জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

কারও আধিপত্য মেনে নেব না: জামায়াত আমির

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৬, ২২: ১৫
আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুস্থদের মধ্যে চীনের সহায়তায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে কথা বলছেন জামায়াত আমির। সংগৃহীত ছবি

‘সভ্য দেশগুলোর’ সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে ঘাড়ের ওপর আমরা কারও আধিপত্য মেনে নেবেন না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১০ এ অবস্থিত আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুস্থদের মাঝে চীনের সহায়তায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা সারা দুনিয়ার সব সভ্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করতে চাই। কিন্তু আমাদের ঘাড়ের ওপর আমরা কারো আধিপত্য মেনে নেব না। এই বোঝা আর নিজের ঘাড়ে উঠবে না। আমাদের যুবসমাজ একদমই এটি সহ্য করবে না। তারা বুক উঁচু করে বাঁচতে চায়, বিশ্বের বুকে নিজেদের একজন গর্বিত বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দিতে চায়।’

নিজ নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে চীন সরকার ও রাষ্ট্রদূতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে জামায়াত আমির বলেন, ‘এই উপহার যদি আমাদের ভাই-বোনদের ঈদের দিনে একটু খুশির ঝিলিক এনে দেয়, এটিই হবে আমাদের বড় পাওনা। সরকার আমাদেরকে যা দেবে, তা আপনাদের কাছে হুবহু পৌঁছে দেবো। এর সঙ্গে নিজেদের পক্ষ থেকেও কিছু যোগ করার চেষ্টা করবো। কারণ আমাদেরও কিছু দায়দায়িত্ব রয়েছে।’

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘চীনের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক সুদীর্ঘ ৫০ বছরের। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে চীন অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার। তাদের বন্ধুত্বের অন্যতম নিদর্শন চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র। এটি পরিপূর্ণভাবেই চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশের জন্য একটি উপহার। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে আমাদের এই বন্ধুত্বের নিদর্শনটি হাইজ্যাক হয়ে গিয়েছিল। হলটির নাম পাল্টিয়ে তারা তাদের বাপের নাম লিখে দিয়েছিল। এটি চরম অকৃতজ্ঞতা। একটা দেশ ভালোবাসার জায়গা থেকে উপহার দিয়েছে, আর তাদের নাম-নিশানাই মুছে দেওয়া হলো! চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই দখল মুক্ত হয়েছে।’

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে চীন আজ পর্যন্ত কোনো হস্তক্ষেপ করেনি উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘অনেকে বাংলাদেশকে কিছু না দিয়েই সবকিছু নিয়ে যান এবং যখন-তখন হস্তক্ষেপ করেন। কিন্তু চীন এমনটি করে না। তারা অবিরত বন্ধুর পরিচয় দিয়েই চলেছে। আমরা আশা করবো, আগামী দিনগুলোতে আমাদের প্রিয় বন্ধু রাষ্ট্র চীন আরও বেশি উদ্যোগী হয়ে বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করবে।’

তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের কান্না। আমরা এই কান্নার অবসান চাই। অতীতে এটি কেন বাস্তবায়ন হয়নি, তা সবাই বোঝে। এই অপসংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আমরা জানিয়ে দিতে চাই যে, আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক এবং আমাদের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি আছে। আমরা এই প্রকল্পকে শুধু সমর্থনই করব না, এর বাস্তবায়নে আমাদের যদি কিছু করার থাকে, সেটিও করব। ইতিমধ্যে চীন এক হাজার শয্যার দুটি হাসপাতাল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশাল হল নির্মাণের ঘোষণাসহ বাজেটও বরাদ্দ করেছে, যা বন্ধুত্বের বড় নিদর্শন।’

অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘আপনাদের বড় উৎসব ঈদুল ফিতর সমাগত। এটি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উৎসব। ঈদের প্রস্তুতিতে সহায়তা করতে এবং পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার লক্ষ্যে আমরা কিছু উপহার নিয়ে এসেছি।’

সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে ডা. শফিকুর রহমানের প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসহ ভবিষ্যতে জামায়াতে ইসলামী ও ডা. শফিকুর রহমান সমর্থন জুগিয়ে যাবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি। আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যেতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মুসলিম ভাই-বোনেরাও একটি উন্নত, নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশীদার হবেন।’

সম্পর্কিত