জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

নামমূল্যে পশু হাট নিতে বিএনপি-জামায়াত ‘ঐক্য’

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬, ২২: ১০
পশুর হাট অর্ধেক মূল্যে ইজারা নিতে গোপন সমঝোতা করেন বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা। প্রতীকী ছবি

রাজনীতির মাঠে প্রতিপক্ষ হলেও স্বার্থের ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। দল দুটির নেতারা রাজশাহীর একটি পশুর হাট অর্ধেক মূল্যে ইজারা নিতে গোপন সমঝোতা করেছেন বলে জানা গেছে।

নগরের উপকণ্ঠে সিটিহাট নামের পশুহাটটি পরিচালনা করে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। গতবছর প্রতিযোগিতাপূর্ণ ইজারায় সরকার প্রায় ১৪ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছিল। এবার সমঝোতা করে দর দেওয়া হয়েছে মাত্র ৭ কোটি ৪০ লাখ।

হাটটি পেতে যাচ্ছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রায়হানুল আলম, নগরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা রবিউল আলম মিলু, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রুহুল আমিন টুনু, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর দিলদার হোসেন, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর বেলাল হোসেন, বিএনপি নেতা মাইনুল হক হারু, জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের রাজশাহী মহানগরের সহসভাপতি সভাপতি খাইরুল ইসলাম, ব্যবসায়ী শওকত আলী, আমিনুল ইসলাম আমিনসহ কয়েকজন।

গত বছর ইজারা নিয়েছিলেন নগরের ফুদকিপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী শওকত আলী। স্থানীয় সূত্র জানায়, শওকত আলীই নামমূল্যে ইজারা নিতে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সমঝোতা করিয়েছেন। প্রতিযোগিতায় না গিয়ে সমঝোতা করে দর দিয়েছেন ৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা। যদিও গতবছর ১৪ কোটি টাকায় হাট ইজারা হলেও সিটি করপোরেশন এবার সরকারি দর নির্ধারণ করেছে মাত্র ৭ কোটি ৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এই ইজারার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

নির্ধারিত সময়ে ১৩টি শিডিউল বিক্রি হলেও, ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জমা পড়ে পাঁচটি। শেষ দিনে শিডিউল জমা দেওয়ার আগে নগরের ষষ্ঠীতলায় বিএনপি নেতা সাবেক কাউন্সিলর রবিউল আলম মিলুর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে একটি বৈঠক হয়। সেখানে মিলু ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা দিলদার হোসেন, রুহুল আমিন টুনু, সাবেক শিবির নেতা খাইরুল ইসলাম, ব্যবসায়ী শওকত আলী ও আমিন।

বৈঠক সূত্র জানায়, নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা না করে সমঝোতার সিদ্ধান্ত নেন এসব নেতারা। এরপর অল্প কিছু টাকা কম-বেশি করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা নগর ভবনে পাঁচটি শিডিউল জমা দেন।

সমঝোতার কথা অস্বীকার করেননি জামায়াত নেতা খাইরুল ইসলাম ও বিএনপি নেতা রবিউল আলম মিলু। ব্যবসায়ী আমিন মন্তব্য করতে চাননি। তবে ব্যবসায়ী শওকত আলী সমঝোতার কথা স্বীকার করে বলেছেন, সর্বোচ্চ ৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা দর দেওয়া হাটটি আমার নামেই ইজারা হতে যাচ্ছে। আমার সঙ্গে কয়েকজন অংশীদ্বার থাকবেন।

তিনি বলেন, ‘দরের ক্ষেত্রে দুটি নিয়ম। প্রথম, গত বছরের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি টাকা দিলে হাট আমি পাব। তা না হলে গত তিন বছরে যে টাকায় হাট ইজারা হয়েছে, তার গড় মূল্য দিলে হাট পাব। আমরা সবাই মিলে বসে তিন বছরের গড় মূল্যের চেয়ে ৩৭ লাখ টাকা বেশি দর দিয়েছি। সে কারণে হাট আমরাই পাব।’

শওকত আলী বলেন, ‘শিডিউল জমা দেওয়ার দিন বেলা ১১টায় আমরা রবিউল আলম মিলুর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে বৈঠক করি। সেখানে সবাই সমঝোতায় পৌঁছানোর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিডিউল জমা দেওয়া হয়।’ ইজারার অংশীদ্বার হিসেবে বিএনপি নেতা রায়হান, রুহুল আমিন টুনু, ব্যবসায়ী আমিন, জামায়াত নেতা খাইরুল ইসলামসহ কয়েকজন রয়েছেন বলে জানান তিনি।

রাজশাহী স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হাসনাইন হিকোল বলেন, ‘এভাবে অর্ধেক মূল্যে হাট ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় সিটি করপোরেশন শুধু রাজস্ব হারায়নি; রাজশাহীর উন্নয়নও ব্যাহত হবে। এই সিন্ডিকেট না ভাঙলে জনগণ ভোগান্তি পোহাবে।’

ইজারা প্রক্রিয়ার সময়ে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ। তিনি বলেছেন, ‘শিডিউল জমা আছে। তিন বছরের গড় হিসাব করে হাট ইজারা দেওয়া হবে। এখনো ইজারা প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। নতুন প্রশাসক এটা করবেন।’ তবে নতুন প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পর্কিত