আপোষ করা। ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য ছাড় নয়, বরং সরকারের উচিত আইনের কঠোর প্রয়োগ করা। প্রয়োজনে আইন সংস্কার করে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করার জন্য ব্যাংকগুলোকে সক্ষমতা দিতে হবে। ব্যবসার মালিকানা পরিবর্তন করেও এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এতে প্রকৃত খেলাপি শাস্তির আওতার বাইরে চলে যাবে।
ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার মতো দৃশ্যমান শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। যেমনটা চীনে করা হয়েছে—খেলাপিদের বিজনেস ক্লাসে ভ্রমণ করতে না দেওয়া, বিলাসবহুল জীবনযাপনে বিধিনিষেধ আরোপ করা ইত্যাদি। এ ধরনের শাস্তি নিশ্চিত করা গেলেই কেবল তারা টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হবে।
খেলাপি ঋণ আদায়ের সমাধান মূলত নির্ভর করে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। সরকারের তথা আইন প্রণেতাদের যদি সদিচ্ছা থাকে, তাহলে কঠোর আইন করে ঋণ আদায় সহজতর হবে। এব্যাপারে আমাদের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি, ইচ্ছাকৃত খেলাপি আইনটি ভারতে চালু হলেও আমরা সেটা চালু করতে সময় নিয়েছি প্রায় চব্বিশ বছর। এবং সেই আইনটিও খুব দায়সারা গোছের, অনেকটা যেন অনিচ্ছায় করা। আমাদের দেশের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এজাতীয় কঠোর আইন করা সম্ভব যদি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মহল থেকে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশ আসে।
সর্বোপরি বড় ঋণ খেলাপিরা এককালীন পরিশোধের এই সুযোগ নিতে পারবেন কি না, তাতেও সন্দেহ রয়েছে। কারণ বড় খেলাপিদের ঋনের বৃহদাংশ হয় পাচার হয়ে গেছে, কিংবা এমন জায়গায় বিনিয়োজিত হয়েছে, যেখান থেকে অর্থ উদ্ধার করা সহজ হবে না। তবে ভরসার কথা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ গ্রহীতারা এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারবেন বলে ধারণা করা যায়।
.png)

গাজায় ইসরায়েলের হামলা তিন বছর গড়াতে চলেছে। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে পূর্ব জেরুজালেম, সিরিয়া ও লেবাননেও। অথচ আরব দেশগুলো শুধু উদ্বেগ প্রকাশ, প্রতীকী ত্রাণ সহায়তা পাঠানো এবং জাতিসংঘে বৈঠকের আহ্বান জানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। এসব উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত তাদের সম্মিলিত নিষ্ক্রিয়তাকেই আরও স্পষ্ট করেছে।
২ ঘণ্টা আগে
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া। আন্দোলনের শুরু, সরকার পতনের দিকে মোড় নেওয়া, ডিবি হেফাজতের অভিজ্ঞতা, অন্তর্বর্তী সরকার গঠন এবং গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পরের রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছে ঢাকা স্ট্রিম।
১৪ ঘণ্টা আগে
পুরো জুলাই মরণপণ লড়াই করে যখন ৫ আগস্ট গণভবনের দেয়াল ধ্বসে পড়ল আর হড়পা বানের মতো ঢুকে পড়ল বাংলাদেশের মানুষ, আক্ষরিক অর্থেই সেখানে কোনো এক শ্রেণির মানুষ ছিল না। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া জুলাই গণঅভ্যুত্থান আশ্চর্যজনকভাবে রূপ নিয়েছিল জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবে।
১৭ ঘণ্টা আগে
এহ্সান মাহমুদ; সাংবাদিক, লেখক, কথাসাহিত্যিক। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাধিকবার চাকরি হারাতে হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তিনি একজন অ্যাক্টিভিস্ট ও লেখক হিসেবে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
১৮ ঘণ্টা আগে