ছাত্রশিবির ছাড়লেন সাদিক কায়েম

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম। ছবি: সংগৃহীত
ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ছাত্রশিবির ছাড়লেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ও সংগঠনের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক আবু সাদিক কায়েম।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা এই তথ্য জানিয়েছেন। বিষয়টিকে ‘ছুটি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সাদিক কায়েমের আবেদনে সংগঠন থেকে তাঁকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন।’

এই বিষয়ে সোমবার নিজের ফেসবুক আইডিতে সাদিক কায়েম লিখেছেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, আমার আবেগ আর ভালোবাসার প্রিয় সংগঠন! দেখতে দেখতে দীর্ঘ এক সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। সংগঠনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে আজ আমার আনুষ্ঠানিক ছুটি হয়েছে।

তিনি আরও লেখেন, সবকিছুর জন্য আল্লাহর কাছে অগণিত শুকরিয়া আদায় করছি। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও প্রোডাক্টিভ সময়গুলো কেটেছে এই কাফেলার সঙ্গে। এই প্রিয় কাফেলা আমাকে দেশ ও জাতিকে নিয়ে ভাবতে শিখিয়েছে, জড়তা ভেঙে কথা বলতে শিখিয়েছে, নেতৃত্বের গুণাবলীকে পরম মমতায় বিকশিত করেছে। ইসলামী ছাত্রশিবিরই আত্মিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশে পরিপূর্ণ পথ নির্দেশনা দিয়েছে।

সম্প্রতি রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে দক্ষিণ জামায়াতের দায়িত্বশীলদের সম্মেলনে সাদিক কায়েমের নাম ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়রপদে প্রথম প্রকাশ্যে উচ্চারিত হয়। পরে ছাত্রশিবির জানায়, সংগঠনে থাকাকালে কারও দলীয় প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। তবে শিবির থেকে বিদায় নেওয়ার পরে প্রার্থী হতে কোনো বাধা নেই। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সাদিক কায়েক ছাত্রশিবির ছাড়লেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাদিক কায়েম খাগড়াছড়ির বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া আদর্শ মাদ্রাসা থেকে ২০১৪ সালে দাখিল, পরে বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসা থেকে ২০১৬ সালে আলিম পাস করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পরে সাদিক কায়েম ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি হিসেবে সামনে আসেন। পরে তিনি সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক হন।

২০২৫ সালে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের’ ভিপি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর ২০২৬ সেশনের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান।

সাদিক কায়েমকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছে জামায়াতে ইসলামী। মহানগর দক্ষিণ জামায়াত ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠন থেকে এক বৈঠকে তাঁর নাম প্রস্তাব করা হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্রনেতা ও পরিচিত মুখ হিসেবে এই সিটিতে সাদিকের বিকল্প কাউকে উপযুক্ত ভাবছে না জামায়াত। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তাঁরা দুজনই গত নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। একইভাবে দক্ষিণের অঞ্চল পরিচালক সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ও মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেনও সংসদ সদস্য হয়েছেন।

মেয়রপদে নির্বাচনের বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার পরে জামায়াত বিভিন্ন সামাজিক কাজে সাদিক কায়েমকে সামনের সারিতে রাখছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে জুলাই শহীদ পরিবারে নগদ অর্থ, কুরবানির পশু বিতরণসহ মহানগর দক্ষিণের বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তিনি অংশ নিচ্ছেন।

সংসদে আইন পাসের কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না। সম্প্রতি সংসদে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চলতি বর্ষা মৌসুমের পরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন। এক্ষেত্রে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত