leadT1ad

ঢাকার পাশেই ‘অবহেলার দ্বীপ’ হরিরামপুরের চরাঞ্চল, প্রতিশ্রুতিতে ভুলতে চান না ভোটাররা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
মানিকগঞ্জ

হরিরামপুরের চরাঞ্চলে নেই আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। মালামাল আনা নেওয়ার একমাত্র যানবাহন ঘোড়ার গাড়ি। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার কোল ঘেঁষে মানিকগঞ্জের অবস্থান হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এই জেলার অনেক জনপদে। বিশেষ করে মানিকগঞ্জ-২ (সিঙ্গাইর, হরিরামপুর ও সদরের দুটি ইউনিয়ন) সংসদীয় আসনের হরিরামপুর উপজেলার চরাঞ্চল যেন এক অবহেলিত বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। নদী ভাঙন, সঠিক শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা থেকে দীর্ঘকাল বঞ্চিত এই অঞ্চলের মানুষ। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা আবারো চরাঞ্চলবাসীদের জন্য ‘নানা প্রতিশ্রুত’ নিয়ে হাজির হয়েছেন। তবে ভোটারদের অভিযোগ, নির্বাচন এলে প্রতিশ্রুতি মিললেও পরে আর কারো দেখা পাওয়া যায় না।

হরিরামপুর উপজেলার পদ্মাবতী চরাঞ্চল যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে আছে। রাতে কোনো ব্যক্তি অসুস্থ হলে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে নেওয়ার কোনো উপায় থাকে না। আন্ধারমানিক ঘাটের ট্রলার চালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিকেল ৫টার পর ট্রলার চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাতে কেউ অসুস্থ হলে ভোরের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। বিশেষ করে প্রসূতি ও শিশুদের চিকিৎসার কোনো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।’

আজিমনগর চরাঞ্চলের বাসিন্দা গফুর মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘প্রতিবার প্রার্থীরা আধুনিক হাসপাতাল করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু জেতার পর আগের মতোই অবস্থা থাকে। এবার আমরা প্রতিশ্রুতিতে ভুলতে চাই না।’

মানিকগঞ্জ-২ আসনে এবার ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মইনুল ইসলাম খান শান্ত, জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আব্দুল মান্নান, ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটের (খেলাফত মজলিস) প্রার্থী মো. সালাউদ্দিন এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মইনুল ইসলাম খান শান্ত জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘ধানের শীষের সরকার আসলে কৃষক, দিনমজুরসহ সর্বস্তরের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হবে।’

জাতীয় পার্টির প্রার্থী এস এম আব্দুল মান্নান বলেন, ‘বিগত সময়ে সংসদ সদস্য থাকাকালে অনেক কাজ করতে চেয়েও শেষ করতে পারিনি। এবার নির্বাচিত হলে সেই অসমাপ্ত কাজগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শেষ করব।’

১০ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে নিজের উন্নয়ন নয়, বরং সাধারণ মানুষের সমহারে উন্নয়ন নিশ্চিত করব। আশা করছি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মানুষ আমাকে সমর্থন দেবে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ভোটার জানান, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও সঠিক নেতৃত্বের অভাবে সিঙ্গাইর ও হরিরামপুরের এই জনপদ আজও পিছিয়ে। তাদের মতে, উন্নয়নের সুফল প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় না পৌঁছালে সেই উন্নয়ন প্রশ্নবিদ্ধই থেকে যায়।

উল্লেখ্য, ৪ লাখ ৭২ হাজার ৬২২ জন ভোটারের এই আসনে দীর্ঘ দিন পর একটি নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচনের প্রত্যাশা করছেন সাধারণ মানুষ। এখন দেখার বিষয়, চরাঞ্চলের মানুষের বঞ্চনার অবসান ঘটাতে তারা কার ওপর আস্থা রাখেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত