সরকারকে সঠিক পথে রাখতে সংসদে কথার চাবুক চলবে

যেকোনো সময় শেখ হাসিনার পুলিশ ধরে নিয়ে যেতে পারে, সেজন্য প্রস্তুতি রাখতেন জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দিকা। তাঁর মতে, এর মধ্যেই ২০১৮ সালে আল্লাহর পুলিশ পাকড়াও করলেন, ক্যানসার ধরা পড়ল। ইসলামী ছাত্রীসংস্থার গোড়ার দিকের এই সংগঠক সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন। জামায়াত, ১১-দলীয় ঐক্য, সংসদীয় রাজনীতি, নারীর সরাসরি নির্বাচন, ব্যক্তি জীবনসহ নানা বিষয়ে স্ট্রিমের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন এই শিক্ষক।

জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দিকা সংরক্ষিত আসনে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। স্ট্রিম গ্রাফিক

স্ট্রিম: জামায়াতের মহিলা বিভাগের শীর্ষ নেতৃত্বে আসার জার্নি কতটা সহজ ছিল? আপনার রাজনীতির হাতেখড়ি কীভাবে?

নূরুন্নিসা সিদ্দিকা: জামায়াতের মহিলা বিভাগের শীর্ষ নেতৃত্বে কেউ চাইলেও আসতে পারে না। এ নিয়ে কোনো প্রতিযোগিতাও নেই। আমাদের স্বাভাবিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন হয়। পদপদবির জন্য আমরা কেউ রাজনীতি করি না। আমরা মনে করি, দায়িত্ব আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া একটি আমানত। পেলে পালন করতে হবে। না এলে সেটির জন্য আকাঙ্ক্ষী হওয়া যাবে না। ইসলামকে যতটুকু বুঝেছি, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে নেতৃত্ব নিয়ে এটিকে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি মনে হয়েছে।

জামায়াতে একজন বোন প্রথমে ফরম পূরণ করে সহযোগী সদস্য হন। এরপর ৪-৫টা কাজ করলে তিনি কর্মী হন। প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আরও অগ্রসর হলে, তিনি শপথ নেন। অর্থাৎ, তখন তিনি শপথের কর্মী রুকন। এরই ধারাবাহিকতায় কখনো তিনি একটি ইউনিটের কর্মী কিংবা দায়িত্বশীল। কখনো ওয়ার্ড কিংবা থানা ইউনিটের দায়িত্বশীল– এভাবে পর্যায়ক্রমে সাংগঠনিক যোগ্যতা দিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বে আসেন। আমার কথা বললে, ছাত্রজীবন থেকেই ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ছাত্রজীবন শেষে আড়াই মাসে শপথের কর্মী হয়েছি।

স্ট্রিম: আপনার সম্পর্কে কিছু বলবেন– মানে কোথায় পড়াশোনা, তখনই ছাত্রীসংস্থা কিংবা অন্য সংগঠনে যুক্ত ছিলেন কিনা?

নূরুন্নিসা সিদ্দিকা: নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ থানার চর কাঁকড়া গ্রামে জন্ম। সেখানে পেশকারহাট সরকারি প্রাইমারি স্কুলে পড়েছি। সপ্তম শ্রেণির সময়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। এরপর ঢাকায় এসে আজিমপুর গার্লস স্কুলে ভর্তি হই এবং এসএসসি দিই। ইডেন গার্লস কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক, পরে বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করি। ইডেন তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ছিল। পরে বিএড করেছি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে। ইডেনে ১৯৭৫ সালে প্রথম বর্ষের ছাত্রী হিসেবে ইসলামী রাজনীতিতে যুক্ত হই। পরে আমরাই ১৯৭৭ সালে ইসলামী ছাত্রীসংস্থা গঠন করি।

স্ট্রিম: ইসলামী ছাত্রীসংস্থা গঠনের সময় আপনার কোনো পদ ছিল?

নূরুন্নিসা সিদ্দিকা: আমি ১১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির একজন ছিলাম। পরে ছাত্রী সংস্থার সংবিধান প্রণয়ন হলো, স্বাভাবিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় খন্দকার আয়েশা খাতুন সভানেত্রী এবং আমি সেক্রেটারি নির্বাচিত হই। আয়েশা আপা পরপর পাঁচ সেশন সভানেত্রী ছিলেন। উনার ছাত্রজীবন শেষ হলে নির্বাচনে আমি সভানেত্রী হই। ছয় বছর দায়িত্বে ছিলাম। আমরা দুজন ১১ বছর কাটিয়েছি ছাত্রীসংস্থার নেতৃত্বে। ১৯৮৯ সালে ছাত্রজীবন শেষ করি। শপথের কর্মী হয়ে ১৯৯০ সালে জামায়াতের রুকন সম্মেলনে যোগ দিই।

পাকিস্তানে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ওয়ার্ল্ড মুসলিম উইমেন্স কনফারেন্সে অন্যদের সঙ্গে নূরুন্নিসা সিদ্দিকা। ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ওয়ার্ল্ড মুসলিম উইমেন্স কনফারেন্সে অন্যদের সঙ্গে নূরুন্নিসা সিদ্দিকা। ছবি: সংগৃহীত

স্ট্রিম: জামায়াতের মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারির দায়িত্ব আপনি কত বছর সামলাচ্ছেন?

নূরুন্নিসা সিদ্দিকা: আমার এই দায়িত্বের চতুর্থ সেশন শুরু হয়েছে। একেক সেশন তিন বছরের। আমার আগে শহীদ মতিউর রহমান নিজামীর স্ত্রী এই দায়িত্বে ছিলেন। উনি যখন বাইরে চলে গেলেন এবং তৎকালীন সরকারের দমন-পীড়নের কারণে ফিরতে পারলেন না, তখন আমাকে ভারপ্রাপ্ত করা হয়। পরের সেশনে আমি সেক্রেটারি নির্বাচিত হই।

স্ট্রিম: আপনিও কি জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন? মামলা বা নির্যাতন?

নূরুন্নিসা সিদ্দিকা: না, আল্লাহর মেহেরবানিতে এখন পর্যন্ত কোনো জেল-জুলুম-মামলার শিকার আমাকে হতে হয়নি। কিন্তু আমি কখনো এসব পরোয়া করি না। মনে হতো শেখ হাসিনার পুলিশ যেকোনো সময় এসে ধরে নিয়ে যাবে। আমার ঘরে প্রচুর বই আছে– ইসলামের সাহিত্য, ইসলামি আন্দোলনের, কুরআন-হাদিস অনেক অনেক। জুলুমের সময়ে অনেকে বইপুস্তক, কুরআন-হাদিস পর্যন্ত বস্তায় বেঁধে লুকিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েছে। আমি বলেছি, একটি বইও সরাব না। তারা পারলে আমার সব বই নিয়ে যাক, কোনো অসুবিধা নেই। আল্লাহ ওদের হেদায়েত দিলে, বই পড়েও হতে পাবে। এভাবে আমি সব সময় মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতাম। শেখ হাসিনার পুলিশ আমাকে ধরেনি। কিন্তু আল্লাহর পুলিশ আমারে ধরল। অর্থাৎ ২০১৮ সালে আমি ক্যানসারে আক্রান্ত হলাম।

স্ট্রিম: ত্রয়োদশ সংসদের সদস্যদের ৭৬ শতাংশই নতুন। বিএনপির ১৪৮ এবং জামায়াতের ৬৩ জন প্রথম সংসদ সদস্য হয়েছেন। এত নতুন মুখের ভিড়ে সংরক্ষিত আসনেও নতুনরা কেন?

নূরুন্নিসা সিদ্দিকা: আমাদের পুরোনো নারী সংসদ সদস্য মাত্র ছয়জন। তাদের মধ্যে চারজনই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। বাকি দুজনের একজন রাজশাহীর শাহানারা বেগম; অন্যজন আমিরের স্ত্রী ডা. আমেনা শফিক। আমাদের নীতিগত কারণে আমেনা শফিককে রাখা যায়নি। শাহানারা বেগমকে দেওয়া যেত। কিন্তু তাঁর স্বামী অসুস্থ, নিজেরও বয়স হয়েছে। এ কারণে শাহানারা আপাকে আমরা রাখতে পারিনি। নতুনরা সংসদে গেলে তাদের অভিজ্ঞতা হবে; যোগ্যতাও কাজে লাগানো যাবে– এই চিন্তা থেকে আমরা নতুনদের বাছাই করেছি।

স্ট্রিম: এক পরিবারে একাধিক সংসদ সদস্য না রাখা– এই নীতির বলি বলা যায় ডা. আমিনা শফিক এবং ছাত্রীসংস্থার সাবেক সভানেত্রী ও জামায়াতের পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্সের প্রধান ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইটের মতো অভিজ্ঞরা। যোগ্যতা থাকার পরেও বাদ পড়া এক অর্থে তাদের ব্যক্তিগত অধিকার খর্ব কিনা?

নূরুন্নিসা সিদ্দিকা: আমাদের আরও অনেকেই এমন যোগ্যতা সম্পন্ন। একই পরিবার থেকে মনোনয়ন দিলে তাদের যোগ্যতা কাজে লাগবে– এটা ঠিক। কিন্তু অন্যরা তো বঞ্চিত থেকে যাবেন। এক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো– পরিবারতন্ত্র, রাজতন্ত্র কিন্তু এভাবেই সৃষ্টি হয়। বিগত ৫০ বছরে বাংলাদেশে দুটি রাজতন্ত্র আমরা দেখেছি। জামায়াতে এ ধরনের পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক বা জামায়াতের জন্য এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হোক, তা আমরা কেউই চাই না। এটি আমাদের পূর্ব সতর্কতা বলতে পারেন।

স্ট্রিম: স্ট্রিমের সঙ্গে আগে আলাপে আপনি বলেছিলেন– জাতীয় নির্বাচনে যেসব অঞ্চলে জামায়াতের প্রার্থী বিজয়ী হননি, প্রতিনিধিত্ব করার জন্য সেখানকার প্রার্থীরা সংরক্ষিত আসনে অগ্রাধিকার পাবেন। বাস্তবে সেটি কি করতে পেরেছেন?

নূরুন্নিসা সিদ্দিকা: হ্যাঁ, এটি আমরা করেছি। কিন্তু মোট আসনের অনুপাতে সীমিত সংরক্ষিত আসন পাওয়ায় সব অঞ্চলের মনোনীত প্রতিনিধি রাখা সম্ভব হয়নি। আমরা ৩-৪টি অঞ্চলের দিতে পেরেছি। যেমন– বগুড়া থেকে সাজেদা সামাদ, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে শামসুন নাহার বেগম।

স্ট্রিম: পার্বত্য চট্টগ্রামকে কে প্রতিনিধিত্ব করবেন?

নূরুন্নিসা সিদ্দিকা: শামসুন নাহার বেগম চট্টগ্রাম উত্তর জেলার দায়িত্বশীল। ছয়টি নির্বাচনী এলাকা নিয়ে একটি সংরক্ষিত আসন। তিনি চট্টগ্রামের মানুষ। চট্টগ্রামের যে ছয়টি নির্বাচনী এলাকা, সেখানে পার্বত্য জেলাগুলো থাকতে পারে। এভাবে সিলেট অঞ্চলে মাহফুজা, ময়মনসিংহে সাবিকুন নাহার মুন্নিকে প্রতিনিধিত্বের জন্য চিন্তা করেছি।

স্ট্রিম: উনারা তো কেন্দ্রের নেত্রী, তাই না?

নূরুন্নিসা সিদ্দিকা: কেন্দ্রের সঙ্গে সঙ্গে উনাদের এলাকাভিত্তিকও চিন্তা করা হয়েছে। আবার নোয়াখালী-কুমিল্লা অঞ্চলে মার্জিয়া ফয়েজ পেয়েছেন। তিনি শহীদ চিকিৎসক ফয়েজের স্ত্রী। আবদুল কাদের মোল্লার শাহাদাতের রাতে ডা. ফয়েজকেও হত্যা করা হয়। উনি একদিকে আমাদের সাংগঠনিক শহীদ পরিবারের প্রতিনিধি; অপরদিকে লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের প্রতিনিধি। আমার জন্ম নোয়াখালী, শ্বশুরবাড়ি রাজবাড়ী। আমার নির্বাচনী এলাকা রাজবাড়ী ধরা হলে আমি এই অঞ্চলের প্রতিনিধি। অঞ্চলভিত্তিক চিন্তা করেই সবাইকে দেওয়া হয়েছে।

স্ট্রিম: বরিশাল বিভাগে তুলনামূলক কম আসন পাওয়ার পরেও সেখান থেকে কাউকে না দেওয়ার কারণ কী?

নূরুন্নিসা সিদ্দিকা: একটিই কারণ, আসন কম। এর মধ্যে আবার চারটি আসন ছাড়লাম ১১-দলীয় ঐক্যের শরিকদের। এগুলো রাখলে বরিশালেও দিতে পারতাম।

স্ট্রিম: শরিকদের চার আসন ছাড়ার ক্ষেত্রে আপনাদের দর্শন আসলে কী?

নূরুন্নিসা সিদ্দিকা: জোট স্বার্থ এবং জোটের স্বার্থে।

স্ট্রিম: মানে জোট আরও মজবুত হচ্ছে?

নূরুন্নিসা সিদ্দিকা: জি, অবশ্যই। জোটকে শুধু মজবুত করা না, টিকিয়ে রাখার স্বার্থও জড়িত।

কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দিকা। ছবি: সংগৃহীত
কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দিকা। ছবি: সংগৃহীত

স্ট্রিম: এই জোট কী তাহলে আরও দীর্ঘ মেয়াদে থাকবে? স্থানীয় নির্বাচন বা আন্দোলন-সংগ্রামেও?

নূরুন্নিসা সিদ্দিকা: ইনশাআল্লাহ, আমরা তাই মনে করি। দেখেন, বিএনপির সঙ্গে বছরের পর বছর আমাদের জোট ছিল। তো এই জোটও দীর্ঘমেয়াদি হবে– এটি আমরা প্রত্যাশা করি। আর জোটের জন্য অন্যরা ত্যাগ স্বীকার করুক বা না করুক, আমরা করছি। আশা করি, উনারা এই ত্যাগ মূল্যায়ন করবেন।

এই জোট টেকসই হবে। এর মধ্যে আমাদের যে বোনদের সঙ্গে কথা বা দেখা হয়েছে, তারা বেশ সন্তুষ্ট। আমাদের সঙ্গে মেশার আগ পর্যন্ত মানুষের মধ্যে এক ধরনের ভীতি কাজ করে। যখন কেউ মেশার সুযোগ পান, তখন তারা বুঝতে পারেন– যা ভাবছেন তা তো এরা (জামায়াতের কর্মী) নন, এরা ব্যতিক্রম। তাদের ধারণা ও চিন্তায় পরিবর্তন আসে। এখন আজান হচ্ছে, আজ উঠতে হবে।

স্ট্রিম: আমি আর একটি প্রশ্ন করব, একদমই সংক্ষেপে। সংসদে আপনারা কী ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে মনে করেন?

নূরুন্নিসা সিদ্দিকা: আমরা অবশ্যই ইতিবাচক ভূমিকা রাখব। অধিকারের প্রশ্নে সোচ্চার; ন্যায়ের প্রশ্নে আপসহীন থাকব। অন্যায়ের প্রতিবাদ করব। বিশেষ করে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জুলাইয়ে আমাদের তরুণরা যে সংগ্রাম করেছে, সংসদে সেই ধারা অব্যাহত রাখব।

সরকারকে সঠিক পথে রাখতে যথাযথভাবে চেষ্টা থাকবে আমাদের; তা কথার চাবুক দিয়ে বা যেভাবেই হোক। তারপরেও না হলে তো রাজপথ আমাদের খোলাই রয়েছে।

স্ট্রিম: নারী হিসেবে জাতীয় নির্বাচনে সরাসরি লড়াইয়ে কাউকে মনোনয়ন না দিয়ে সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী করার ক্ষেত্রে আপনাদের দর্শন কী?

নূরুন্নিসা সিদ্দিকা: এই ব্যাপারে আমাদের দর্শন হামিদুর রহমান আযাদ স্পষ্ট করেছেন। জুলাই সনদে ৫ শতাংশ নারী প্রতিনিধি দেওয়ার কথা ছিল। এটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নযোগ্য। পরে সরাসরি নারী প্রার্থী দেওয়ার চিন্তা ও চেষ্টা আমাদের রয়েছে। এখন আমাদের সেই প্রস্তুতিপর্ব চলছে বলা যায়।

সর্বাধিক পঠিত
লেটেস্ট
Ad 300x250

সম্পর্কিত