leadT1ad

ভারতকে নাহিদ, সীমান্তে হত্যা জারি রেখে বন্ধুত্ব অসম্ভব

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

সমাবেশে কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। ছবি সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হবে মর্যাদার ভিত্তিতে। সীমান্ত হত্যা অব্যাহত রেখে তাদের মুখে বন্ধুত্বের কথা মানায় না।

শনিবার (১৩ জুন) চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে ১১-দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার ঢাকায় আসেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি দুই দেশের জনসংখ্যার কথা উল্লেখ করে বন্ধুত্বের বার্তা দেন। একই দিন সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার সীমান্তে ভারতের সীমান্ত বাহিনী বিএসএফ এক বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করে।

এই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘হাইকমিশনার বন্ধুত্বের কথা বলেছেন। অথচ তিনি যেদিন এসেছেন, মৌলভীবাজারে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। আমরা বলতে চাই- সীমান্ত হত্যা জারি, কাঁটাতারের বেড়া ও নদীতে বাঁধ দিয়ে কোনো বন্ধুত্ব হয় না।’

তিনি বলেন, ‘বন্ধুত্বের ফয়সালা ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালে হয়ে গেছে। ২০২৪-এ দেশের জনগণ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে- এখানে কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির স্থান হবে না।’

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার ব্যাংক দখল, দুর্নীতি ও লুটপাটের পথ বন্ধ করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। বাজেটের অর্থ কতটা জনগণের কল্যাণে আর কতটা দলীয় স্বার্থে ব্যয় হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘জনমনে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে- ব্যাংকটি আবার এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের ধোঁয়াশাপূর্ণ অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।’

জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান না করে দাম বাড়ানো হয়েছে। আগের স্বৈরাচারী সরকারের বিতর্কিত ও ক্ষতিকর বিদ্যুৎ চুক্তিগুলো এখনো বহাল রাখার খেসারত জনগণকে দিতে হচ্ছে।

সরকারকে গণভোটের রায় মেনে পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিচার বিভাগে দৃশ্যমান সংস্কার শুরুর আহ্বান জানান তিনি। নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, দেশে বর্তমানে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হয়রানি বেড়েছে। সংসদকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে।

ক্ষমতাসীনদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার যদি আবার স্বৈরতান্ত্রিক পথে হাঁটে, তবে জনগণ প্রতিরোধের পথ বেছে নেবে। নতুন কোনো স্বৈরতন্ত্রকে দেশে মাথাচাড়া দিতে দেব না।’

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আর বিশেষ অতিথি ছিলেন- এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক প্রমুখ।

Ad 300x250

সম্পর্কিত