leadT1ad

নাটোর-৩

তিন শিক্ষক প্রার্থীর লড়াই, জোটের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় এনসিপি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নাটোর

অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন আনু, অধ্যাপক সাইদুর রহমান এবং অধ্যাপক জার্জিস কাদির। স্ট্রিম কোলাজ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। চলনবিল অধ্যুষিত এই আসনে এবার লড়াই হচ্ছে মূলত তিনজন ‘শিক্ষক’ প্রার্থীর মধ্যে। তবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী অধ্যাপক জার্জিস কাদির বাবু রাজনৈতিক নবীনত্ব এবং তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে রয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটার ও বিশ্লেষকরা।

নাটোর-৩ আসনটি সিংড়া উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন আনু, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক সাইদুর রহমান এবং এনসিপি থেকে লড়ছেন রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক জার্জিস কাদির বাবু। তিনি বর্তমানে নাটোর জেলা এনসিপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।

জোটের মারপ্যাঁচে এনসিপি

আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে এনসিপি সম্প্রতি জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছে। ফলে নাটোর-৩ আসনটি জামায়াতে ইসলামী এনসিপির জন্য ছাড় দিতে পারে বলে আলোচনা চলছে। তবে জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী কে হবেন—সেই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি। ফলে এনসিপির সামগ্রিক নির্বাচনী প্রস্তুতি এখনো ঝুলে আছে।

অন্যদিকে, এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক সাইদুর রহমান গত এক বছর ধরে প্রচার চালিয়ে ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। সেই তুলনায় এনসিপি এখনো অনেকটাই অপ্রস্তুত।

তৃণমূলে সাংগঠনিক শূন্যতা

সিংড়ায় এনসিপির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, উপজেলায় ৫১ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি থাকলেও পৌরসভা বা ১২টি ইউনিয়নের কোনোটিতেই দলটির কোনো কমিটি নেই। এই সাংগঠনিক শূন্যতা নিয়ে দলটির পথচলা শুরু হওয়ায় সিংড়া পৌর এলাকা ছাড়া অন্য কোথাও তাদের তৎপরতা চোখে পড়ছে না। এছাড়া সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর রাজনীতিতে আসায় অধ্যাপক জার্জিস কাদিরের জনসম্পৃক্ততা অন্য প্রার্থীদের তুলনায় কম।

সিংড়া পৌর এলাকার ভোটার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এনসিপির প্রার্থী আগে সরকারি চাকরি করতেন, তাই এলাকার মানুষ তাকে সব সময় পায়নি। তিনি সজ্জন ব্যক্তি হলেও পরিচিতি কিছুটা কম।’

অন্যদিকে লালোর ইউনিয়নের ভোটার আব্বাস উদ্দিন জানান, তিনি এনসিপির প্রার্থীর নামও জানেন না এবং এই দল যে নির্বাচন করছে তা-ও তার জানা নেই।

সিংড়া মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম রাজু আহমেদ বলেন, ‘এই আসনে বিএনপি, জামায়াত এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এনসিপির মতো নতুন দলের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন। তবে জোটগত সিদ্ধান্তে অন্য শরীক দলগুলো কতটা ভূমিকা রাখে, সেটাই দেখার বিষয়।’

জেলা থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা বেসরকারি সংস্থা ‘সাথী’র প্রধান নির্বাহী শিবলী সাদিক বলেন, ‘দু-একটি ঘটনা ছাড়া নির্বাচনের পরিবেশ এখন পর্যন্ত ভালো। তবে আচরণবিধি পালনে বিচারিক কর্তৃপক্ষকে আরও শক্ত ভূমিকা রাখতে হবে।’

যা বলছে এনসিপি

সিংড়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মাহাবুর রহমান তৃণমূল কমিটি না থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি গোছানো আছে। জোটের প্রার্থিতা নিশ্চিত হলেই সব প্রকাশ করা হবে। আমরা চাই এনসিপির প্রার্থীই যেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে জোটের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’

মাহাবুর রহমান আরও জানান, প্রশাসনের ভূমিকায় তারা সন্তুষ্ট থাকলেও বিএনপি ও তাদের বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হচ্ছে।

সার্বিক বিষয়ে এনসিপি প্রার্থী অধ্যাপক জার্জিস কাদির বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, নাটোর-৩ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২৬ হাজার ৮৬২ জন। ২০০৮ সাল থেকে টানা চার মেয়াদে এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন জুনাইদ আহমেদ পলক। এবার আওয়ামী লীগ বিহীন এই নির্বাচনে সিংড়াবাসী নতুন কোনো ‘শিক্ষক’ প্রতিনিধিকে বেছে নেন কি না, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত