চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে চাই কঠোর মনোভাব

প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ২২: ২৯
সম্পাদকীয় প্রতীকী ছবি। স্ট্রিম গ্রাফিক

হালে চট্টগ্রাম বিভাগের বিরাট অঞ্চল আক্রান্ত হয় অতিবৃষ্টিজনিত বন্যায়। এতে বন্দরনগরীও কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের আলোচনা জোরদার না হতেই ওই নগরীর একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে চাঁদার দাবিতে হামলার ঘটনা বড় খবর হয়। বরাবরের মতো এ ক্ষেত্রেও বিদেশ থেকে দাবি করা হয়েছে চাঁদা। প্রকাশ পেয়েছে এ-সংক্রান্ত ফোনকলের অডিও। সম্পাদকীয়টি লেখার সময় খবর মিলল, চট্টগ্রাম নগরীর নির্মাণাধীন একটি দশতলা ভবনে ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে; কুপিয়ে আহত করা হয়েছে শ্রমিকদের। এর নেপথ্যেও চাঁদার দাবি রয়েছে বলে জানা যায়। ওই এলাকায় বড় ভবন নির্মাণে চাঁদা না দিয়ে নাকি রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না।

চট্টগ্রাম বন্দরনগরী বলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে জলাবদ্ধতা দেখা দিলে যেমন দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়; আইনশৃঙ্খলার অবনতিতেও একই কথা প্রযোজ্য। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় কিছু গ্রেপ্তারের খবর অবশ্য রয়েছে। আমরা আশা করব, দ্বিতীয় চাঁদাবাজির ঘটনায়ও চিহ্নিতদের অচিরেই পাকড়াও করা হবে। এসব ব্যবস্থা গ্রহণের খবর ভালোভাবে প্রচার হওয়া দরকার। সংবাদমাধ্যমেরও দায়িত্ব বড় অপরাধের ঘটনাগুলো ‘ফলো’ করা। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এ ক্ষেত্রে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণকে উৎসাহিত করে। আর শান্তিপূর্ণ মানুষের মনে জাগিয়ে তোলো প্রত্যাশা। সেটা যথেষ্ট মাত্রায় না হলেও সরকারের দায়িত্ব রয়েছে অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করার। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অবশ্য মূল অপরাধী থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও চট্টগ্রাম নগরীতে চাঁদার দাবিতে হামলার কিছু ঘটনা ঘটেছিল। তখনও সামনে আসে বিদেশ থেকে চাঁদা দাবি করে মাঠের অপরাধীদের লেলিয়ে দেওয়ার ঘটনা। রাজনৈতিক সরকারের আমলে এ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির দাবি স্বভাবতই বেশি করে জানাবে মানুষ।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার সম্প্রতি বলেছেন, আগাম ঘোষণা দিয়ে অনেক কাজ করা গেলেও এভাবে অপরাধী ধরার সুযোগ নেই। অপ্রস্তুত অবস্থায় তাদের পাকড়াওয়ের ওপর জোর দিতেই তিনি ওই কথা বলেছেন। দুর্গম এলাকায় কিছু অপরাধীচক্র তৎপর থাকার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। আমরা তো সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের কথা জানি। সেটা দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য। তাদের হাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও আক্রান্ত হয়েছিলেন। বেশিদিন হয়নি– সন্ত্রাসীরা সেখানে স্থাপিত পুলিশ ক্যাম্পে চালায় নজিরবিহীন হামলা। আমরা জানতে চাই, অতঃপর সেখানে যৌথবাহিনীর অভিযানে কতটা নিয়ন্ত্রণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা গেছে। দেশের কোনো অঞ্চলই প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকতে পারে না। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনে সেনা সহায়তা গ্রহণেরও সুযোগ রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানে ভেঙে পড়া পুলিশও এরই মধ্যে পূর্ণ মনোবল নিয়ে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হয়ে ওঠার কথা।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও সীতাকুণ্ড থেকে মাদক সংক্রান্ত ঘটনায় একাধিক লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের খবরও আমাদের আতংকিত করেছে। প্রথম ঘটনায় মাদকাসক্ত ছেলের হাতে তার বাবা ও মা দু’জনেই নিহত হয়েছেন বলে জানা গেল। অপর ঘটনায় মাদক ব্যবসায় জড়িত ব্যক্তি একটি নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড ঘটালে লোকজন দলবদ্ধ হয়ে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করে। উত্তেজিত জনতার হাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাড়িঘর ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হওয়ারও খবর রয়েছে।

বর্তমান সরকার মাদক অপরাধ দমনে আইন সংশোধনের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্যোগী। তবে ইতোমধ্যে সমস্যাটি কতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে– চট্টগ্রামের দুটি ঘটনা তারই প্রমাণ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের অংশ হলেও এই দিকে বিশেষ দৃষ্টি থাকতে হবে সরকারের। দ্রুত উন্নতির আশা না থাকলেও এ ক্ষেত্রে বলিষ্ঠভাবে লেগে থাকার চেষ্টায় নিশ্চয় কিছু টেকসই সুফল মিলবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত