ড. খালিদুর রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দলটি দীর্ঘ বিরতির শেষে আবার রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পেয়েছে। কিন্তু তার সরকারের সামনে যে বাংলাদেশ, তা জিয়াউর রহমানের সময়ের বাংলাদেশ নয়, খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের সময়ের বাংলাদেশও নয়। আজকের বাংলাদেশ জনসংখ্যা, অর্থনীতি, শিল্প, নগরায়ণ, প্রযুক্তি, রপ্তানি ও বৈদেশিক বাণিজ্যের দিক থেকে অনেক বড়।
একই সঙ্গে সংকটও বহুমাত্রিক। মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, ব্যাংকিং খাত, বিনিয়োগ, বৈদেশিক মুদ্রা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা নিয়ে সরকারের সামনে কঠিন পরীক্ষা।
এই পরীক্ষার সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রকাশ এখন জ্বালানি খাতে। আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে গ্যাস সংকট চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে। ১৩ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বাধাগ্রস্ত হয় এবং গ্রামাঞ্চলের দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাতেও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা শুরু হয়। ১৪ আগস্ট সামিটের এলএনজি টার্মিনালে সাময়িক সরবরাহ বিঘ্ন পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে। পরে টার্মিনাল থেকে প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়ার খবর এলেও সংকটের মৌলিক ঝুঁকি থেকে গেছে।
এই পরিস্থিতি তারেক রহমান সরকারের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন রেখেছে: উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সংকটের দায় কোথায় শেষ এবং বর্তমান সরকারের দায় কোথা থেকে শুরু? রাষ্ট্র পরিচালনায় এই সীমারেখা বোঝা জরুরি। কোনো সরকার ক্ষমতায় এসে শূন্য পাতা হাতে পায় না। আগের সরকারের নীতি, প্রশাসনিক কাঠামো, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত, অবকাঠামো এবং অসমাপ্ত কাজ নতুন সরকারের হাতে আসে। ফলে নতুন সরকারের প্রথম দায়িত্ব হলো উত্তরাধিকারকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করা; দ্বিতীয় দায়িত্ব হলো সেই উত্তরাধিকারকে অজুহাত না বানিয়ে পরিবর্তনের সূচনা করা।
বাংলাদেশের ইতিহাসে বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা এই প্রশ্নকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে। জিয়াউর রহমানের সময় বাংলাদেশ ছিল যুদ্ধোত্তর দুর্বল অর্থনীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, উৎপাদন ঘাটতি ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার দেশ। কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে তিনি ১৯ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছিলেন। বেসরকারি খাতের ভূমিকা বাড়ানোর প্রবণতাও তখন শক্তিশালী হয়।
১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের সামনে ছিল ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ। সামরিক শাসনের পর সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতের বিকাশ ছিল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পরবর্তী সময়ে তৈরি পোশাক, প্রবাসী আয়, কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নতুন মাত্রা দেয়।
তারেক রহমানের সরকারের বাংলাদেশ সেই সময়ের তুলনায় অনেক জটিল। অর্থনীতি বড় হয়েছে, কিন্তু অর্থনীতির আন্তঃনির্ভরতাও বেড়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাস প্রয়োজন, গ্যাসের ঘাটতি পূরণে এলএনজি প্রয়োজন, এলএনজি আমদানিতে ডলার প্রয়োজন, ডলার জোগাতে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের প্রয়োজন, আর শিল্প উৎপাদন নির্ভর করে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ওপর। ফলে জ্বালানি সংকট এখন অর্থনীতির অন্য সব খাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, বাংলাদেশের মোট গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ৪২ শতাংশ বিদ্যুৎ খাতে যায় এবং গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের স্থাপিত সক্ষমতা ও মোট উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখে। ফলে গ্যাস সরবরাহ কমে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তার প্রভাব দ্রুত পড়ে।
এই কাঠামোগত দুর্বলতা বর্তমান সরকারের তৈরি নয়। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন দীর্ঘদিন ধরে কমেছে। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৩০টি আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে ২০টি বর্তমানে উৎপাদনে রয়েছে এবং দেশীয় উৎপাদন প্রায় ১,৬৩০ মিলিয়ন ঘনফুট। অন্যদিকে দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন ঘনফুট। ফলে ক্ষমতায় আসার দিন থেকেই বর্তমান সরকার বড় সরবরাহ ঘাটতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও সরকারকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে কাতার থেকে বাংলাদেশের নির্ধারিত এলএনজি সরবরাহ ২০২৬ সালে প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশকে স্পট মার্কেট থেকে অতিরিক্ত কার্গো সংগ্রহ করতে হয়েছে। বিশ্বব্যাংকও বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে মূল্য ও সরবরাহের ঝুঁকি বাড়িয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা ও সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি করছে।
কিন্তু এখানেই বর্তমান সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা। আন্তর্জাতিক যুদ্ধ বন্ধ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়, পূর্ববর্তী সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ভুলও রাতারাতি সংশোধন করা সম্ভব নয়। কিন্তু বিকল্প এলএনজি উৎস খোঁজা, সরবরাহ চুক্তি বৈচিত্র্যময় করা, টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ত্বরান্বিত করা, বিদ্যুৎকেন্দ্রে অগ্রাধিকারভিত্তিতে গ্যাস দেওয়া এবং জনগণকে নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়া বর্তমান সরকারের দায়িত্ব।
এই ক্ষেত্রে সরকারের কিছু উদ্যোগ ইতিমধ্যে সামনে এসেছে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়াতে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের পরিকল্পনা জানানো হয়েছে। নতুন অনশোর ও অফশোর অনুসন্ধান, সিসমিক জরিপ এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যও জানিয়েছে।
এই উদ্যোগগুলোর সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের গতির ওপর। পরিকল্পনা ঘোষণা করলেই জ্বালানি নিরাপত্তা তৈরি হয় না। একটি অনুসন্ধান কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদনে সময় লাগে। অফশোর ব্লক বরাদ্দের পরও অনুসন্ধান, মূল্যায়ন ও উন্নয়ন প্রয়োজন। সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে গ্রিড সক্ষমতা, জমি, অর্থায়ন ও সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নতি দরকার। ফলে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হবে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন।
একই কথা প্রযোজ্য এলএনজি অবকাঠামোর ক্ষেত্রেও। সরকার নতুন এফএসআরইউ এবং স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। কিন্তু জুলাইয়ে এক্সিলারেটের টার্মিনাল অচল হয়ে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ কমে যাওয়া এবং আগস্টে সামিট টার্মিনালে সাময়িক বিঘ্ন প্রমাণ করেছে যে শুধু টার্মিনালের সংখ্যা বাড়ানো যথেষ্ট নয়। বিকল্প সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ, পাইপলাইন এবং জরুরি ব্যবস্থাপনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তারেক রহমান সরকারের জন্য আরেকটি বড় পরীক্ষা হবে অর্থনীতি ও জ্বালানি নীতিকে একই কাঠামোয় দেখা। এলএনজি আমদানিতে ডলার ব্যয় হয়। জ্বালানি ঘাটতিতে শিল্প উৎপাদন কমলে রপ্তানি আয় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বাড়লে সরকারি অর্থের ওপর চাপ বাড়ে। মূল্যস্ফীতি বাড়লে মানুষের প্রকৃত আয় কমে। ফলে জ্বালানি সংকটকে শুধু বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সমস্যা হিসেবে দেখলে ভুল হবে।
ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা বাড়ানোর প্রশ্নও একই সঙ্গে সামনে থাকবে। বিনিয়োগকারীরা নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও গ্যাস চান। শিল্প উদ্যোক্তারা দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি চুক্তির নিশ্চয়তা চান। কৃষক সেচের জ্বালানি চান। তরুণরা কর্মসংস্থান চান। ফলে রাষ্ট্র পরিচালনার সাফল্য শেষ পর্যন্ত মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পরিমাপ হবে।
এখানে সময়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়া সরকারের কাছে কয়েক মাসের মধ্যে বহু দশকের সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। কিন্তু সময়ের স্বল্পতা জবাবদিহির বিকল্পও নয়। জনগণ জানতে চাইবে সরকার কী পেয়েছে, কী পরিকল্পনা করেছে, কতটা বাস্তবায়ন করেছে এবং কোথায় ব্যর্থ হয়েছে। সেই তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা সরকারের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য জরুরি।
সরকারের জন্য তাই দায়ের রাজনীতি থেকে ফলাফলের রাজনীতিতে যাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পূর্ববর্তী সরকার কী রেখে গেছে, সেই হিসাব অবশ্যই থাকবে। কিন্তু পাঁচ বছর পর জনগণের প্রশ্ন হবে না শুধু কে সংকট তৈরি করেছিল। প্রশ্ন হবে, তারেক রহমান সরকার কী পরিবর্তন করেছে। গ্যাস উৎপাদন কতটা বেড়েছে, এলএনজি নির্ভরতার ঝুঁকি কতটা কমেছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ কতটা নির্ভরযোগ্য হয়েছে, শিল্পের উৎপাদন কতটা বেড়েছে এবং মূল্যস্ফীতি কতটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, এসব ফলাফলই শেষ পর্যন্ত সরকারের মূল্যায়নের ভিত্তি হবে।
বিএনপির অতীত অভিজ্ঞতা বর্তমান সরকারের জন্য নীতিগত শিক্ষা হতে পারে। জিয়াউর রহমানের সময় উৎপাদন ও গ্রামীণ উন্নয়নের ওপর জোর, খালেদা জিয়ার সময়ে সংসদীয় গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক সংস্কারের অভিজ্ঞতা এবং গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতির রূপান্তর বর্তমান নীতিনির্ধারণে কাজে লাগানো সম্ভব। তবে অতীতের সাফল্য বর্তমানের সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়।
তারেক রহমানের সামনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সুযোগও এখানেই। সংকটকে রাজনৈতিক অভিযোগের স্থায়ী চক্রে না রেখে জাতীয় সংস্কারের ভিত্তিতে রূপ দেওয়া গেলে বর্তমান দুর্ভোগ ভবিষ্যতের শক্তিতে পরিণত হতে পারে। ১৫ থেকে ২০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি উৎসের বৈচিত্র্য, নবায়নযোগ্য শক্তি, আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্য, কৌশলগত মজুত ও শক্তি দক্ষতা একই জাতীয় পরিকল্পনায় আনতে হবে।
শেষ পর্যন্ত ইতিহাস কোনো সরকারকে শুধু তার উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যার জন্য বিচার করবে না। বিচার করবে সেই সমস্যার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সরকার কী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, কতটা দক্ষতার সঙ্গে তা বাস্তবায়ন করেছিল এবং সাধারণ মানুষের জীবনে তার কী ফল হয়েছিল।
তারেক রহমান সরকার সংকটের বাংলাদেশ পেয়েছে। এই সংকটের অনেক অংশ তার তৈরি নয়। কিন্তু সংকট থেকে বের হওয়ার পথ তৈরি করার দায়িত্ব এখন তার সরকারের। আন্তর্জাতিক যুদ্ধ, পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রের পতন এবং পূর্ববর্তী নীতির সীমাবদ্ধতা বাস্তবতা ব্যাখ্যা করতে পারে; ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্ত। তাই রাষ্ট্র পরিচালনায় তারেক রহমানের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নয়, সংকটকে সংস্কারে রূপান্তরের সক্ষমতা।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দলটি দীর্ঘ বিরতির শেষে আবার রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পেয়েছে। কিন্তু তার সরকারের সামনে যে বাংলাদেশ, তা জিয়াউর রহমানের সময়ের বাংলাদেশ নয়, খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের সময়ের বাংলাদেশও নয়। আজকের বাংলাদেশ জনসংখ্যা, অর্থনীতি, শিল্প, নগরায়ণ, প্রযুক্তি, রপ্তানি ও বৈদেশিক বাণিজ্যের দিক থেকে অনেক বড়।
একই সঙ্গে সংকটও বহুমাত্রিক। মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, ব্যাংকিং খাত, বিনিয়োগ, বৈদেশিক মুদ্রা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা নিয়ে সরকারের সামনে কঠিন পরীক্ষা।
এই পরীক্ষার সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রকাশ এখন জ্বালানি খাতে। আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে গ্যাস সংকট চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে। ১৩ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বাধাগ্রস্ত হয় এবং গ্রামাঞ্চলের দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাতেও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা শুরু হয়। ১৪ আগস্ট সামিটের এলএনজি টার্মিনালে সাময়িক সরবরাহ বিঘ্ন পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে। পরে টার্মিনাল থেকে প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়ার খবর এলেও সংকটের মৌলিক ঝুঁকি থেকে গেছে।
এই পরিস্থিতি তারেক রহমান সরকারের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন রেখেছে: উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সংকটের দায় কোথায় শেষ এবং বর্তমান সরকারের দায় কোথা থেকে শুরু? রাষ্ট্র পরিচালনায় এই সীমারেখা বোঝা জরুরি। কোনো সরকার ক্ষমতায় এসে শূন্য পাতা হাতে পায় না। আগের সরকারের নীতি, প্রশাসনিক কাঠামো, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত, অবকাঠামো এবং অসমাপ্ত কাজ নতুন সরকারের হাতে আসে। ফলে নতুন সরকারের প্রথম দায়িত্ব হলো উত্তরাধিকারকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করা; দ্বিতীয় দায়িত্ব হলো সেই উত্তরাধিকারকে অজুহাত না বানিয়ে পরিবর্তনের সূচনা করা।
বাংলাদেশের ইতিহাসে বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা এই প্রশ্নকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে। জিয়াউর রহমানের সময় বাংলাদেশ ছিল যুদ্ধোত্তর দুর্বল অর্থনীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, উৎপাদন ঘাটতি ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার দেশ। কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে তিনি ১৯ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছিলেন। বেসরকারি খাতের ভূমিকা বাড়ানোর প্রবণতাও তখন শক্তিশালী হয়।
১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের সামনে ছিল ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ। সামরিক শাসনের পর সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতের বিকাশ ছিল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পরবর্তী সময়ে তৈরি পোশাক, প্রবাসী আয়, কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নতুন মাত্রা দেয়।
তারেক রহমানের সরকারের বাংলাদেশ সেই সময়ের তুলনায় অনেক জটিল। অর্থনীতি বড় হয়েছে, কিন্তু অর্থনীতির আন্তঃনির্ভরতাও বেড়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাস প্রয়োজন, গ্যাসের ঘাটতি পূরণে এলএনজি প্রয়োজন, এলএনজি আমদানিতে ডলার প্রয়োজন, ডলার জোগাতে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের প্রয়োজন, আর শিল্প উৎপাদন নির্ভর করে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ওপর। ফলে জ্বালানি সংকট এখন অর্থনীতির অন্য সব খাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, বাংলাদেশের মোট গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ৪২ শতাংশ বিদ্যুৎ খাতে যায় এবং গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের স্থাপিত সক্ষমতা ও মোট উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখে। ফলে গ্যাস সরবরাহ কমে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তার প্রভাব দ্রুত পড়ে।
এই কাঠামোগত দুর্বলতা বর্তমান সরকারের তৈরি নয়। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন দীর্ঘদিন ধরে কমেছে। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৩০টি আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে ২০টি বর্তমানে উৎপাদনে রয়েছে এবং দেশীয় উৎপাদন প্রায় ১,৬৩০ মিলিয়ন ঘনফুট। অন্যদিকে দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন ঘনফুট। ফলে ক্ষমতায় আসার দিন থেকেই বর্তমান সরকার বড় সরবরাহ ঘাটতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও সরকারকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে কাতার থেকে বাংলাদেশের নির্ধারিত এলএনজি সরবরাহ ২০২৬ সালে প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশকে স্পট মার্কেট থেকে অতিরিক্ত কার্গো সংগ্রহ করতে হয়েছে। বিশ্বব্যাংকও বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে মূল্য ও সরবরাহের ঝুঁকি বাড়িয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা ও সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি করছে।
কিন্তু এখানেই বর্তমান সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা। আন্তর্জাতিক যুদ্ধ বন্ধ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়, পূর্ববর্তী সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ভুলও রাতারাতি সংশোধন করা সম্ভব নয়। কিন্তু বিকল্প এলএনজি উৎস খোঁজা, সরবরাহ চুক্তি বৈচিত্র্যময় করা, টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ত্বরান্বিত করা, বিদ্যুৎকেন্দ্রে অগ্রাধিকারভিত্তিতে গ্যাস দেওয়া এবং জনগণকে নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়া বর্তমান সরকারের দায়িত্ব।
এই ক্ষেত্রে সরকারের কিছু উদ্যোগ ইতিমধ্যে সামনে এসেছে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়াতে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের পরিকল্পনা জানানো হয়েছে। নতুন অনশোর ও অফশোর অনুসন্ধান, সিসমিক জরিপ এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যও জানিয়েছে।
এই উদ্যোগগুলোর সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের গতির ওপর। পরিকল্পনা ঘোষণা করলেই জ্বালানি নিরাপত্তা তৈরি হয় না। একটি অনুসন্ধান কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদনে সময় লাগে। অফশোর ব্লক বরাদ্দের পরও অনুসন্ধান, মূল্যায়ন ও উন্নয়ন প্রয়োজন। সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে গ্রিড সক্ষমতা, জমি, অর্থায়ন ও সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নতি দরকার। ফলে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হবে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন।
একই কথা প্রযোজ্য এলএনজি অবকাঠামোর ক্ষেত্রেও। সরকার নতুন এফএসআরইউ এবং স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। কিন্তু জুলাইয়ে এক্সিলারেটের টার্মিনাল অচল হয়ে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ কমে যাওয়া এবং আগস্টে সামিট টার্মিনালে সাময়িক বিঘ্ন প্রমাণ করেছে যে শুধু টার্মিনালের সংখ্যা বাড়ানো যথেষ্ট নয়। বিকল্প সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ, পাইপলাইন এবং জরুরি ব্যবস্থাপনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তারেক রহমান সরকারের জন্য আরেকটি বড় পরীক্ষা হবে অর্থনীতি ও জ্বালানি নীতিকে একই কাঠামোয় দেখা। এলএনজি আমদানিতে ডলার ব্যয় হয়। জ্বালানি ঘাটতিতে শিল্প উৎপাদন কমলে রপ্তানি আয় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বাড়লে সরকারি অর্থের ওপর চাপ বাড়ে। মূল্যস্ফীতি বাড়লে মানুষের প্রকৃত আয় কমে। ফলে জ্বালানি সংকটকে শুধু বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সমস্যা হিসেবে দেখলে ভুল হবে।
ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা বাড়ানোর প্রশ্নও একই সঙ্গে সামনে থাকবে। বিনিয়োগকারীরা নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও গ্যাস চান। শিল্প উদ্যোক্তারা দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি চুক্তির নিশ্চয়তা চান। কৃষক সেচের জ্বালানি চান। তরুণরা কর্মসংস্থান চান। ফলে রাষ্ট্র পরিচালনার সাফল্য শেষ পর্যন্ত মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পরিমাপ হবে।
এখানে সময়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়া সরকারের কাছে কয়েক মাসের মধ্যে বহু দশকের সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। কিন্তু সময়ের স্বল্পতা জবাবদিহির বিকল্পও নয়। জনগণ জানতে চাইবে সরকার কী পেয়েছে, কী পরিকল্পনা করেছে, কতটা বাস্তবায়ন করেছে এবং কোথায় ব্যর্থ হয়েছে। সেই তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা সরকারের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য জরুরি।
সরকারের জন্য তাই দায়ের রাজনীতি থেকে ফলাফলের রাজনীতিতে যাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পূর্ববর্তী সরকার কী রেখে গেছে, সেই হিসাব অবশ্যই থাকবে। কিন্তু পাঁচ বছর পর জনগণের প্রশ্ন হবে না শুধু কে সংকট তৈরি করেছিল। প্রশ্ন হবে, তারেক রহমান সরকার কী পরিবর্তন করেছে। গ্যাস উৎপাদন কতটা বেড়েছে, এলএনজি নির্ভরতার ঝুঁকি কতটা কমেছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ কতটা নির্ভরযোগ্য হয়েছে, শিল্পের উৎপাদন কতটা বেড়েছে এবং মূল্যস্ফীতি কতটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, এসব ফলাফলই শেষ পর্যন্ত সরকারের মূল্যায়নের ভিত্তি হবে।
বিএনপির অতীত অভিজ্ঞতা বর্তমান সরকারের জন্য নীতিগত শিক্ষা হতে পারে। জিয়াউর রহমানের সময় উৎপাদন ও গ্রামীণ উন্নয়নের ওপর জোর, খালেদা জিয়ার সময়ে সংসদীয় গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক সংস্কারের অভিজ্ঞতা এবং গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতির রূপান্তর বর্তমান নীতিনির্ধারণে কাজে লাগানো সম্ভব। তবে অতীতের সাফল্য বর্তমানের সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়।
তারেক রহমানের সামনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সুযোগও এখানেই। সংকটকে রাজনৈতিক অভিযোগের স্থায়ী চক্রে না রেখে জাতীয় সংস্কারের ভিত্তিতে রূপ দেওয়া গেলে বর্তমান দুর্ভোগ ভবিষ্যতের শক্তিতে পরিণত হতে পারে। ১৫ থেকে ২০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি উৎসের বৈচিত্র্য, নবায়নযোগ্য শক্তি, আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্য, কৌশলগত মজুত ও শক্তি দক্ষতা একই জাতীয় পরিকল্পনায় আনতে হবে।
শেষ পর্যন্ত ইতিহাস কোনো সরকারকে শুধু তার উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যার জন্য বিচার করবে না। বিচার করবে সেই সমস্যার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সরকার কী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, কতটা দক্ষতার সঙ্গে তা বাস্তবায়ন করেছিল এবং সাধারণ মানুষের জীবনে তার কী ফল হয়েছিল।
তারেক রহমান সরকার সংকটের বাংলাদেশ পেয়েছে। এই সংকটের অনেক অংশ তার তৈরি নয়। কিন্তু সংকট থেকে বের হওয়ার পথ তৈরি করার দায়িত্ব এখন তার সরকারের। আন্তর্জাতিক যুদ্ধ, পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রের পতন এবং পূর্ববর্তী নীতির সীমাবদ্ধতা বাস্তবতা ব্যাখ্যা করতে পারে; ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্ত। তাই রাষ্ট্র পরিচালনায় তারেক রহমানের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নয়, সংকটকে সংস্কারে রূপান্তরের সক্ষমতা।
.png)

একজন নেতার মৃত্যু একটি দলের জন্য শোকের ঘটনা। একই সঙ্গে এটি রাজনৈতিক পরীক্ষাও। নেতা চলে যাওয়ার পর দলটি কী করে, সেটিই প্রমাণ করে সেই নেতার উত্তরাধিকার কতটা গভীর ছিল। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপিও এমন এক পরীক্ষার সামনে। জন্মদিনে দলটি তাঁকে স্মরণ করবে। শ্রদ্ধা জানাবে।
১৫ আগস্ট ২০২৬
দেশে গত দুই মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক খাদ্য ও জ্বালানি পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। অথচ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব বলছে, এ সময়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে। বাজার বাস্তবতা ও সরকারি পরিসংখ্যানের এই ব্যবধান বিবিএসের তথ্যের মান, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে পুরনো বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
১৪ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো কৃষি। দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও সামাজিক স্থিতিশীলতা কৃষির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। গত কয়েক দশকে আমাদের কৃষিতে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। উন্নত জাতের ফসল, সেচ, সার ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই দমন ও প্রযুক্তির ব্যবহার এই সাফল্যের পেছনের মূল কারণ।
১৩ আগস্ট ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘিরে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক তৎপরতা এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। শুধু সেপ্টেম্বরের ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ নয়, বাংলাদেশ সরকারের প্রধান হিসেবে আলাদা দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণও পেয়েছেন তিনি।