সংঘাত এড়িয়ে ও শিষ্টাচারের সঙ্গে পালিত হোক কর্মসূচি

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২: ০৭
সংঘাত এড়িয়ে ও শিষ্টাচারের সঙ্গে পালিত হোক কর্মসূচি। স্ট্রিম গ্রাফিক
সংঘাত এড়িয়ে ও শিষ্টাচারের সঙ্গে পালিত হোক কর্মসূচি। স্ট্রিম গ্রাফিক

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ কর্মসূচি ঘিরে কোথাও কোনো সংঘাত না হওয়ায় সবাই স্বস্তি বোধ করবে। সরকারের সমালোচনা কিংবা দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে সভা-সমাবেশ করার অধিকার বিরোধী দলের রয়েছে বৈকি। তারা কখন কী ধরনের কর্মসূচি নেবেন, সেটাও তাদের রাজনৈতিক বিবেচনা। শান্তিপূর্ণভাবে এসব কর্মসূচি পালনের দাবিও রয়েছে। এর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন অব্যাহত থাকবে, এটাই প্রত্যাশা। বিরোধী দলের আরও তিনটি লংমার্চ কর্মসূচি রয়েছে। এ পর্বের শেষে রাজধানীতে তাদের মহাসমাবেশ হওয়ার কথা। আমরা আশা করি, সামনের এসব কর্মসূচিও শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হবে।

নজিরবিহীন গণঅভ্যুত্থানের প্রায় দেড় বছর পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ক্ষমতায় আসা সরকারের ছয় মাস যেতে না যেতেই লংমার্চের মতো কর্মসূচিতে যাওয়া যুক্তিযুক্ত কিনা, এই প্রশ্ন অবশ্য উঠেছে। যে ছয় দফা দাবিতে বিরোধী দল লংমার্চ পালন শুরু করেছে; সেগুলোতে সরকারকে কতখানি দায়ী করা যায়, সেই প্রশ্নও রয়েছে। তবে কেউ বলেনি, আন্দোলনে যাওয়ার অধিকার বিরোধী দলের নেই। ক্ষমতাসীন দল থেকেও এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। বরং বলা হয়েছে, সংসদ অধিবেশন চলাকালে উত্থাপিত দাবি নিয়ে সেখানেই বক্তব্য রাখা যেত। বিরোধী দলের কাছে বিশেষত চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ‘বিকল্প প্রস্তাব’ চাওয়া হয়েছে। ক্ষমতাসীনদের এসব বক্তব্য জনগণ নিশ্চয় বিচার করে দেখবে। তাদের বক্তব্যের সদুত্তর দেওয়ার সুযোগ সামনেও থাকবে বিরোধী দলের। লংমার্চ শেষে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত জনসভার পর তারা সংসদে ফেরার কথা। যেসব দাবিতে লংমার্চের মতো কর্মসূচিতে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করলেন, সেগুলো নিয়ে সংসদে জোরালোভাবে বক্তব্য রাখার সুযোগ তারা নেবেন বলেই আমরা আশা করি। সংসদীয় কমিটিগুলো গঠিত হচ্ছে। সংবিধান সংশোধনে যে কমিটি হয়েছে, তাতে অংশ নিয়েও বিরোধী দল রাষ্ট্র সংস্কার প্রশ্নে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারে। নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির এসব সুযোগ হাতছাড়া করাটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে ছুটির দিন দেখে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি ও জনদুর্ভোগ না হয়। কর্মসূচিতে ব্যবহৃত যানবাহনের সংখ্যাও কমিয়ে এনেছে বিরোধী দলগুলো। সরকার ও প্রশাসনের কাছে কর্মসূচি পালনে সহযোগিতা চেয়েছিল তারা। কোথাও কোনো বাধা সৃষ্টি করা হবে না বলেও তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছিলেন। আমরা লক্ষ করেছি, কোথাও কোনো ধরনের হুমকি বা বাধা সৃষ্টির ঘটনা ঘটেনি। সমাপনী সভাসহ যাত্রাপথে ১১-দলীয় ঐক্যের যেসব পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেগুলোর কোনোটাতেই অপ্রীতিকর কিছু ঘটেনি। কেন্দ্র থেকে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টাও পরিলক্ষিত হয়নি। গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের প্রত্যাশা, বিরোধী দলের প্রতি এমন আচরণ অব্যাহত থাকবে। তাতে সরকার পক্ষের প্রশংসা যেমন হবে; তেমনি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি হবে জোরদার। বিরোধী দলের যুক্তিপূর্ণ অবস্থানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সরকার নিজেকে সংশোধন করলে সেটাও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে। আর এতে সবাই হবে উপকৃত। এ ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি অর্জনও ছিল গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য।

লংমার্চ চলাকালে বিরোধীদলীয় কোনো কোনো নেতার মুখ থেকে আসা অপ্রীতিকর বক্তব্য অবশ্য প্রত্যাশিত ছিল না। সংকটকালে ক্ষমতায় আসা কোনো নির্বাচিত সরকারের ছয় মাসের মাথায় তার পতন ঘটানোর ডাকেও সাড়া মিলবে বলে মনে হয় না। আমরা আশা করব, পারস্পরিক সম্পর্কের গুরুতর অবনতি ঘটানোর মতো বক্তব্য অন্তত গুরুত্বপূর্ণ কোনো পর্যায় থেকে দেওয়া হবে না। শিষ্টাচারের সঙ্গে রাজনৈতিক বিবেচনাও যেন গুরুত্ব পায়। সরকার পক্ষেরও উচিত হবে কোনো বিষয়ে অতিপ্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে জনজীবনে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা। জনগণ নিশ্চয় সব পক্ষের ভূমিকা বিচার করে দেখছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত