সাক্ষাৎকার: আসিফ মাহমুদ
ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত মুহূর্ত ছিল ৫ আগস্টের ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি। এর পেছনের পটভূমি এবং পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের নানা বিষয় নিয়ে ঢাকা স্ট্রিমের মুখোমুখি হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হুমায়ূন শফিক
স্ট্রিম ডেস্ক

স্ট্রিম: ৬ আগস্টের কর্মসূচি কেন এক দিন এগিয়ে ৫ আগস্টে করলেন? এর পেছনে কারা ছিল? কর্মসূচি এগিয়ে আনার কারণই বা কী?
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া: ৩ তারিখে এক দফা ঘোষণার পরেই আমরা পরবর্তী কর্ম-পরিকল্পনা কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা করি। ৩ তারিখে এক দফা ঘোষণার পরেই ৪ তারিখের কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ৫ তারিখ আর ৬ তারিখের কর্মসূচিটা আমরা অনলাইনে মিটিং করে নির্ধারণ করি যে ৫ তারিখ সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় নারী সমাবেশ, শ্রমিক সমাবেশ এবং সিভিল সোসাইটি—এরকম নানা ধরনের সমাবেশ করা হবে। আর ৬ তারিখে লং মার্চ হবে। আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, এই কর্মসূচি ৪ তারিখের কর্মসূচি চলাকালে ঘোষণা করার জন্য।
যথারীতি আমি ৪ তারিখ দুপুরের দিকে এই কর্মসূচিগুলো ঘোষণা করে দিই। একটা ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বলি, ৫ তারিখ আমাদের সমাবেশ হবে সারা দেশে, আর ৬ তারিখ লং মার্চ।
ওই ঘোষণার পরেই আমরা অনেকের থেকে ইনফরমেশন পাচ্ছিলাম। কী হচ্ছে না হচ্ছে এসব আর কি। সাংবাদিকদের থেকে, কূটনীতিকদের থেকে, প্রশাসনের অনেকের থেকে, আবার আমাদের নিজেদের লোকজনের থেকেও তথ্য পেতাম। ইনফরমেশনগুলো নিয়ে এর ভিত্তিতে আমরা ডিসিশন নিতাম। আরও যারা স্টেকহোল্ডার আছে, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ওদের সঙ্গেও আমাদের যোগাযোগ হচ্ছিল। তাদের সঙ্গে পরামর্শ হচ্ছিল।
একটা কনসার্ন আসে যে ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জায়গা থেকে ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ট্রাকে করে, বাসে করে ঢাকায় মানুষ জড়ো করছে। কারণ ওরা আন্দোলনটাকে থামানোর জন্য একটা শেষ চেষ্টা নেবে—এরকম একটা মেসেজ আসা শুরু করে। বিকেলের পরে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হবে, এরকম একটা কথা আমরা শুনতে থাকি। একটা শঙ্কা ছিল তখন। অনেকেই বলছিল যে আওয়ামী লীগ যদি ঢাকায় লোক জড়ো করে ফেলে এবং একদিন বেশি সময় পায়, তাহলে ওরা হয়তো আরও ম্যাসাকার ঘটাতে পারে, আরও গণহত্যা বেশি হতে পারে। আমরা ফেইলও করতে পারি।
সব মিলিয়ে ৪ তারিখ সকালের দিকে সেভাবে হত্যার ঘটনা ঘটেনি। দুপুরের পর থেকে পুলিশ গুলি করা শুরু করে এবং সন্ধ্যার দিকে অনেক বেশি হত্যার ঘটনা ঘটায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেও ৪ জনের লাশ নিয়ে মিছিল হয়।
মোটামুটি এই সব ইনফরমেশন আসছে। আমাদের জুনিয়রদের মধ্যে মাসুদ (হান্নান মাসুদ) এবং কাদের (আব্দুল কাদের) বলল, ভাই এই লং মার্চ... এই ইনফরমেশনগুলোর ভিত্তিতে লং মার্চ এগিয়ে আনার বিষয় বিবেচনা করা যায় কিনা।
আমি অনলাইনে গ্রুপ কলে ওদের সঙ্গে কথা বললাম। পাঁচ-ছয়জন ছিলাম আমরা। বাকি সবাই বিচ্ছিন্নভাবে ছিল। সবাইকে কানেক্ট করা সহজ ছিল না। নাহিদ ইসলাম আগের দিনের সিদ্ধান্ত জানতেন যে ৫ তারিখ সমাবেশ হবে, ৬ তারিখ লং মার্চ হবে, ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই আমি ঘোষণাও করেছি। কিন্তু নাহিদ ইসলাম ওই দিন শাহবাগে ছিলেন, তাঁর ফোনটা বন্ধ ছিল নিরাপত্তার স্বার্থে। তাঁর সঙ্গে কানেক্ট করতে পারছিলাম না। আবার তাঁকে না বলে একা সিদ্ধান্তও নিতে পারছিলাম না।
পরে আবার গ্রুপ কলে ওদেরকে কানেক্ট করি। সবাই একমত হয় যে, এটা (কর্মসূচি একদিন এগিয়ে আনা) ঘোষণা করা যাক। তারপরে আমি সিদ্ধান্ত নিই, তাহলে কর্মসূচি একদিন এগিয়ে আনি। তাহলে আওয়ামী লীগও অপ্রস্তুত হয়ে যাবে, তাদেরও যথেষ্ট প্রস্তুতি তারা নিতে পারবে না।

আমাদেরও একটা শঙ্কা ছিল, এত অল্প সময়ে লং মার্চ সফল করা সম্ভব হবে কিনা। সারা দেশ থেকে মানুষ আসতে পারবে কিনা। একটা চিন্তা ছিল যে সারা দেশ থেকে না আসতে পারলেও আশপাশের জেলাগুলো থেকে মানুষ আসার জন্য যথেষ্ট সময় আছে।
সেই জায়গা থেকে আমি ৪ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে মার্চটা একদিন এগিয়ে এনে ৫ আগস্ট লং মার্চের ডাক দিই এবং সারা দেশ থেকে মানুষকে ঢাকার উদ্দেশে আসার জন্য আহ্বান জানাই।
স্ট্রিম: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলছেন তিনিও এই বিষয়টা জানতেন। তাঁর সঙ্গেও আপনাদের যোগাযোগ হয়েছিল? মানে তিনি বলছেন, তারা চেয়েছিলেন ৬ আগস্ট না হয়ে ৫ আগস্ট লং মার্চ হোক।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া: ইন্ডিভিজুয়ালি অনেকের অনেক কিছু মনে হতে পারে। তবে আমাদের সঙ্গে এটার কোনো ধরনের কো-অর্ডিনেশন বা আমাদেরকে জানানো, এরকম কিছু হয় নাই। মির্জা ফখরুলের সঙ্গে আমার প্রথম কথা হয়েছে ৬ আগস্ট সকালে, গণঅভ্যুত্থান সফল হওয়ার পরের দিন। সবার কনসেনসাসের মতো, একটা বোঝাপড়া সবার মধ্যেই তৈরি হচ্ছিল, ওকে, লং মার্চটা একদিন হয়তো এগিয়ে আনলে ভালো হয়। এ কারণেই সিদ্ধান্তটা সবাই এত বেশি পছন্দ করেছিলেন। তো এটা তাদের... মানে তাদের কাছেও তো অনেক ইনফরমেশন আসে। তাদেরও মনে হতে পারে। কিন্তু আমাদের সঙ্গে কোনো পার্টিরই সিনিয়র নেতৃবৃন্দের গণঅভ্যুত্থান সফল হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সেভাবে যোগাযোগ হয়নি। ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে আমাদের সমন্বয় ছিল।
স্ট্রিম: মানে ছাত্রদল, শিবির...
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া: হ্যাঁ, ছাত্রদল, শিবিরসহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠন, বামপন্থী এরা।
স্ট্রিম: ৫ আগস্টের স্মৃতিটা বলেন। মানে সকাল থেকে কী করলেন রাত পর্যন্ত?
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া: ৪ আগস্ট লং মার্চ ঘোষণার পর তো আর ঘুম হয় নাই। সারা রাত খোঁজখবর নিচ্ছিলাম যে সারা দেশ থেকে মানুষ আসছে কি না। অনেকে ছবি দিচ্ছিল যে আসছে বাসে করে, ট্রাকে করে। বোঝার চেষ্টা করছিলাম, কাল আসলে (সরকার) পতন করা সম্ভব হবে কি না। তারপরে আরও বোঝার চেষ্টা করছিলাম যে পুলিশ-সেনাবাহিনীর কী অবস্থান হবে, তারা গুলি করবে কী করবে না।
সবকিছু মিলিয়ে একটা শঙ্কার মধ্য দিয়ে পুরো রাতটা গেছে। আমি মগবাজারের দিকে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাইয়ের বাসায় আশ্রয়ে ছিলাম। সকালে তিনি তাঁর ফ্যামিলিসহ আমাদের একটি সিএনজিতে উঠিয়ে দিলেন। আমরা শাহবাগের দিকে আসব। শাহবাগে জড়ো হওয়ার কথা ছিল।
রাস্তায় রাস্তায় বিভিন্ন জায়গায় পাহারা ছিল পুলিশের। ব্যারিকেড ছিল। পুলিশ গুলি করছিল। আবার বিভিন্ন জায়গায় ছাত্রলীগ-যুবলীগরাও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছিল। তো এই সবকিছু পার হয়ে অনেক কষ্টে আমরা পুরান ঢাকার মধ্যে ঢুকলাম। সেখান থেকে সিএনজি নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। পরে সিএনজি ছেড়ে আমরা পায়ে হেঁটে চানখাঁরপুলের দিকে এলাম। সেখান থেকে শাহবাগের দিকে যাব।
চানখাঁরপুলে এসে দেখলাম খুব ভয়ানক দৃশ্য। পুলিশ চানখাঁরপুল মোড় থেকে চারদিকে যতগুলো গলি আছে, সব গলিতে গুলি করছে। মানুষ জড়ো হয়ে আছে কিন্তু কেউ যেতে পারছে না। কেউ একটু আগালেই গুলি করছে এবং কেউ না কেউ মারা যাচ্ছে। আমি যে গলিতে ছিলাম, নাজিমউদ্দিন রোড, ওইখানেই আমার সামনে ৫ জন শহীদ হন। শহীদ আনাসসহ ৫ জন।
আমরা প্রায় ২ ঘণ্টার মতো পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল মারি এবং পুলিশ গুলি করে। ইট-পাটকেল তো পৌঁছায় না পুলিশ পর্যন্ত, কিন্তু গুলি এসে আমাদের সহযোদ্ধাদের গায়ে লাগছে। অনেককে সেখান থেকে হাতে-পায়ে ধরে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, অনেকে আবার স্পট ডেথ হয়ে গেছে।
আমরা কিছুক্ষণ পরে জানতে পারি, যাত্রাবাড়ীর দিক থেকে বড় আরেকটা মিছিল আসছে। ওই সময়েই আমার কাছে ইনফরমেশন আসে যে পলিটিক্যাল পার্টিগুলোকে সেনানিবাসে ডাকা হয়েছে। তারা যাচ্ছে। সেনাপ্রধান জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন এবং মার্শাল ল জারি হতে পারে।
তখন আমি ওইখানেই চানখাঁরপুলে গোলাগুলির মধ্যেই একটা লাইভ করে আমাদের অবস্থান জানাই যে কোনো ধরনের মার্শাল ল আমরা মেনে নেব না। সামরিক শাসন মেনে নেওয়া হবে না। আমরা গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা চাই। লাইভ করার কিছুক্ষণ পরে ওই যাত্রাবাড়ী থেকে যখন মিছিলটা আসে, পুলিশ আর ওই গ্রাউন্ডটা ধরে রাখতে পারে না। এত বেশি মানুষ চলে এসেছিল, তারা (পুলিশ) সেখান থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। হুট করেই তারা গাড়িতে উঠে সেখান থেকে চলে যায়।
তারপরে আমরা শাহবাগের দিকে যাই এবং শাহবাগে গিয়ে আমি দেখি যে লাখ লাখ মানুষ ইতিমধ্যে জড়ো হয়ে আছে। নাহিদ ইসলাম একটা রিকশার ওপর দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমি গিয়ে ওই রিকশার ওপরে উঠলাম। সেখান থেকে আমরা মিছিল নিয়ে গণভবনের দিকে রওনা হলাম।
আমরা ফার্মগেটের কাছাকাছি যাওয়ার পরে এক সাংবাদিক ফোন করে জানালেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে। প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না যে শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে। পরে আরও ২-৩ টা কল দিয়ে ভেরিফাই করলাম যে আসলেই পালিয়ে গেছে।
স্ট্রিম: এরপর কী হলো? মানে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের ডেকেছিলেন। আপনাদের কখন ডেকেছিলেন?
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া: ৫ আগস্টের মিটিংয়ে তো আমাদের সঙ্গে দেখা হয়নি। ওই দিন আমরা যাইনি। ওই দিন লাখ লাখ মানুষ উল্লাস করছিল। ওই উল্লাসের মধ্যে পড়ে গেছি। সেখান থেকে বের হতে পারছিলাম না। অনেক কষ্টে সেখান থেকে বের হয়েছিলাম। আমরা চাচ্ছিলাম যে নেশনকে অ্যাড্রেস করাটা গুরুত্বপূর্ণ। একটা সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। এ জন্য আমরা তখন অন্য কোনো জায়গা না পেয়ে চ্যানেল ২৪-এ এলাম। সেখানে আমরা একটা সংবাদ সম্মেলন করলাম।
আর সেখানে থাকা অবস্থাতেই আমরা জানতে পারলাম, পলিটিক্যাল পার্টিগুলোর নেতারা সেনানিবাসের মিটিংয়ের পরে বঙ্গভবনে গেছে। আমরা একটু বিরক্তই ছিলাম পলিটিক্যাল পার্টিগুলোর ওপরে যে তারা কেন বঙ্গভবনে গেল। তারা তো আমাদের সঙ্গে বসেই সিদ্ধান্ত নিতে পারত। তারা এই সেনানিবাসে যাওয়ার মধ্য দিয়ে মিলিটারি এস্টাবলিশমেন্টকে দেশের ভাগ্য নির্ধারণের একটা লেজিটিমেসি দিয়ে এল, যেটা তাদের আমাদের সঙ্গে বসে করার কথা।
যাইহোক, ৫ আগস্ট রাতে আমরা ড. ইউনূসের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ঘোষণা করে দিলাম। সেটা ৬ আগস্ট একদম প্রথম প্রহর বলা যায়। এরপর ৬ আগস্ট সকালেই আমাদের সঙ্গে সেনাপ্রধান যোগাযোগ করলেন এবং তিনি বললেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই খারাপ। এটা ম্যানেজ করা যাচ্ছে না। একা সেনাবাহিনী পারছে না কারণ পুলিশ নাই, কিছু নাই। আমাদের দ্রুতই একটা সরকার গঠন করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। আপনারা আসেন, আমরা বসি।

তিনি সেনানিবাসে বসার কথা বললেন, আমরা রাজি হইনি। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বসার কথা বলেছিলাম। পরে তিনি বললেন, তাহলে আমরা একটা মিডল পয়েন্টে বসি, বঙ্গভবনে বসি।
পরে আমরা একটা শর্ত দিলাম, বসতে হলে আগে সংসদ বাতিল করতে হবে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে আরকি। সে অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দিলেন এবং এই শর্ত অনুযায়ী আমরা পরে ওই দিন সন্ধ্যায় বসলাম। ইতিমধ্যেই আমরা ড. ইউনূসকে তো প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা করে দিয়েছি। সেখানে তাঁরা চাচ্ছিলেন ড. ইউনূস যেন প্রধান উপদেষ্টা না হন।
স্ট্রিম: তারা কাকে প্রধান উপদেষ্টা বানাতে চেয়েছিলেন?
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া: তারা নাম বলেছিলেন সালেহউদ্দিন আহমেদ, ড. আসিফ নজরুল। কিন্তু ড. ইউনূসকে কোনোভাবেই চাচ্ছিলেন না। তো এটা নিয়ে দীর্ঘ ৩ ঘণ্টার মতো ডিসকাশন হয়। শেষ পর্যন্ত তারা মানতে বাধ্য হন। আমরা আমাদের পজিশনে স্ট্রং ছিলাম। ওই দিন সেখানেই রাষ্ট্রপতি নিজেই ঘোষণা করেন ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হবেন।
তারপর আমাদের একটা লিয়াজোঁ কমিটির মাধ্যমে বিএনপি, জামায়াত আরও স্টেকহোল্ডার সবার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সর্বসম্মতক্রমে একটা উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়, যেটা ৮ আগস্ট শপথ গ্রহণ করে।
স্ট্রিম: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক ইন্টারভিউতে (৩ আগস্ট) বলেছেন, নাম নিয়ে কাড়াকাড়ি, কারা কারা উপদেষ্টা হবেন। তিনি দাবি করেছেন, আপনারা শুরুতে নাম নিয়ে গিয়েছিলেন। বিএনপি থেকেও তো নাম দেওয়ার কথা। তারা কি কারও নাম দেয়নি?
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া: মির্জা ফখরুল সাহেবের সঙ্গে আমার ৬ আগস্ট সকালে ফোনে কথা হয়েছিল। স্বাভাবিক কুশল বিনিময় হয়েছিল। কিন্তু মির্জা ফখরুল, তারেক রহমান, তারপরে আমাদের এই যে জামায়াতের নেতৃবৃন্দ, তাদের সঙ্গে সমন্বয়টা করেছিল আমাদের লিয়াজোঁ কমিটি। মাহফুজ আলম, আদিব ভাই, আবু বাকের মজুমদার—এরকম ছয় সাতজনের একটা লিয়াজোঁ কমিটি ছিল। তারা এই যে তালিকা নিয়ে যাওয়া, তালিকা নিয়ে কোনটার বিষয়ে জামায়াতের অবজেকশন আছে কিনা, কোনটার বিষয়ে বিএনপির অবজেকশন আছে কিনা, তো অবজেকশন থাকলে ওই নামটা বাদ দেওয়া, নতুন নাম দেওয়া, এই জিনিসগুলা এবং ড. ইউনূসের সঙ্গেও সমন্বয় করা—এই ব্যাপারগুলো মূলত আমাদের ওই লিয়াজোঁ কমিটি করেছিল।
আমার জানামতে প্রাথমিকভাবে উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম যে ১৫ জন শপথ নিয়েছিলেন, তাদের ব্যাপারে কারও কোনো অবজেকশন ছিল না আরকি। যাদের নামে অবজেকশন ছিল, তাদের আগেই বাদ দেওয়া হয়েছিল।
স্ট্রিম: মানে সবাই সম্মিলিতভাবেই আসলে...
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া: হ্যাঁ, সবার সম্মতিতেই। কারণ দেখবেন যে প্রথম ৫-৬ মাস কিন্তু এই উপদেষ্টা পরিষদ নিয়ে কারও কোনো ক্ষোভ বা কারও কোনো রাগ নাই। কারণ সবাই খুশি এটা নিয়ে। কারণ সবার মতামত নিয়েই এটা করা হয়েছিল।
স্ট্রিম: আচ্ছা, ড. ইউনূস তো তখনো দেশে আসেননি। যোগাযোগটা কে করছিল তখন তাঁর সঙ্গে? তিনিও তো প্রথমে রাজি হচ্ছিলেন না।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া: ড. ইউনূস তখন প্যারিসে। আমি সমন্বয় করছিলাম। তাঁর তখন একটা মাইনর সার্জারি হয়েছিল। তিনি বলছিলেন, আরেকটু সময় লাগবে আমার আসতে। তিনি ৫ আগস্ট রাজি হওয়ার পরই আমরা তাঁর নাম ঘোষণা করে দিই। কিন্তু তিনি পরে আমাদেরকে জানান, ৮ আগস্ট দেশে আসতে পারবেন। এর মধ্যেই এই লিয়াজোঁ কমিটি সবার সঙ্গে আলোচনা করে, সবার সঙ্গে সমন্বয় করে উপদেষ্টা পরিষদটা প্রস্তুত করে।
স্ট্রিম: ৮ আগস্টে যে সরকার গঠিত হলো, ওই ঘটনাটা একটু বলুন। তখন আপনিও তো উপদেষ্টা হলেন।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া: ৮ আগস্ট ড. ইউনূস দেশে এলেন। উপদেষ্টা পরিষদ চূড়ান্ত করার জন্য ভিআইপি লাউঞ্জে এয়ারপোর্টেই মূলত আলোচনা হলো। সেখানে তিন বাহিনী প্রধান ছিলেন তাঁকে রিসিভ করার জন্য। আমরা ছিলাম। ড. আসিফ নজরুল ছিলেন। সেখানে আবার আলোচনা করে উপদেষ্টা পরিষদের ১৫ জনের তালিকাটা একদম চূড়ান্ত করা হয়।

চূড়ান্ত হওয়ার পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে এটা দিয়ে দেওয়া হয় যেন সবাইকে শপথের জন্য ডাকা হয়। ড. ইউনূসকেও নির্ধারিত সময়ে বঙ্গভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। আমরা সবাই যাই। সেখানে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির একটা জাস্টিফিকেশন নিয়ে এসে এই শপথের বৈধতা দেওয়া হয় এবং রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে শপথ গ্রহণ করা হয়। যদিও আমাদের একটা মতামত ছিল, আমরা শপথটা শহীদ মিনারে নেব। কিন্তু তারা একে তো ড. ইউনূসকেই মানছিল না এবং এই সব নেগোসিয়েশনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে শপথের ব্যাপারে ফাইনাল হয়।
স্ট্রিম: আপনারা শহীদ মিনারে শপথ নিতে চাইলেন, কিন্তু বাধা দিল কারা?
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া: এটা তিন বাহিনীর থেকে এবং পলিটিক্যাল পার্টিগুলোও আসলে খুব একটা এই আইডিয়াটার সঙ্গে একমত ছিল না। বিষয়টা হচ্ছে, যখন জাতীয় সরকারটা করা গেল না, বিএনপি রাজি হচ্ছে না, তখনই শহীদ মিনারে শপথের আইডিয়াটাও আস্তে আস্তে ফেড হয়ে যায় আরকি।
স্ট্রিম: মির্জা ফখরুল সাহেব এক ইন্টারভিউতে বলছেন, তারা জাতীয় সরকার আসলে চায় নাই, অন্তর্বর্তী সরকার টাইপের একটা সরকার চেয়েছে। মানে এটার কারণ হিসেবে তারা কিছু বলছিলেন আপনাদের?
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া: এটার কারণ হিসেবে সেভাবে তারা কিছু বলেননি। তারা তাদের দলীয় পজিশন আমাদের জানিয়েছেন। আমার যেটা বোঝাপড়া, তারা আসলে জাতীয় সরকারে সবার সঙ্গে একটা অংশ না হয়ে, দ্রুত নির্বাচন দিয়ে কীভাবে ক্ষমতায় এককভাবে আসা যায়, এটাতেই তাদের ফোকাসটা ছিল বেশি।
স্ট্রিম: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া: আপনাকেও ধন্যবাদ।

ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত মুহূর্ত ছিল ৫ আগস্টের ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি। এর পেছনের পটভূমি এবং পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের নানা বিষয় নিয়ে ঢাকা স্ট্রিমের মুখোমুখি হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হুমায়ূন শফিক
.png)
স্ট্রিম: ৬ আগস্টের কর্মসূচি কেন এক দিন এগিয়ে ৫ আগস্টে করলেন? এর পেছনে কারা ছিল? কর্মসূচি এগিয়ে আনার কারণই বা কী?
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া: ৩ তারিখে এক দফা ঘোষণার পরেই আমরা পরবর্তী কর্ম-পরিকল্পনা কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা করি। ৩ তারিখে এক দফা ঘোষণার পরেই ৪ তারিখের কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ৫ তারিখ আর ৬ তারিখের কর্মসূচিটা আমরা অনলাইনে মিটিং করে নির্ধারণ করি যে ৫ তারিখ সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় নারী সমাবেশ, শ্রমিক সমাবেশ এবং সিভিল সোসাইটি—এরকম নানা ধরনের সমাবেশ করা হবে। আর ৬ তারিখে লং মার্চ হবে। আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, এই কর্মসূচি ৪ তারিখের কর্মসূচি চলাকালে ঘোষণা করার জন্য।
যথারীতি আমি ৪ তারিখ দুপুরের দিকে এই কর্মসূচিগুলো ঘোষণা করে দিই। একটা ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বলি, ৫ তারিখ আমাদের সমাবেশ হবে সারা দেশে, আর ৬ তারিখ লং মার্চ।
ওই ঘোষণার পরেই আমরা অনেকের থেকে ইনফরমেশন পাচ্ছিলাম। কী হচ্ছে না হচ্ছে এসব আর কি। সাংবাদিকদের থেকে, কূটনীতিকদের থেকে, প্রশাসনের অনেকের থেকে, আবার আমাদের নিজেদের লোকজনের থেকেও তথ্য পেতাম। ইনফরমেশনগুলো নিয়ে এর ভিত্তিতে আমরা ডিসিশন নিতাম। আরও যারা স্টেকহোল্ডার আছে, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ওদের সঙ্গেও আমাদের যোগাযোগ হচ্ছিল। তাদের সঙ্গে পরামর্শ হচ্ছিল।
একটা কনসার্ন আসে যে ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জায়গা থেকে ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ট্রাকে করে, বাসে করে ঢাকায় মানুষ জড়ো করছে। কারণ ওরা আন্দোলনটাকে থামানোর জন্য একটা শেষ চেষ্টা নেবে—এরকম একটা মেসেজ আসা শুরু করে। বিকেলের পরে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হবে, এরকম একটা কথা আমরা শুনতে থাকি। একটা শঙ্কা ছিল তখন। অনেকেই বলছিল যে আওয়ামী লীগ যদি ঢাকায় লোক জড়ো করে ফেলে এবং একদিন বেশি সময় পায়, তাহলে ওরা হয়তো আরও ম্যাসাকার ঘটাতে পারে, আরও গণহত্যা বেশি হতে পারে। আমরা ফেইলও করতে পারি।
সব মিলিয়ে ৪ তারিখ সকালের দিকে সেভাবে হত্যার ঘটনা ঘটেনি। দুপুরের পর থেকে পুলিশ গুলি করা শুরু করে এবং সন্ধ্যার দিকে অনেক বেশি হত্যার ঘটনা ঘটায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেও ৪ জনের লাশ নিয়ে মিছিল হয়।
মোটামুটি এই সব ইনফরমেশন আসছে। আমাদের জুনিয়রদের মধ্যে মাসুদ (হান্নান মাসুদ) এবং কাদের (আব্দুল কাদের) বলল, ভাই এই লং মার্চ... এই ইনফরমেশনগুলোর ভিত্তিতে লং মার্চ এগিয়ে আনার বিষয় বিবেচনা করা যায় কিনা।
আমি অনলাইনে গ্রুপ কলে ওদের সঙ্গে কথা বললাম। পাঁচ-ছয়জন ছিলাম আমরা। বাকি সবাই বিচ্ছিন্নভাবে ছিল। সবাইকে কানেক্ট করা সহজ ছিল না। নাহিদ ইসলাম আগের দিনের সিদ্ধান্ত জানতেন যে ৫ তারিখ সমাবেশ হবে, ৬ তারিখ লং মার্চ হবে, ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই আমি ঘোষণাও করেছি। কিন্তু নাহিদ ইসলাম ওই দিন শাহবাগে ছিলেন, তাঁর ফোনটা বন্ধ ছিল নিরাপত্তার স্বার্থে। তাঁর সঙ্গে কানেক্ট করতে পারছিলাম না। আবার তাঁকে না বলে একা সিদ্ধান্তও নিতে পারছিলাম না।
পরে আবার গ্রুপ কলে ওদেরকে কানেক্ট করি। সবাই একমত হয় যে, এটা (কর্মসূচি একদিন এগিয়ে আনা) ঘোষণা করা যাক। তারপরে আমি সিদ্ধান্ত নিই, তাহলে কর্মসূচি একদিন এগিয়ে আনি। তাহলে আওয়ামী লীগও অপ্রস্তুত হয়ে যাবে, তাদেরও যথেষ্ট প্রস্তুতি তারা নিতে পারবে না।

আমাদেরও একটা শঙ্কা ছিল, এত অল্প সময়ে লং মার্চ সফল করা সম্ভব হবে কিনা। সারা দেশ থেকে মানুষ আসতে পারবে কিনা। একটা চিন্তা ছিল যে সারা দেশ থেকে না আসতে পারলেও আশপাশের জেলাগুলো থেকে মানুষ আসার জন্য যথেষ্ট সময় আছে।
সেই জায়গা থেকে আমি ৪ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে মার্চটা একদিন এগিয়ে এনে ৫ আগস্ট লং মার্চের ডাক দিই এবং সারা দেশ থেকে মানুষকে ঢাকার উদ্দেশে আসার জন্য আহ্বান জানাই।
স্ট্রিম: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলছেন তিনিও এই বিষয়টা জানতেন। তাঁর সঙ্গেও আপনাদের যোগাযোগ হয়েছিল? মানে তিনি বলছেন, তারা চেয়েছিলেন ৬ আগস্ট না হয়ে ৫ আগস্ট লং মার্চ হোক।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া: ইন্ডিভিজুয়ালি অনেকের অনেক কিছু মনে হতে পারে। তবে আমাদের সঙ্গে এটার কোনো ধরনের কো-অর্ডিনেশন বা আমাদেরকে জানানো, এরকম কিছু হয় নাই। মির্জা ফখরুলের সঙ্গে আমার প্রথম কথা হয়েছে ৬ আগস্ট সকালে, গণঅভ্যুত্থান সফল হওয়ার পরের দিন। সবার কনসেনসাসের মতো, একটা বোঝাপড়া সবার মধ্যেই তৈরি হচ্ছিল, ওকে, লং মার্চটা একদিন হয়তো এগিয়ে আনলে ভালো হয়। এ কারণেই সিদ্ধান্তটা সবাই এত বেশি পছন্দ করেছিলেন। তো এটা তাদের... মানে তাদের কাছেও তো অনেক ইনফরমেশন আসে। তাদেরও মনে হতে পারে। কিন্তু আমাদের সঙ্গে কোনো পার্টিরই সিনিয়র নেতৃবৃন্দের গণঅভ্যুত্থান সফল হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সেভাবে যোগাযোগ হয়নি। ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে আমাদের সমন্বয় ছিল।
স্ট্রিম: মানে ছাত্রদল, শিবির...
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া: হ্যাঁ, ছাত্রদল, শিবিরসহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠন, বামপন্থী এরা।
স্ট্রিম: ৫ আগস্টের স্মৃতিটা বলেন। মানে সকাল থেকে কী করলেন রাত পর্যন্ত?
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া: ৪ আগস্ট লং মার্চ ঘোষণার পর তো আর ঘুম হয় নাই। সারা রাত খোঁজখবর নিচ্ছিলাম যে সারা দেশ থেকে মানুষ আসছে কি না। অনেকে ছবি দিচ্ছিল যে আসছে বাসে করে, ট্রাকে করে। বোঝার চেষ্টা করছিলাম, কাল আসলে (সরকার) পতন করা সম্ভব হবে কি না। তারপরে আরও বোঝার চেষ্টা করছিলাম যে পুলিশ-সেনাবাহিনীর কী অবস্থান হবে, তারা গুলি করবে কী করবে না।
সবকিছু মিলিয়ে একটা শঙ্কার মধ্য দিয়ে পুরো রাতটা গেছে। আমি মগবাজারের দিকে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাইয়ের বাসায় আশ্রয়ে ছিলাম। সকালে তিনি তাঁর ফ্যামিলিসহ আমাদের একটি সিএনজিতে উঠিয়ে দিলেন। আমরা শাহবাগের দিকে আসব। শাহবাগে জড়ো হওয়ার কথা ছিল।
রাস্তায় রাস্তায় বিভিন্ন জায়গায় পাহারা ছিল পুলিশের। ব্যারিকেড ছিল। পুলিশ গুলি করছিল। আবার বিভিন্ন জায়গায় ছাত্রলীগ-যুবলীগরাও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছিল। তো এই সবকিছু পার হয়ে অনেক কষ্টে আমরা পুরান ঢাকার মধ্যে ঢুকলাম। সেখান থেকে সিএনজি নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। পরে সিএনজি ছেড়ে আমরা পায়ে হেঁটে চানখাঁরপুলের দিকে এলাম। সেখান থেকে শাহবাগের দিকে যাব।
চানখাঁরপুলে এসে দেখলাম খুব ভয়ানক দৃশ্য। পুলিশ চানখাঁরপুল মোড় থেকে চারদিকে যতগুলো গলি আছে, সব গলিতে গুলি করছে। মানুষ জড়ো হয়ে আছে কিন্তু কেউ যেতে পারছে না। কেউ একটু আগালেই গুলি করছে এবং কেউ না কেউ মারা যাচ্ছে। আমি যে গলিতে ছিলাম, নাজিমউদ্দিন রোড, ওইখানেই আমার সামনে ৫ জন শহীদ হন। শহীদ আনাসসহ ৫ জন।
আমরা প্রায় ২ ঘণ্টার মতো পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল মারি এবং পুলিশ গুলি করে। ইট-পাটকেল তো পৌঁছায় না পুলিশ পর্যন্ত, কিন্তু গুলি এসে আমাদের সহযোদ্ধাদের গায়ে লাগছে। অনেককে সেখান থেকে হাতে-পায়ে ধরে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, অনেকে আবার স্পট ডেথ হয়ে গেছে।
আমরা কিছুক্ষণ পরে জানতে পারি, যাত্রাবাড়ীর দিক থেকে বড় আরেকটা মিছিল আসছে। ওই সময়েই আমার কাছে ইনফরমেশন আসে যে পলিটিক্যাল পার্টিগুলোকে সেনানিবাসে ডাকা হয়েছে। তারা যাচ্ছে। সেনাপ্রধান জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন এবং মার্শাল ল জারি হতে পারে।
তখন আমি ওইখানেই চানখাঁরপুলে গোলাগুলির মধ্যেই একটা লাইভ করে আমাদের অবস্থান জানাই যে কোনো ধরনের মার্শাল ল আমরা মেনে নেব না। সামরিক শাসন মেনে নেওয়া হবে না। আমরা গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা চাই। লাইভ করার কিছুক্ষণ পরে ওই যাত্রাবাড়ী থেকে যখন মিছিলটা আসে, পুলিশ আর ওই গ্রাউন্ডটা ধরে রাখতে পারে না। এত বেশি মানুষ চলে এসেছিল, তারা (পুলিশ) সেখান থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। হুট করেই তারা গাড়িতে উঠে সেখান থেকে চলে যায়।
তারপরে আমরা শাহবাগের দিকে যাই এবং শাহবাগে গিয়ে আমি দেখি যে লাখ লাখ মানুষ ইতিমধ্যে জড়ো হয়ে আছে। নাহিদ ইসলাম একটা রিকশার ওপর দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমি গিয়ে ওই রিকশার ওপরে উঠলাম। সেখান থেকে আমরা মিছিল নিয়ে গণভবনের দিকে রওনা হলাম।
আমরা ফার্মগেটের কাছাকাছি যাওয়ার পরে এক সাংবাদিক ফোন করে জানালেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে। প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না যে শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে। পরে আরও ২-৩ টা কল দিয়ে ভেরিফাই করলাম যে আসলেই পালিয়ে গেছে।
স্ট্রিম: এরপর কী হলো? মানে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের ডেকেছিলেন। আপনাদের কখন ডেকেছিলেন?
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া: ৫ আগস্টের মিটিংয়ে তো আমাদের সঙ্গে দেখা হয়নি। ওই দিন আমরা যাইনি। ওই দিন লাখ লাখ মানুষ উল্লাস করছিল। ওই উল্লাসের মধ্যে পড়ে গেছি। সেখান থেকে বের হতে পারছিলাম না। অনেক কষ্টে সেখান থেকে বের হয়েছিলাম। আমরা চাচ্ছিলাম যে নেশনকে অ্যাড্রেস করাটা গুরুত্বপূর্ণ। একটা সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। এ জন্য আমরা তখন অন্য কোনো জায়গা না পেয়ে চ্যানেল ২৪-এ এলাম। সেখানে আমরা একটা সংবাদ সম্মেলন করলাম।
আর সেখানে থাকা অবস্থাতেই আমরা জানতে পারলাম, পলিটিক্যাল পার্টিগুলোর নেতারা সেনানিবাসের মিটিংয়ের পরে বঙ্গভবনে গেছে। আমরা একটু বিরক্তই ছিলাম পলিটিক্যাল পার্টিগুলোর ওপরে যে তারা কেন বঙ্গভবনে গেল। তারা তো আমাদের সঙ্গে বসেই সিদ্ধান্ত নিতে পারত। তারা এই সেনানিবাসে যাওয়ার মধ্য দিয়ে মিলিটারি এস্টাবলিশমেন্টকে দেশের ভাগ্য নির্ধারণের একটা লেজিটিমেসি দিয়ে এল, যেটা তাদের আমাদের সঙ্গে বসে করার কথা।
যাইহোক, ৫ আগস্ট রাতে আমরা ড. ইউনূসের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ঘোষণা করে দিলাম। সেটা ৬ আগস্ট একদম প্রথম প্রহর বলা যায়। এরপর ৬ আগস্ট সকালেই আমাদের সঙ্গে সেনাপ্রধান যোগাযোগ করলেন এবং তিনি বললেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই খারাপ। এটা ম্যানেজ করা যাচ্ছে না। একা সেনাবাহিনী পারছে না কারণ পুলিশ নাই, কিছু নাই। আমাদের দ্রুতই একটা সরকার গঠন করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। আপনারা আসেন, আমরা বসি।

তিনি সেনানিবাসে বসার কথা বললেন, আমরা রাজি হইনি। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বসার কথা বলেছিলাম। পরে তিনি বললেন, তাহলে আমরা একটা মিডল পয়েন্টে বসি, বঙ্গভবনে বসি।
পরে আমরা একটা শর্ত দিলাম, বসতে হলে আগে সংসদ বাতিল করতে হবে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে আরকি। সে অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দিলেন এবং এই শর্ত অনুযায়ী আমরা পরে ওই দিন সন্ধ্যায় বসলাম। ইতিমধ্যেই আমরা ড. ইউনূসকে তো প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা করে দিয়েছি। সেখানে তাঁরা চাচ্ছিলেন ড. ইউনূস যেন প্রধান উপদেষ্টা না হন।
স্ট্রিম: তারা কাকে প্রধান উপদেষ্টা বানাতে চেয়েছিলেন?
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া: তারা নাম বলেছিলেন সালেহউদ্দিন আহমেদ, ড. আসিফ নজরুল। কিন্তু ড. ইউনূসকে কোনোভাবেই চাচ্ছিলেন না। তো এটা নিয়ে দীর্ঘ ৩ ঘণ্টার মতো ডিসকাশন হয়। শেষ পর্যন্ত তারা মানতে বাধ্য হন। আমরা আমাদের পজিশনে স্ট্রং ছিলাম। ওই দিন সেখানেই রাষ্ট্রপতি নিজেই ঘোষণা করেন ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হবেন।
তারপর আমাদের একটা লিয়াজোঁ কমিটির মাধ্যমে বিএনপি, জামায়াত আরও স্টেকহোল্ডার সবার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সর্বসম্মতক্রমে একটা উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়, যেটা ৮ আগস্ট শপথ গ্রহণ করে।
স্ট্রিম: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক ইন্টারভিউতে (৩ আগস্ট) বলেছেন, নাম নিয়ে কাড়াকাড়ি, কারা কারা উপদেষ্টা হবেন। তিনি দাবি করেছেন, আপনারা শুরুতে নাম নিয়ে গিয়েছিলেন। বিএনপি থেকেও তো নাম দেওয়ার কথা। তারা কি কারও নাম দেয়নি?
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া: মির্জা ফখরুল সাহেবের সঙ্গে আমার ৬ আগস্ট সকালে ফোনে কথা হয়েছিল। স্বাভাবিক কুশল বিনিময় হয়েছিল। কিন্তু মির্জা ফখরুল, তারেক রহমান, তারপরে আমাদের এই যে জামায়াতের নেতৃবৃন্দ, তাদের সঙ্গে সমন্বয়টা করেছিল আমাদের লিয়াজোঁ কমিটি। মাহফুজ আলম, আদিব ভাই, আবু বাকের মজুমদার—এরকম ছয় সাতজনের একটা লিয়াজোঁ কমিটি ছিল। তারা এই যে তালিকা নিয়ে যাওয়া, তালিকা নিয়ে কোনটার বিষয়ে জামায়াতের অবজেকশন আছে কিনা, কোনটার বিষয়ে বিএনপির অবজেকশন আছে কিনা, তো অবজেকশন থাকলে ওই নামটা বাদ দেওয়া, নতুন নাম দেওয়া, এই জিনিসগুলা এবং ড. ইউনূসের সঙ্গেও সমন্বয় করা—এই ব্যাপারগুলো মূলত আমাদের ওই লিয়াজোঁ কমিটি করেছিল।
আমার জানামতে প্রাথমিকভাবে উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম যে ১৫ জন শপথ নিয়েছিলেন, তাদের ব্যাপারে কারও কোনো অবজেকশন ছিল না আরকি। যাদের নামে অবজেকশন ছিল, তাদের আগেই বাদ দেওয়া হয়েছিল।
স্ট্রিম: মানে সবাই সম্মিলিতভাবেই আসলে...
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া: হ্যাঁ, সবার সম্মতিতেই। কারণ দেখবেন যে প্রথম ৫-৬ মাস কিন্তু এই উপদেষ্টা পরিষদ নিয়ে কারও কোনো ক্ষোভ বা কারও কোনো রাগ নাই। কারণ সবাই খুশি এটা নিয়ে। কারণ সবার মতামত নিয়েই এটা করা হয়েছিল।
স্ট্রিম: আচ্ছা, ড. ইউনূস তো তখনো দেশে আসেননি। যোগাযোগটা কে করছিল তখন তাঁর সঙ্গে? তিনিও তো প্রথমে রাজি হচ্ছিলেন না।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া: ড. ইউনূস তখন প্যারিসে। আমি সমন্বয় করছিলাম। তাঁর তখন একটা মাইনর সার্জারি হয়েছিল। তিনি বলছিলেন, আরেকটু সময় লাগবে আমার আসতে। তিনি ৫ আগস্ট রাজি হওয়ার পরই আমরা তাঁর নাম ঘোষণা করে দিই। কিন্তু তিনি পরে আমাদেরকে জানান, ৮ আগস্ট দেশে আসতে পারবেন। এর মধ্যেই এই লিয়াজোঁ কমিটি সবার সঙ্গে আলোচনা করে, সবার সঙ্গে সমন্বয় করে উপদেষ্টা পরিষদটা প্রস্তুত করে।
স্ট্রিম: ৮ আগস্টে যে সরকার গঠিত হলো, ওই ঘটনাটা একটু বলুন। তখন আপনিও তো উপদেষ্টা হলেন।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া: ৮ আগস্ট ড. ইউনূস দেশে এলেন। উপদেষ্টা পরিষদ চূড়ান্ত করার জন্য ভিআইপি লাউঞ্জে এয়ারপোর্টেই মূলত আলোচনা হলো। সেখানে তিন বাহিনী প্রধান ছিলেন তাঁকে রিসিভ করার জন্য। আমরা ছিলাম। ড. আসিফ নজরুল ছিলেন। সেখানে আবার আলোচনা করে উপদেষ্টা পরিষদের ১৫ জনের তালিকাটা একদম চূড়ান্ত করা হয়।

চূড়ান্ত হওয়ার পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে এটা দিয়ে দেওয়া হয় যেন সবাইকে শপথের জন্য ডাকা হয়। ড. ইউনূসকেও নির্ধারিত সময়ে বঙ্গভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। আমরা সবাই যাই। সেখানে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির একটা জাস্টিফিকেশন নিয়ে এসে এই শপথের বৈধতা দেওয়া হয় এবং রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে শপথ গ্রহণ করা হয়। যদিও আমাদের একটা মতামত ছিল, আমরা শপথটা শহীদ মিনারে নেব। কিন্তু তারা একে তো ড. ইউনূসকেই মানছিল না এবং এই সব নেগোসিয়েশনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে শপথের ব্যাপারে ফাইনাল হয়।
স্ট্রিম: আপনারা শহীদ মিনারে শপথ নিতে চাইলেন, কিন্তু বাধা দিল কারা?
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া: এটা তিন বাহিনীর থেকে এবং পলিটিক্যাল পার্টিগুলোও আসলে খুব একটা এই আইডিয়াটার সঙ্গে একমত ছিল না। বিষয়টা হচ্ছে, যখন জাতীয় সরকারটা করা গেল না, বিএনপি রাজি হচ্ছে না, তখনই শহীদ মিনারে শপথের আইডিয়াটাও আস্তে আস্তে ফেড হয়ে যায় আরকি।
স্ট্রিম: মির্জা ফখরুল সাহেব এক ইন্টারভিউতে বলছেন, তারা জাতীয় সরকার আসলে চায় নাই, অন্তর্বর্তী সরকার টাইপের একটা সরকার চেয়েছে। মানে এটার কারণ হিসেবে তারা কিছু বলছিলেন আপনাদের?
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া: এটার কারণ হিসেবে সেভাবে তারা কিছু বলেননি। তারা তাদের দলীয় পজিশন আমাদের জানিয়েছেন। আমার যেটা বোঝাপড়া, তারা আসলে জাতীয় সরকারে সবার সঙ্গে একটা অংশ না হয়ে, দ্রুত নির্বাচন দিয়ে কীভাবে ক্ষমতায় এককভাবে আসা যায়, এটাতেই তাদের ফোকাসটা ছিল বেশি।
স্ট্রিম: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া: আপনাকেও ধন্যবাদ।
.png)
.png)

বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। কিন্তু আরও উদ্বেগের বিষয়, এই প্রাদুর্ভাব আমাদের বহুদিনের উপেক্ষিত এক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগের চিকিৎসা করতে গিয়ে যখন ৮৯ শতাংশ পরিবার ঋণ নেয়, ৬১ শতাংশ পরিবার সঞ্চয় ভেঙে ফেলে তখন বোঝা যায়, রোগের চেয়ে বড় অসুখ আমাদের স্বাস
৩৪ মিনিট আগে
ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে দূরপ্রাচ্য বা মধ্যপ্রাচ্য থেকে জাহাজে করে এলএনজি আনার চেয়ে প্রতিবেশী দেশ থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আনা অর্থনৈতিকভাবে অনেক বেশি সাশ্রয়ী। মধ্যপ্রাচ্য থেকে এলএনজি আমদানিতে পরিবহন খরচ ও রিগ্যাসিফিকেশনের যে বিপুল ব্যয় রয়েছে, পাইপলাইনের ক্ষেত্রে তা অনেকটাই কমে যাবে।
১ দিন আগে
দারিদ্র্যের চাপে দীর্ঘ হচ্ছে টিসিবির লাইন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকের এই সংবাদ শিরোনামের ঠিক ৫ মাস পরে গত ২৮ জুলাই আরেকটি শিরোনাম: রাজধানীতে টিসিবির লাইনে পণ্য কিনতে গিয়ে দেয়াল ধসে দুজনের মৃত্যু। আরেকটি পত্রিকা বলছে: সংসারে সাশ্রয়ের চেষ্টা, শেষ হলো দেয়ালধসে মৃত্যুতে।
০৩ আগস্ট ২০২৬
সাড়ে ছয় বছরে রাজধানীর সড়কগুলোতে ১ হাজার ৩৮৪ জনের প্রাণহানি এবং ২ হাজার ৪৮৮ জন আহত হওয়ার খবরকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে এই সংখ্যাগুলো রাষ্ট্রের কাছে যেন নিছক ‘পরিসংখ্যান’ হয়ে আছে। অথচ প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে কোনো না কোনো পরিবারের কান্না, জীবনের অকাল সমাপ্তির করুণ কাহিনী।
০৩ আগস্ট ২০২৬