কবিরুল বাশারের সাক্ষাৎকার
ড. কবিরুল বাশার, খ্যাতনামা কীটতত্ত্ববিদ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এই অধ্যাপক বলেছেন, আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ডেঙ্গুর বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা যাবে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পিক থাকবে। এবার রাজধানীর চেয়ে প্রকোপ বেশি দেখা যাবে জেলা শহরে। সরকারি তদারকি ও মূল্যায়নের ঘাটতির অভাবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। স্ট্রিমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ডেঙ্গুর সম্ভাব্য বিস্তার, ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল, প্রতিরোধব্যবস্থা ও সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।
হাসিবুর রহমান

স্ট্রিম: চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতির পূর্বাভাস নিয়ে আপনার অভিমত কী?
কবিরুল বাশার: আমরা দীর্ঘদিন একটি আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম নিয়ে কাজ করছি। মাঠপর্যায়ে মশার ঘনত্ব, লার্ভার উপস্থিতি, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং ডেঙ্গু রোগী– এসব তথ্য একত্রে এই মডেল তৈরি। মডেল অনুযায়ী, আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ডেঙ্গুর বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা যেতে পারে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই প্রবণতা পিকে থাকবে। অক্টোবরে কিছুটা কমতে পারে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে তা দীর্ঘায়িতও হতে পারে।
স্ট্রিম: গত বছরের চেয়ে এবার কি প্রকোপ বেশি হতে পারে?
কবিরুল বাশার: জাতীয়ভাবে রোগী গতবারের তুলনায় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ হলো–এবার রাজধানী নয়, মূল প্রকোপ হবে ঢাকার বাইরে। আমরা ইতোমধ্যে দেখছি, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুরে ঝুঁকি বেশি। একইভাবে কক্সবাজার এবং চট্টগ্রামও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
স্ট্রিম: জেলা শহরে রোগী বৃদ্ধির কারণ কী?
কবিরুল বাশার: সংক্রামক রোগের বিস্তার একক কোনো কারণে হয় না। এখানে ‘এপিডেমিওলজিক্যাল ট্রায়াঙ্গেল’ কাজ করে। এর তিনটি প্রধান উপাদান হলো– মানুষ (হোস্ট), মশা (ভেক্টর) এবং পরিবেশ। এর সঙ্গে ভাইরাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উপাদানগুলো অনুকূল অবস্থায় একসঙ্গে উপস্থিত থাকলে রোগ দ্রুত ছড়ায়।
জেলা শহরে এখন এসব উপাদানের সমন্বয় বেশি পাওয়া যাচ্ছে। বিপরীতে রাজধানীতে ডেঙ্গুর ইতিহাস দীর্ঘ। ২০০০ সালের পর থেকে বহু মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে জনসংখ্যার একটি বড় অংশের শরীরে কিছু মাত্রায় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। অনেক জেলা শহরে আক্রান্ত কমের কারণে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়নি। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি।
স্ট্রিম: রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়েছে বলেই কি ঢাকাকে নিরাপদ বলা যাচ্ছে?
কবিরুল বাশার: শুধু এটি কারণ নয়। আক্রান্ত কম হলে, তার পেছনে আরেকটি বড় কারণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা। ঢাকায় মিডিয়ার নজরদারি, সিটি করপোরেশনের বাজেট, আবার নাগরিক চাপও আছে। ডেঙ্গু নিয়ে প্রতিদিন আলোচনা হয়। কিন্তু জেলা শহরে এই নজরদারি নেই। প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমও দুর্বল। এই কারণে ঢাকার বাইরে সংক্রমণ বাড়ার ঝুঁকি বেশি এবং মৃত্যুও বাড়বে।
স্ট্রিম: কেন মনে করছেন জেলা শহরে মৃত্যু বেশি হতে পারে?
কবিরুল বাশার: অন্যতম কারণ চিকিৎসাব্যবস্থা তুলনামূলক দুর্বল। ডেঙ্গু একটি বিশেষায়িত চিকিৎসার বিষয়। রোগীর অবস্থা খারাপ হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হয়। অনেক জেলা হাসপাতালে সেই সক্ষমতা এখনো পর্যাপ্ত নেই। ফলে রোগীকে ঢাকায় পাঠাতে হয়। কিন্তু গুরুতর রোগীর ক্ষেত্রে স্থানান্তরের সময়ই জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে এখন থেকেই প্রস্তুত করতে হবে।
স্ট্রিম: ডেঙ্গুর পাশাপাশি এবার চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি কতটা?
কবিরুল বাশার: আমার ধারণা, এবার চিকুনগুনিয়াও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় হবে। তবে আমরা হয়ত প্রকৃত চিত্র জানতে পারব না। কারণ, সরকারি পর্যায়ে চিকুনগুনিয়া শনাক্তের টেস্ট কিট প্রায় নেই বললেই চলে। কিছু বেসরকারি হাসপাতালে পিসিআর পরীক্ষা হচ্ছে, তাও সীমিত। ডেঙ্গু মৌসুম শুরুর আগেই সরকারি হাসপাতালে চিকুনগুনিয়ার পরীক্ষার ব্যবস্থা করা উচিত।
স্ট্রিম: ডেঙ্গু ধরন বদলে শক্তিশালী হয়েছে– এমন চাউর আছে। আপনি বিষয়টিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
কবিরুল বাশার: ডেঙ্গুর চারটি প্রধান সেরোটাইপ রয়েছে– ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ ও ডেন-৪। সব সেরোটাইপের উপসর্গ এক নয়। আবার মানুষের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাও ভিন্ন। এখন অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলেও প্রচলিত উপসর্গ স্পষ্ট নয়। জ্বর বা তীব্র ব্যথা ছাড়াও ডেঙ্গু হতে পারে। এই পরিবর্তিত উপসর্গের কারণেই অনেকে বলছেন, ডেঙ্গুর ধরন বদলে গেছে। তবে বৈজ্ঞানিকভাবে বলতে গেলে, বিভিন্ন সেরোটাইপ ও ব্যক্তির ইমিউন (রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা) প্রতিক্রিয়ার কারণে উপসর্গে বৈচিত্র্য দেখা যায়।
স্ট্রিম: কোন বয়সের মানুষেরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকেন?
কবিরুল বাশার: সাধারণত ১৬ থেকে ৪০ বছর বয়সী তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়। পুরুষদের আক্রান্ত হওয়ার হারও বেশি। এর প্রধান কারণ চলাফেরা। যারা বেশি বাইরে যান, কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে, তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে।
স্ট্রিম: ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বড় দুর্বলতা কোথায়?
কবিরুল বাশার: আমাদের দেশে তদারকি ও মূল্যায়নের ঘাটতি বড় সমস্যা। কোনো কার্যক্রম হচ্ছে কিনা, হলে ফল কী– এসব নিয়মিত মূল্যায়ন হয় না। আবার মশা নিয়ন্ত্রণেও আমরা অনেক সময় লক্ষ্যভিত্তিক কাজ করি না। গবেষণায় আমরা দেখেছি, ঢাকায় এডিস মশার বড় উৎস ভবনের বেজমেন্ট, পার্কিং এলাকা, ড্রাম, বালতি, টয়লেট ও রান্নাঘর সংলগ্ন পানির পাত্র। অথচ অনেক সময় মশকনিধন কার্যক্রম ড্রেন বা রাস্তার পাশে সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে মূল উৎস অক্ষত থেকে যায়।
স্ট্রিম: কার্যকর সমাধান কী বলে আপনি মনে করেন?
কবিরুল বাশার: প্রথমত, কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে হবে। শুধু সচেতনতা নয়, মানুষকে দায়িত্ব নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যভিত্তিক মশা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তৃতীয়ত, জাতীয় পর্যায়ে একটি ‘ভেক্টর কন্ট্রোল সেল’ গঠন প্রয়োজন, যা সারা দেশের ডেঙ্গু ও মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সমন্বয় করবে।
আগস্টের সম্ভাব্য ঢেউ মোকাবিলায় এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ জেলার হাসপাতালে চিকিৎসাসামগ্রী, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও নার্স প্রস্তুত রাখতে হবে। নইলে এবার ডেঙ্গুর সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হতে পারে ঢাকার বাইরের মানুষকে।
স্ট্রিম: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
কবিরুল বাশার: আপনাকে এবং স্ট্রিমের দর্শক ও পাঠকদের ধন্যবাদ।

ড. কবিরুল বাশার, খ্যাতনামা কীটতত্ত্ববিদ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এই অধ্যাপক বলেছেন, আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ডেঙ্গুর বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা যাবে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পিক থাকবে। এবার রাজধানীর চেয়ে প্রকোপ বেশি দেখা যাবে জেলা শহরে। সরকারি তদারকি ও মূল্যায়নের ঘাটতির অভাবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। স্ট্রিমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ডেঙ্গুর সম্ভাব্য বিস্তার, ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল, প্রতিরোধব্যবস্থা ও সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।
.png)
স্ট্রিম: চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতির পূর্বাভাস নিয়ে আপনার অভিমত কী?
কবিরুল বাশার: আমরা দীর্ঘদিন একটি আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম নিয়ে কাজ করছি। মাঠপর্যায়ে মশার ঘনত্ব, লার্ভার উপস্থিতি, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং ডেঙ্গু রোগী– এসব তথ্য একত্রে এই মডেল তৈরি। মডেল অনুযায়ী, আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ডেঙ্গুর বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা যেতে পারে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই প্রবণতা পিকে থাকবে। অক্টোবরে কিছুটা কমতে পারে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে তা দীর্ঘায়িতও হতে পারে।
স্ট্রিম: গত বছরের চেয়ে এবার কি প্রকোপ বেশি হতে পারে?
কবিরুল বাশার: জাতীয়ভাবে রোগী গতবারের তুলনায় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ হলো–এবার রাজধানী নয়, মূল প্রকোপ হবে ঢাকার বাইরে। আমরা ইতোমধ্যে দেখছি, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুরে ঝুঁকি বেশি। একইভাবে কক্সবাজার এবং চট্টগ্রামও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
স্ট্রিম: জেলা শহরে রোগী বৃদ্ধির কারণ কী?
কবিরুল বাশার: সংক্রামক রোগের বিস্তার একক কোনো কারণে হয় না। এখানে ‘এপিডেমিওলজিক্যাল ট্রায়াঙ্গেল’ কাজ করে। এর তিনটি প্রধান উপাদান হলো– মানুষ (হোস্ট), মশা (ভেক্টর) এবং পরিবেশ। এর সঙ্গে ভাইরাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উপাদানগুলো অনুকূল অবস্থায় একসঙ্গে উপস্থিত থাকলে রোগ দ্রুত ছড়ায়।
জেলা শহরে এখন এসব উপাদানের সমন্বয় বেশি পাওয়া যাচ্ছে। বিপরীতে রাজধানীতে ডেঙ্গুর ইতিহাস দীর্ঘ। ২০০০ সালের পর থেকে বহু মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে জনসংখ্যার একটি বড় অংশের শরীরে কিছু মাত্রায় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। অনেক জেলা শহরে আক্রান্ত কমের কারণে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়নি। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি।
স্ট্রিম: রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়েছে বলেই কি ঢাকাকে নিরাপদ বলা যাচ্ছে?
কবিরুল বাশার: শুধু এটি কারণ নয়। আক্রান্ত কম হলে, তার পেছনে আরেকটি বড় কারণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা। ঢাকায় মিডিয়ার নজরদারি, সিটি করপোরেশনের বাজেট, আবার নাগরিক চাপও আছে। ডেঙ্গু নিয়ে প্রতিদিন আলোচনা হয়। কিন্তু জেলা শহরে এই নজরদারি নেই। প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমও দুর্বল। এই কারণে ঢাকার বাইরে সংক্রমণ বাড়ার ঝুঁকি বেশি এবং মৃত্যুও বাড়বে।
স্ট্রিম: কেন মনে করছেন জেলা শহরে মৃত্যু বেশি হতে পারে?
কবিরুল বাশার: অন্যতম কারণ চিকিৎসাব্যবস্থা তুলনামূলক দুর্বল। ডেঙ্গু একটি বিশেষায়িত চিকিৎসার বিষয়। রোগীর অবস্থা খারাপ হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হয়। অনেক জেলা হাসপাতালে সেই সক্ষমতা এখনো পর্যাপ্ত নেই। ফলে রোগীকে ঢাকায় পাঠাতে হয়। কিন্তু গুরুতর রোগীর ক্ষেত্রে স্থানান্তরের সময়ই জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে এখন থেকেই প্রস্তুত করতে হবে।
স্ট্রিম: ডেঙ্গুর পাশাপাশি এবার চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি কতটা?
কবিরুল বাশার: আমার ধারণা, এবার চিকুনগুনিয়াও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় হবে। তবে আমরা হয়ত প্রকৃত চিত্র জানতে পারব না। কারণ, সরকারি পর্যায়ে চিকুনগুনিয়া শনাক্তের টেস্ট কিট প্রায় নেই বললেই চলে। কিছু বেসরকারি হাসপাতালে পিসিআর পরীক্ষা হচ্ছে, তাও সীমিত। ডেঙ্গু মৌসুম শুরুর আগেই সরকারি হাসপাতালে চিকুনগুনিয়ার পরীক্ষার ব্যবস্থা করা উচিত।
স্ট্রিম: ডেঙ্গু ধরন বদলে শক্তিশালী হয়েছে– এমন চাউর আছে। আপনি বিষয়টিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
কবিরুল বাশার: ডেঙ্গুর চারটি প্রধান সেরোটাইপ রয়েছে– ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ ও ডেন-৪। সব সেরোটাইপের উপসর্গ এক নয়। আবার মানুষের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাও ভিন্ন। এখন অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলেও প্রচলিত উপসর্গ স্পষ্ট নয়। জ্বর বা তীব্র ব্যথা ছাড়াও ডেঙ্গু হতে পারে। এই পরিবর্তিত উপসর্গের কারণেই অনেকে বলছেন, ডেঙ্গুর ধরন বদলে গেছে। তবে বৈজ্ঞানিকভাবে বলতে গেলে, বিভিন্ন সেরোটাইপ ও ব্যক্তির ইমিউন (রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা) প্রতিক্রিয়ার কারণে উপসর্গে বৈচিত্র্য দেখা যায়।
স্ট্রিম: কোন বয়সের মানুষেরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকেন?
কবিরুল বাশার: সাধারণত ১৬ থেকে ৪০ বছর বয়সী তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়। পুরুষদের আক্রান্ত হওয়ার হারও বেশি। এর প্রধান কারণ চলাফেরা। যারা বেশি বাইরে যান, কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে, তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে।
স্ট্রিম: ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বড় দুর্বলতা কোথায়?
কবিরুল বাশার: আমাদের দেশে তদারকি ও মূল্যায়নের ঘাটতি বড় সমস্যা। কোনো কার্যক্রম হচ্ছে কিনা, হলে ফল কী– এসব নিয়মিত মূল্যায়ন হয় না। আবার মশা নিয়ন্ত্রণেও আমরা অনেক সময় লক্ষ্যভিত্তিক কাজ করি না। গবেষণায় আমরা দেখেছি, ঢাকায় এডিস মশার বড় উৎস ভবনের বেজমেন্ট, পার্কিং এলাকা, ড্রাম, বালতি, টয়লেট ও রান্নাঘর সংলগ্ন পানির পাত্র। অথচ অনেক সময় মশকনিধন কার্যক্রম ড্রেন বা রাস্তার পাশে সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে মূল উৎস অক্ষত থেকে যায়।
স্ট্রিম: কার্যকর সমাধান কী বলে আপনি মনে করেন?
কবিরুল বাশার: প্রথমত, কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে হবে। শুধু সচেতনতা নয়, মানুষকে দায়িত্ব নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যভিত্তিক মশা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তৃতীয়ত, জাতীয় পর্যায়ে একটি ‘ভেক্টর কন্ট্রোল সেল’ গঠন প্রয়োজন, যা সারা দেশের ডেঙ্গু ও মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সমন্বয় করবে।
আগস্টের সম্ভাব্য ঢেউ মোকাবিলায় এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ জেলার হাসপাতালে চিকিৎসাসামগ্রী, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও নার্স প্রস্তুত রাখতে হবে। নইলে এবার ডেঙ্গুর সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হতে পারে ঢাকার বাইরের মানুষকে।
স্ট্রিম: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
কবিরুল বাশার: আপনাকে এবং স্ট্রিমের দর্শক ও পাঠকদের ধন্যবাদ।
.png)
.png)

বাংলাদেশে মাদক আর শুধু সামাজিক সমস্যা নয়; এটিকে বলা যায় জাতীয় নিরাপত্তা সংকট। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সর্বশেষ জরিপ বলছে, প্রায় ৮২ লাখ মানুষ মাদক সেবন করছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ। সিনথেটিক মাদকের ব্যাপ্তিও দ্রুত বাড়ছে। আর মাদকাসক্তদের ৬০ শতাংশেরও বেশি তরুণ।
২ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নের ইতিহাসে কিছু অঞ্চল বিশেষ কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বরেন্দ্র যেমন দেশের খাদ্য উৎপাদনের নতুন শক্তিকেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, তেমনি মধ্যাঞ্চলের মধুপুর গড় ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ফল উৎপাদন, পুষ্টি নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীল কৃষি এবং পরিবেশ সংরক্ষণের অন্যতম জাতীয়
১০ ঘণ্টা আগে
আটলান্টার স্টেডিয়ামে ১৫ জুন যখন কেপ ভার্দে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামল, পুরো ফুটবল দুনিয়ার চোখ ছিল আফ্রিকার সেই ছোট দ্বীপরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক অভিষেকের দিকে। কিন্তু ঢাকার উত্তরার একটি কারখানার শ্রমিকরা সেদিন আলাদা এক অনুভূতি নিয়ে খেলাটা দেখেছিলেন। কারণ মাঠে দৌড়ানো প্রতিটি খেলোয়াড়ের গায়ে যে জার্সি,
১১ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফর শেষে বর্তমানে চীনে অবস্থান করছেন। মালয়েশিয়া সফর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খুব একটা প্রতিক্রিয়া না থাকলেও চীন সফর নিয়ে দেশে এবং দেশের বাহিরে নানান জল্পনা-কল্পনা বিদ্যমান রয়েছে। এ সফর শুধু ‘সমর্থন’ ও ‘সমালোচনা’—এই দুই ভাগে বিভক্ত করা সমীচীন হবে না।
১১ ঘণ্টা আগে