রাজপথের মূল্যায়ন নারীদের অনুপ্রাণিত করবে: আরিফা সুলতানা রুমা

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে জাতীয় সংসদে যাওয়ার অপেক্ষায় আরিফা সুলতানা রুমা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পাবনা-সিরাজগঞ্জ সংরক্ষিত আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। এরইমধ্যে রুমাসহ বিএনপির মনোনীত ৩৬ প্রার্থীর সবার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি স্ট্রিমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর আগামীর পরিকল্পনা, নিজ এলাকা উন্নয়ন এবং ছাত্ররাজনীতিতে নারীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন।

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

আরিফা সুলতানা রুমা

রাজপথের নেত্রীদের মূল্যায়ন ভবিষ্যতে নারীদের ছাত্ররাজনীতিতে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করেন আরিফা সুলতানা রুমা। স্ট্রিমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরিফা সুলতানা রুমা তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের চড়াই-উতরাইয়ের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘এক-এগারোর কঠিন সময় থেকে শুরু করে গত ২০ বছর দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে রাজপথে থেকেছি। দলের প্রতি আনুগত্য আর আদর্শের প্রশ্নে কখনো আপস করিনি। আজ যখন দল আমাকে এই বড় দায়িত্বের জন্য মনোনীত করেছে, তখন মনে হচ্ছে রাজপথের সেই ঘাম আর পরিশ্রমের সঠিক মূল্যায়ন হয়েছে। প্রতিদিন নতুন উদ্যম নিয়ে রাজপথে নামতাম এই আশায় যে, একদিন দেশে গণতন্ত্র ফিরবে এবং আমাদের অভিভাবক তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ে উঠবে।’

নারীদের স্বাবলম্বী করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে নারীরা এখনও নানাভাবে অবহেলিত। আমাদের নেতা তারেক রহমান ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের ভাগ্য পরিবর্তন করা সম্ভব। চেষ্টা করব নারীদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে, যাতে তারা হাঁস-মুরগি পালন বা কুটির শিল্পের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারে।’

এছাড়া একজন পেশাদার আইনজীবী হিসেবে সারা দেশের অসহায় ও নির্যাতিত নারীদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেওয়ার ধারা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

আরিফা সুলতানা রুমার গ্রামের বাড়ি পাবনার চাটমোহর পৌর এলাকায়। তিনি ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজের ছাত্রী ছিলেন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি আইনে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। রাজনীতি জীবনে তিনি, ইডেন কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সাক্ষাৎকারে রুমা তাঁর নিজ এলাকা নিয়ে ভাবনার কথাও জানান। পাবনাকে একটি ‌‌কৃষি ও দুগ্ধ উৎপাদনকারী হাব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পাবনা দেশের অন্যতম কৃষি প্রধান অঞ্চল। কিন্তু এখানকার কৃষকরা এখনও হিমাগার বা আধুনিক বাজারজাতকরণ সুবিধার অভাবে ধুঁকছে। আমি চাই পাবনায় একটি বিশেষায়িত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করতে, যাতে কৃষকরা তাদের ফসলের সঠিক দাম পায়।’

এলাকার অবকাঠামোগত দৈন্যদশার কথা উল্লেখ করে রুমা বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরের স্বৈরশাসনে আমার এলাকায় কোনো উন্নয়ন হয়নি। এখনো অনেক গ্রামে কাঁচা রাস্তা, যেখানে অসুস্থ মানুষকে কোলে করে হাসপাতালে নিতে হয়। এই বেহাল দশা দূর করে গ্রাম ও শহরের মধ্যে ডিজিটাল ও ভৌত সংযোগ স্থাপন করা আমার বড় অগ্রাধিকার।’

পাবনায় বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে সমালোচনার জবাবে রুমা বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকায় এবং মামলার জালে নেতাকর্মীরা কিছুটা ক্লান্ত ও হতাশ ছিল। তবে এখন সময় এসেছে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন নেতৃত্ব তুলে আনা হবে এবং কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম ছাড়াই কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।’

ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা নেত্রীদের এবারের নির্বাচনে মূল্যায়নের বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করেন রুমা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এই মনোনয়ন ভবিষ্যতে ছাত্ররাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। যখন তৃণমূলের মেয়েরা দেখবে যে রাজপথে কষ্ট করলে এবং যোগ্য হলে দল থেকে সর্বোচ্চ সম্মান পাওয়া যায়, তখন তারা রাজনীতিতে আসতে আরও আগ্রহী হবে। ছাত্রদল থেকে উঠে আসা নেতৃত্বরা জানে জনগণের পালস কোন দিকে। তাই এই মনোনয়ন শুধু ব্যক্তির উন্নয়ন নয়, বরং এটি একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিজয়।’ তিনি মনে করেন, এবারের এই সিদ্ধান্ত আগামী প্রজন্মের নারী কর্মীদের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সর্বাধিক পঠিত
লেটেস্ট
Ad 300x250

সম্পর্কিত