বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গুরুত্ব স্থানীয় নির্বাচন, বন্যা ও কাউন্সিল

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ১৬: ১৯
চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) রাতে প্রায় দুই ঘণ্টার এই বৈঠকে সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি, ত্রাণ কার্যক্রম, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, দ্রুত জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা আয়োজন ও কাউন্সিল বিষয়ে আলোচনা করেন নেতারা।

চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. আব্দুল মঈন খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বিদেশে চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাস ভার্চুয়ালি বৈঠকে যুক্ত ছিলেন।

বৈঠকে মহাসচিব আগের বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন। পাশাপাশি সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবাদানকারীদের ভাতা কর্মসূচির অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। একইসঙ্গে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করা হয়।

বৈঠক সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, স্থায়ী কমিটির নেতারা জুলাই সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গে বিরোধী দলের বক্তব্যকে মানুষকে বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে দলের অবস্থান জনগণের কাছে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় দলীয় ইউনিটগুলোকে সাংগঠনিকভাবে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি দ্রুত জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মহাসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনার অংশ হিসেবে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুতের অনুরোধ জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরের বিভিন্ন চুক্তি এবং সহযোগিতার অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সফরকে সফল করেন স্থায়ী কমিটির নেতারা। একইসঙ্গে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে যুদ্ধ বন্ধ করে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তারা।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের নির্বাচিত হওয়াকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য উল্লেখ করে বৈঠকে তাঁকে অভিনন্দন জানানো হয়। পাশাপাশি দেশে মাদক সমস্যার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

বৈঠকে দলীয় কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং বিএনপির সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে সে অনুযায়ী নির্দেশনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। দলের সাবেক নেতা ও মন্ত্রীদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ, শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং অসুস্থ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়।

একাধিক সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে থেকে শুরু করা যেতে পারে– এ নিয়ে সদস্যদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অধিকাংশ সদস্য চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন শুরুর পক্ষে মত দেন। তবে কোনো নির্দিষ্ট মাস বা সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি। আলোচনার একপর্যায়ে ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর করার প্রস্তুতির বিষয় টেবিলে তোলেন। বিএনপি চেয়ারম্যানসহ উপস্থিত সদস্যরা বিষয়টি নাকচ করে দেন। বেশির ভাহ সদস্য মত দেন, দলীয় প্রতীকবিহীন এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনেক চ্যালেঞ্জিং হবে। কারণ, অধিকাংশ জায়গায় দলের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী ইতোমধ্যে নির্বাচনী মাঠে বিভিন্নভাবে প্রচার চালাচ্ছে। সেখানে একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হবে। তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করতে হবে।

আরেকটি সূত্র জানায়, বৈঠকে কোনো কোনো সদস্য বলেন, দলের নেতাকর্মীরা বিগত ১৭ বছর নানাভাবে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার। কেউ চাকরি, কেউ ব্যবসা-বাণিজ্য হারিয়েছেন। ঠিকমতো বাসাবাড়িতেও থাকতে পারেন নাই। এখন তাদের কীভাবে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলবী করা যায়– এটা নিয়ে আলোচনা হয়। তখন বিএনপি চেয়ারম্যানসহ বেশির ভাগ সদস্য মতামত দেন, যাদের যোগ্যতা আছে, তাদের মূল্যায়ন করা করা হবে। বিগত আওয়ামী লীগের মতো শুধু রাজনৈতিক ইতিহাস দেখে চাকরি দেবে না বিএনপি।

নাম প্রকাশ না করে স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, বৈঠকের মূল আলোচনা ছিল দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম কীভাবে আরও গতিশীল করা যায়। এক্ষেত্রে দলের অঙ্গ-সংগঠনের যেসব কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলো নতুন করে গঠনের পক্ষে মতামত উঠে আসে। এরপর দুজন সদস্য দলের জাতীয় কাউন্সিল করার বিষয়টি আলোচনায় আনেন। এই সময় বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দলের কাউন্সিল হবে। এক্ষেত্রে চলতি বছরে শেষ দিকে কাউন্সিল করার পরামর্শ আসলেও মাস কিংবা তারিখ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, বৈঠকে দলের সাংগঠনিক অবস্থা, বন্যাপরিস্থিতি ও দেশের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত