লেখা:

সম্প্রতি ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির আসাম শাখার অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করে আবার মুছে ফেলা হয়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বন্দুক হাতে দুই ব্যক্তির ওপর গুলি চালাচ্ছেন, যাদের দেখতে মুসলিমদের মতো লাগছিল। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা ছিল “পয়েন্ট-ব্লাঙ্ক শট” এবং এর সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল “বাংলাদেশিদের কোনো ক্ষমা নেই”-এর মতো স্লোগান।
এই একটি ঘটনাই ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং পররাষ্ট্রনীতির একটি অদ্ভুত সাংঘর্ষিক রূপ তুলে ধরে। ভারতের ‘পূবমুখী’ বা অ্যাক্ট ইস্ট পলিসির প্রবেশদ্বার হিসেবে আসামের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও পর্যটনের এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক রয়েছে, যাকে উপ-আঞ্চলিক কূটনীতি বা প্যারাডিপ্লোমেসি বলা যায়। কিন্তু নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলেই আসামের রাজনীতিতে বাংলাদেশ একটি ‘হুমকি’ হিসেবে আবির্ভূত হয়। অভিবাসন, জনমিতি পরিবর্তনের আতঙ্ক এবং সীমান্ত নিরাপত্তার ধোয়া তুলে সেখানে চরম ভারত-বাংলাদেশ মেরুকরণ শুরু হয়।
প্রশ্ন হলো, ভোটের রাজনীতির এই বিদ্বেষমূলক বয়ান কি আসাম ও বাংলাদেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভবিষ্যৎকে নষ্ট করে দেবে?
২০১৭ সালে আসাম সরকার একটি ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্ট’ গঠন করে। শেখ হাসিনার শাসনামলে আসামের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক বেশ ভালো ছিল। ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের চুক্তি, সীমান্ত হাট স্থাপন এবং ২০১৫ সালের স্থল সীমান্ত চুক্তিতে আসাম সরকারের ইতিবাচক ভূমিকা ছিল। বাংলাদেশও আসামের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে গুয়াহাটিতে একটি উপ-হাইকমিশন খোলে।
তবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এই সম্পর্কে চিড় ধরে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যখন উত্তর-পূর্ব ভারতের ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা (চিকেনস নেক) এবং সমুদ্রের অভিভাবক হিসেবে ঢাকার সুবিধার কথা উল্লেখ করেন, তখন মুখ্যমন্ত্রী বিশ্বশর্মা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে “অবন্ধুসুলভ” আখ্যা দিয়ে দাবি করেন যে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল নিয়ে ঢাকার কোনো অশুভ পরিকল্পনা রয়েছে।
আসামের রাজনীতিতে অবৈধ অভিবাসন বা অনুপ্রবেশ সব সময়ই একটি বড় ইস্যু। ২০২৬ সালের মার্চ-এপ্রিলে আসামে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সামনে রেখে শর্মা সরকার রাজ্যের বাংলাভাষী মুসলিম বা ‘মিয়া’ সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। এই মিয়াদের ব্রিটিশ আমলে পতিত জমি চাষাবাদের জন্য আসামে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বর্তমানে আসামের ১২৬টি আসনের মধ্যে অন্তত ৩০টিতে তারা ভোটের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
ঐতিহাসিকভাবেই আসামে বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ রয়েছে, যার পরিণতি ছিল ‘আসাম চুক্তি (১৯৮৫)’। কিন্তু বর্তমান বিজেপি সরকার এই পুরোনো ক্ষোভের সাথে ধর্মের মিশ্রণ ঘটিয়েছে। ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন’ (সিএএ)-এর মাধ্যমে তারা হিন্দু অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার পথ সুগম করলেও মুসলিমদের বাদ দিয়েছে। এর আগে ২০১৮ সালে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলাদেশি অভিবাসীদের ‘উইপোকা’ বলে মন্তব্য করেছিলেন, যা ঢাকায় ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। এখন যখন বিএনপি-র মতো দল, যারা ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা বাংলাদেশ প্রথম নীতিতে বিশ্বাসী, তারা ক্ষমতায় রয়েছে—তখন আসামের এই ধরনের উসকানিমূলক রাজনৈতিক বয়ান কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
আসামের এই বাংলাদেশ-ভীতির পেছনে কিছু ঐতিহাসিক কারণও রয়েছে। নব্বইয়ের দশকে এবং ২০০০-এর দশকের শুরুতে আসামের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘উলফা’ এবং ‘এনডিএফবি’ বাংলাদেশের ভূখণ্ডে আশ্রয় পেয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। আসামের বর্তমান প্রশাসনের আশঙ্কা, বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই পুরোনো দিনগুলো আবার ফিরে আসতে পারে।
এছাড়া, বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক কিছু যোগাযোগ, আইএসআই প্রধানের ঢাকা সফর বা যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে গুঞ্জন—দিল্লির পাশাপাশি আসামের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগকে বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি আসামে একজন জইশ-ই-মোহাম্মদ কর্মীর গ্রেপ্তার এই আশঙ্কাকে আরও গভীর করেছে। আসাম সরকার দাবি করছে যে তারা অবৈধ বাংলাদেশিদের পুশব্যাক বা জোর করে ফেরত পাঠাচ্ছে, এবং সীমান্ত বেড়া নির্মাণ নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে বেশ কিছু জায়গায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
এতসব নেতিবাচক খবরের পরও আসাম ও বাংলাদেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি অন্ধকার নয়। যদি জাতীয় পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে বোঝাপড়া ভালো হয়, তবে উপ-আঞ্চলিক কূটনীতি আবার গতি পেতে পারে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতোমধ্যে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং বিএনপিও জানিয়েছে যে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী মুখে যতই কড়া কথা বলুন না কেন, অর্থনৈতিক স্বার্থে তার সরকারও বাংলাদেশের সাথে যোগাযোগ বাড়াতে চায়। ঢাকা-সিলেট সরাসরি বিমান চলাচল, মূল ভারত-বাংলাদেশ-উত্তর পূর্ব ভারত করিডোর এবং কক্সবাজারের সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো আসামের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় রয়েছে। এছাড়া, আসাম আগামী দিনে মেডিকেল ট্যুরিজমের কেন্দ্র হয়ে উঠতে চায়, যেখানে বাংলাদেশের রোগীরা একটি বড় বাজার হতে পারে।
আরেকটি বড় ক্ষেত্র হতে পারে অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনা। চীন যখন ব্রহ্মপুত্র নদের (ইয়ারলুং সাংপো) ওপর বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণ করছে, তখন ভাটির দেশ হিসেবে আসাম ও বাংলাদেশের উচিত একসাথে পানিবণ্টন ও পর্যবেক্ষণ নিয়ে কাজ করা।
পরিশেষে, আসামের আসন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশ ইস্যুটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে, এটা প্রায় নিশ্চিত। তবে, রাজনৈতিক স্বার্থের এই সাময়িক উত্তেজনা যেন দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ককে চিরতরে তিক্ত না করে দেয়, সেদিকে জাতীয় ও আঞ্চলিক নেতাদের খেয়াল রাখতে হবে। উসকানিমূলক বয়ান এড়িয়ে পারস্পরিক অর্থনৈতিক সুবিধা ও যোগাযোগের ওপর জোর দিলে সীমান্তরক্ষা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি—উভয়ই অর্জন করা সম্ভব। আসাম ও বাংলাদেশের উচিত রাজনৈতিক সস্তা হাততালির চেয়ে একটি গঠনমূলক এবং সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎকে বেছে নেওয়া।
নিভান বাগচী: ভারতের গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল সায়েন্সের ডক্টরেট গবেষক
(লেখাটি সাউথ এশিয়ান ভয়েজ থেকে ভাষান্তর করেছেন মুজাহিদুল ইসলাম)

সম্প্রতি ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির আসাম শাখার অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করে আবার মুছে ফেলা হয়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বন্দুক হাতে দুই ব্যক্তির ওপর গুলি চালাচ্ছেন, যাদের দেখতে মুসলিমদের মতো লাগছিল। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা ছিল “পয়েন্ট-ব্লাঙ্ক শট” এবং এর সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল “বাংলাদেশিদের কোনো ক্ষমা নেই”-এর মতো স্লোগান।
এই একটি ঘটনাই ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং পররাষ্ট্রনীতির একটি অদ্ভুত সাংঘর্ষিক রূপ তুলে ধরে। ভারতের ‘পূবমুখী’ বা অ্যাক্ট ইস্ট পলিসির প্রবেশদ্বার হিসেবে আসামের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও পর্যটনের এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক রয়েছে, যাকে উপ-আঞ্চলিক কূটনীতি বা প্যারাডিপ্লোমেসি বলা যায়। কিন্তু নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলেই আসামের রাজনীতিতে বাংলাদেশ একটি ‘হুমকি’ হিসেবে আবির্ভূত হয়। অভিবাসন, জনমিতি পরিবর্তনের আতঙ্ক এবং সীমান্ত নিরাপত্তার ধোয়া তুলে সেখানে চরম ভারত-বাংলাদেশ মেরুকরণ শুরু হয়।
প্রশ্ন হলো, ভোটের রাজনীতির এই বিদ্বেষমূলক বয়ান কি আসাম ও বাংলাদেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভবিষ্যৎকে নষ্ট করে দেবে?
২০১৭ সালে আসাম সরকার একটি ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্ট’ গঠন করে। শেখ হাসিনার শাসনামলে আসামের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক বেশ ভালো ছিল। ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের চুক্তি, সীমান্ত হাট স্থাপন এবং ২০১৫ সালের স্থল সীমান্ত চুক্তিতে আসাম সরকারের ইতিবাচক ভূমিকা ছিল। বাংলাদেশও আসামের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে গুয়াহাটিতে একটি উপ-হাইকমিশন খোলে।
তবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এই সম্পর্কে চিড় ধরে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যখন উত্তর-পূর্ব ভারতের ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা (চিকেনস নেক) এবং সমুদ্রের অভিভাবক হিসেবে ঢাকার সুবিধার কথা উল্লেখ করেন, তখন মুখ্যমন্ত্রী বিশ্বশর্মা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে “অবন্ধুসুলভ” আখ্যা দিয়ে দাবি করেন যে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল নিয়ে ঢাকার কোনো অশুভ পরিকল্পনা রয়েছে।
আসামের রাজনীতিতে অবৈধ অভিবাসন বা অনুপ্রবেশ সব সময়ই একটি বড় ইস্যু। ২০২৬ সালের মার্চ-এপ্রিলে আসামে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সামনে রেখে শর্মা সরকার রাজ্যের বাংলাভাষী মুসলিম বা ‘মিয়া’ সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। এই মিয়াদের ব্রিটিশ আমলে পতিত জমি চাষাবাদের জন্য আসামে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বর্তমানে আসামের ১২৬টি আসনের মধ্যে অন্তত ৩০টিতে তারা ভোটের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
ঐতিহাসিকভাবেই আসামে বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ রয়েছে, যার পরিণতি ছিল ‘আসাম চুক্তি (১৯৮৫)’। কিন্তু বর্তমান বিজেপি সরকার এই পুরোনো ক্ষোভের সাথে ধর্মের মিশ্রণ ঘটিয়েছে। ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন’ (সিএএ)-এর মাধ্যমে তারা হিন্দু অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার পথ সুগম করলেও মুসলিমদের বাদ দিয়েছে। এর আগে ২০১৮ সালে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলাদেশি অভিবাসীদের ‘উইপোকা’ বলে মন্তব্য করেছিলেন, যা ঢাকায় ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। এখন যখন বিএনপি-র মতো দল, যারা ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা বাংলাদেশ প্রথম নীতিতে বিশ্বাসী, তারা ক্ষমতায় রয়েছে—তখন আসামের এই ধরনের উসকানিমূলক রাজনৈতিক বয়ান কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
আসামের এই বাংলাদেশ-ভীতির পেছনে কিছু ঐতিহাসিক কারণও রয়েছে। নব্বইয়ের দশকে এবং ২০০০-এর দশকের শুরুতে আসামের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘উলফা’ এবং ‘এনডিএফবি’ বাংলাদেশের ভূখণ্ডে আশ্রয় পেয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। আসামের বর্তমান প্রশাসনের আশঙ্কা, বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই পুরোনো দিনগুলো আবার ফিরে আসতে পারে।
এছাড়া, বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক কিছু যোগাযোগ, আইএসআই প্রধানের ঢাকা সফর বা যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে গুঞ্জন—দিল্লির পাশাপাশি আসামের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগকে বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি আসামে একজন জইশ-ই-মোহাম্মদ কর্মীর গ্রেপ্তার এই আশঙ্কাকে আরও গভীর করেছে। আসাম সরকার দাবি করছে যে তারা অবৈধ বাংলাদেশিদের পুশব্যাক বা জোর করে ফেরত পাঠাচ্ছে, এবং সীমান্ত বেড়া নির্মাণ নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে বেশ কিছু জায়গায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
এতসব নেতিবাচক খবরের পরও আসাম ও বাংলাদেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি অন্ধকার নয়। যদি জাতীয় পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে বোঝাপড়া ভালো হয়, তবে উপ-আঞ্চলিক কূটনীতি আবার গতি পেতে পারে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতোমধ্যে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং বিএনপিও জানিয়েছে যে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী মুখে যতই কড়া কথা বলুন না কেন, অর্থনৈতিক স্বার্থে তার সরকারও বাংলাদেশের সাথে যোগাযোগ বাড়াতে চায়। ঢাকা-সিলেট সরাসরি বিমান চলাচল, মূল ভারত-বাংলাদেশ-উত্তর পূর্ব ভারত করিডোর এবং কক্সবাজারের সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো আসামের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় রয়েছে। এছাড়া, আসাম আগামী দিনে মেডিকেল ট্যুরিজমের কেন্দ্র হয়ে উঠতে চায়, যেখানে বাংলাদেশের রোগীরা একটি বড় বাজার হতে পারে।
আরেকটি বড় ক্ষেত্র হতে পারে অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনা। চীন যখন ব্রহ্মপুত্র নদের (ইয়ারলুং সাংপো) ওপর বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণ করছে, তখন ভাটির দেশ হিসেবে আসাম ও বাংলাদেশের উচিত একসাথে পানিবণ্টন ও পর্যবেক্ষণ নিয়ে কাজ করা।
পরিশেষে, আসামের আসন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশ ইস্যুটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে, এটা প্রায় নিশ্চিত। তবে, রাজনৈতিক স্বার্থের এই সাময়িক উত্তেজনা যেন দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ককে চিরতরে তিক্ত না করে দেয়, সেদিকে জাতীয় ও আঞ্চলিক নেতাদের খেয়াল রাখতে হবে। উসকানিমূলক বয়ান এড়িয়ে পারস্পরিক অর্থনৈতিক সুবিধা ও যোগাযোগের ওপর জোর দিলে সীমান্তরক্ষা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি—উভয়ই অর্জন করা সম্ভব। আসাম ও বাংলাদেশের উচিত রাজনৈতিক সস্তা হাততালির চেয়ে একটি গঠনমূলক এবং সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎকে বেছে নেওয়া।
নিভান বাগচী: ভারতের গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল সায়েন্সের ডক্টরেট গবেষক
(লেখাটি সাউথ এশিয়ান ভয়েজ থেকে ভাষান্তর করেছেন মুজাহিদুল ইসলাম)

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কেন বাড়তে শুরু করেছে, সেটা সবারই জানা। বিশ্বের খুব কম দেশই জ্বালানিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। সিংহভাগ দেশকেই কমবেশি আমদানি করতে হয় নানা রকম জ্বালানি পণ্য। বাংলাদেশও জ্বালানির ক্ষেত্রে ব্যপকভাবে আমদানিনির্ভর।
১১ ঘণ্টা আগে
নারী-প্রশ্ন ডিল করার আগে নিজের অপারগতা স্বীকার করছি। কেননা, ‘নারী প্রশ্ন’ বলার মধ্য দিয়েই নারীকে কম মানুষ করা হয়ে যায়। যদিও কম মানুষের বিপরীতে বেশি মানুষ বলে কিছু নেই। অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ মানুষরূপ বিবেচনা থেকে আমাদের চিন্তার উত্তরণ ঘটলে এই আলোচনা হয়তো সহজ হতো। এমনকি ভাষা নিজেও, নারীকে কম মানুষ করে রাখা
১ দিন আগে
পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোর দ্বিমুখী নীতি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি ধারাবাহিক কৌশলের অংশ, যা তারা ইরাক, আফগানিস্তান এবং লিবিয়ার মতো সংঘাতেও প্রয়োগ করেছে। এর মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অবৈধ যুদ্ধকে বৈধতা দেয় এবং এর ভয়াবহতাকে সাধারণ মানুষের চোখের আড়াল করে।
১ দিন আগে
একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতি একে অপরের পরিপূরক। মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো অস্থিরতা মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দেয়। বর্তমানে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাত একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারে
১ দিন আগে