সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন

সংসদে নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করতে চান স্বতন্ত্র-জোটের একমাত্র প্রার্থী জুঁই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনে নির্বাচিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন একটি আসন। এই আসনে তাঁরা মনোনয়ন দিয়েছেন সাবেক ছাত্রদল নেত্রী সুলতানা জেসমিন জুঁইকে। আগামী ১২ মে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে বিজয়ী হলে সংসদে নারীর ক্ষমতায়ন, প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় ভূমিকা রাখতে চান তিনি। সম্প্রতি স্ট্রিমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জুঁই এসব কথা জানিয়েছেন।

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

সুলতানা জেসমিন জুঁই। স্ট্রিম গ্রাফিক

স্বতন্ত্র এমপিদের মনোনয়নে এরই মধ্যে প্রার্থিতা নির্বাচন কমিশনে বৈধ ঘোষণাও হয়েছে সুলতানা জেসমিন জুঁইয়ের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই ছাত্রী জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহসভাপতি। তিনি পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার সেখমাটিয়া ইউনিয়নের বুইচাকাঠী গ্রামের আব্দুল আজিজ হাওলাদারের মেয়ে।

স্বতন্ত্র এমপিদের পক্ষে এই মনোনয়নে সই করেছেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল এবং ময়মনসিংহ-১ আসনের স্বতন্ত্র এমপি মোহাম্মদ সালমান ওমর।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী স্বতন্ত্র সাত এমপিই বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। যাদের সবাইকে নির্বাচনের আগেই দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ায় দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে আবার দলে ফেরার প্রত্যাশায় আছেন তাঁদের অনেকেই। যদিও স্বতন্ত্র এমপিদের জোটে না থাকার কথা জানিয়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

স্ট্রিমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুলতানা জেসমিন জুঁই বলেন, ‘এই অর্জন ব্যক্তিগত অনুভূতির চেয়েও বেশি কিছু, এটি চারপাশের মানুষের প্রত্যাশা ও ভালোবাসার প্রতিফলন।’

জুঁই জানান, দীর্ঘদিন রাজপথের রাজনীতি করার পর সংসদে যাওয়ার সুযোগ তাঁর কাছে একদিকে যেমন গর্বের, অন্যদিকে তেমনি বড় দায়িত্বেরও।

তিনি বলেন, ‘আমার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আশপাশের মানুষ—বন্ধুবান্ধব, সহপাঠীদের উচ্ছ্বাস দেখলে মনে হয়, তাদের খুশির কারণ হতে পেরেছি। তবে একই সঙ্গে এত মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করার দায়বদ্ধতা ও একধরনের চাপও কাজ করছে’।

নারী ক্ষমতায়ন ও প্রযুক্তি নিয়ে পরিকল্পনা

সংসদে গিয়ে নারীদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ইস্যুতে কাজ করার ইচ্ছার কথা জানান নেত্রী সুলতানা জেসমিন জুঁই। তাঁর মতে, দেশের কর্মক্ষম নারী জনগোষ্ঠীকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ওয়ার্কিং ওমেন এবং গৃহিণীদের কীভাবে আরও প্রোডাক্টিভ করা যায়, তাঁদের আয়ের স্বীকৃতি কীভাবে দৃশ্যমান করা যায়; এটা নিয়ে কাজ করতে চাই।’

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রেক্ষাপটে নারীদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তিনি। বিশেষ করে প্রান্তিক নারীরা যাতে প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগাতে পারে, সে বিষয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এছাড়া টেকনোলজি ফ্যাসিলিটেটেড জেন্ডার বেইজড ভায়োলেন্স (টিএফজিবিভি) বা প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতাকে বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখছেন সাবেক এই ছাত্রদল নেত্রী। তিনি বলেন, ‘এটা এখন প্রায় মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। সংসদে এই বিষয়টি জোরালোভাবে তুলতে চাই এবং প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ দেখতে চাই।’

ছাত্ররাজনীতি থেকে নেতৃত্বের উত্থান

ছাত্রদল থেকে উঠে আসা নেত্রীদের মনোনয়নকে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন নেত্রী সুলতানা জেসমিন জুঁই। তার ভাষায়, ছাত্রদল একটি ‘পাওয়ার হাউস’, যেখান থেকে মানসম্মত নেতৃত্ব তৈরি হয়।

তিনি মনে করেন, এই মনোনয়ন নতুন প্রজন্মের নারী শিক্ষার্থীদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করবে।

‘যারা আপস না করে রাজপথে সক্রিয় ছিল, তাদের এই স্বীকৃতি একটি বার্তা দেয়; সত্য ও ন্যায়ের লড়াইয়ের মূল্য আছে’, বলেন তিনি।

জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কাজের অঙ্গীকার

নিজের এলাকার প্রসঙ্গ টেনে জুঁই বলেন, উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ায় সেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট। লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিকল্পনা রয়েছে তার।

‘জলবায়ু পরিবর্তন শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয়, এটি বৈশ্বিক ইস্যু। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করতে চাই, যাতে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে একটি রোল মডেল হতে পারে’, বলেন তিনি।

জুঁই আশা প্রকাশ করেন, তাঁর গবেষণা ও পরিকল্পনাগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা গেলে তা দেশের নারী উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সর্বাধিক পঠিত
লেটেস্ট
Ad 300x250

সম্পর্কিত